ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

২২তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ২২

আজ কাঠফাটা রোদ উঠেছে, অ'সহ্য গরমে জীবন দূ'র্বিষহ হয়ে গেছে সবার ৷ ফ্যানের বাতাস ও এই গরম কমাতে পারছে না ৷ তাই সিনু শপ থেকে বাইরে বেরোলো ৷ শপের আশেপাশের গাছগাছালি থেকে মৃদু বাতাস থেমে থেমে আসছে যেটা ফ্যানের বাতাসের চেয়ে বেশ আরামদায়ক ৷ ওরা তিনজনও একটু পর ওর কাছে চলে আসল ৷ শরীর কিছুটা ঠান্ডা করার পর তানিয়া সিনুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,

ওহ হ্যাঁ একটা কথা তো জিজ্ঞেস করতে মনেই ছিল না ৷ কাল ওই জঙ্গলের সামনে দিয়ে তুই স্কুটি চালিয়ে কিভাবে গিয়েছিস?

রাইমা টিটকারি দিয়ে বলল,, আমার তো মনে হচ্ছে গায়ের সমস্ত শক্তি খরচ করে ও জঙ্গলটা দ্রুত গতিতে পেরিয়ে গেছে ৷

সিনু হতাশ কন্ঠে বলল,, স্কুটির কথা বাদ দে ৷ স্কুটি কালকে আমাকে ধো'কা দিয়েছিল ৷ তোরা যাওয়ার অনেকক্ষন পর আমি যখন বাসায় যাওয়ার জন্য স্কুটি চালু করতে যাচ্ছিলাম তখন ই স্কুটি বাবাজি বলল 'আফা আজ আপনি হেঁটে যান, আমি আজ গ্যারেজ মালিকের সাথে ডেটে যাব ৷'

শেষের কথাটা সিনু নাটকীয়ভাবে বলল ৷ ওর কথা শুনে ওরা তিনজন হাসতে লাগল ৷ হাসি থামিয়ে রাইশা বলল,,,

তাহলে তো তুই মনে হচ্ছে বোরকা তুলে দৌঁড়ে ওই জঙ্গল পার হয়েছিস ৷

সিনু চকিতে ওর দিকে তাকাল ৷ সত্যিই তো বোরকা তুলেই দৌঁড়েছিল যদিও সাথে অন্য একজনও ছিল ৷ তানিয়া চোখ বড় বড় করে বলল,,,

তার মানে তুই কালকে রাতে একা হেঁটে বাসায় গিয়েছিলি? আসামভাব! আই ডোন্ট বিশ্বাস ইট!

সিনু খানিকটা ইতস্তত করে বলল,, একা যাইনি ৷ প্রতিদ্বন্দ্বী সাহেব আমাকে পৌঁছে দিয়েছেন ৷

ওরা তিনজন ই সমস্বরে চিৎকার করে বলল,, সাজিদ ভাইয়া!

ওদের চিৎকারে সিনু ভড়কে গেল ৷ আমতা আমতা করে বলল,, হ-হ্যাঁ তো কি হয়েছে?

সিনু তারপর ওদের সব খুলে বলল ৷ সব শোনার পর ওরা তিনজন মিটমিটিয়ে হাসতে লাগল ৷ রাইশা বলল,,

আমার কথাটা তাহলে সত্যিই হলো ৷ তুই আসলেই বোরকা তুলে দৌঁড়েছিলি ৷

তানিয়া গলা খাকারি দিয়ে বলল,, তো বিয়েটা কবে হচ্ছে সিনু?

সিনুর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল ৷ অবাকতর কন্ঠে বলল,,, বিয়ে! কার বিয়ে? কার সাথে বিয়ে? মেয়ের বিয়ে না ছেলের বিয়ে?

ওরা তিনজন আহ্লাদীপনা করে বলল,, কার আবার? তোররর ৷ সাজিদ ভাইয়ার সাথে ৷ আর অবশ্যই মেয়ের বিয়ে ৷

সিনু থতমত খেয়ে গেল ৷ কয়েক পল চুপ থেকে ও খেকিয়ে উঠে বলল,,, কিসব বাজে কথা বলছিস? আমি কেন উনাকে বিয়ে করতে যাব? উনি আমার ভাই , সাজিদ ভাই ৷

সিনুর কথাকে কোনোরুপ পাত্তা না দিয়ে ওরা তিনজন হাই তুলে শপের ভিতরে চলে গেল ৷ সিনু পিছন থেকে লাগাতার বলতে লাগল ,,

খবরদার উল্টা-পাল্টা ভাববি না! উনার সাথে আমাকে জড়াবি না ৷ উনি আমার ভাই বুঝেছিস তোরা? তোদের দুলাভাই অন্য কেউ হবে , উনি না ৷ বুঝতে পারছিস কি বলছি?

ওরা তিনজন ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি বজায় রেখে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,,, হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি ৷

সিনু ভ্রু কুঁচকে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তারপর হঠাৎ সামনের শপের দিকে তাকাতেই সাজিদও ওর দিকে তাকাল ৷ ফলে দুজনেরই চোখাচোখি হয়ে গেল ৷ সিনু বেশ বি'ব্রতিতে পড়ে গেল তাই দ্রুত চোখ নামিয়ে নিয়ে গটগট পায়ে শপের ভিতরে চলে গেল ৷ সাজিদ তখনও সামনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রেখেছে ৷ অস্ফুট স্বরে বলতে লাগল,,,

আই উইস তোমার স্কুটি টা এখনি যেন ভালো না হয় ৷ আর তোমার গার্ডগুলোও যেন তোমাকে রেখে প্রতিদিন আগে ভাগেই চলে যায় ৷ তাহলে তোমাকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব টা আমি হাসিমুখে নিজের কাধে তুলে নিতে পারতাম ৷ আমাকে কি এই দায়িত্ব টা দেওয়া যায় না সিনুপাখি?

হঠাৎ পিঠে মৃদু থা'প্পড় পড়তেই সাজিদ চট জলদি সামনে থেকে চোখ সরিয়ে থা'প্পড় মা"রা হাতের মালিকের দিকে তাকাল ৷ মেহমেত ৩২ পাটি দাঁত বের করে সাজিদের দিকে তাকিয়ে কেলাচ্ছে ৷ সাজিদ গম্ভীর মুখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,

কি সমস্যা? সিগন্যাল না দিয়েই আসিস কেন সবসময়?

আমি সিগন্যাল দিয়েই আসি ৷ Whatever মেঝেতে ধুপধাপ পা ফেলে শব্দ করে তোর কাছে আসি যেই শব্দে সব স্টাফ আর কাস্টমার আমার দিকে তাকিয়ে থাকে ৷ আর তুই কিনা বলছিস আমি সিগন্যাল না দিয়েই আসি? ছ্যাহ ছ্যাহ ছ্যাহ তুই আমার পায়ের মান-সম্মান রাখলি না!

সাজিদ কপাল কুঁচকে কাটকাট গলায় বলল,, ব্রয়লার মুরগির মতো শরীর নিয়ে হাঁটলে মেঝে তো কেঁপে উঠবেই স্বাভাবিক! তবে সিনুপাখির দিকে নজর গেলে তোর এসব কাঁপাকাঁপিও আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না ৷

মেহমেত বুকে দু হাত গুজে রা'গী মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সাজিদ ওর চাহনিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজ করতে লাগল ৷ তখনই একটা স্টাফ ট্রে হাতে কফি নেওয়ার জন্য আসতেই মেহমেত ওর হাত ধরে বলল,,,

নাইম একটা প্রশ্ন করি? Whatever সত্যি কথা বলবি ৷ কোনো চাটু বা পাম যেন না থাকে ৷

নাইম মেহমেতের এমন কান্ডে প্রথমে বেশ ভড়কে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, জ্বি স্যার বলুন ৷

মেহমেত সাজিদের দিকে এক পলক তাকিয়ে পুনরায় নাইমের দিকে তাকিয়ে বড় একটা শ্বাস নিয়ে বলল,,

Whatever আমি কি ব্রয়লার মুরগির মতো দেখতে?

মেহমেত অত্যন্ত সিরিয়াস মুখভঙ্গিতে নাইমের দিকে উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে ৷ নাইমের কথাটা শুনে ভীষণ হাসি পাচ্ছে কিন্তু মেহমেত সচরাচর এমন সিরিয়াস মুখে থাকে না তাই ও মুখটা স্বাভাবিক রেখে বলল,,,

এমন অবাস্তব কথা কে বলেছে স্যার? উনি মনে হয় চোখে কম দেখেন ৷ শুনুন আপনি অত্যন্ত সুদর্শন আর স্লিম ফিগারের একজন যুবক ৷

মেহমেত গম্ভীর মুখে হাত উচিয়ে বলল,, এই কথায় এক ফোটাও পাম নেই তো? Whatever পাম ওয়ালা প্রশংসা আমি গ্রহণ করব না ৷

নাইম বলল,, ওয়াল্লাহি স্যার এই কথার মধ্যে একটুও পাম নেই ৷ খাঁটি নির্ভেজাল কথা ৷

মেহমেতের গম্ভীর মুখের কোনায় কোনায় হাসি ছড়িয়ে পড়ল ৷ ও নাইমের গাল টেনে দিয়ে বলল,, যা এই কথাটাই সাজ্জু বেইবি কে বলে আয় ৷ ওই ই এমন অবাস্তব কথা বলেছিল ৷ Whatever ঠিকই বলেছিস ও চোখে কম দেখে ৷

নাইমের গলা শুকিয়ে গেল কারন সাজিদকে ও ভীষণ ভীষণ ভয় পায় ৷ এমনটা নয় যে সাজিদ ওকে বকাঝকা করে , আসলে সাজিদের ওই গম্ভীর মুখটা দেখলেই ওর ভয় লাগে ৷ আর তাকেই কিনা ও আজ ইনডিরেক্টলি কানা বলেছে! শেষ সব শেষ! নাইম সামনে তাকিয়ে দেখল সাজিদ ওর দিকে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে ৷ মেহমেত ওকে ঠেলে ঠেলে সাজিদের দিকে নিয়ে গেল ৷ নাইম ভয়ে একটা শুকনো ঢোক গিলল কারন জিহ্বায় আর পানি অবশিষ্ট নেই ৷ সাজিদ গম্ভীর গলায় বলল,,,

আমি চোখে কম দেখি?

নাইম ফটাফট জবাব দিল,, আমার মতো ব'লদের কথা আপনি সিরিয়াসলি নিয়েছেন? ছিহ কি ল'জ্জার কথা!

সাজিদ অবিচল মুখভঙ্গিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ পরিবেশটা বেশ থমথমে হয়ে উঠেছে ৷ এই থমথমে পরিবেশে মেহেমেতের দাঁত বের করা মুখটা সাজিদের সামনে ঝুকলো ৷ ও ভ্রু নাচিয়ে বলল,,,

কিরে কিরে সাজ্জু বেইবি দেখ আমি স্লিম ফিগারের অধিকারী , তোর ভাষ্যমতে কোনো ব্রয়লার মুরগি না ৷ Whatever নাইম কোনো পাম মারেনি বরং খাঁটি কথা বলেছে , বুঝেছিস?

সাজিদ গম্ভীর মুখে কয়েক পলক ওদের দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে বলল,, অনেক নাটক হয়েছে ৷ এখানে কোনো সিরিয়াল চলছে না, দ্রুত গিয়ে কাজ করো দুজনে ৷

সাজিদের কথা শেষ হওয়া মাত্রই নাইম ঝড়ের গতিতে জায়গা প্রস্থান করল ৷ যদিও মেহমেত সময় নিয়ে ঢেলতে ঢুলতে টি শপের দিকে গিয়েছে ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

সাজিদের জোরাজুরুিতে মেহমেত প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী কিনতে সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে ৷ প্রথমে কিছুটা বি'রক্ত লাগলেও এখন মেহমেত ফুরফুরা মেজাজে হাস্যজ্জ্বল মুখে বাইক চালাচ্ছে ৷ সুপার মার্কেটের সামনে বাইক থামিয়ে ও চাবি আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ ও খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশে যেতে পারে যেটা সাজিদ পারে না ৷ সে যা হোক মেহমেত স্যালসম্যানের সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যেই খাতির জমিয়ে ফেলল ৷ তারপর সামগ্রীগুলো নির্দিষ্ট দামের তুলনায় অনেক কম দামে কিনে নিল ৷ আসলে ও মেয়েদের থেকেও ভালো বার্গেনিং করতে পারে ৷ চাটু মেরে কার্য উদ্ধার যাকে বলে ৷

কেনা-কাটা শেষে বেরিয়ে যাবে এমন সময় একটা দৃশ্য দেখে ও থেমে গেল ৷ একটা পাঁচ-ছয় বছরের ছোট বাচ্চা তার মায়ের বোরকা ধরে টানছে কাঁদো কাঁদো মুখে ৷ মহিলা টা বাচ্চাটাকে কি কি বলে যেন ধ'মকাচ্ছে ৷ পরিস্থিতি বোঝার জন্য মেহমেত এগিয়ে গেল ৷

ওকে এগিয়ে আসতে দেখে মহিলা আর বাচ্চা দুজনেই চুপ হয়ে গেল ৷ মেহমেত মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে বাচ্চাটার মাথায় হাত রেখে বলল,, তোমার নাম কি বাবু?

বাচ্চা টা নিজের মায়ের দিকে এক নজর তাকাল উত্তর দেওয়া ঠিক হবে কিনা তা জানার নিমিত্তে ৷ মহিলা টি সুক্ষ্ম নজরে মেহমেতকে কিছুক্ষণ দেখে বাচ্চাটাকে চোখের ইশারায় সম্মতি দিল ৷ বাচ্চা টা ক্ষীণ কন্ঠে বলল,,,

আমার নাম ওসমান ৷

মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর নাম ৷ Whatever মায়ের সাথে দুষ্টুমি করছিলে কেন? মাকে জ্বা'লানো উচিত না ৷

বাচ্চা টা খোলা মনে অভিযোগ নিয়ে বলল,, আমি একটা খেলনা কিনে চেয়েছি কিন্তু আম্মু দিচ্ছেনা ৷ শুধু এটা না আম্মু আমাকে কখনোই কিছু কিনে দেয় না ৷ ঈদে নতুন জামাও কিনে দেয় না ৷ সবাই নতুন জামা পড়ে আর আমাকে পুরাতন ছেঁড়া কাপড় পড়ে থাকতে হয় ৷

মেহমেতের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল ৷ ও মহিলাটার দিকে তাকিয়ে দেখল উনি সম্ভবত ল'জ্জা পেয়ে মাথা নিচু করেছেন ৷ কয়েক মূহুর্ত নিশ্চুপ থাকার পর উনি বলে উঠলেন,,,

বাবা আমাদের অভাবের সংসার ৷ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারিনা সেখানে খেলনা আর ঈদে নতুন জামা কিভাবে কিনে দেই? আমার স্বামী মজুর ছিলেন ,তখন আমাদের ভালোই চলতো ৷ কিন্তু ২ বছর আগে তিনি কাজ করার সময় ৫ তলা বিল্ডিং ভেঙে নিচে পড়ে যান ৷ আসলে যে সিমেন্ট দিয়ে ওই দালান বানানো হয়েছিল সেগুলো নিম্ন মানের ছিল ৷ পরবর্তীতে উনি মারা যাবার পর দালানের মালিক আমাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করেছেন ৷ তখন থেকেই এ অবস্থা আমাদের ৷

মেহমেতের মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল ৷ ও নরম কন্ঠে বলল,, আপনার আর কোনো সন্তান নেই?

একটা মেয়ে আছে ৷ স্বামী বেঁচে থাকতে তার বিয়ে দিয়ে দিয়েছি ৷ মেয়েরও আমার অভাবী সংসার তবুও আমাদের যতটুকু পারে সাহায্য করার চেষ্টা করে ৷

কয়েক মুহূর্ত অসহায়ভাবে উনাদের দিকে তাকিয়ে থেকে মেহমেত মুচকি হেসে বলল,,, কোনো টেনশন নেই আন্টি ৷ Whatever আমাদের টি শপে একজন কর্মীর দরকার ৷ ভাবছি আপনাকেই আমাদের টি শপের জন্য নিয়োগ দিব ৷ আপনি কাজ না পারলেও সমস্যা নেই আমি আপনাকে শিখিয়ে দিব ৷

মহিলাটার মুখটা খুশিতে চকচক করে উঠল ৷ উনি মেহমেতকে কৃতজ্ঞতা জানালেন ৷ মেহমেত মুচকি হেসে ওসমানকে কোলে নিয়ে বলল,,

কি বাবু কোন খেলনা টা নিতে চাচ্ছ? Whatever আমাকে দেখিয়ে দাও ৷

মহিলা টা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,, না বাবা সেসবের দরকার নেই ৷ তুমি আমাকে কাজ দিয়েছো তাতেই অনেক ৷

বাবা বলেছেন তো ছেলে হিসেবে ওসমানকে কিছু কিনে দেওয়ার অধিকার টাও দিন ৷ Whatever মানা করবেন না কিন্তু ৷

তানিয়া কিছু জরুরী কেনাকাটা করার জন্য সুপার মার্কেটে এসেছিল ৷ মার্কেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে মেহমেতকে একটা বাচ্চা আর মহিলার সাথে কথা বলতে দেখে ও থেমে গিয়েছিল ৷ তারপর থেকে ওখানে দাঁড়িয়েই ও সমস্ত কথা শুনেছে ৷ তানিয়া সামান্য হেসে বিরবির করে বলল,,,

আপনাকে যতটা খারাপ মনে করেছিলাম ততটা খারাপ আপনি নন mr. Whatever ৷ তবে মজার ব্যাপার কি জানেন? এতো সংবেদনশীল একটা মুহূর্তেও আপনার whatever বলা বন্ধ হয়নি! এমনকি ওই ছোট বাচ্চাটাকেও আপনি কথায় কথায় Whatever বলছেন! আপনার নাম তাহলে আমি ঠিকই রেখেছি mr. Whatever ৷

মেহমেত ওসমানকে কোলে করে খেলনা টার কাছে গেল ৷ তানিয়াও পিছু পিছু গেল তবে লুকিয়ে ৷ মেহমেত স্যালসম্যানকে বলল,,,

Whatever ব্রো এটা প্যাক করে দিন ৷

ওসমান ভ্রু কুঁচকে বলল,, ভাইয়া কি ভুলভাল বার শিখেছো তুমি? আজকে হোয়াতবার না তো, আজকে শুক্করবার ৷ তুমি কি বোকা হোয়াতবার নামে তো কোনো বার নেই ৷

মেহমেত আর স্যালসম্যান টা হো হো করে হেসে উঠল ৷ অবুঝ বাচ্চাটা ওদের হাসার কারন না বুঝে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল ৷ ওদিকে তানিয়াও মুখে হাত চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করতেছে ৷

ওসমানকে খেলনা কিনে দেওয়া শেষে মেহমেত ওকে নিয়ে পাশের একটা জামা-কাপড়ের শপে গেল ৷ তারপর বেশ কয়েকটা শার্ট , টি-শার্ট আর পাঞ্জাবী কিনে দিল ৷ আর মহিলা টার জন্য দুটো বোরকা আর দুটো শাড়ি কিনে দিল ৷ ছোট বাচ্চা নতুন পোশাক পেয়ে খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেল ৷ মহিলা টার চোখে পানি এসে গেল ৷ উনি ধরা গলায় মেহমেতের হাত ধরে বললেন,,

তোমাকে কিভাবে ধন্যবাদ দিব বুঝতে পারছি না ৷ আল্লাহ তোমাকে আমাদের সাহায্যকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন ৷

মেহমেত সামান্য হেসে বলল,, অসহায় মানুষদের সাহায্য করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিয়েছেন ৷ whatever কাল ১১ টার দিকে আমাদের শপে চলে আসবেন ৷ এই নিন কার্ড ৷

আরো কিছুক্ষণ উনাদের সাথে কথা বলে মেহমেত বাইকের দিকে চলে গেল ৷ তানিয়া এখনও লুকিয়ে লুকিয়ে ওর কর্মকান্ড গুলো দেখছে ৷ মেহমেত বাইকের কাছে গিয়ে বলতে লাগল,,,

আমার সব সেফিংস শেষ ৷ Whatever সাজ্জু বেইবির থেকে ধার করে এই মাসটা চলতে হবে আমাকে ৷ আমি এখন ফকির হয়ে গেছি ৷

বলে মেহমেত বাইক নিয়ে চলে গেল ৷ তানিয়া শপ থেকে বেরিয়ে আসল ৷ তারপর মুচকি হেসে বিরবির করে বলল,,

কিন্তু মনের দিক দিয়ে আজ পৃথিবীর সবার থেকে বড়লোক হয়ে গেছেন mr. Whatever ৷

তানিয়া নিজের স্কুটিতে গিয়ে বসল ৷ হঠাৎ মিররে তাকিয়ে পিছনে তানিয়াকে দেখতেই মেহমেত পুনরায় বাইক ঘুরিয়ে ওর কাছে গেল ৷ তারপর দাঁত কেলিয়ে বলল,,,

আরে মিস ত্যানাত্যানা এখানে কি করছেন?

এতোক্ষন ভালো মুডে থাকলেও নিজের নামের বিকৃতি শুনে তানিয়ার কপাল কুঁচকে গেল ৷ কাটকাট গলায় বলল,,,

ভিক্ষা করতে এসেছিলাম ৷

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন