ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

৩১তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ৩১

সিনু দৌঁড়ে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিল ৷ তারপর বিছানায় উপুর হয়ে বালিশে মুখটা লুকিয়ে ও পা নাচাতে নাচাতে হা হুতাশ করতে লাগল ৷ বালিশ থেকে মুখ তুলে বলতে লাগল,,,

হায় আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, ও আল্লাহ , আল্লাহ গো এটা কি হলো আমার সাথে? শেষে উনাকে বিয়ে করতে হবে আমাকে? কেন?

সিনু শোয়া থেকে উঠে বসল তারপর তানিয়াদের গ্রুপ ভিডিও কল দিল ৷ ওরা অল্প সময়ের মধ্যেই রিসিভ করল ৷ রিসিভ করে তানিয়া বলল,,,

কি রে কি জন্য ডেকেছিল আন্টি?

সিনু করুন চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,, তানি, রামু,রাশু ৷

ওরা তিনজনই একসাথে বলে উঠল,, কি?

ও আমার সোনা রা ৷

রাইমা ভ্রু কুঁচকে বলল,,, বেশি নাটক না করে বল তাড়াতাড়ি নয়তো তোর নাক ফাটিয়ে দিব!

সিনু ঠোঁট উল্টে মিনমিন কন্ঠে বলল,,, উনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে ৷

আস্তে বলায় ওরা প্রথমে শুনতে পেল না ৷ কপাল কুঁচকে বলল,, কি বললি?

সিনু এবার গলা খানিকটা উচিয়ে বলল,, ওই ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে ৷

ওরা তিনজন চূড়ান্ত অবাক কন্ঠে বলল,, সাজিদ ভাইয়া!

সিনু পুনরায় ঠোঁট উল্টে বলল,, হু ৷

তানিয়া রা একে অপরের দিকে হতভম্ভ দৃষ্টিতে তাকাল ৷ সিনু ওদের এক এক করে সব কথা বলল ৷ সব শুনে কয়েক মিনিট চুপ থেকে ওরা মিটমিটিয়ে হাসতে লাগল ৷ রাইশা হাসতে হাসতে বলল,,,

বেশ হয়েছে ৷ শুরুতেই বললাম উনাকে বিয়ে কর ৷ না তখন কি ভাব! এখন বোঝ ঠ্যালা কাকে বলে!

সিনু ক্ষি'প্ত দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,, তোরা আসলেই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তো? নাকি কোথাও অদল বদল হয়েছিস?

তানিয়া খেকিয়ে উঠে বলল,, এএ আমাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করবি না নয়তো এর হিসাব আমি পরকালে গিয়ে নিব ৷

সিনু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,, আমার সবচেয়ে খারাপ লাগছে কি নিয়ে জানিস?

না জানি না ৷

আমার মান-সম্মান তো এতোদিন ছিলই না ৷ এখন দেখছি আমার কথারও কোনো দাম নেই ৷ আজকেই উনাকে বলে আসলাম 'আমি ম'রে গেলেও উনাকে বিয়ে করব না' আর আজকেই কিনা উনার সাথে আমার বিয়ে ঠিকঠাক হয়ে গেল? তাছাড়া রাইমাকেও একটু আগে বললাম 'আব্বু আম্মু কখনো আমাকে উনার সাথে বিয়ে দিবে না' আর এসে দেখি সামনের শুক্রবার ই ওই ছেলের হাতে আমাকে তুলে দেওয়ার জন্য এক পায়ে খাড়া হয়ে আছে?

ওরা মুখে হাত চেপে হাসতে লাগল ৷ সিনু ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট উল্টে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ রাইশা মৃদু হাসতে হাসতে বলল,,,

যা তোর আজ ছুটি,শপে আসতে হবে না ৷ আজ সারাদিন বাসায় বসে হা হুতাশ কর ৷ আল্লাহ হাফেজ ৷

বলেই ওরা কল কেটে দিল ৷ সিনু আরো কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু ওরা সুযোগ ই দিল না ৷ হতাশ হয়ে সিনু মাথা নিচু করে বসে থাকল ৷ তখনই ওর ফোনটা বেজে উঠল ৷ ওদের কল ভেবে সিনু চট জলদি ফোনটা হাতে নিল কিন্তু ওর ধারনা ভুল, একটা আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছে ৷ সিনু ফোন রিসিভ করে সালাম দিল ৷

ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় সালামের জবাব দিয়ে সাজিদ বলল,, এটা আমার মানে তোমার পাঁচদিন পর হতে চলা একমাত্র স্বামীর ফোন নাম্বার ৷ এখন ই সেইভ করে রাখো ৷ বুঝতে পেরেছো?

সিনুর জবাবের অপেক্ষা না করেই সাজিদ ফোন রেখে দিল ৷ সিনু ফোন কানে নিয়ে এখনও হা হয়ে আছে ৷ কিছুক্ষণ পর ও নাম্বার টার দিকে তাকাল তারপর দুষ্টু হাসি হেসে 'ডিপজল' নামে নাম্বারটা সেইভ করে রাখল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আজ শুক্রবার অর্থাৎ সিনু আর সাজিদের বিয়ে ৷ কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে শুধু নিমন্ত্রণ করা হয়েছে ৷ সকাল থেকেই সবাই টুকটাক কাজ করে চলেছে ৷ তানিয়া, রাইমা, রাইশা গতকাল ই চলে এসেছে ৷ ওদের পরিবার আজ আসবে ৷ ওহ হ্যাঁ নাভিনের পরিবারও গতকালকে চলে এসেছে ৷

দুপুরের গোসল শেষে সিনুকে তানিয়ারা একটা নেভি ব্লু কালারের শাড়ি আর হিজাব পড়িয়ে দিল ৷ ওরা লাল শাড়ি আর হিজাব পড়েছে ৷ সিনুকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে ওরা তিনজন ওর সম্মুখে হাতে বুকেট নিয়ে বসে আছে ৷ এই বুকেটগুলো ওরা আজকেই বানিয়েছে টাটকা ফুল দিয়ে সিনুর বিয়ের উপহার হিসেবে ৷

সিনুর দিকে ওরা তিনজন হা হয়ে তাকিয়ে আছে ৷ রাইমা অস্ফুট স্বরে বলল, ভাইয়া কেন? আমরাই তো চোখ সরাতে পারছি না রে সিনু!

সিনু শান্ত চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,,, আমার সোনা তিনটাকেও হুরপরীর মতো লাগছে ৷

রাইশা মাছি তাড়ানোর মতো করে বলল,,, নতুন বউয়ের সৌন্দর্যের কাছে আমাদের সৌন্দর্য কিছুই না ৷

ওর কথার পিঠে তানিয়া বলে উঠল,,, তোকে আল্লাহ বেশি সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে আজকে ৷ সমস্যা নেই পরকালে গিয়ে আমিও আল্লাহর থেকে বেশি বেশি সৌন্দর্য চেয়ে নিব ৷

ওর কথা শুনে ওরা তিনজন হাসতে শুরু করল ৷ এমন সময় নিয়ামত আলম আর জোসনা সুলতানা ওর রুমে প্রবেশ করল ৷ উনাদের দেখে চারজন ই উৎফুল্ল হয়ে উঠল ৷ ব্যস্ত ভাবে উনাদের বসিয়ে দিয়ে গল্প করতে শুরু করল ৷ একটু পর জরুরী কাজে তানিয়ারা নিচে চলে গেল ৷ সাথে জোসনা সুলতানা কেও নিয়ে গেল ৷ এখন সিনু আর নিয়ামত আলম একা রুমে রয়েছেন ৷

নিয়ামত আলম মুচকি হেসে শান্ত স্বরে বললেন,, একটা কথা আমি কাউকে বলিনি ৷ আমার প্রিয়তমাকেও না কারন সাজিদ বলতে নি'ষেধ করেছিল ৷ কিন্তু আজ সেটা তোমাকে বলব ৷

সাজিদের নাম শুনে সিনুর ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ ও কৌতূহল নিয়ে উনার দিকে তাকাল ৷ নিয়ামত আলম বলতে লাগলেন,,,

মনে আছে সেদিনের কথা যেদিন তোমার সাথে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দু'র্ঘটনা ঘটেছিল?

সিনুর মুখটা চুপসে গেল , ক্ষীণ কন্ঠে বলল,, হু ৷

ওইদিন সাজিদ সন্ধ্যার দিকে আমার কাছে এসেছিল ৷ তারপর আমার হাত ধরে রিকোয়েস্ট করেছিল যেন দালানের চাবিটা আমি তোমাদের দিয়ে দেই কারন তোমার সাথে ঘটা ওই দু'র্ঘটনার জন্য ও নিজেকে দা'য়ী করে ৷ সেদিন ই বুঝেছিলাম তোমার প্রতি ওর কিঞ্চিৎ অনুভূতি জন্মেছিল ৷ তারপর সেদিন তোমাদের শপে গিয়ে যখন দেখলাম সাজিদ বারবার আড় নয়নে মুগ্ধ হয়ে তোমাকে দেখছে সেদিন ওর চোখে আমি তোমার জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা দেখেছিলাম ৷

সিনু স্ত'ব্ধ হয়ে নিয়ামত আলমের কথাগুলো শ্রবণ করল ৷ একটু পর রিয়াদ এসে নিয়ামত আলমকে সাথে করে নিয়ে গেল ৷ সিনু নিজের হ'তভম্ভ ভাব কাটিয়ে গালে হাত দিয়ে হঠাৎ মিষ্টি করে হাসল তারপর বিরবির করে বলল,,,

আপনি খুব একটা খারাপ না সাজিদ সাহেব ৷ স্বামী হিসেবে আপনাকে মেনে নেওয়াই যায়, কি বলেন?

তখনই ফোন বেজে উঠল ৷ স্ক্রিনে ডিপজল নামটা ভেসে উঠল ৷ সাজিদ এই পাঁচদিনে বারবার ফোন করে ওর সাথে টুকটাক কথা বলতো অবশ্য এটাকে ঠিক কথা বলা চলে না বরং এটা বললে ভালো হতো যে মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে সাজিদ ওকে হুমকি-টুমকি দিত ৷ সে যায় হোক সিনু ফোনটা রিসিভ করে বলল,,,

কি?

তোমার একটা পিক দাও ৷

দিব না ৷

সাজিদ কন্ঠটা অত্যন্ত গম্ভীর করে বলল,,, দিতে বলেছি সিনু ৷

বললাম তো দিব না ৷ দরকার পড়লে এসে দেখে যান ৷

বলেই সিনু ফোন কেটে দিল ৷ সাজিদ ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে তাকাল তারপর সেটা রেখে দিয়ে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকাল ৷ ও নেভি ব্লু কালারের একটা পাঞ্জাবী দিয়ে নিজের বলিষ্ঠ দেহটা ঢেকেছে ৷ কয়েক মিনিট আয়নায় খুটিয়ে খুটিয়ে নিজেকে দেখতে লাগল ও ৷

মেহমেত ধূসর রঙের একটা পাঞ্জাবী পড়ে ওর রুমে চলে আসল ৩২ পাটি দাঁত বের করে ৷ তারপর দাঁত কেলিয়ে বলল,,,

দেখেছিস আমার পছন্দ কত্তো সুন্দর? Whatever তোর পাঞ্জাবী আর আমার না মেনে নেওয়া ভাবীর শাড়ি কিন্তু আমিই পছন্দ করে কিনে এনেছি ৷ এর জন্য আমাকে এখন কয়েক লাখ টাকা দে ৷

সাজিদ আয়না থেকে চোখ সরিয়ে কঠিন দৃষ্টিতে মেহমেতের দিকে তাকিয়ে বলল,ফকিরের মতো ভিক্ষা করতে এসেছিস? একটু তো নিজেকে সম্মান করতে শেখ ৷ ব্রয়লার মুরগি থেকে এবার একটু দেশি মুরগি হওয়ার চেষ্টা কর ৷

মেহমেত ওর পিঠে দুম করে একটা ঘুষি মে*রে বলল,,, খবরদার ওই নামে ডাকবি না ৷ Whatever নয়তো আমার না মেনে নেওয়া ভাবীর সাথে তোর বিয়ে ভেঙে দিব!

সাজিদ ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে রুম থেকে যেতে যেতে বলল,, যা ইচ্ছা কর ৷ প্রমিস করছি বিয়ে ভাঙতে পারলে তোকে সত্যি সত্যি কয়েক লাখ টাকা দিব ৷

মেহমেত বিরবির করে টিটকারি মে**রে বলল,,, Whatever আমার ওতো বুকের পাটা নেই ৷ তোর বিয়ে ভেঙে দিই আর তুই পদ্মা সেতুতে গিয়ে ঝাপ দে , তাই না? Whatever আমি আমার একমাত্র স'ন্ত্রাসী ভাইকে হারাতে চাই না!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

রিয়াদ ব্যস্ত পায়ে হাঁটতে গিয়ে নাভিনের সাথে ধা'ক্কা খেল ৷ দুজনেই নাক চেপে ধরল ৷ এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর ওরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে একযোগে বলে উঠল,,,

আফওয়ান ৷

এতে করে দুজনেই সামান্য হেসে উঠল ৷ রিয়াদ সাদার উপর লাল এমব্রয়ডারি দেওয়া একটা পাঞ্জাবী পড়েছে আর নাভিন কালো কালারের পাঞ্জাবী পড়েছে ৷ রাইমা নিজের শাড়ি আগলে ওদের দিকে এগিয়ে এসে রিয়াদকে বলল,,,

এএএএ মা'থামো'টা এখানে কি করছিস? যা তানজিদ ভাইয়াকে গিয়ে সাহায্য কর ৷

রিয়াদ নাভিনকে বিদায় বলে চলে গেল ৷ নাভিন রিয়াদের কথা ভ্রুক্ষেপ না করে লাল শাড়ি আর লাল হিজাব পরিহিত রমনীর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ রাইমা রিয়াদের গমনপথের থেকে চোখ সরিয়ে নাভিনের দিকে তাকাতেই নাভিন চোখ সরিয়ে নিল ৷ রাইমা মিষ্টি করে হেসে বলল,,,

আপনাকে মনে হয় সিনুর বাবা ডাকছিল প্রফেসর সাহেব ৷

নাভিন ওর মিষ্টি হাসির দিকে তাকিয়ে কথা হারিয়ে ফেলল ৷ কিন্তু স্বভাব বশত রাইমার ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য হলেও ও বহু কষ্টে কথা ফুটিয়ে বলল,,,

প্রফেসর না লেকচারার ৷

রাইমা হাই তুলে বলল,, একি হলো ৷ আপনি দ্রুত আঙ্কেলের কাছে যান ৷

বলে রাইমা অন্যদিকে চলে গেল ৷ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নাভিন বিরবির করে বলল,,,

এক হলো না কিউট মেয়ে ৷ ডাক্তারকে যদি নার্স বলা হয় সেটা যেমন ভুল হয় তেমনি এটাও ৷ বাই দা ওয়ে তোমার থেকে এমন ভুল শুনতেও আমি রাজি আছি ৷

কথাটা বলে নাভিন মাথা চুলকে মুচকি হাসল তারপর সাফায়েত জামানের কাছে চলে গেল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

রাইশা খাবার দাবারের বিষয়টা তদারকি করে ড্রয়িংরুমে আসতেই সামনে আকাশী কালারের পাঞ্জাবী পরিহিত তানজিদকে দেখে প্রথমবারের মতো থমকে গেল ৷ ও হা হয়ে মোহিত দৃষ্টিতে রুম সাজাতে ব্যস্ত ঘর্মাক্ত মুখের তানজিদকে দেখতে লাগল ৷ কাজ শেষে রিয়াদকে কিছু বলে পিছু ঘুরতেই রাইশা তৎক্ষণাৎ অন্যদিকে ঘুরে টেবিলে রাখা ফুলগুলো গোছাতে ব্যস্ত হয়ে গেল ৷ তানজিদ মুগ্ধ নয়নে রাইশার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর পায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসতে লাগল ৷ এসব দেখে রিয়াদ চোখ ঢেকে জায়গা প্রস্থান করল ৷

তানজিদ হাতে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে রাইশার কাছাকাছি এসে থামল ৷ তারপর শান্ত গলায় বলল,,

রাইশা সুন্দর লাগছে তোমাকে ৷ এর উপহার স্বরুপ এই কয়েকটা ফুল তো তোমার প্রাপ্য ৷

রাইশার ভীষণ ল'জ্জা লাগছে ৷ ও কাঁপাকাঁপা হাতে ফুলগুলো নিয়ে ছুটে তানজিদের সামনে থেকে পালিয়ে গেল ৷ তা দেখে তানজিদ নিঃশব্দ হেসে বিরবির করে বলল,,,

আমার বউজান ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

সাজিদ ওর পরিবারসহ কিছুক্ষণ আগেই সিনুদের বাসায় এসে পৌঁছেছে ৷ আসার পর থেকেই সিনুকে দেখার জন্য সাজিদ ছটপট করতে লাগল কিন্তু কেউ সিনুকে দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে না ৷ বেচারা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বসে থাকল ৷ আসার পর থেকেই মেহমেত টই টই করে আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে চলে গেছে ৷

ড্রয়িংরুমের একদিকে যেতেই কয়েকটা মেয়ে মেহমেতকে পিছু ডেকে বলল,, এই যে হ্যান্ডসাম শুনছেন?

মেহমেত হাস্যজ্জ্বল মুখে পিছু ঘুরে বলল,,, হ্যাঁ বলুন ৷

আপনার নাম্বারটা দেওয়া যাবে?

মেহমেত বিষয়টা বুঝতে পারল তাই চট জলদি সোজাসাপ্টা উত্তর দিল,, অবশ্যই না ৷ Whatever আমার আপনাদের চাহনি সুবিধার লাগছে না ৷ আপনারা চলে যান ৷

মেয়েগুলো ওকে ঘিরে ধরল ৷ মেহমেত থতমত খেয়ে গেল ৷ ঘাবড়ে যাওয়া কন্ঠে বলল,,

দেখুন কাছে আসবেন না ৷ Whatever আমি কিন্তু পুরুষ নি'র্যাতনের মামলা দিতে বাধ্য হব!

তানিয়া ওদিক দিয়েই যাচ্ছিল ৷ সামনে এমন ঘটনা দেখে ওর চোখমুখ কুঁচকে গেল ৷ সেদিকে এগিয়ে গিয়ে ও ক্ষু'ব্ধ কন্ঠে বলল,,

এখানে হচ্ছে টা কি? তোমাদের ল'জ্জা নেই? উনাকে এভাবে ডিস্টার্ব করছো কেন?

তানিয়ার ধমকে মেয়েগুলো মেহমেতের থেকে দূরে সরে ওকে দুঃখিত বলে পালিয়ে গেল ৷ মেহমেত নিজের থতমত মুখ টা পরিবর্তন করে তানিয়ার দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকল ৷ এই রুপে তানিয়াকে ও কোনোদিন দেখেনি ৷ তানিয়া মেয়েগুলোর থেকে চোখ ঘুরিয়ে মেহমেতের দিকে তাকাতেই মেহমেত চোখ নামিয়ে নিল ৷ তারপর তাড়া দেখিয়ে সেখান থেকে দ্রুত কেটে পড়ল ৷ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তানিয়া মনে মনে বলল,,

ডংকার মিয়া অর্থাৎ mr. Whatever কে পাঞ্জাবীতে দারুন মানিয়েছে!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কিছুক্ষণের মধ্যেই বিয়ে পড়ানো শুরু হবে তাই তানিয়ারা সিনুকে নিয়ে এসে সাজিদের সামনে বসাল ৷ ওদের দুজনের মাঝে একটা পাতলা পর্দা ঝুলানো ৷ সেই পর্দার ফাঁক দিয়ে সাজিদ বাকরুদ্ধ হয়ে নিজের হবু বধুর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ সিনু মাথা নিচু করে বসে আছে ৷ হঠাৎ সামনে তাকাতেই সাজিদের সাথে ওর চোখাচোখি হয়ে গেল ৷ দুজনেই কয়েক পলক একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ সিনু না চাইতেও অস্ফুট স্বরে বলে ফেলল,,,

মাশাআল্লাহ ৷

নিজের কন্ঠ কানে যেতেই ও থতমত খেয়ে চোখ নামিয়ে নিল ৷ কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন ৷ কবুল বলার সময় স্বাভাবিক ভাবেই সাজিদ অবশ্যই গড়গড় করে তিনবার কবুল বলেছে ৷ সিনু একটু সময় নিয়ে থেমে থেমে কবুল বলেছে কারন মিনা জামিন কান্না শুরু করে দিয়েছিলেন সাথে সিনুও ৷ তানিয়া , রাইমা, রাইশা গিয়ে বহু কষ্টে ওর কান্না থামিয়েছে ৷

মিনা জামিন নিজেকে সামলে বড়দের নিয়ে ছাদে চলে গেলেন ৷ ড্রয়িংরুমের সোফায় সিনু আর সাজিদ পাশাপাশি বসে আছে তবে ওদের মাঝে বিস্তর দুরত্ব ৷ সিনু অন্যদিকে মুখ করে আছে আর সাজিদ নিজের সদ্য বিবাহিতা বধুর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ মেহমেত ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে ওদের সামনে চলে আসল ৷ ওর সাথে সাথে তানিয়া , রাইমা, রাইশা, তানজিদ, নাভিন আর রিয়াদও চলে আসল ৷

মেহমেত ক্যামেরা ওদের দিকে তাক করে বলল,, এই যে এমনভাবে বসে আসো যেন তোমরা দূর সম্পর্কের স্বামী স্ত্রী ৷ Whatever একটু কাছাকাছি বসো আমি ছবি তুলব ৷

সিনুর কোনো নড়চড় নেই ৷ রাইশা ভ্রু কুঁচকে বলল,, কি রে সিনু কথা কানে যায় না? মেহমেত ভাইয়া কি বলল শুনতে পাসনি?

সিনু এবার সাজিদের একটু কাছাকাছি আসল ৷ মেহমেত ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে আরম্ভ করল ৷ সাথে নাভিন ব্যতীত বাকিরা নিজেদের মোবাইল বের করে ওদের ছবি তুলল ৷ সাজিদ আর সিনু গম্ভীর মুখে বসে আছে ৷ তা দেখে তানিয়া বলল,,,

দুজনে দয়া করে একটু হাসো , ছবি ভালো আসছে না ৷ যদি না হাসো তাহলে কিন্তু এর হিসাব আমি পরকালে গিয়ে নিব ৷

ওর কথা শুনে সবাই হাসল ৷ সিনু আর সাজিদ মৃদু করে হাসল ৷ রাইমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চলে এসেছে ৷ ও গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,

এবার পোজ পরিবর্তন করো ৷ সিনু তুই গালে হাত দিয়ে মুগ্ধ হয়ে ভাইয়ার দিকে তাকা ৷ মোমেন্ট টা সেই হবে! নে দ্রুত তাকা ৷

সিনু কাটকাট গলায় বলল,, পারব না ৷

রাইমা কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, পারবি না মানে একশবার পারবি ৷ নে ভাইয়ার দিকে তাকা নয়তো আমার ক্যারাটে ট্যালেন্ট তোর উপর প্রয়োগ করব ৷

সিনু অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও সাজিদের দিকে রাইমার বলা পোজে তাকাল ৷ ওদিকে সাজিদ মন থেকেই সিনুর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকাল ৷ ছবি তোলা শেষ ৷ রাইশা বলল,,,

আবার পোজ পরিবর্তন কর ৷ এবার আমি বলব ৷ তুই ভাইয়ার কাধে একটা হাত রেখে সামনে তাকা ৷ আর হ্যাঁ সাথে যেন মুখে হাসি থাকে ৷ যে সে হাসি না মন থেকে বের হওয়া হাসি চাই সিনু ৷

সিনু কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাইমা হাত উচিয়ে বলল,,, রাইশার কথামতো করবি না মা'র খাবি?

মা'র খাব তবুও ওমন করব না ৷

তানিয়া খেকিয়ে উঠে বলল,,, এএ তাড়াতাড়ি পোজ দে নয়তো এর হিসাব পরকালে গিয়ে নিব ৷

আমি হিসাব দিতে রাজি আছি তবুও এমন করব না ৷

নাভিন মুচকি হেসে বলল,, এতো করে যখন বলছে তাহলে করে ফেলো সিনু ৷ কয়েক বছর পর এগুলো ছবি দেখলে তোমার ভালো লাগবে ৷ দেখে নিও ওদের এই জেদের জন্য তুমি ওদের ধন্যবাদ দিতে বাধ্য হবে ৷

সিনু দোনা মোনা করতে লাগল ৷ তারপর মাথা উপর নিচ করে সম্মতি জানাল ৷ তা দেখে রাইমা মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,

বাহ বাহ বাহ! আমাদের কথা শুনলি না আর ওই প্রফেসরের এক কথাতেই রাজি হয়ে গেলি?

নাভিন ওকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাইমা হাত উচিয়ে বলল,, জানি প্রফেসর না লেকচারার ৷ বাট আমি তো প্রফেসর ই বলব ৷

নাভিন আর কিছু বলল না ৷ সিনু ইতস্তত করে সাজিদের কাধে নিজের হাতটা রাখল ৷ প্রথমবার সিনুর স্পর্শ পেয়ে সাজিদের শরীরে একটা শিহরণ খেয়ে গেল ৷ ওর হার্টবিট অস্বাভাবিক ভাবে ওঠা নামা করতে লাগল ৷ সিনুর দিকে অপলক চাহনিতে তাকাল ও ৷

তানিয়া বলে উঠল,, আরে ভাইয়া সিনুর দিকে না তাকিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকান ৷ বউ আপনার পালিয়ে যাচ্ছে না ৷

ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠল ৷ সাজিদ ল'জ্জা পেয়ে সামনে তাকাল ৷ ওরা এক এক করে অনেকগুলো ছবি তুলল ৷ ছবি তোলা শেষ হলে নাভিন রাইমাকে বলল,,

ছবিগুলো আমাকে পাঠিয়ে দিও ৷ আসলে আমার মোবাইল টা নাবিলার কাছে তাই তোমাকে বললাম ৷

রাইমা মুচকি হেসে বলল,, আচ্ছা ৷

ছবি তোলার পর্ব শেষ হলে সিনু সাজিদের থেকে একটু দূরে বসল ৷ তারপর বিরবির করে বলল,,,

সবাই আমাকে শুধু হুমকি ই দেয়! আমার কি কোনো ফিলিংস নেই? অনুভূতি নেই? আমি কি মানুষ না? কি কি করিয়ে নিল আমার থেকে! উনার কোলে বসে চুমু খেতেও বলতি শা'লা রা!

সাজিদ গলা খাকারি দিয়ে বাকা হেসে বলল,,,,হলে মন্দ হতো না ৷ আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই ৷

সিনু বি'স্ফোরিত চোখে সাজিদের দিকে তাকাল ৷ মনে মনে বলল,,, এতো আস্তে করে বললাম তবুও উনার কানে কিভাবে গেল? কেমন কান রে এটা? আর বিয়ের পর থেকে কন্ঠ এতোটা সুরেলা হয়ে গেল কেন রে দুমুখো সা'প?

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন