ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

৩৯তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ৩৯

নাভিন অন্য ডিপার্টমেন্টের টিচার হওয়ায় ওর সাথে খুব একটা দেখা হতো না ৷ ক্ষেত্র বিশেষে দু একবার কিন্তু ইদানিং ভার্সিটিতে গেলেই কোনো না কোনো ভাবে নাভিনের মুখোমুখি হয়ে যায় রাইমা ৷ আজও তার ব্যতিক্রম হলো না ৷ রাইমাকে দেখতেই নাভিন নিজের স্বভাবসুলভ মুচকি হাসি দিয়ে সালাম দিল ৷ রাইমা জোরপূর্বক হেসে সালামের জবাব দিল ৷ নাভিনের সাথে থাকলে ওর এখন খুব নার্ভাস লাগে ৷

দুজনে পাশাপাশি হাঁটতেছে ৷ কেউ কোনো কথা বলছে না ৷ নাভিন বারবার আড়চোখে রাইমার দিকে তাকাচ্ছে ৷ সেটা তীর্যক নজরে খেয়াল করে রাইমা হঠাৎ থেমে গেল ৷ ওর সাথে সাথে নাভিনও থেমে গেল ৷তারপর ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

থামলে কেন?

রাইমা বড় একটা শ্বাস ফেলে বলল,,, দেখুন আমি সোজাসুজি কথা বলতে পছন্দ করি ৷

এটা ভালো গুণ ৷

রাইমা নাভিনের চোখে চোখ রেখে কাটকাট গলায় বলল,, আপনি আমাকে পছন্দ করেন?

নাভিনের মুখভঙ্গি অত্যন্ত স্বাভাবিক ৷ কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ রাইমার দিকে তাকিয়ে থেকে মুখে খানিকটা হাসি টেনে শীতল গলায় বলল,,,

হ্যাঁ পছন্দ করি ৷

সরাসরি স্বীকার করায় রাইমা খানিকটা অবাক হয়ে গেল ৷ ভেবেছিল নাভিন অস্বীকার করবে ৷ ওকে অবাক হতে দেখে নাভিন মুচকি হেসে বলল,,,

এভাবে কোনো রাখ ঢাক না করে সরাসরি স্বীকার করায় অবাক হয়েছো নিশ্চয়ই? আমারও তোমার মতো সোজাসুজি কথা বলার অভ্যাস আছে ৷ এখন যেহেতু কনফেস করেই ফেলেছি তো আমাকে জবাব দাও ৷

রাইমা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ৷ কন্ঠ খানিকটা কঠিন করে বলল,,, আমার জবাব না ৷ আমি আপনাকে বিয়ে করার কথা ভাবতেই পারি না ৷

তাহলে ভাবার দরকার নেই ৷ বিয়েটা তো আমি গিয়ে করে নিয়ে আসব ৷ তুমি শুধু কবুল বলে দিলেই হবে ৷

রাইমার চোয়াল ঝুলে গেল , পরপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,, মশকরা করছেন? আমি মশকরার মুডে নেই প্রফেসর সাহেব ৷

তুমি না থাকলেও আমি আছি ৷ হবু বউয়ের সাথে একটু মশকরা তো করাই যায় ৷ তাহলে সম্পর্কটা ভবিষ্যতে অনেক সুন্দর হবে ৷ আর হ্যাঁ ইট'স লেকচারার মাই উড বি ৷

রাইমা পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ৷ নাভিন যে এমন ট্যারা ট্যারা উত্তর দিতে পারে সেটা রাইমা কখনো কল্পনাও করেনি ৷ কিছু সময় পর রাইমা গম্ভীর গলায় বলল,,,

আমি সিরিয়াস ৷ আমি আপনাকে বিয়ে করব না ৷

আমিও সিরিয়াস ৷ আমি তোমাকে বিয়ে করব ৷

রাইমা বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,, আমি ইংরেজের ভুল করে ফেলে যাওয়া বংশধর কে বিয়ে করব না ৷

ওকে আজ থেকে ইংরেজি নিষিদ্ধ ৷ আই প্রমিস ইউ মাই উড বি ৷

বাহ দারুন ৷ আপনার কথাগুলো পুরো খাঁটি বাংলা ভাষায় পরিপূর্ণ ছিল ৷আপনার থেকে নতুন নতুন বাংলা ভাষা শিখে আমি শিহরিত প্রফেসর সাহেব ৷

নাভিন থতমত খেয়ে গেল ৷ মাথা চুলকে ক্যাবলার মতো হেসে বলল,,, অভ্যাসবশত ভুল করে বেরিয়ে গেছে ৷ প্লিজ আন্ডারস্টান্ড ৷

সুন্দর , অতি উত্তম প্রফেসর সাহেব ৷

বলে রাইমা হাঁটা শুরু করল ৷ নাভিন পিছন থেকে বলতে লাগল,,, এই যে ইট'স লেকচারার ৷ আর শোনো টুকটাক ইংরেজি সবাই বলে ৷

রাইমা কোনো জবাব না দিয়ে গটগট পায়ে চলে গেল ৷ নাভিন বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,,

এতো ইংরেজি কোথা থেকে আসে? আমাকে খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলতে হবে ৷ আজ থেকে নো ইংরেজি ৷ আই হ্যাভ টু ডু ইট ৷

নিজের বলা কথাটা কর্ণগোচর হতেই নাভিন নিজেই নিজের মাথায় একটা থা'প্পড় মা'রল ৷ তারপর বলল,,,,

ওয়াক থুউউউউউউউ তোকে ৷ সারাজীবন সিঙ্গেল ই ম*রবি তুই শা'লা!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

তানজিদ আজ রাইশাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্লান করেছে তাই ভার্সিটির সামনে এসে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ রাইমা নাভিনের বলা সব কথা ওদের তিনজনকে বলতেছে ৷ সবাই হা হয়ে ওর কথা শ্রবণ করতেছে ৷ রাইমার বলা শেষ হলেই সিনু উচ্ছ্বসিত হয়ে জোরে হাত তালি দিল ৷ তারপর খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,,,

ইয়েএএএ নাভিন ভাইয়ার সাথে রাইমার বিয়ে ৷ এবার আমিও কুটনী ননদিনী হতে পারব ৷

ওর কথায় তাল মিলিয়ে তানিয়া বলল,,, উফফ এবার রাইমা টারও বিয়ে হবে ৷ আমরা চারজনই তখন মিঙ্গেল হবো ৷

রাইশা ওদের দুজনের কাধে হাত রেখে বলল,,, হ্যাঁ তারপর আমাদের পোটলা পুটলি গুলোকে বিয়ে দিয়ে দিব ৷ যার যাকে পছন্দ হয় তার সাথেই তাকে বিয়ে দিয়ে দিব ৷

এভাবে ওরা তিনজন রাইমা আর নাভিনের বিয়ে নিয়ে জল্পনা কল্পনা করতে লাগল ৷ রাইমা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তারপর হাত উচিয়ে ওদের তিনজনকে থামিয়ে দিয়ে বলল,,,

ওওও হ্যালো বলছি হচ্ছে টা কি? কোথায় ভাবলাম তোরা আমাকে উনার থেকে বাঁচার উপায় বলবি তা না উনার থেকে এক ধাপ এগিয়ে তোরা অলরেডি আমাদের বিয়ে দিয়ে দিলি?

ওরা শান্ত চোখে ওর দিকে তাকাল কিন্তু কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় বিয়ের পরিকল্পনা করতে লাগল ৷ ওদের অবস্থা দেখে রাইমা বাকরুদ্ধ হয়ে গেল ৷ বুকে দু হাত গুজে কটমট দৃষ্টিতে ওদের তিনজনের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ কিন্তু আফসোস সিনুরা ওর চাহনিকে কিঞ্চিৎ পরিমাণও পাত্তা দিল না ৷

এভাবে কথা বলতে বলতে ওরা গেইটের কাছে যেতেই তানজিদকে দেখতে পেল ৷ তানজিদকে দেখেই রাইশার মুখটা চুপসে গেল ৷ মিনমিন করে বলল,,,

এই রে আজ তো উনার সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা ৷ কিন্তু বিয়ের পরিকল্পনাও তো করতে হবে ৷

তানিয়া ওকে অভয় দিয়ে বলল,, তুই ভাইয়ার সাথে ঘুরতে যাহ ৷ আমরা দুজন আপাতত প্লান করি ৷

রাইশা তেজী কন্ঠে বলল,,, এএএএএ খবরদার আমাকে ছাড়া কোনো পরিকল্পনা করবি না ৷ আমি আসব তারপর বাকি পরিকল্পনা ৷

সিনু সামান্য হেসে বলল,, আচ্ছা আচ্ছা ৷

রাইশা তানজিদের কাছে চলে গেল ৷ তানজিদ ওকে দেখে মিষ্টি করে হাসল ৷ রাইশা মুখে হাসি ফুটিয়ে ওর বাইকে উঠে পড়ল তারপর ওরা সেখান থেকে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই সিনু বলতে লাগল,,,

যাক আলোচনা আপাতত অফ ৷ রাইশা ফিরলে বাকি কথা হবে ৷

রাইমা হা হয়ে ওদের কান্ডকারখানা দেখছে ৷ এ কোন মুসিবতে পড়া গেল? ও তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,,,

যার বিয়ে তার খবর নেই ৷ এদিকে বেস্ট ফ্রেন্ড ওরফে ব'লদ গুলো বিয়ের জন্য অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে ৷

সিনু আর তানিয়া একপলক রাইমার দিকে তাকাল কিন্তু এবারও কোনো জবাব দিল না ৷ চুপচাপ যে যার স্কুটিতে গিয়ে বসে পড়ল ৷ রাইমা কোমড়ে হাত দিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল,,,,

এএ কোন পাগলের গ্যাংয়ের হাতে পড়লাম!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

তানজিদ হাস্যজ্জ্বল মুখে বাইক চালাচ্ছে ৷ আশেপাশের শিরশিরে বাতাস এসে ওর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে যাচ্ছে ৷ রাইশা তানজিদের কাধে নিজের একটা হাত রেখে ফ্রন্ট মিররে মুগ্ধ নয়নে তানজিদের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ মাঝে মাঝেই তানজিদ ওকে ঘুরতে নিয়ে যায় ৷ আজ প্রথমে পার্কে নিয়ে যাবে তারপর রেস্টুরেন্টে খেয়ে দেয়ে যে যার কাজে চলে যাবে ৷

পার্কের সামনে এসে তানজিদ বাইক থামাল ৷ তারপর শান্ত গলায় বলল,,, বউজান নেমে পড়ো ৷

রাইশা বাইক থেকে নামল ৷ তানজিদ বাইকটাকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে রাইশার কাছে চলে আসল ৷ তারপর দুজনে মিলে পার্কের ভিতরে প্রবেশ করল ৷ ভিতরে প্রবেশ করার সাথেই রাইশার চোখ দুটো মুগ্ধতায় ছেঁয়ে গেল ৷ পার্কটা সবুজ গাছগাছালি আর রঙিন ফুলে ফুলে ভরপুর ৷ তার উপর বিভিন্ন নিদর্শন তো আছেই ৷ তানজিদ আলতো করে রাইশার হাতটা নিজের বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় পুড়ে নিল ৷ রাইশা চকিতে তানজিদের দিকে তাকাল ৷ তানজিদ মুচকি হেসে রাইশার চোখে চোখ রেখে বলল,,,

কারো উপর বিশ্বাস নেই যদি আমার বউজানকে আমার থেকে কেড়ে নেয় তখন?বিয়ে করতে গিয়ে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম , যে নিদারুন অ'সহনীয় য*ন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটার পুনরাবৃত্তি হলে আমি ম*রে যাব!

রাইশা নিজের অন্য হাতটা দিয়ে তানজিদের গালে হাত রেখে নরম কন্ঠে বলল,,, হবে না চিরকুমার স্বামী ৷ এমন পরিস্থিতিতে আর আপনাকে পড়তে হবে না ৷ আমি শুধুই আপনার , আমার উপর শুধুমাত্র আপনার অধিকার রয়েছে ৷

তানজিদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল ৷ রাইশার হাতটা আরো শক্ত করে ধরে দুজনে হাঁটতে লাগল ৷ সামনে হাওয়াই মিঠাই দেখে রাইশা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,,,

চিরকুমার স্বামী আমি হাওয়াই মিঠাই খাব ৷

তানজিদ মুচকি হেসে ওকে হাওয়াই মিঠাই এর দোকানে নিয়ে গেল ৷ রাইশা বলে উঠল,,,

আমি এক দুই তিন হ্যাঁ তিনটা হাওয়াই মিঠাই খাব চিরকুমার স্বামী ৷

দোকানদার চোখ বড় বড় করে রাইশার দিকে তাকাল ৷ বেশ বোঝা যাচ্ছে রাইশার তানজিদকে করা সম্বোধনে উনি চমকে গেছেন ৷ রাইশা দোকানদারের অবস্থা বুঝতে পেরে বলল,,,

উনি আমার চিরকুমার স্বামী ওকে? নিন আমাকে হাওয়াই মিঠাই দিন তো আঙ্কেল ৷

দোকানদার নিজেকে সামলে ওকে তিনটা হাওয়াই মিঠাই দিয়ে দিল ৷ তানজিদ বিল মিটিয়ে রাইশাকে নিয়ে হাঁটতে লাগল ৷ রাইশা তানজিদের হাতে দুটো দিয়ে একটা খেতে লাগল ৷ হুট করে তানজিদের মুখের সামনে ধরে বলল,,,

আপনিও খান ৷

তানজিদ সামান্য হেসে বলল,, আমি এসব খাই না বউজান ৷

আজকে একটু আমার সাথে খান প্লিজ ৷

তানজিদ রাইশার অনুরোধ ফেলতে পারল না ৷ অল্প একটু খেয়ে নিল ৷ রাইশা মুচকি হেসে আবারও খেতে লাগল ৷ আরো কিছুক্ষণ পার্কে ঘোরাঘুরি করে ওরা রেস্টুরেন্টে চলে গেল ৷ তানজিদ রাইশার পছন্দমত খাবারগুলো অর্ডার দিল ৷ অর্ডার আসতেই রাইশা খেতে শুরু করে দিল ৷

তানজিদ নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ওকে মুগ্ধ হয়ে দেখছে ৷ মেয়েটাকে খেতে দেখতে ওর অনেক ভালো লাগে ৷ কারো খাওয়ার পদ্ধতিও যে এতো কিউট হতে পারে তা রাইশাকে না দেখলে তানজিদ বুঝতে পারত না ৷

রাইশা মাথা তুলে বলল,, কি দেখছেন?

তানজিদ মুচকি হেসে বলল,, নিজের বউজানকে ৷ কেন তোমার কোনো সমস্যা আছে?

রাইশা লাজুক হেসে মাথা নামিয়ে নিয়ে পুনরায় আস্তে আস্তে খেতে লাগল আর তানজিদ নিজের বধুর লাজুক মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আরো দু দিন কেটে গেল ৷ এই দুই দিন ওদের ভার্সিটি তে ক্লাস ছিল না , আজকেও নেই তাই চারজন ই শপে কাজ করে চলেছে ৷সিনু প্রেগনেন্ট হওয়ায় ওকে ওরা তিনজন সবসময় বসিয়ে রাখে হিসাব নিকাশ দেখার জন্য ৷ অন্যান্য ভারী কাজগুলো ভুলেও ওকে করতে দেয় না ৷ ওদের শপের সামনের সাইনবোর্ডটা আবারও কিছুটা আলগা হয়ে গেছে ৷ তানিয়া আর রাইশা বুকেট শপে কাস্টমারদের সামলাতে ব্যস্ত , রাইমা গেছে ডেলিভারি দিতে ৷ তাই সিনু মাতব্বরি করে নিজেই চলে গেল সেটা ঠিক করার জন্য ৷

মই এনে সেখানে ধীরে ধীরে উঠে পড়ল তারপর সাইনবোর্ডটা ঠিক করে বিজয়ীর হাসি হাসল ৷ নামার সময় হঠাৎ ব্যালেন্স হারিয়ে ও নিচে পড়ে যেতে ধরল ৷ ভয়ে সিনু চোখ মুখ খিচিয়ে ফেলল ৷ কিন্তু নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত ওকে ধরে ফেলল ৷ সিনু আলতো করে চোখ খুলে দেখল সাজিদ ওর দিকে অ'গ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ ওর চোখ থেকে নজর সরিয়ে সিনু নিজের পেটে হাত রাখল ৷ সাজিদ টু শব্দ টি না করে ওকে শপের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিল ৷

সিনু অপরাধীর ন্যায় সাজিদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সাজিদ প্রতিনিয়ত ওকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলে কিন্তু আজ নিজের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির জন্য ভ*য়ঙ্কর কিছু হয়ে যেতে পারত! সিনু সাজিদের হাতে হাত রেখে নরম গলায় বলল,,,

আফওয়ান আমার এমন টা করা উচিত হয়নি ৷

সাজিদের মুখমন্ডল অত্যন্ত গম্ভীর ৷ সিনুর কথায় ওর ভাবাবেগের কোনো পরিবর্তন ঘটল না ৷ সাজিদ ওকে বসিয়ে রেখে শপ থেকে চলে গেল ৷ কিছুক্ষণ পর এক গ্লাস জুস হাতে ফিরে আসল ৷ গম্ভীর মুখেই ওকে নিজ হাতে জুস খাইয়ে দিল ৷ সিনু অসহায় ভাবে সাজিদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷

জুস খাওয়ানো শেষ হলে সাজিদ উঠে দাঁড়াল ৷ সিনু আকুতি করে বলল,,, সাজিদ আফওয়ান ৷ মাফ করে দিন ৷

সাজিদ কোনো জবাব দিল না ৷ পাশের শপে গিয়ে গম্ভীর গলায় তানিয়া আর রাইশাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,

ওটার একটু খেয়াল রেখো ৷ যার নিজের প্রতি কোনো যত্ন নেই তাকে আমার আর কিছু বলার নেই ৷

বলেই সাজিদ লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে গেল ৷ রাইমা সেই মুহূর্তে শপে প্রবেশ করতে করতে বলল,,, কি হয়েছে সিনু? সাজিদ ভাইয়ার মুখ ওমন হয়ে আছে কেন?

সিনু মিনমিন গলায় ওদের সবকিছু বলল ৷ ওর কথা শুনে তানিয়ারা যারপরনাই ক্ষে'পে গেল ৷ রাইমা ওর মাথায় একটা থা'প্পড় মে*রে বলল,,,,

তোর কি আক্কেল নেই বে'য়াদব? মনে তো হচ্ছে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখি তোকে!

রাইশা কর্কশ কন্ঠে বলল,,, আমরা কি শপ থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলাম? আমাদের ডাকতে পারিসনি? যদি সাজিদ ভাইয়ার আসতে একটু দেরি হতো তখন?

ওর কথা টেনে নিয়ে তানিয়া বলল,,,নিজের কথা না ভাবিস বাচ্চা টার কথা অন্তত ভাবা উচিত ছিল তোর ৷ সত্যিই তোর প্রতি আজ খুবই হতাশ আমরা ৷

সিনু নিজের পেটে হাত রেখে হঠাৎ কেঁদে ফেলল ৷ কাঁদতে কাঁদতে বলল,, আমি বুঝতে পারিনি এমন কিছু হবে ৷

ওকে কান্না করতে দেখে ওরা তিনজন একটু নরম হলো ৷ তারপর ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তানিয়া বলল,,, যা এবারের মতো মাফ করে দিলাম ৷ এরপর নিজের প্রতি একটু যত্নশীল হোস ৷ নইলে আর মাফ পাবি না ৷

সিনু তবুও কান্না করতেছে ৷ রাইমা ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,, হয়েছে আর কাঁদতে হবে না ৷ আর মা*রব না তোকে আমি ৷ মাথায় ব্যা*থা পেয়েছিস?

সিনু মাথা নাড়িয়ে না বোঝাল ৷ রাইশা নরম গলায় বলল,,, সাজিদ ভাইয়াও মাফ করে দিবে দেখিস ৷ অভিমান করেছে তোর প্রতি ৷ কাঁদিস না তো রাইমার বিয়ের পরিকল্পনা করা এখনও বাকি আছে কিন্তু ৷

সিনু এবার চোখের পানি মুছে উত্তেজিত হয়ে বলল,,, ওও তাই তো ৷ কোথায় যেন ছিলাম আমরা?

রাইমা খেকিয়ে উঠে বলল,, আবারও শুরু করলি তোরা? তোদের জ্বা*লায় কবে না বনবাসে চলে যাই!

নাভিন শপে ঢুকতে ঢুকতে বলল,,, সাথে করে আমাকেও নিয়ে যেও ৷ বনবাসে যাওয়ার আমার বড্ড শখ আছে সেই ছোটবেলা থেকেই ৷

রাইমার মুখটা আবারও অস্বস্তিতে ছেয়ে গেল ৷ ওকে দেখতেই সিনুরা মিটমিটিয়ে হাসতে লাগল ৷ তা দেখে রাইমার মেজাজ বিগড়ে গেল ৷ মুখটা কঠিন করে রাইমা নাভিনের সম্মুখে গিয়ে কাটকাট গলায় বলল,,,

আজ একটা সাফসাফ কথা বলে দিতে চাই আপনাকে ৷ দয়া করে দ্বিতীয়বার আমাকে বিয়ে করার কথা বলবেন না ৷ আমি আপনার প্রতি কিঞ্চিৎ পরিমাণও ইন্টারেস্টেড না ৷

নাভিন শান্ত চোখে রাইমার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ গলাটা স্বাভাবিক করে বলল,,, ইন্টারেস্ট আনার জন্য কি করতে পারি?

আসবে না ইন্টারেস্ট তাই অযথা সময় ন*ষ্ট করবেন না ৷ এটাই আমার শেষ কথা প্রফেসর সাহেব ৷

নাভিনের মুখটা অন্ধকার হয়ে গেল ৷ অবিচল দৃষ্টিতে রাইমার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ সিনুরা নাভিনের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে ৷ আরো কিছুক্ষণ পর নাভিন পিছন ঘুরে যেতে ধরে পুনরায় ফিরে আসল তারপর রাইমাকে শান্ত গলায় বলল,,,

ইট'স লেকচারার মাই উড বি ৷ আর হ্যাঁ বিয়ে আমি তোমাকেই করব ৷ যতই নাটক করো না কেন? যতই 'এটা আমার শেষ কথা' বলো না কেন?

শেষের কথাটা নাভিন রাইমার মতো করেই হুবহু বলল ৷ বলেই শপ থেকে বেরিয়ে গেল ৷ সবাই ওর প্রস্থানের দিকে হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছে ৷ পর মুহূর্তে রাইমা ব্যতীত ওরা তিনজন জোরে হেসে উঠল ৷ অন্যদিকে রাইমা বিরবির করে বলল,,,

অ*সভ্য লোক! দেখে নিয়েন আপনার চোখের সামনে আমি অন্য একজন ছেলেকে বিয়ে করে নিব হুহহ!

হাসি থামিয়ে সবাই আবার কাজে লেগে পড়ল ৷ পাশের শপের দিকে চোখ যেতেই সিনুর হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেল ৷ সাজিদ গম্ভীর মুখে শপ সামলাচ্ছে ৷ হঠাৎ সামনে চোখ দিতেই সিনুর সাথে ওর চোখাচোখি হয়ে গেল ৷ সিনু চোখের ইশারায় ওর থেকে মাফ চাইলো কিন্তু সাজিদের মুখভঙ্গি অপরিবর্তিত ৷ দ্রুত সিনুর থেকে চোখ সরিয়ে সাজিদ অন্যদিকে চলে গেল ৷ তা দেখে সিনুর মনটা প্রচুর খারাপ হয়ে গেল ৷

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন