#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)
#পর্বঃ৪০
সারাদিন সাজিদ সিনুর দিকে তাকায়নি ৷ রাতের বেলা শপ বন্ধ করে সবাই স্কুটির কাছে চলে গেল ৷ সিনু উদাস মুখে ওদের তিনজনের সাথে দাঁড়িয়ে আছে ৷ সে সময় সাজিদ বাইক নিয়ে সেখানে গেল ৷ তারপর গম্ভীর গলায় বলল,,,
সিনু উঠে পড়ো ৷
ওর মুখ থেকে সিনু ডাক শুনে সিনুর আরো মন খারাপ হয়ে গেল কারন সাজিদ যখন ওর উপর প্রচন্ড রেগে যায় তখন ও সিনু বলে ডাকে ৷ সাজিদ পুনরায় বলল,,,
উঠে পড়ো ৷
সিনু গুটিগুটি পায়ে হেঁটে গিয়ে বাইকে উঠে পড়ল ৷ সাজিদের মুখমন্ডল এখনও কঠিন হয়ে আছে ৷ তানিয়ারা মৃদু হেসে ওকে বিদায় বলল ৷ সারা রাস্তা সাজিদ একটা কথাও বলেনি ৷ সিনু ওর কাধে হাত রেখে নরম গলায় বলল,,,
সাজিদ শুনুন ৷
সাজিদ নির্লিপ্ত, কোনো জবাব নেই ৷ সিনু এবার ওকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে আকুল হয়ে বলল,,, প্লিজ কথা বলুন আমার সাথে ৷
সাজিদ কর্কশ কন্ঠে বলল,,,ছাড়ো আমাকে ৷
সিনু ছাড়ল না ৷ সাজিদ দ্বিগুন জোরে ধমকে উঠে বলল,,, আমি ছাড়তে বলেছি সিনু ৷
সিনু ভয় পেয়ে ছেড়ে দিল ওকে ৷ ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল ৷ এরপর আর কেউ কোনো কথা বলল না ৷ বাড়ি পৌঁছে ডায়নিং টেবিলে বসেও সাজিদ কারো সাথে কোনো কথা বলল না ৷ সাজিদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে মেহমেত বলল,,,
Whatever সাজ্জু বেইবি তোর মুখে কেউ সিমেন্ট মাখিয়ে দিয়েছে নাকি? এতো কঠিন মুখ হয়েছে কেন তোর?
সাজিদ আগের মতোই চুপচাপ খেতে লাগল ৷ কিন্তু মেহমেতও নাছোড়বান্দা ৷ পুনরায় বলতে লাগল,,,
এই সাজ্জু বেইবি মুখেও কেউ কসটেপ লাগিয়ে দিয়েছে নাকি? Whatever উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
সিমরান দু ভাইয়ের দিকে সুক্ষ্ম নজরে তাকাল ৷ তারপর গলা খাকারি দিয়ে মেহমেতকে বলল,,ছোট ভাইয়া যদি আমার ছোট ভাবী মানে নিজের বউয়ের সামনে ভাইয়ার হাতে মা*র খেতে না চাও তাহলে মুখ বন্ধ করে খাওয়ায় মনোযোগ দাও ৷
মেহমেত ওর কথা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল,,, মুখ বন্ধ তুই কর ৷ Whatever আমাকে মা*রার সাহস সাজ্জু বেইবির আছে নাকি?
কথাটা বলে হাসতে হাসতে সাজিদের দিকে তাকাতেই মেহমেতের গলা শুকিয়ে গেল ৷ সাজিদ ওর দিকে অ*গ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ মেহমেত একটা ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,,
আছে সাহস আছে ৷ আমি তো মজা করছিলাম ৷ Whatever তোর মতো কিউট একটা ছেলে আমাকে মা'রতেই পারে না , অবশ্য বিশ্বাস নেই মা*রতেও পারে ৷
মেহমেতের অবস্থা দেখে তানিয়া আর সিমরান হাসতে লাগল ৷ কিন্তু সিনু সাজিদের মতোই নির্লিপ্ত হয়ে বসে আছে ৷খাওয়া শেষ হতেই সাজিদ উঠে বেসিনে চলে গেল ৷ সিনু অসহায়ভাবে ওর দিকে একবার তাকাল ৷ তানিয়া চোখের ইশারায় ওকে চিন্তামুক্ত থাকতে বলল ৷ সিনু প্রতি উত্তরে শুকনো হাসল ৷ তারপর নিজেও উঠে পড়ল কারন খাবার ওর গলা দিয়ে নামছে না ৷ সিনুর মন খারাপ দেখে তানিয়ারও মুড অফ হয়ে গেল ৷
সিমরান কিছুক্ষণ আগে চলে গেছে ৷ এখন ডায়নিং টেবিলে শুধু মেহমেত আর তানিয়া ৷ তানিয়াকে উদাস হয়ে বসে থাকতে দেখে মেহমেত বলল,,,
আরে মিস ত্যানাত্যানা মন খারাপ করো না ৷ Whatever ভাইয়া তোমার স্বামীকে মা*রবে না ৷
তানিয়া কপাল কুঁচকে বলল,,, মা*রলে মা*রবে আমার তাতে কি? আপনি তো মা*র খাওয়ার ই যোগ্য ৷ আর হ্যাঁ আপনাকে মা*র খেতে দেখলে আমি পৈশাচিক আনন্দ পাব, এখানে মন খারাপ করার কথা কোথা থেকে আসছে mr.Whatever?
মেহমেতের চোয়াল ঝুলে গেল ৷ আফসোসের সুর তুলে বলল,,, ওরে নি*ষ্ঠুর বউ রে! নিজের স্বামীর প্রতি ন্যুনতম মায়াও কি নেই?
তানিয়ার সোজাসাপ্টা জবাব,,, না নেই ৷
মেহমেত তানিয়ার কোমড় পেচিয়ে ধরে বলল,,, আচ্ছা তাই? Whatever কিন্তু আমার ভালোবাসা স*হ্য করার ক্ষমতা তো আছে তাই না?
মেহমেতের চাহনি দেখে তানিয়া শিউরে উঠল ৷ তা দেখে মেহমেত বাকা হাসল ৷ তানিয়াকে ছেড়ে দিয়ে বলল,,,
চলো আগে টেবিলটা পরিষ্কার করি ৷ Whatever তারপর স্বামীর ভালোবাসা দেখাব তোমাকে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সিনু রুমে এসে দেখল সাজিদ বিছানা গুছিয়ে ইতোমধ্যেই শুয়ে পড়েছে ৷ বিছানার মাঝখানে হঠাৎ কোলবালিশের দিকে নজর যেতেই সিনুর বুক ফাটিয়ে কান্না আসতে চাইলো ৷ কয়েক মুহূর্ত ছলছল চোখে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ও লাইট অফ করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল ৷
সিনু করুন চোখে সাজিদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সাজিদ ওর দিকে পিঠ করে শুয়ে আছে ৷ অন্যদিন হলে ওদের দুজনের মাঝে কিঞ্চিৎ পরিমাণ দুরত্বও থাকে না আর আজ কতো দুরত্ব! সিনুর চোখ দিয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পড়ছে ৷ তাতে সাজিদের কোনো হেলদোল নেই ৷
এভাবেই সাজিদ দুই দিন যাবত ওকে ইগনোর করে চলেছে ৷ সাজিদ গায়ে শার্ট চাপিয়ে রুমের বাইরে যেতে ধরলেই সিনু পিছন থেকে ওকে জরিয়ে ধরে বলল,,,
আমাকে মাফ না করা পর্যন্ত আমি আপনাকে ছাড়ব না ৷
সাজিদ গম্ভীর গলায় বলল,,, ছাড়ো ৷
না আমি ছাড়ব না ৷
ছাড়ো বলছি স্টুপিড!
সিনু ওর ধমকে সামান্য কেঁপে উঠলেও ওকে ছাড়ল না ৷ কান্না করতে করতে বলতে লাগল,,,
আর কখনো নিজের অযত্ন করব না ৷ সবসময় নিজের সর্বোচ্চ খেয়াল রাখার চেষ্টা করব ৷কখনো পাকনামী করে কিংবা বাহাদুরি করে কিছু করতে যাব না ৷ এবারের মতো মাফ করে দিন সাজিদ ৷ শেষবারের মতো মাফ করুন ৷
সাজিদ ওর কান্না শুনে সামান্য ঠান্ডা হলো ৷ নিজের বি*ক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়ন্ত্রণে আনল ৷ কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর সাজিদ সিনুর হাত সরিয়ে দিল ৷ এতে করে সিনু জোরে কেঁদে উঠল ৷ তা দেখে সাজিদ সামান্য হেসে ওর দু গালে দুটো হাত রেখে বলল,,,
কি কান্না! হয়েছে আর কেঁদে কেঁদে নদী বানাতে হবে না ৷ চুপ করো মাফ করে দিয়েছি ৷ তবে দ্বিতীয়বার এমন করলে মাফ পাওয়ার কথা কল্পনাতেও আনবে না ৷
সিনু এখনও কেঁদেই চলেছে ৷ সাজিদ ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,,, আহা কান্না থামাও সিনুপাখি ৷ আমার বাচ্চাকে কষ্ট দিচ্ছ কেন? সবচেয়ে বড় কথা আমার সিনুপাখিকে কষ্ট দিচ্ছ কোন সাহসে?
সিনু ক্রন্দনরত মুখেই সামান্য হাসল তারপর সাজিদকে জরিয়ে ধরল ৷ সাজিদও ওকে নিজের সাথে আগলে নিল ৷ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,,,
তোমার কোনো ধারনা আছে আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম? তোমাকে মইএ উঠতে দেখেই আমার কলিজা কেঁপে উঠেছিল ৷ একে তো বোরকা পড়া তার উপর আমাদের বাচ্চা তোমার পেটে, জাস্ট ভাবো আমার কেমন অনুভূতি হয়েছিল তখন!
সিনু মিনমিন গলায় বলল,,, আপনার বউ এক নাম্বারের আ'হাম্মক, গা'ধা,ব'লদ ৷ ওটাকে মাফ করে দিন আর দ্বিতীয়বার এমন করলে সজোরে ওটার গালে একটা থা'প্পড় বসিয়ে দিবেন ৷
সিনুর কথা শুনে সাজিদ হেসে ফেলল ৷ তারপর ওকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ওর গালে কপালে এলোপাতাড়ি ভাবে চুম্মন করতে লাগল ৷ সাজিদ ভালোবাসা দিয়ে সিনুর মুখমন্ডল সিক্ত করে তুলল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সিনুদের রোজ রোজ নাভিনকে নিয়ে বলা কথাগুলোয় রাইমা ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে গেছে ৷ সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে রীতিমত ৷ যেখানে ওর নিজের কোনো মত সেখানে ওরা এতোটা হাইপার হওয়ার কারনটা ও বুঝতে পারছে না ৷ এসব ভাবতে ভাবতে রাইমা ক্রিকেট ফিল্ডের দিকে চলে আসল ৷ সবার হৈচৈ শুনে ও মাঠের দিকে তাকাল ৷
নাভিন একটা টি শার্ট পড়ে ছাত্রদের সাথে ক্রিকেট খেলছে ৷ নাভিন একটু আগে বড় সড় ছক্কা মা*রায় সবাই হৈ হুল্লোড় করতেছে ৷ আজ গ্রাউন্ডে মেয়েদের ভীড় জমেছে ৷ নাভিন স্যার খেলতেছে কিনা ভিড় তো হবেই ৷ প্রথমবারের মতো রাইমা নাভিনের ঘর্মাক্ত মুখটার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থাকল ৷ সামনের চুলগুলো ঘামে ভিজে কপালে লেপ্টে আছে যা ওর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ৷
আরো কিছুক্ষণ ব্যাটিং করে হঠাৎ মাঠের বাইরে চোখ যেতেই নাভিনের ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠল ৷ ব্যাট টা একটা ছেলের হাতে দিয়ে গলায় টাওয়াল পেচিয়ে হাতে পানির বোতল নিয়ে ও রাইমার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ রাইমা এখনও ঘোরের মধ্যে আছে তাই নাভিন যে ওর দিকে এগিয়ে আসছে সেটা এখনও ওর মস্তিষ্কে পৌঁছায়নি ৷
নাভিন রাইমার আরেকটু কাছাকাছি এসে ওর সামনে চুটকি বাজিয়ে হেসে হেসে বলল,,, হবু স্বামীকে দেখবে এখানে অন্যায়ের কিছু নেই কিন্তু তাই বলে পাবলিক প্লেসে এভাবে? দ্যাট'স নট ফেয়ার ৷
রাইমার হুশ ফিরল , নিজের কান্ডে ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল ৷ তবুও গলায় তেজ নিয়ে বলল, আমি মোটেই আপনাকে দেখছিলাম না ৷ আমি তো একটু খেলা উপভোগ করছিলাম ৷
নাভিন বাকা হেসে বলল,,, আচ্ছা তাই?
হ্যাঁ তাই ৷ ভুলেও দাঁত কেলাবেন না নয়তো আপনার উপর ক্যারাটে প্রয়োগ করতে বাধ্য হবো ৷
নাভিন জোরে হাসতে লাগল তারপর রাইমার দিকে বোতলটা ছুঁড়ে দিল ৷ রাইমা চট জলদি সেটা ক্যাচ করে বলল,,,
যদি লেগে যেত?
নাভিন টাওয়াল দিয়ে শরীরের ঘাম মুছতে মুছতে বলল,, লাগে নি তো ৷ আজ তোমার ক্যাচিং স্টাইল দেখার জন্যই ছুড়েছিলাম ৷ এখন বোতলের ঢাকনা টা খুলে দাও আমি পানি খাব ৷
রাইমা চোখমুখ কুঁচকে বলল,, পারব না খুলতে ৷
ভার্সিটির স্যারের সাথে মুখে মুখে তর্ক? বড্ড বাড় বেড়েছো তুমি ৷ তোমার বাসায় কমপ্লেইন পাঠাতে হবে দেখছি ৷
রাইমা বিরক্তিমাখা মুখে বোতলের ঢাকনা খুলতে লাগল তারপর সেটা নাভিনের দিকে বাড়িয়ে দিল ৷ নাভিন হাস্যজ্জ্বল মুখে সেটা নিয়ে আধবসা হয়ে পানি খেতে লাগল কারন দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া ইসলামে নিষেধ ৷ বোতলের অর্ধেক পানি খেয়ে বাকি টুকু নাভিন নিজের মুখে ছিটিয়ে দিল ৷ তারপর মাথা ঝাকিয়ে পানি শুকাতে লাগল ৷
রাইমা নিজের অজান্তেই মুগ্ধ হয়ে নাভিনের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ নাভিন ওর দিকে তাকানোর আগেই রাইমা দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল ৷ নাভিন বসা থেকে উঠে শান্ত গলায় বলল,,,
ক্লাস যদি শেষ হয়ে থাকে তাহলে সরাসরি শপে চলে যাও ৷ ক্যাম্পাসে ঘোরার দরকার নেই ৷ আমি চাই না কোনো ছেলে আমার হবু বউয়ের দিকে নজর দিক ৷
রাইমার জবাবের অপেক্ষা না করেই নাভিন সেখান থেকে চলে গেল ৷ রাইমা ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,
এ্যাহহহহ হবু বউ! হবু বোনও আমি হবো না আপনার আরো তো বউ হুহহ!
হঠাৎ সামনে তাকাতেই রাইমার ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ গ্রাউন্ডের মেয়েগুলো ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে ওর দিকে এগিয়ে আসছে ৷রাইমা বিরবির করে বলল,,,
এসে গেল প্রফেসর সাহেবের ফ্যান ফলোয়ার্সরা!
মেয়েগুলো ওর দিকে এগিয়ে এসে বলল,,,,,,,,নাভিন স্যারের সাথে তোমার কি মেয়ে? কি কথা বলছিলে তুমি স্যারের সাথে?
রাইমা হাই তুলে বলল,,, সেটা তোমাদের নাভিন স্যার কে গিয়েই বরং জিজ্ঞাসা করো কারন উনিই আমার কাছে এসেছিলেন , আমি যাইনি ৷
বলেই রাইমা ত্রস্ত পায়ে ওদের সামনে থেকে চলে গেল আর মেয়েগুলো ওর দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
গতকাল মেহমেত আর তানিয়ার বিয়ের দু মাস পূর্ণ হয়েছে ৷ আর আজকেই কিনা খবর পেল তানিয়া প্রেগনেন্ট ৷ সাহেরা খাতুন আর মোতাহের হাসান তো খুশিতে আকাশে উড়ছেন ৷ একসাথে দুজন অতিথি উনাদের পরিবারে আগমন করতে যাচ্ছেন ৷ এর চেয়ে খুশির খবর আর কি হতে পারে?
মেহমেত তানিয়ার সাথে আলাদা কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ড্রয়িংরুমে চলে আসল ৷ ও নিচে আসতেই সিনু তানিয়ার কাছে চলে গেল ৷ এখন ড্রয়িংরুমে কেবল সাজিদ আর মেহমেত ৷ মেহমেতের মুখ থেকে যেন হাসি সরছেই না ৷ সাজিদ টিটকারি দিয়ে বলল,,,
নি'র্লজ্জ ছেলে তোর একটুও ল'জ্জা নেই? বিয়ে করলি সেদিন আর এর মধ্যেই বাবা হতে যাচ্ছিস?
মেহমেত হাসি থামিয়ে চোখ সরু করে বলল,,, Whatever তোর হিংসা হচ্ছে তাই না? আমার মতো এতো দ্রুত বাবা হওয়ার সু খবর পাসনি জন্য এখন আমাকে নি'র্লজ্জ বলছিস ছ্যাহ!
সাজিদ কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, তোর সাথে কথা বলা অমূলক যুক্তিহীন ৷ তোর থেকে গাছের সাথে কথা বলাও বেটার ৷
মেহমেত অবাক হয়ে বলল,,, তুই গাছের সাথেও কথা বলেছিস? Whatever ওরা কোন ভাষায় কথা বলে? আমাকে একটু বল না , আমিও ওই ভাষা শিখে ওদের সাথে কথা বলতে চাই ৷
সাজিদ শান্ত চোখে মেহমেতের আগ্রহভরা মুখটার দিকে তাকাল তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, ব ল দ , ব আকার ল এগুলো তোর নিকনেম হলে মন্দ হয় না ৷
না না এসব নাম আমার পছন্দ হয়নি ৷ Whatever আমার বাচ্চা উচ্চারণ করতে পারবে এমন সহজ কিছু নাম রাখ ৷
সাজিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে পড়ল ৷ তারপর হাঁটা ধরতেই মেহমেত ব্যস্ত কন্ঠে বলতে লাগল,,, এই সাজ্জু বেইবি কোথায় যাচ্ছিস? Whatever আমার নিকনেম আগে ঠিক কর তারপর যা ৷নয়তো আমাকেও তোর সাথে নিয়ে যা ৷
সাজিদ পিছু ঘুরে নাটকীয়ভাবে বলল,,, মহামান্য ব ল দ আমি বর্তমানে টয়লেটে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছি ,অনুগ্রহ করে আমার সাথে আসুন ৷ দুজনে মিলে যাই ৷ ওখানে গিয়ে আপনার নাম টাও ঠিক করা যাবে ৷
সাজিদের নাটক দেখে মেহমেত জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ হাসতে হাসতে ওর চোখে পানি চলে আসল ৷ সাজিদের থেকে এমন আচরণ পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার বটে ৷ তাই মেহমেত পারছে না হাসি থামাতে ৷
মেহমেত হাসি অব্যহত রেখেই সাজিদের কাছে চলে গেল তারপর কাধে হাত রেখে বলল,,, ভাই বাপ হতে যাচ্ছিস ৷ Whatever এমন আচরণ কি তোর মানায়?
তো তুইও বাপ হতে যাচ্ছিস ,তোর তো উচিত পুরো নিজেকেই পরিবর্তন করা ৷ এই ক্যারেক্টারের বাপ আমার ভাতিজা ভাতিজীর সহ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না ৷
এএএএ আমার মতো বাপ পেয়ে ও ধন্য হবে আর আমার মতো চাচ্চু পেয়ে তোর বাচ্চা ধন্য হবে ৷ Whatever আমি এতো ভালো কেন হতে গেলাম? ইশশ রে!
সাজিদ ওর মাথায় বাড়ি মে'রে বলল,,, পাগলের সুখ মনে মনে ৷
মেহমেত নিজেকে সামলে সাজিদকে জরিয়ে ধরে বলল,, Whatever ভাই আমরা দুজনেই বাবা+চাচা হতে যাচ্ছি ৷ আমি খুব খুশিইই ৷
সাজিদ মুচকি হাসল তারপর কন্ঠটা গম্ভীর করে বলল,,, ছাড় আমাকে টয়লেটে যেতে হবে আহাম্মক ৷ নাকি তোকেও সাথে করে নিয়ে যাব? আমার অবশ্য কোনো আপত্তি নেই ৷
চলবে,,,,,