#অন্তহীন_সুখের_সীমান্ত
#অচিনপাখি_স্বপ্নচারিণী
🌿 অচিনপাখি স্বপ্নচারিণী 🌿
আমি কোনো পরিচিত মুখ নই, কোনো বড় লেখকও নই।
শুধু কিছু গল্প মনের মধ্যে জমে থাকে—আর সেই গল্পগুলোই শব্দের মাধ্যমে আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। ❤️
“অন্তহীন সুখের সীমান্ত” শুধু একটি ভালোবাসার গল্প নয়।
এ গল্পে আছে পরিবারের মায়া, ভাই-বোনের মিষ্টি খুনসুটি, মা-বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, বন্ধুত্বের গভীরতা, অভিমান, হাসি-কান্না আর ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া এক সুন্দর slow-burn love। 🌸
কারণ কিছু ভালোবাসা সময় নেয়—কিন্তু সেই অপেক্ষাটাই হয়তো সবচেয়ে সুন্দর। 🕊️
তাহলে চলুন—শুরু হোক
পর্ব—১
🚫 লেখকের অনুমতি ছাড়া এই লেখা কপি, সম্পাদনা, পুনঃপ্রকাশ বা অন্য কোথাও পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
© অচিন পাখি স্বপ্নচারিণী
"তুই তো প্রত্যেক দিন স্কুলে আসতে পারিস না, তাই নতুন একটা ফ্রেন্ড বানিয়ে ফেলসি।" বলেই মিট মিট করে হাসতে থাকলো খাদিজা।
"মানে আমার ছাড়া আর কাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়েছিস। দেখি কে সেই ডাইনি যে আমার ভাগ বসাতে আসছে।" খুবই ক্রোধ ও অভিমানে বললো মিশিকা।
"তুই তাহলে জেল্যাস ফিল করছিস। প্রত্যেকদিন আসলে ফ্রেন্ড বানাইতাম না।"
" আমি আর জেল্যাস, নোপ,হতেই পারে না।"
কথা বলতে বলতে খাদিজা মিশিকাকে স্কুল প্রাঙ্গন থেকে ক্লাস রুমের কাছে নিয়ে আসলো।
"ওই দেখ আমার বান্ধবী। তুই না আসলে নিজেরে এতিম মনে হয়, তাই নতুন একটা জোগাড় করলাম।"
মিশিকা খাদিজার থেকে চোখ সরিয়ে সেই মেয়েটির দিকে তাকালো। মেয়েটির উচ্চতা হবে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির মতো । গায়ের রঙ হবে অলিভ স্কিন।
চোখ গোল গোল,সামনের ছোট চুল মিনি ক্লেউ ক্লিপ দিয়ে আটকানো যার দরুন সেই ছোট চুল গুলো উপরে সাপের ফণার মতো উঠে আছে,আর কোমর অবধি চুল বেনী করা।মেয়েটিকে দেখতে বোকার মতো লাগলো মিশিকার কাছে,মুখে কিছু না বললেও মনে মনে মেয়েটির প্রতি বেশ হিংসা হতে লাগলো।
"মেয়েটির নাম কাজী সুবর্ণা। আজকে থেকে আমার নতুন বান্ধবী আর কাজী এই হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড মিশিকা রায়।"
" হাই, নাইস টু মিট ইউ।"
সুবর্ণা হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিল। কিন্তু মিশিকা হ্যান্ডশেক না করেই উল্টো দিকে ঘুরে ক্লাসে চলে গেল।
"তুই কিছু মনে করিস না, মিশিকা খুবই ভালো মেয়ে। কয়েকদিন গেলেই বুঝতে পারবি। শুধু তার সাথে এখন থেকে মাখনের মতো থাকবি। তাইলে দেখবি, আমার মতো সেও তোর বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যাবে।"
প্রথম দিকে অপমান বোধ করলেও খাদিজার কথা শুনে লম্বা একটা শ্বাস ফেলে শুধু হুম.. করে ছোট জবাব দিল।আর তাকিয়ে রইল মিশিকার চলে যাওয়া গমন পথের দিকে।
পুরোটা ক্লাস টাইম মিশিকা খাদিজার সাথে কথা বলল না। নিজের মতন করে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে আর কি যেনো লিখছে তা সেই ভালো জানে।
"আমার মনে হয় না, মিশিকা আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবে।"
"কেন মনে হয় না?"
"দেখছিস না, কিভাবে Ignore করছে। কথা তো বলা দূর একটু চোখ তুলেও তাকাচ্ছে না।"
"ব্যাস শুধু এইটুকুর জন্য, তোর মনে হলো মিশিকা তোর ফ্রেন্ড হতে পারবে না। তুই তাহলে আমার আর মিশিকার প্রথম দেখা শুনলে তো হাসতে হাসতে মরে যাবি।"
"কী হয়েছে বল তাহলে?" সুবর্ণা আগ্রহের সাথে জানতে চাইল।
"শোন"।
সুবর্ণা কান পেতে বসে থাকলো কাহিনীটা শোনার জন্য।
—সময়টা ২০১৮, ১৫ই জুলাই। ক্লাস-4
"এই মেয়ে, নাম কি তোমার? এই ক্লাসে নতুন নাকি। তোমাকে আগে তো কখনো দেখনি।"
"আমার নাম খাদিজা আক্তার বুশরা। আমাকে বর্ষা বলেও ডাকতে পারো। নতুন অ্যাডমিশন হয়েছি, সে তাগিদে না দেখার হওয়ারই কথা।"
" হুমম, তা ঠিক।" বলেই মিশিকা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খাদিজাকে দেখতে লাগলো। মেয়েটি দেখতে মোটা, স্কিন কালার উজ্জ্বল শ্যামলা, চুল বেশ সিল্কি কোমর অবধি, পরনে নতুন স্কুল ইউনিফর্ম।
" হুমম..! তোমাকে বেশ ভালো লেগেছে আমার। এখন টিফিন টাইম, খেলবে আমার সাথে।"
" হ্যাঁ, খেলবো কিন্তু খেলার নাম কি?"
" চলো, বলছি।"
বলেই মিশিকা আরও কয়েকজন মেয়েদেরকে একত্রিত করলো। তারপর সবাই মিলে একটি ক্লাস রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিল। একে একে সব জানালা আটকে দিল। এখন যখন মিশিকা লাইট অফ করতে যাবে তখনি খাদিজা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,
" এটি কি খেলা? আমার খুবই ভয় করছে, আমি খেলবো না।"
" আরে এখানে ভয় কিসের। এটি একটি ভূতের গেম। এখন টস করা হবে, একজন ভূত হবে তারপর সবাই দিবে রান...।"
" আমি খেলবো না।"
" এখন গেম অফ করা যাবে না।"
তারপর টস করা হলো, শেষে খাদিজা ভূত হলো। খাদিজা শুরুতে ভয় পেলেও, এখন সেও খেলাতে মেতে উঠল। গেম স্টার্ট হতেই সবাই দৌড়াতে লাগলো। খাদিজা সবাইকে ভয় দেখাতে দেখাতে মিশিকার কাছে গেল। খাদিজাকে নিজের কাছে আসতে দেখে মিশিকা জোরে জোরে "ভূত" বলে দৌড়াতে লাগলো। খাদিজাও নাছোড়বান্দা সেও মিশিকার পেছনে দৌড়াতে লাগলো। যখনই সে মিশিকাকে ধরতে যাবে তখনই মিশিকা খাদিজাকে পেট বরাবর কিক করে দিল।
"ধড়াম!"
সবাই থম হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে দিল সবাই ভোঁ দৌড়। এদিকে খাদিজার ব্যথায় নাজেহাল অবস্থা। মিশিকা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
" ও মা গো! ভেঙে দিল আমার কোমর। এই শয়তানের বাচ্চাটা আমার কোমর ভেঙে দিল।"
মিশিকা একটি ঢোক গিলে খাদিজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সে রীতিমতো ভয়ে ঘেমে অস্থির।
" আসলে আমি বুঝতে পারিনি। একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি সরি।"
বলেই মিশিকা নিজের হাত বাড়িয়ে দিল খাদিজাকে উঠানোর জন্য। কিন্তু মেয়েটি হাতটা তো ধরলই না উল্টো ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে দিল। অতঃপর মুখ ঘুরিয়ে ব্যথায় এবং রাগে ফুসতে লাগলো।
" এটি কি ধরনের অভদ্রতা। আমি বলছি তো আমি ইচ্ছে করে করিনি।"
বলেই মিশিকা জোর করে তাকে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল। তারপর এক সেকেন্ডও দেরি না করে বাইরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে হাত ভর্তি "স্ন্যাক্স" নিয়ে আসলো।
" ওই নাও, ধরো।"
মিশিকা খাদিজার হাতে "স্ন্যাক্স" দিতে দিতে পুনরায় বলতে লাগলো,
" আর হ্যাঁ, এই কিক এর কথাটা তোমার বাড়িতে যাতে কেউ জানতে না পারে। যদি জানতে পারে তাহলে তোমার খবর করে দিব।" তারপর মিশিকা এক মুহূর্তও দেরি না করে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে গেল।
খাদিজা মিশিকার কান্ড দেখে তাজ্জব বনে গেল।
" আজব মেয়ে একটি।"
বর্তমান,
খাদিজার কথা শেষ হতেই সুবর্ণা একটি নজর পেছনের বেঞ্চে বসা মিশিকার দিকে তাকালো, তারপর পুনরায় খাদিজার দিকে তাকালো।
" বস, আমি বাইরে থেকে বাতাস খেয়ে আসি।" সুবর্ণা বলেই উঠে দাঁড়াল।
"এর আবার কি হলো?" তারপর খাদিজাও বাইরে চলে গেল।
"কি হলো তোর? আমিতো ভেবেছিলাম হেসে গড়াগড়ি খাবি।"
সুবর্ণা একবার খাদিজার দিকে তাকালো। আর তাকিয়ে থাকতে পারলো না। পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। এক ঢোক গিলে ভাবতে লাগলো, সে আসলে খাদিজার কথা শুনে হাসবে নাকি নিজের জন্য আফসোস করবে সেটি বুঝে পেল না। ওদের প্রথম সাক্ষাৎ মিষ্টি ভাবে শুরু হলো তবু মিশিকা বর্ষার কোমর ভেঙে দিল। আর আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ শুরু হলো হিংসা দিয়ে। কপালে যে কি আছে তা একমাত্র আল্লাহ্ মাবুদ জানে। আমি তো চোখেও কম দেখি। আল্লাহ্ চোখ না ফাটায় হ্যালায়।
" এত ভাবিস না। ভাবতে ভাবতে তো বিদ্যাসাগর হয়ে যাবি।"
—
লোহার গেট পেরিয়ে বড় উঠোন গলিয়েই নিচতলার প্রবেশদ্বার। । মেঝেতে চিরচেনা লাল মোজাইকের ছোঁয়া। একটি পরিপাটি ড্রয়িংরুম, সাথে যুক্ত ডাইনিং স্পেস ও রান্নাঘর এবং তার পাশেই একটি অতিথি ঘর। নিচতলার ভেতরের দিকে শান্ত পরিবেশে রয়েছে মিশিকার মা-বাবা রজনী রায় এবং দেবাশীষ রায় এর রুম ,
ড্রয়িংরুমের এক কোণ থেকে দোতলায় উঠে গেছে একটি চমৎকার কাঠের ঘোরানো সিঁড়ি।
সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলেই আধুনিক হালকা রঙের টাইলস করা দোতলা। সিঁড়ির ডানদিকে শৌর্যের রুম এবং তার পাশেই মিশিকার রুম।দক্ষিণ দিকে রয়েছে মিশিকার একান্ত ব্যক্তিগত ঘর। এই বিশেষ ঘরটিতে রয়েছে নিচু খাটে হালকা নীল চাদর আর একটি বড় কাঠের জানলা, যা খুললেই বাইরের সবুজ প্রকৃতি, নদী আর দূর দিগন্তের সীমান্ত রেখা চোখে পড়ে।
বাড়িতে এসে মিশিকা স্কুল ব্যাগ রেখে গোসলখানায় চলে গেল গোসল করতে।
গোসল করে এসে খেতে বসলো। রজনী রায় ভাত বেড়ে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো,
" আজকেও হেঁটে এসেছিস না?"
" হুমম।"
" ৩০ মিনিটের পথ হেঁটে না এসে গাড়িতে করেও তো আসতে পারিস।শরীর ক্লান্ত হয় না। ওমনে সকালেও হেঁটে যাস।"
" হেঁটে যাওয়া ভালো। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে। "
" তাই বুঝি।"
" হুম"
রজনী রায় মিশিকার গাল টেনে হেসে দিলেন।
" পাগল মেয়ে একটি। "
মিশিকাও দাঁত বের করে হাসতে লাগলো।
পাঁচটা বেজে গেলো। স্যার এসে যাবে তাই মিশিকা দ্রুত খাবার খেতে লাগলো। মূলত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকের সপ্তাহে পরীক্ষা শুরু হবে। মিশিকা কিছুই পারে না। পুরা বছর না পড়ে এখন পরীক্ষা দিতে হবে। তাই একটি স্যার ঠিক করা হয়েছে। কিছু ধারণা দিয়ে দিবে। আর ক্লাস এইট থেকে ভালোমতন পড়া-লেখা শুরু করে দিতে হবে।
—
দুইটি পরীক্ষা শেষ। আজকে শেষ পরীক্ষা গণিত। কোনো মতো পরীক্ষা দিয়ে বের হলো মিশিকা। কি আউড়িয়ে পরীক্ষা দিল একমাত্র সেই জানে।
তবু মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্লাস রুম ত্যাগ করে স্কুল প্রাঙ্গনে গেল। ভেবেছিল একটু বাইরের বাতাস খাওয়া যাক। কিন্তু বাইরে এসে এক একজন মেয়ের চেহারা গরুর পাছার চেয়ে কম মনে হলো না। মুখটা থমথম হয়ে যাওয়াটা না হয় মানা যায়, কিন্তু কান্না করাটা হার্ট টাচিং মনে হলো মিশিকার। প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারল এটি জাওড়া গণিতের কামাল।
তখনি হুট করে মাইকিং এর আওয়াজ শুরু হলো। সবাই একে একে পিঁপড়ের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে গেল স্কুলের প্রাঙ্গনে। মিশিকা, খাদিজা, সুবর্ণা মিলে এক লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো। তখনই মাইকিং-এ প্রধান শিক্ষক বললেন, "প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমাদের যেহেতু কোভিড ১৯ এর জন্য ঠিক মতো ক্লাস হতে পারেনি এবং তোমাদের পড়াশোনা অতিরিক্ত পিছিয়ে গিয়েছে, তাই এবারের মতো তোমাদের অটোপাশ দেওয়া হলো।" প্রধান শিক্ষকের বলতে দেরি, কিন্তু শিক্ষার্থীদের উল্লাসে দেরি নেই।
" আহ! জীবনটাই শান্তি, এই অটোপাশ নামটা জীবনে না আসলে কখনই বুঝতেই পারতাম না লাইফটা এতই শান্তি হয়। নইলে এই জাওড়া গণিতটা লাইফ তেজপাতা বানিয়ে দিয়েছিল।"
মিশিকা মনে মনে ফিসফিস করে বলতে লাগলো।
সবাই পারলে বেলি ডান্স দিতো দেখলে তাই মনে হচ্ছে মিশিকার কাছে। মিশিকাও কম যায় না, সেও সবার সাথে উল্লাস প্লাস অভিনন্দন জানাতে লাগলো।
এভাবেই কিছু মাস কেটে গেল, দেখতে দেখতে মিশিকা ক্লাস ৮-এ উঠে গেল। কিন্তু সুবর্ণার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলেও সেটি নামে মাত্র টিকে রইল। খাদিজার মতন সুবর্ণার সাথে মিশতে পারছে না। মিশিকা যখনই সুবর্ণাকে দেখত তার হিংসা হতো। যখনই তারা তিনজন এক পথে হাঁটত মিশিকা মাঝখানে দেওয়ালের মতন থাকত।
ক্লাস শুরু দশটায়। এখন বাজে নয়টা পঁয়তাল্লিশ। এখনো খাদু আসছে না। মিশিকা একটি বেঞ্চে বসে আছে। আর অপেক্ষা করছে খাদুর আসার।
মিশিকা অপেক্ষা করতে করতে প্রায় আধমরা হয়ে গেছে, কিন্তু খাদুর কোনো ঠিকানা নেই। পরে দেখা মিলল কাজী সুবর্ণার। মিশিকার হাত অজান্তেই ওপরে উঠে গেল, এবং মিশিকা ইশারা করে বলল এখানে এসে বসতে।
"আজকে বর্ষা আসেনি।" সুবর্ণা জিজ্ঞেসা করল।
"না, আসেনি।" প্রথমে মিশিকা ভেবেছিল আর কথা বলবে না। কিন্তু কথা না বললেও ভালো লাগছে না। তাই সে কথা খুঁজতে লাগলো কি দিয়ে শুরু করা যায়।
"তোমার বাসা কোথায়?"
"আমার বাসা ডিস্ট্রিক্ট লেক এর পাশেই।"
"ওহ! "
মিশিকা একবার পুরো ক্লাস রুমে চোখ বুলালো। এরপর পুনরায় সুবর্ণার দিকে চোখ স্থীর করলো। মেয়েটাকে প্রথম দিনে যেমনটা দেখেছিল ঠিক আজকের দিনেও তার ব্যতিক্রম নয়। সামনের ছোট চুল ক্লেউ ক্লিপ দিয়ে আটকানো, আর ওই চিরচেনা দিনের মতো আজকেও সাপের ফণার মতোন ওপরে চুল উঠে আছে। মানে এই মেয়েটা কি বাড়িতে আয়না দেখে আসে না নাকি। এমন চুল বেঁধে আসতে হবে কেন? এসব ভাবতে ভাবতে তার মনে শয়তানি বুদ্ধি চাপ দিল। কিছু একটা খুনসুটি করার ইচ্ছা তার মনে উদয় হচ্ছে। না করলেই নয়। একবার সুবর্ণার দিকে তাকালো তো আরেকবার সাপের ফণার মতন চুলের দিকে তাকালো। আর কোনোকিছু না ভেবেই চুল ধরে টান দিয়ে দিল।
" ওমাগো, এই ছেড়ি ছার আমার চুল। আমার চুল কি সরকারি পেয়েছিস।"
" মোটেও না। সরকারি না পেলেও নিজের সম্পত্তির ভাগ বসাতে পারি।"
" এই আমার চুল কি তোর সম্পত্তি মনে হয়?
" হ্যাঁ।" বলেই মিশিকা হা হা করে হেসে উঠলো। তৎপর পুনরায় চুল টেনে বললো," বেস্ট ফ্রেন্ড হতে চাও অথচ খুনসুটি করলেই দোষ।"
সুবর্ণা আর কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না। কিন্তু মিশিকার মতোন সেও একটি কাজ করে বসলো। মিশিকার দুই বেণী করা চুলের একটি বেণী ধরে সজোরে টান দিয়ে দিল।
" ওহ ভগবান। তুই শালি দেখি হেব্বি জাউরি মাইরি।"
এক মুহূর্ত তারা দুজন একে অপরের দিকে তাকালো আর অট্টহাসিতে মেতে উঠলো।
চলবে.........
💗 এখানেই আজকের পর্ব শেষ।
গল্পটি ভালো লাগলে একটি Like 👍 দিয়ে পাশে থেকো এবং তোমাদের মতামত Comment 💬 করে জানিও। তোমাদের একটি ছোট্ট কমেন্টও লেখককে পরের পর্ব লিখতে অনেক বেশি উৎসাহ দেয়।
আর গল্পটি ভালো লাগলে তোমার প্রিয় মানুষদের সাথে Share করতে পারো। ❤️