#অন্তহীন_সুখের_সীমান্ত
#অচিনপাখি_স্বপ্নচারিনী
পর্ব-২
টিফিন টাইম,
" ওহ্ সুবর্ণা, তোমাকে যেমনটা ভেবেছিলাম, তুমি আসলে তেমনটা না। তুমি জানো তোমাকে প্রথমবার যখন দেখেছিলাম, তখন তোমাকে একটা বলদ ভেবেছিলাম। এখন দেখি তোমার মেন্টালিটি আর আমার মেন্টালিটি সেম।
" তুমি এতটা ও বলদ না।"
" মানে, জাউড়ি কত বড় শয়তান, আমাকে বলদ ভাবে। আমি হলাম কালনাগিনী। সম্মান দিয়ে কথা বলবে।"
" আইসে সম্মান আলি। বাট আমার কি ভাগ্য একজন হাতি আর একজন কালনাগিনী কপালে জুটল।"
" আর তুই বান্দর।"
এই কথা শুনে মিশিকার মুখ হা হয়ে গেল।
" শালি তোরে তো রে..।"
সুবর্না দিলো ভৌ দৌড়। সুবর্না সামনে আর মিশিকা তার পেছনে দৌড়াতে লাগল। পুরো স্কুল প্রাঙ্গন গোল রাউন্ড তারা দৌড়াতে লাগল। দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে গিয়ে দুইজনে দাঁড়িয়ে পরে। মিশিকা বলে উঠল,
" নাইস, তুমি থেকে তুই তে পরিবর্তন হয়ে গেল।"
" হুমম..। জানি না কিন্তু তোর সাথে থাকতে অনেক ভালো লাগছে।"
" আমারও।"
এরপর দুইজনে বসে পরলো স্কুল প্রাঙ্গনের এক কোনাই।অবশ্যয় শুধু তারা দুজন বললে ভুল হবে, এখানে আরও অনেক মেয়েরা তাদের বান্ধবীদের সাথে গোল হয়ে বসে আছে।
সুবর্ণা এক গাল হেসে বলল, "তুই কিন্তু হিংসার চোটে আমাকে আগে হ্যান্ডশেকও করিসনি, মনে আছে?"
মিশিকা মুখ বাঁকিয়ে টিফিন বক্সের ঢাকনাটা খুলতে খুলতে বলল, "আরে ছাড় তো ওসব অতীত! অতীত আঁকড়ে ধরে বসে থাকা আমার স্বভাব না। তা তোর টিফিনে কী এনেছিস দেখি? ভালো কিছু না হলে কিন্তু তোর ওপর আবার কিক ঝাড়ব!"
"বাপরে! ওসব কিকের ভয় বর্ষাকে দেখাাবি, আমাকে না," বলেই সুবর্ণা নিজের টিফিন বক্স সামনে এগিয়ে দিল। সুবর্ণার বক্সে ছিল নুডুলস আর মিশিকার বক্সে আলুর পরোটা।
মিশিকা এক মুহূর্ত দেরি না করে সুবর্ণার বক্স থেকে বড় এক চামচ নুডুলস মুখে পুরে দিয়ে বলল, "উম্মম, হেব্বি তো বানায় তোর আম্মু! শোন, আজকের থেকে প্রতিদিন অর্ধেক টিফিন আমার, বুঝেছিস?"
সুবর্ণা চোখ গোল গোল করে বলল, "হ্যাঁ রে! ডাকাত নাকি তুই? আর আমার টিফিন নিবি, তোর ওই পরোটা কে খাবে?"
"কেন? তুই খাবি! বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়ার প্রথম শর্তই হলো—'তোর টিফিন আমার, আর আমার টিফিন... তোর!'" মিশিকা শয়তানি হেসে একটা পরোটার টুকরো সুবর্ণার মুখে গুঁজে দিল।
সুবর্ণা খেতে খেতেই রেগে যাওয়ার ভান করে বলল, "তুই কিন্তু চরম একখানা জাউরি! আমার চুল টানলি, টিফিন কাড়লি, আর এখন জোড়জুলুম করে পরোটা খাওয়াচ্ছিস!"
"তো কী করবি? খাদুর মতো কোমর ভাঙবি নাকি আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবি? অপশন কিন্তু এই দুটোই!" মিশিকা ভ্রূ নাচিয়ে বলল।
সুবর্ণা কিছুক্ষণ মিশিকার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ মিশিকার গাল দুটো একহাতে চেপে ধরে বলল, "হয়েছে বাবা হয়েছে! তোকেই বেস্ট ফ্রেন্ড মেনে নিলাম। এমন পাগল আর শয়তান ফ্রেন্ড না পেয়ে উপায় আছে? নইলে তো আমার পুরো স্কুল লাইফটাই বোরিং হয়ে যাবে!"
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে মেতে উঠল। টিফিনের শেষ চামচ নুডুলসটা মিশিকার মুখে তুলে দিতে দিতে সুবর্ণা মনে মনে ভাবল—মেয়েটা হিংসুক আর মাথায় একটু ছিট হলেও, মনের দিক থেকে একদম খাঁটি। আর ওদিকে মিশিকাও বুঝতে পারল, কালনাগিনী যাই হোক না কেন, এই মেয়েটা এখন থেকে তার জীবনের একটা বিশেষ অংশ হয়ে গেল।
—
ঘরজুড়ে হালকা গোধূলি আলো, আর সেই আলোর মাঝেই দাঁড়িয়ে সে—যেন এক জীবন্ত তুলির টান।
সবচেয়ে আগে টানে তার ডাগর ডাগর গভীর কালো দুটি চোখ। ঘন পাপড়ির ছায়ায় ঢাকা সেই চোখের চাহনিতে রয়েছে অদ্ভুত এক মায়া আর হালকা চঞ্চলতা, যেন কিছু না বলেও হাজারটা না-বলা কথা বলে যাচ্ছে অনবরত।
কোমর ছুঁয়ে যাওয়া ঘন কালো চুলগুলো একদম ঢেউয়ের মতো খেলিয়ে পড়েছে তার পিঠজুড়ে। তার দুধে-আলতা ফর্সা ত্বকে ছড়ানো সেই কালো চুলের বৈপরীত্যে পুরো রূপটা আরও ফুটে উঠেছে।
তার পাতলা, সুগঠিত ঠোঁট দুটিতে আলতো করে ভেজলিন মাখানো থাকায় লেগে আছে এক ভেজা স্নিগ্ধতার ঝলক। বাতাসের এক একটা মৃদু দোলায় তার খোলা চুলের দু-একটা আলগা খাঁজ উড়ে এসে হঠাৎ আটকে যাচ্ছে সেই স্নিগ্ধ ঠোঁটের কোণে—যেন বারবার ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে তাকে।
পরনে তার একটি গোলাপি রঙের মিডি ড্রেস, যা তাকে এক দারুণ স্নিগ্ধ, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় রূপ দিয়েছে।
ঘড়ির কাঁটা একটা জায়গায় গিয়ে যেন একদম আটকে গেছে। টিক..টিক শব্দটা মিশিকার কানে হাতুড়ির মতো বাড়ি মারছে। চোখ দুটো ঘড়ির দিকে স্থির, যেন ওখানেই তার ভবিষ্যৎ জীবনের একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি ভেসে উঠছে।
হঠাৎ করেই মাথায় ভর করল দুশ্চিন্তার পাহাড়। ‘তিন বছর পর আমি কোথায় থাকব? আদৌ কি কিছু করতে পারব ? নাকি সব শেষ হয়ে যাবে? যদি যা ভাবছি তার কিছুই না হয়?’
এমন হাজারটা ফাউল চিন্তার জটলা বাঁধল মাথায়। ভাবনাগুলো ক্রমশ ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল তাকে। বুকটা ধড়ফড় করে উঠল একটু। আগামী দিনের অজানা ভয় যেন আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরছিল তাকে।
ঠিক তখনই জানালায় এসে বসল একটা কাক। কর্কশ গলায় ডেকে উঠে উড়ে গেল দূরে।
মিশিকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তারপর এক গ্লাস পানি ঢেলে এক চুমুকে খেয়ে নিল। গ্লাসের দিকে তাকিয়ে স্বগতস্বরেই বলে উঠল, "ধুর! এসব ভেবে আসলেই কি কোনো লাভ আছে? যা হবে দেখা যাবে!
একটা ঝাটকায় মাথার জঞ্জালগুলো দূর করে দিল সে।
আবার মনে মনে ভালোবাসার চিন্তা করতে লাগলো।
" হুম..! খুব শীঘ্রই তাকে প্রপোজ করে দিব।"
এসব চিন্তা শেষে সে তার রুম থেকে বের হলো। পড়া-লেখার টেনশনে বাইরের আবহাওয়ার সৌন্দর্য উপভোগ করা হচ্ছে না তার।
সন্ধ্যা বেলা, বাইরের অপরূপ দৃশ্য। দেখে কোনো স্বর্গের চেয়ে কম মনে হচ্ছে না মিশিকার।
মিশিকা মুগ্ধ নয়নে আঙিনায় হাঁটছে আর গাছগুলো দেখছে। হঠাৎ করে সে দেখতে পেল একটি ছোট পাখির বাসা পড়ে গিয়ে ছোট একটি গাছে ঝুলে রয়েছে। মিশিকা দৌড়ে গিয়ে পাখির বাসাটি হাতে নিল। পরক্ষণেই তার নজরে এলো দুই ছোট ছানাপাখি নড়াচড়া করছে। প্রথমে মিশিকা চিনতে পারলো না। তাই সে পাখির বাসা এবং ছানা দুটোকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।
" মা, ও মা,মাতারি। দেখো তো এটা কোন পাখির বাচ্চা।"
কথাটি শুনে রজনী রায় কাপড় গোছানো বাদ দিয়ে মিশিকার সামনে এলেন।
" এটাতো দেখে মনে হচ্ছে ঘুঘু পাখির বাচ্চা।"
" ঘুঘু পাখির বাচ্চা। আমি পালবো এই বাচ্চা দুটোকে। তুমি মানা করবে না। এর আগে তুমি দুটো বিড়ালের বাচ্চা পালতে দাওনি। তখন ছোট ছিলাম দেখে তোমার কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এখন তোমার কথা শুনেও আমি এদের রেখে আসবো না।"
" বিড়ালের বাচ্চা তো ছিল না, আস্ত শয়তানের হাড্ডি ছিল। ঘুঘু পালবি পাল, ঘুঘু পাখিতে আমার সমস্যা নেই।"
" আহ্ আজকে যদি আমার বিড়ালের বাচ্চা থাকতো তাহলে তারা কত বড় হয়ে যেত। একটি কালা আরেকটি সাদা।"
বলেই সে গান গাইতে গাইতে সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো:-
সাদা সাদা কালা কালা, রং জমেছে সাদা কালা
হয়েছি আমি মনপাগলা বসন্তকালে।
তুমি বন্ধু কালা পাখি, আমি যেন কী
বসন্তকালে তোমার দেখা পাই নি...
—
রাত নয়টা।
মিশিকার বাড়ির সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে আছে। রজনী রায় ভাত বেড়ে দিচ্ছেন সবার প্লেটে।খাবার পরিবেশন শেষে রজনী রায় নিজের চেয়ারে এসে বসলেন।
খাবার খেতে খেতে শৌর্য বলে উঠল,
" বাবা, কালকে তো মামারা আসছে।"
দেবাশীষ রায় এক লোকমা খাবার মুখে নিয়ে বললেন,
" কার কাছ থেকে শুনেছ?"
" নিধি আজ বিকেলেই আমাকে বলেছে।"
" ওহ্, তা ওনারা যে আসছে ফোন করে বলেনি।"
" না, বাবা।"
দেবাশীষ রায় এরপর রজনী রায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
" বুঝলে রজনী, আজকালের মানুষেরা নিজেদের বোনের সম্পত্তি মেরে খাবে আর কিছু বললেই নাকি আমরা লোভী। মানুষ চিনতে শেখো রজনী। ভাই বলে যাকে নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দিলে এখন সেই তোমাকে চিনে না।"
খাওয়া শেষ হতেই দেবাশীষ রায় হাত ধুয়ে ধপাধপ পা ফেলে নিজের রুমের ভেতর চলে গেলেন। রজনী রায় থম মেরে বসে আছেন। বর্তমানে তিনি বুঝতে পেরেছেন অতীতে কতই না বড় বোকামি করেছেন, ভাইকে সকল সম্পত্তি দিয়ে। পরক্ষণেই বলে উঠলেন—
" কার বাড়িতে উঠবেন তারা?"
শৌর্য জবাব দিলো, "কার বাড়িতে আবার নিধির বাড়িতে। । নিজের মেয়ের বাড়িতে উঠবেন।আমরা কি তাদের আপন হই নাকি।"
কিছুক্ষণ নীরবতা। মিশিকা নিজের মতন করে ভাত খাচ্ছে আর ফোনে ডোরেমন কার্টুন দেখে হাহাহিহি করে হাসছে। এগুলো রোজকার ব্যাপার। এসব ঘোরনী প্যাচাল শুনতে শুনতে মিশিকার কান পচে গিয়েছে। তাই বাড়িতে যখনই সিরিয়াস বিষয়ে কথাবার্তা হয় তখন তার শরীর তো উপস্থিত থাকে কিন্তু আত্মার অস্তিত্ব আর থাকে না।
মিশিকাকে শব্দ করে হাসতে দেখে শৌর্য বিরক্তিকর চোখে একবার মিশিকার দিকে তাকালো। সে আসলেই ভেবে পাচ্ছে না এই মেয়েটি এত হাসে কেমনে? যখন তখন পরিস্থিতি না বোঝে হাসতে থাকে। এত চিল কি লাইফে আসলেই করা সম্ভব!আর একটু টোকা দিলেই হলো পুরো ঘর মাথায় তুলে ফেলবে।কিছু বলে কূল পাওয়া যায় না উল্টো তাকে ধুয়ে ফেলে। বড় ভাই বলে যে একটু দাম আছে, তা ঐ মেয়েটির মধ্যে ভগবান আক্কেল দিতে ভুলে গিয়েছে।মাঝে মধ্যে তার মনে হয় এই বাড়ির বড় সে নাকি ঐ পুচঁকি মেয়ে।
তারপর কথাতে খোঁচা মেরে শৌর্য বলে উঠল,
" ঐ সাদা পোলটি। তোর খেয়ে দেয়ে কি কাজ নেই। যখন তখন খালি দাঁত বের করে হাসতে থাকিস। এখন থেকে শুধরিয়ে নে ঐ অভ্যাসটা, নইলে সামনের দাঁত বের হয়ে যাবে। দেখিস, লিখে নে পরে আর জামাই খুঁজে পাবি না।"
ভাইয়ের মুখে এমন কথা শুনে মিশিকার হাসি ধুপ করে থেমে গেল। কটমট দৃষ্টিতে তার একমাত্র ভাইয়ের চেহারার দিকে তাকালো,
" কাকে বললি তুই ? আমি সাদা পলটি। আমার মতোন স্কিন পেতে তোর সাত জনম নেয়া লাগবে। রাম ছাগল একটা ।" "রাম ছাগল, রাম ছাগল" বলেই মিশিকা তার এক চোখের নিচে আঙুল রেখে ভেংচি কাটতে লাগল।
তাদের ভাইবোনের খোঁচাখুঁচি দেখে রজনী রায় অতিষ্ঠ হয়ে চিৎকার করে উঠলেন,
" চুপ করো ওওও...!"
তারপর সবকিছু নিস্তব্ধ। আর কেউ কোনো কথা বলল না।
কিছুক্ষণ পর রজনী রায় পুনরায় বলে উঠলেন,
"তোর মামায় শুধু আসছে নাকি আর কেউ?"
"মামা-মামি আর অনিকেত আসছে।"
অনিকেত নাম শুনতেই মিশিকার কান খাড়া হয়ে গেল, মিশিকা রীতিমত আশ্চর্যের সীমানায় চলে গিয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব! উনার তো আসার কথা নয়।
কেন আসছেন তাহলে? নিশ্চিত কোনো কারণ আছে।মিশিকা মনে মনে ভাবছে, তবে কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না। মা-ভাইকে প্রশ্নও করতে পারছে না। মূলত সে ছেলেদের ব্যাপারে খুবই লাজুক। ফ্যামিলিদের মাঝে ছেলে বিষয়ক কথা বলতে তার অস্বস্তিকর মনে হয়। এইজন্যে তার মা-বাবা, ভাই-বোন মনে করে সে কিছুই বোঝে না, খুবই সহজসরল এবং বাচ্চামিতে ভরপুর। আসলে তারা যদি কোনোদিনও মিশিকা এবং তার বান্ধবীদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয় তা যদি শুনতে পারতেন তাহলে নিশ্চিত কমায় চলে যেতেন। তবু মিশিকার মনে হয় কেউ যদি তার ফ্যামিলিকে ভিডিও রেকর্ড করেও দেখাতো তাহলে নিশ্চিত Ai বলে শান্তিতে ঘুম পারতেন।
খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষে মিশিকা নিজের রুমে এসে আয়েস করে বিছানায় মুখ গুঁজে পড়ে রইল। সে আসলে বুঝতে পারছে না, তার কি করা উচিত। ওদিকে মামা-মামিদের সাথে তার মা-বাবার সম্পর্ক খাদে পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে অনিকেত ভাই তার ছোটবেলার ক্রাশ। ভাগ্যিস মিশিকা তার আবেগ নিয়ন্ত্রন করতে পারে। নাহলে অনিকেত ভাইয়ের বিরহে সে দেবদাস হয়ে যেত।
পরেরদিন—
"যাব কি যাব না, যাব কি যাব না।"
মিশিকা বিড়বিড় করছে। সে আসলেই দোটানায় পড়ে গিয়েছে স্কুলে যাবে কি যাবে না। না পেরে সে তার মায়ের কাছে গেল।
"মা, ওমা, মাতারি। আজকে স্কুলে যেতে পারব না আমি।
রজনী রায় রান্না করছিলেন। মিশিকার কথা শুনে রজনী রায় ঘুরে তাকালেন। মুখটা শান্ত, দেখে বুঝার উপায় নেই কি চলছে ভিতরে। মিশিকার কাছে বিষয়টা মোটেও নরমাল ঠেকলো না। সে এক পা পেছাতে যাবে তখনি রজনী রায় গরম খুন্তি তাক করলেন মিশিকার মুখের সামনে।
" হ্যাঁ, কি যেন বলছিলে?"
" না, মানে আজকে স্কুল এ যাওয়ার ইচ্ছে করছিল,অনেক বেশি। তুমি তাহলে খাবার রেডি করো,আমি তাহলে যায় রেডি হতে।"
বলেই মিশিকা রেডি হতে চলে গেলো। রেডি হয়ে এসে খাবার খেয়ে দ্রুত স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলো। আজকে সে হেঁটেই স্কুলে যাবে, হাতে যেহেতু সময় আছে। মিশিকা পথের ধারে হাঁটছে আর মুচঁকি একটি হাসি ফুটছে তার মুখে।
"আজকে কতো দিন পর অনিকেত ভাইয়ের সাথে দেখা হবে। উফ, আমারতো ভেবেই কত খুশি হচ্ছে। আচ্ছা, উনি কী আগের মতোই আছেন, ওই নম্র-ভদ্র নাকি পরিবর্তন হয়ে গেছেন। উনি আমার সাথে দেখা করতে আসবেন তো। যদি না আসেন। তাতে আমার কি? যে কপালে আছে সে এমনি উড়ে উড়ে আসবে।"
চলবে.........
নেক্সট পূর্ব খুব দ্রুত আসবে। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করতে ভুলবে না.......🧡