আধো আলোয় তুমি পর্ব ১
Akhi Islam
Dream Valley University শহরের অভিজাত এক এলাকায় অবস্থিত। চারপাশে আধুনিক উঁচু ভবন, ব্যস্ত রাস্তা আর মানুষের ছুটে চলা জীবন। সেই ব্যস্ততার মাঝেই বিশাল জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে কলেজটি। দূর থেকেই এর রাজকীয় স্থাপত্য আর বড় গেট নজর কাড়ে। ভেতরে ঢুকলেই শহরের কোলাহল অনেকটা পেছনে পড়ে যায়—চারপাশে সবুজ আর শান্ত পরিবেশ।
—
“ ভার্সিটির পাশেই ছোট্ট একটা ক্যাফে। ক্যাফেটার ভেতরে এক কোণের টেবিলে পাশাপাশি বসে আছে তিনজন। চারপাশে মানুষের আনাগোনা, কফির মিষ্টি গন্ধ আর হালকা কথাবার্তার শব্দে জায়গাটা বেশ জমজমাট। অথচ তাদের তিনজনের কারও সেদিকে মন নেই।
এরা একেকজন একেক কাজে বিজি,,
তুই আমার টা কেনো নিলি? চেচিয়ে উঠলো রিদি,, আমি আমি আবার তোর টা কখোন নিলাম হুমম বল বল? তুই আমার পেলেট থেকে নিস নি? নাতো আমি কেনো নিবি? তুই মিথ্যা বলছিস আমি নিজের চোখে দেখেছি,, নিজের দুই চোখ হাতের দুই আংগুল দিয়ে একটু বড় করে বলে উঠ লো রিদি,, রাতুল খুব ভাবলেসীস ভাবে বললো,, যখন দেখেছিস তাহলে জিজ্ঞাসা কেনো করছিস ফেত কাদুনি?
কি তুই কি বললি আমি ফেত কাদুনি? হুমম,, তবে রে চেয়ার থেকে উঠে রাতুলের চুল টেনে ধরলো রিদি,, তুই আমার চুল টানলি কেন? আমার মন চাইছে তাই,, দুইজনের মাঝে আবার ঝগরা লেগে গেলো,,এ একে চর মারছে তো এ ওর চুল টানছে,,
আর এদের মাঝে কেউ একজন যে আছে তা বুঝার কোন উপায় নেই কারন সে তো তার মতো বইয়ের মাঝে ডুবে আছে,, তার সামনে যে কোন মানুষ আছে,,বা তারা চিল্লা চিল্লি করছে,, না সেদিকে তার মন আছে আর না তাদের চিল্লা চিল্লি তে সে ডিসটার্ব হচ্ছে,, তার ভাব এমন যেনো এসব কয়েক বছর যাবোত সহ্য করতেছে…
তোকে আমি ছারবো না রিদির বাচ্ছা,, পারলে ধরে দেখা,, রাতুলের সব গুলো চুল টেনে এক দোর দিলো রিদি।
রাতুল কি ছেড়ে দেবে নাকি সেও পিছে পিছে দোর দিলো। তোকে আমি ছারবো না.. দারিয়ে গেলো রিদি হাপিয়ে গেছে হাপাতে হাপাতে বলে উঠলো,, আগে ধরে তো দেখা তারপর না হোই ছারার কথা আসবে।
বলেই আবার এক দোওর দিলো রিদি দুইজনেই দোরাছছে,, আর পাশে দারিয়ে তা দেখতে বেস্ত তুহিন।
সেও বের হয়ে এসেছিলো ওদের সাথে কিন্তু কাছে যাইনি।
দুর থেকে দারিয়েই ওদের দোওরা দোওরি দেখছে,, তার কাছে এটা নতুন কিছু না “এগুলো দেখতে সে অভ্যস্ত। দেখতে দেখতেই বেজে উঠা ফোন টা পকেট থেকে বের করলো।
হ্যালো,, কিরে কই তোরা ওপাস থেকে বেসে এলো
তুহিন এদিক ওদিক চেয়ে বলে উঠলো ইউনিভার্সিটির পিছনে।
তোরা ওখানে কি করিস,, তুই এসে দেখে যা আমরা কি করি।
আসছি,,ওপাস থেকে বলে উঠলো
ফোন কেটে দিলো তুহিন তার রাগ লাগছে এখন একটু পরে ক্লাস শুরু হবে আর ওরা এখোনো দোওরাছ ছে।
বাচা বাডি পিলিজ বাচা,, আায়াজ কে দেখে একটু শান্তি পেলে রিদি,, নয়তো সে আজ সত্যিই মার খেতো,, রাতুল যা রেগে গেছে।
কি হয়েছে বাডি তুই এভাবে হাপাছ ছিস কেনো? আর তুই বা ওর পিছনে ছুটছিস কেনো? তুহিন তুই আমার বাডিকে সেভ কেনো করছিস না?
কি হলো বল সবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো আয়াজ।
তোর পশ্ন করা শেষ হলে বলিস আমি উত্তর দিবো রাতুল হাপাতে হাপাতে বললো।
তোরা জীবনো ভালো হবি না,,আর তুই কেনো আমার বাডির পিছনে লাগিস?
তুহিন : আগে নিজে ভালো হো তার পর ওদের বলিস
আয়াজ:আমি আমি তো ভালোও!
ভুরু কুচকে তাকালো তুহিন এ নাকি ভালো
আয়াজ : আচ্ছা বাদদে চল যাই
হ্যাঁ চল সবাই তাল মিলিয়ে হাটা শুরু করলো।
আমার বেবি আসেনি এখোন?
ভার্সিটির সামনে আসতেই আয়াজ বললো।
এই যে ওর ভালো মানুষি শুরু বির করে কথা টা বললো তুহিন। আয়াজ : কিরে তুহিন সোনা তুই কি কিছু বললি।
তুহিন : না
আয়াজ : স্যতি কিছু বলিস নি তো। না
আজকেও লেট,, ও কি জীবনো তারাতারি আসবে না নাকি বলতো একটু চিন্তা চিন্তা ভাব নিয়ে কথাটা বললো রিদি।
রাতুল : থাক তোকে আর এতো ঢং করতে হবে না।
রিদি : কি তুই কি বললি আমি ঢং করি।বাডি তুই বল আমি কি ঢং করি বল।
আয়াজ : না একদম না,, তুই ওর কথায় কান দিস না বাডি।
তুহিন : তোদের এসব ঢং বাদ দে আর আয়োশি কে ফোন দে।
আয়াজ :তুই দে
তুহিন ফোন বের করে ফোন দিলো।
চৌধুরী বাড়ি
হালকা রোদের আলো জানালা ভেদ করে ঘরে ঢুকতেই ইরা ঘুম থেকে উঠে গেলো। মোবাইল দেখে ওর চোখ দুটো বরো বরো হয়ে গেছে।
আল্লাহ রে হায় হতাস করে উঠলো মেয়েটা। এই মেয়ে এমোনি ওর সবকিছুতেই ভয়। সান্ত,ভদ্র, সবসময় চুপচাপ। জীবনে যতো গুলো বাশঁ খাইছে সব ওর আদরের বনে দোওলাতে। এই যেমন আজ আবারো খাবে।আজ আবার ক্লাস করতে পারবে না যা মনে হয়।
সব ভাবনা বাদ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলো ইরা।
এখন তার চাকরি শুরু যেটা তাকে পতিদিন করতে হয় আবার বকাও শুনতে হয়।আর বকা শুনার পর ইরা একটা কথায় বলতে মন চাই। যার জন্য করলাম চুরি সেই বলে চোর।
এই,, আয়োশি উঠ না লক্ষ্মী বোন আমার,, উঠ না নয়তো আজকেও বকা শুনতে জ হবে।
উফ ইরা তুই জা ফ্রেশ হয় আমি উঠছি। হু তুমি যে কতো উঠবা আমার জানা আছে। মুখ ভেংচি দিয়ে বললো ইরা।
তুই উঠবি নাকি আমি আমমু কে ডাকবো কোনটা বল।
এই না না একদম না,,এখন তুই মাম্মামকে ডাকলে উনি আবার শুরু করবে।তোখন তোর আমার দুইজনের শশুর বাড়ি থেকে ঘুরে আসবে।
ইর :হুমম তাহলে যা
তুই আগে যা আমি পরে যাবো। ও আমি যাবো আর তুই ঘুমাবি আমি চিনি না তোকে।
আয়োশি : আচ্ছা চল দুইজন একসাথে ঢুকি,, ইরার হাত টেনে ওয়াশরুমে নিয়ে যেতে যেতে বলতে লাগলো,, এই ছার আমাকে,, কেনো ফ্রেশ হবি না।
ইরা,, হবো তবে তুই আগে আর আমি পরে,, না তুই আগে তার পর আমি,, না।
ইরা,, ওকে আমি আগে যাচ্ছি। তুই কিন্তু ঘুমাবি না।
ওয়াশরুমে ঢুকলো ইরা।
দশ মিনিট পর বের হয়ে আসলো ইরা,,
আমমু আমমু বলে ডাকতে ডাকতে নিচে নেমে আসলো ইরা,,
এই ছাগলের মতো মে মে কেনো করছিস,, রান্না ঘর থেকে বের হয়ে হাত মুছতে মুছতে বলে উঠলো শিউলি।
আয়োশি এখোনো ঘুম থেকে উঠেনি,, ও উঠেনি তো তুই কি করছিলি ওকে উঠাতে পারলি না,,।
আমি ওকে উঠিয়ে ওয়াশরুমে গেছি এসে দেখি ও ঘুমিয়ে গেছে,,।
কেমনে ডাকো যে একবার উইঠা আবার ঘুমাই যাই,, বলতে বলতে শিরি বেয়ে উপরে উঠে গেলেন।
ইরা এখন যানে কি হবে ও নিজের খাবার নিয়ে খেতে শুরু করলো।
চলবে…..