আধো আলোয় তুমি পর্ব ২
Akhi Islam
ইরা যানে এখন কি হবে তাই ও নিজের খাবার নিয়ে খেতে শুরু করলো।
শিউলি বেগেম আয়োশির ঘরে ডুকেছে,, এই এই আয়োশি তুই উঠবি?
মাম্মাম তুমি,, খালার ডাকে লাফ দিয়ে উঠে পরলো আয়োশি,,তুই ইউনিভার্সিটি যাবি কখোন। তোকে সব সময় কেনো ডাকতে হয় বলবি। শশুড় বাড়ি গিয়ে উঠিস সকাল দশটাই শাশুড়ি ঝাড়ু দিয়ে বাড়ি দিবে।বিছানা ঘুছাতে ঘুছাতে বলতে লাগলো শিউলি বেগম।
আমি তো শাশুড়ির সাথেই আছি,, কিরে কি বির বির করছিস?
খালা কথায় তার দিকে তাকিয়ে মাথা নারলো আয়োশি,, সে কিছুই বলেনি।
তাহলে দারিয়ে না থেকে জা চেঞ্জ টা কর। আয়োশির হাতে জামা এনে দিলো শিউলি বেগম,,
আয়োশি ওয়াশরুমে ডুকে গেলো দশ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে আয়োশি,, তার খালা খাবারের পেলেট নিয়ে দারিয়ে আছে।
তারাতারি মাথাটা আছরা যা,,আর ইরা যা ড্রাইভার ভার কে বল গাড়ি বের করতে,, আয়োশির মুখে খাবার দিতে দিতে বললো শিউলি বেগম।
ইরা মায়ের কথা শুনে নিজের বেগটা নিয়ে নিচে নেমে গেলো।
আয়োশি মাথা আছরাছ ছে আর শিউলি বেগম ওকে খাইয়ে দিছছে। ভার্সিটি থেকে সোজা বাসাই আসবি,,খাওয়ানো শেস করে আয়োশি মুখ মুছে দিয়ে বললো শিউলি বেগেম।
ওকে মাম্মাম,, খালার গালে টুক করে একটা চুমো খেয়ে বের হতে হতে বললো আয়োশি।
তারাতারি আয় আয়োশি,, গাড়ির ভেতের থেকে হাত নেরে বললো ইরা,,আয়োশি গাড়িতে উঠে বসলো গাড়ি চলতে শুরু করলো,, মামা গাড়ি থামান “বাড়ি থেকে কিছু টা দুরে আসতেই বললো আয়োশি।
গাড়ি থামাবে মানে এই ভার্সিটিতে যাবিনা তুই?
না,, ইরার পশ্নে খুবই শান্ত গলায় বললো আয়োশি।
মামা আপনি যান আজকে আপনার ছুটি,, গারির সামনে এসে গাড়ির দরজা খুলে বললো আয়োশি। ড্রাইভার সাথে সাথে নেমে গেলো,, একেই ছুটি তারপর আবার আয়োশি বলেছে।
এই নিন ধরুন সারাদিন ঘুরবেন,, আমি ফোন দিলে ঠিক এইজায়গায় আসবেন,, আর হে যদি আমাদের আসতে দেরি হয়,, আর মাম্মাম ফোন দিলে মেনেজ করে নিবেন,,গড়ির ড্রাইভারের হাতে এক হাজার টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বললো আয়োশি।
কি বলে মেনেজ করতে হবে জানা আছে তো। একদম,, আয়োশির কথায় এক গাল হেসে বললো,, মধ্যে বয়স্ক ভদ্র লোক।
তুই আজকে আবার কোথায় যাবি আয়োশি,, আমমু জানলে কিন্তু বকবে,, একটু চিন্তিতো গলায় বললো ইরা।
কিন্তু আয়োশির মুখে কোন কথা নেয় ও নিজের মতো গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।
এই তুই বলবি আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আরে এই শালার ঘরের শালি একদম চুপ করে বসে থাকবি।
অতিরিক্ত রাগে বললো আয়োশি। এমনি বেচারির মন মেজাজ ভালো না তার উপর আবার এই শালি অতিরিক্ত কথা বলতেছে। এমনিতে কোন কথা বলবে না,, কাওকে কোন পশ্ন করবে না দুনিয়ায় সব পশ্ন করার জন্য ও শুধু যেনো আয়োশি কেই পাই।
নাম মা আমার,,দেখ কোই এনেছি তোকে,,
গাল ফুলিয়ে বসে আছে ইরা,, এমোন কি আয়োশির দিকে চাকাও ছেও না,,অন্য দিকে মুখ করে বসে আছে,,
আয়োশি : এই নামতে বলছি না তোকে?
ইরা : না আমি নামবো না
আরে এই শালার ঘরের শালি একবার ঘুরে দেখ।
না আমি দেখবো না,,
আয়োশি ইরার এক হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে গাড়ি থেকে বের করলো,,
ইরার চোখ দুটো রসগোল্লা মতো হয়ে গেলো,,
ও পিছন ফিরে তাকালো।
আয়োশি দারিয়ে আছে ওর পাশে দারিয়ে আছে,, তুহিন,, রাতুল,, রিদি,, আর আয়াজ।
Happy birthday to you Ira
আজকে আমার বাড্ডে,, আমিই তো ভুলে গেছিলাম আর তোরা মনে রেখেছিস,,
ইরার চোখ দুটো ছল ছল করছে,, কোন মতো তোতলাতে তোতলাতে বললো।
আয়াজ : আরে এই এক তুই আমাদের টিরিট দিস নি,, এখন তুই যদি এভাবে কেদে ভাবিস যে আমাদের পাটিটা মাটি করবি,, তাহলে তোর জন্য
ইরা. কী?নিজের কান্না ভুলে আয়াজের দিকে তাকিয়ে বললো।
তোকে একটা গিফ্ট দিবো
এ….
এ,, না বল হে
নিজের হাতে থাকা গিফ্টের প্যাকেট টা ইরার দিকে এগিয়ে দিলো আয়াজ,, ইরাও খুশি মনে গিফ্টা নিয়ে নিলো।
আয়োশি : আগে আমরা ভিতরে যাই কেকেটা কাটি তারপরে নাহয়,, গিফ্ট প্যাকেট খুলা হবে ওকে।
সবাই ডুকে গেলো তাদের ঠিকানাই,,
এই বাড়ি টাই যখন ওরা ফাস্ট এসেছিলো তখন বাড়িটাই আনেক শেয়লা ছিলো,, বৃষ্টির পানিতে বাড়ির রং উঠে গেছিলো,, গাছ পালা দিয়ে ভরা ছিলো,, গাছের পাতাই পুরো বাড়ির চতুর পাশ ঢেকে গেছিলো,,অনেক পদের গাছ ছিলো,, যা এখোন আছে বরং আগের তুলোনাই বেশি আছে,,আম,,কঠাল,,লিচু,, পেয়ারা,, বরই…
এই বাড়িটা আয়াজদের,, আয়াজের আববু,, চাচা রা যখন প্রথম ঢাকায় আসছিলো তখন ওনারা এই বাড়িতে থাকতেন পরে রাজনীতিতে যাওয়ার পর ওনারা,, এই বাড়ি ছেরে দেন,, যেহেতু বাড়িতে দুইজন পুরুষ আর দুইজন মহিলা থাকার জন্য,, বানানো হয়েছিলো,,তাই বাড়িটা খুব ছোট করে বানান ওনারা,,
বাড়িটা ফাকা পরে থাকতো আর আয়াজরা যখন এখানে পিকনিকের জন্য আসে,, তখন ওদের কাছে বাড়িটার অনেক বেশি অপরিষ্কার লাগে,, ওরা নিজেরা বাড়িটা পরিষ্কার করে,, এমনকি রং করে…
রং করতে গিয়ে এরা আরো যে কতো রং করেছে।
মেয়েদের পছন্দ পিংক,, ছেলেদের পছন্দ সাদা,, দুই দলের মাঝে ঝগড়া লেগে গেছিলো,, ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলে না আবার মেয়েরা ছেলেদের সাথে কথা বলে না।
ওইদিন তো বাড়িটা পরিষ্কার করে,,আর রং নিয়ে ঝগড়া করে ওরা,, যে যার বাড়ি চলে যাই,,
আর এই পুরো কাহিনি আয়াজের বরো ভাই শুনে,, নিজের পছন্দের রং black কালার দিয়ে পুরো বাড়িটা রং করে দেই। আর বাড়ির চার পাশের দেয়ালে,, পিংক,, হোয়াট,, আর কালো কালার দিয়ে রং করে।
আয়াজকে বলে বাড়ির রং করা শেষ তোরা পিকনিক করতে পারিস,,
বাড়িতে যখন ওরা ছয়জন আসে আর বেলাক কালার রং করা বাড়ি দেখে,,, তখন ওরা একে ওপরের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে দেই,,
কিরে তোরা না পিংক কালার রং লাগাবি,, কিরে তোরা না হোয়াট কালার রং লাগাবি,, আয়োশি আর আয়াজ দুইজনও একসাথে,,কিছুটা বিদ্রুপ করে বলে,,
তুহিনো হেসে দেই ওই প্রথম ওরা তুহিনকে হাসতে দেখেছিলো,, এই ছেলে কখোন হাসতো না এমোন কি কান্নাও করতো না,, ওরা সবাই ওকে হাসতে বলতো কিন্তু হাসতো না,, মাঝে মাঝে তো আয়াজ বলতো ভাই একবার কান্না কর অন্ততো কিনতু না ও কাদতোও না হাসতোও না,, ওরা সবাই মিলে যখন এইসব বলতো,, ও শুধু চোকপাকিয়ে তাকাতো,, বেছ সবাই চুপ,, যদিও আয়োশি আর আয়াজ চুপ করতো না,, কিন্তু আয়োশি যদিও সামোয়িক সমায়ের জন্য হলেও চুপ করতো,, কিন্তু আয়াজকে চুপ করানো অসম্ভব।
তুহিনের হাসি দেখে সবাই এক মিনিটের জন্য থমকে গেলেও পরের মুহূর্তেই হো হো করে আবার সবাই একসাথে হেসে উঠলো।
সেদিন থেকে আজ এই পযন্ত ওরা একসাথে,, ওরা যে ঝগড়া ঝামেলা করে না,, এমন না বরং ওরা প্রতিদিন ঝামেলা করে,, রিদি আর রাতুলের কথা তো বাদ,, ওরা কলেজ ভার্সিটিতে করতো তো করতো আবার বাড়িতেও করতো,কিন্তু যেখানেই করতো,, দুইজন সব সময় এসে বিচার দিতো তুহিনের কাছে এখোন দেই,, আয়াজ আর আয়োশি,, আয়জের তো তুলোনাই হয় না ও সবার পিছনে লাগে,, ওকে ছারা না কেউ থাকতে পারে,, আবার ওকে নিয়ে থাকাও মুশকিল।ইরা শান্ত ওর কারো সাথে কোন ঝামেলা নেই,,
আর তুহিন ও ঝামেলা তো দুরের কথা,, কথাও বলে না সব সময় চুপ করে ওদের মাঝে বসে ওদের ঝামেলা দেখবে,, আর বিচার করবে যখন সবগুলো তুহিনের কাছে বিচার দেই,, তুহিনের তখন একটাই কথা বলতে ইচ্ছা করে।
আমি উকিল হতে চায় বিচারক না।
—---Our Little Den — আমাদের ছোট্ট আড্ডাখানা
পাচ বছর যাবোত এই বাড়িতে ওদের সবার জন্মদিন পালন করা হয়,, যদিও সবার বাড়িতেও করা হয় কিন্তু তবুও ওরা সবাই এখানে একসাথে কেক কাটে।
আজোও এই বাড়িটা সাজানো হয়েছে,,
ওরা সবাই বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই,, একজন বয়স্কা ভদ্রমহিলা,, এগিয়ে আসলো।
কেমন আছো তোমরা সবাই,, ভদ্র মহিলা অনেকটা মায়া ভরা কন্ঠে বললো,,
আমরা সবাই ভালো আছি,, তুমি কেমন আছো বুড়ি?
একগাল এসে বললো আয়াজ,,, ভদ্র মহিলাও একগাল হেসে বললো,,আমিও ভালো আছি বুরো।
আমার বুরো কোথায় দাদি?
এদিক ওদিক তাকিয়ে বলতে লাগলো আয়োশি,, ওর পাশে দারিয়ে থাকা রিদিও ওর তালে তালে তাল মিলিয়ে বলতপ লাগলো,, ঠিক কথা বলেছিস আয়োশি,, এই বুরোকে তো দেখছি না,, কোথায় বুরো?
ওনি একটু অসুস্থ…
অসুস্থ মানে কি হয়েছে বলো আমাকে বুড়ি,, এতোখোনের হাসি খুশি মুখটা ফেকাসে হয়ে গেলো,, আয়াজের।
তুমি ডাক্তার ডেকেছো আর ওষুধ খায়াও নি? আয়াজের পাশ থেকে রাতুল ভদ্র মহিলার কাছে গিয়ে বললো।
আয়াজ : আমার বেবি কোথায় গেলো।
রিদি : এই রকম একটা সময় তোর মুখে বেবি ভেবি আসছে আয়াজ,, রাগে লালা হয়ে গেলো রিদি,, দাতের সাথে দাত লাগিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে যেনো বললো কথা গুলো।
আয়াজ : আরে বলদ যদি বেশি অসুস্থ থাকতো তাহলে এই বুড়ি এতখোনে,, কান্না কাটি শুরু করে দিতো বুঝলে।
রিদি : ও এখন আমি বলোদ,, প্রথম শুনে তো তুই ও চিন্তা করছিলিস।
নিজের মাথায় হাত দিয়ে চুলে হাত বুলাতে লাগলো আয়াজ,, কি বলবে বুঝতে পারছে না,, আর কিছু না বললে এই রিদির বাচ্চা এখন ওকে ধুয়ে দিবে।
রাতুল : এই তোরা থামবি আর এই ফেত কাদুনি,, যা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া না করে,, গিয়ে কেক কাটার ব্যবস্থা কর,, আর এই যে মিস্টার খান যান গিয়ে আপনার বেবিকে আপনি নিজে খুজে নেন।
রিদি : আরে ওই মাথা মোটা,, এই প্রথম আমি ওই আয়াজ রে বাগে পাইছিলাম আর তুই কি করলি?
রাতুল : এই তুই যাবি। রিদি যতোই ঝগরা ঝামেলা করুক,, কিন্তু ও যখোনি দেখবে রাতুল রেগে গেছে,, তখন আর একটাও কথা বলে না,, আবার রাগাবও ও।
রিদি: মুখ ভেংচি দিয়ে চলে গেলো,, যতোই ভয় পাক বুঝতে দেয়া যাবে না নাহলে এই রাতুল মাথায় উঠে যাবো!
এতো সব কাহিনীর মাঝে দুইজন মানুষ এর মুখে কোন কথা নেই!তারা আর কেও না,,তুহিন আর ইরা।
তুহিন দোরজায় নিজের শক্ত পক্ত শরীলটা এলিয়ে দিয়ে,, চুপ চাপ সব দেখছো কোন কথা নেই!
আর ইরা চুপ চাপ ছফায় বসে আছে,, কোন কথা নেই,, শুধু হাসছে ওদের কাহিনী দেখে! খুবই হালকা যে হাসি ঠোঁটের সাতে মিলে যাচ্ছে।
আয়াজ তো যখনি দেখেছে রিদি রাতুল ঝাগরা করছে চুপ চাপ কেটে পরেছে।
শিরি বেয়ে উপরে উঠে গেলো আয়াজ,, উপরে উঠেই ও আয়োশিকে খুজতে লাগলো,, পেয়েও গেলো।
দাদা তুমি ঠিক আছো,,
আরে আমি একে বারে ঠিক আছি,, তোরা যা কেক কাট,, আয়াজ চিন্তিতো হয়ে পশ্ন করতেই,, জয়নাল নিজই বললো সে ঠিক আছে।
আয়াজ : তুমি যে ঠিক আছো তা ওই বুড়িকে দেখলেই বুঝা যায়,, মনে মনে কথা টা বললেও প্রকাশ করলো না।
আয়াজ জয়নালের পাশ থেকে উঠে গেলো,, আয়োশি জয়নালের আরেক পাশে বসে ছিলো সেখানে গিয়ে আয়াজো বসে পরলো!
হালকা একটা দাককা দিয়ে আয়োশিকে দাকলো,,কিরে বেবি তুই কি ভাবছিস,, হুমম না কিছু না,, কিছুনা আয়াজ হালকা দাককাই চমকে উঠে বললো আয়োশি,, যেনো গভীর কোন চিন্তা করছিলো।
আয়াজ : কিছু না মানে কিছু তো ভাবছিলি তুই বল আমাকে কি ভাবছিলি,, বল বল..
আয়োশিকে সমান তালে ঠেলতে লাগলো আয়াজ।
আয়োশি : আরে এই বলদের বাচ্চা আমি কিছু ভাবছি না…
আমি বলোদের বাচ্চা,, আয়াজ যেনো আকাশ থেকে পরলো,, এই মেয়ে বলে কি,,ওর বাবা বলোদ,, হাসসো কর।
আয়াজ : তুই সবসময় আমাকে বলোদের বাচ্চা বলিস না,, তোকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবো সেখানে গেলেই বুঝবি আমি কিসের বাচ্চা,, ওই তুই কি ভাবছিস এখন।
আয়াজ : না কিছু না,, নিজের ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এলো আয়াজ।
কেক রেডি সবাই আয় নিচ থেকে চেচিয়ে বললো রিদি!
চলবে.....