#রাগে_অনুরাগে_তুমি ||১৯|| ( প্রথম অংশ)
#ইসরাত_জাহান_এশা
রাত নেমে এসেছে ধীরে ধীরে। চারপাশে নীরবতা—মাঝে মাঝে দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে।
নাহিয়ান নীরার পাশে বসে গম্ভীর মুখে কিছু একটা ভাবছে। হঠাৎ বললো—
“আম্মু… জানো, আজকে হুজুর আমায় একটা দোয়া শিখিয়েছে!”
নীরা মৃদু হেসে তাকালো—
“তাই? কী দোয়া শিখিয়েছে আমার বাবাকে?”
নাহিয়ান গর্বিত ভঙ্গিতে বললো—
“রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা…”
“মাশাআল্লাহ! খুব সুন্দর…”
“আব্বু এটা কীসের দোয়া জানো?”
“হ্যাঁ আম্মু, জানি তো! এটা মা-বাবার জন্য দোয়া।”
“তাহলে বলো তো—এই দোয়া পড়লে কী হয়?”
নাহিয়ান একটু ভেবে বললো—
“এই দোয়া পড়লে মা-বাবার… উম্ম… আম্মু, ভুলে গেছি!”
নীরা হেসে তার কপালে চুমু দিয়ে বললো—
" আমার সোনা ছেলে! এই দোয়া পড়লে আল্লাহর কাছে মা-বাবার জন্য রহমত আর দয়া চাওয়া হয়। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন, ক্ষমা করেন—।”
নাহিয়ান খুশি হয়ে বললো—
“ওও…! আচ্ছা। ”
তারপর আবার বললো—
“আম্মু, আমি হুজুরের মতো মাথায় তুপি পরবো।”
“তাই নাকি? টুপি পরবে?”
“হ্যাঁ আম্মু! আর আমি পান্তাবি পরবো!”
নীরা হেসে ফেললো—
“পান্তাবি না বাবা, পাঞ্জাবি হবে।”
“কী হবে?”
“পাঞ্জাবি।”
“পাঞ্জাবি…”
“এই তো, হয়ে গেছে!”
“আম্মু, আমি নামাজ পড়বো।”
নীরা স্নেহভরা চোখে তাকিয়ে বললো—
“খুব ভালো তো বাবা।”
“কাল আমাকে নামাজ পড়া শিখাবে আম্মু?”
“অবশ্যই শিখাবো।”
“আমার ঘুম পাচ্ছে আম্মু …”
“হুম, ঘুমাও।”
নীরা আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নাহিয়ান মায়ের কোমর জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো।
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। নীরা বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। রাত ২টা। চোখে ঘুম আসছে, তবুও ঘুমাতে পারছে না সে। বুকের ভেতর অজানা একটা অস্থিরতা।
তূর্য এখনো বাসায় ফেরেনি। কোনো বিপদ হলো না তো আবার? দুপুরের দিকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে হঠাৎ একটা ফোন পেয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিলো সে। তখন থেকেই মনটা অস্থির হয়ে আছে। সময় গড়িয়ে যায়… ২টা ৪৫। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ।
নীরা দ্রুত পিছন ফিরলো। তূর্য। তাকে দেখেই নীরা চোখ বন্ধ করে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখ আটকে গেল— তূর্যকে আজ ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। চুল এলোমেলো, টাই ঠিক নেই, শার্ট কুচকে গেছে। চিন্তিত দেখাচ্ছে। আর… শার্টে লেগে আছে রক্ত। নীরার বুক ধক করে উঠলো। সে তাড়াতাড়ি উঠে তূর্যের কাছে গেলো। তূর্য এসে সোফায় বসে পড়েছে। মাথায় হাত দিয়ে চুপচাপ বসে আছে। নীরা তার পাশে বসে কাঁধে হাত রাখলো। কাঁপা গলায় বললো—
“কি হয়েছে…?”
চুপ হয়ে রইলো তূর্য কিছুই বললো না। নীরা ঠোট ভিজিয়ে আবার ডেকে বললো,
" নাহিয়ানের বাবা, কী হয়েছে আপনার শার্টে রক্ত কেনো? "
" তূর্য চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে নীরার দিকে তাকালো। তাকানোতে অসহায়ত্ব ফুটে উঠল। নীরা তূর্যকে দেখে বুক ধক করে উঠলো। নীরা তুর্যের গালে, কপালে, গলায় হাত দিয়ে চেক করলো জ্বর এসেছে কিনা। কিন্তু না শরীরের তামমাত্রা একদম স্বাভাবিক। তূর্যের চখে চোখ রেখেই বললো
" বলুন না কী হয়েছে? "
তূর্য হঠাতেই নীরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। নীরা একটু থমকালো কিন্তু পর মুহুর্তে নিজেকে সামলিয়ে নিলো। তূর্যের পিঠে এক হাত রাখলো আরেক হাত চুলের ভাজে। তূর্য যেনো এইটুকুতেই ভরসা পেলো। তূর্য নিরার গলার কাছে মুখ গুজে দিয়ে রাখলো। নীরা কিছু বললো না। আবার বলতেও চাচ্ছে। কিছু দময় যাওয়ার পর নীরা আবার বললো
" সমস্যাটা কী খুব ব্যাক্তিগত? আমায় বলা যায় না? এরকম দেখাচ্ছে কেনো আপনাকে? আমার খুব চিন্তা হচ্ছে বলুন না। রক্ত কীসের জন্য? "
তূর্য কিছুক্ষন চুপ থাকলো। ওই অবস্থায় রইলো তূর্য। সেভাবে থেকে বললো,
" আমার জন্য দোয়া করবে নুরি ফুল । মন থেকে দোয়া করবে। যেনো তুমি কিছু চাইলে মহান আল্লাহ তায়ালা না ফেরায়। আমার খুব অস্থির লাগছে। "
তূর্যের এই আবদার টা খুব করুণ শুনালো। নীরা তূর্যের চুলের ভাজে সুক্ষ্য চুমু একে বললো,
" কেনো দোয়া করবো না বলুন। আমার আর কে আছে আপনি ছাড়া। আমাকে খুলে বলুন। হয়ত আপনার বুকের ভার টা কম লাগবে। "
তূর্যের হাতের বাধন দৃঢ করে বললো,
" আজ ৫০০ ড্রেস দেশের বাহিরে পাঠানোর কথা আমি কালকেই ডেলিভারি ম্যান কে দিয়ে পাঠিয়ে দেই। সব কিছু ভালো ছিলো। কিন্তু আজ সেই ডেলিভারি ম্যানের এক্সিডেন্ট হয়ে যায়। আমার সব পার্সেল নষ্ট হয়ে যায়। যেই লোককে দেওয়া কথা তার নাম মিস্টার আদিত্য দত্ত। সে আগে থেকেই এডভান্স দিয়ে দেয়। ৭০% ফোন পে করে দিয়েছে। সেই লোককে এই সব বিষয় জানানো হয়। তিনি মানতে নারায। তার কালকের মধ্যেই ড্রেস লাগবে। যদি টাইম মতো দিতে না পারি তাহলে আমার কোম্পানির নামে মামলা দিবে। আমি আবার ৫০০ ড্রেস রিটার্নিং করি। আমার লস হচ্ছে কিন্তু সেটার কোনো আক্ষেপ নেই। সুধু আক্ষেপ আমার সম্মান। আমি আমার সম্মান টা নষ্ট করতে চাই না। "
নিরা সব কথা শুনলো। তূর্য এই কথা গুল বলতে বলতে বার বার গলায় আটকিয়ে আসছিলো। শক্ত খলসের মধ্যে আটকে রাখা মানুষটা আজ ভেঙ্গে পরেছে। তার যে পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে সেটা বুঝার ক্ষমতা কারোর নেই। শুধু আল্লাহ ছাড়া। সবাই শুধু শান্তনা দিতে পারবে। নীরা তুর্যের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
" আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য শীল ব্যাক্তিকে খুব ভালোবাসেন। জানেন তো নাহিয়ানের বাবা। আপনি আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখুন তিনি যা করবেন সব তার বান্দার জন্য উত্তম হবে। তিনি কারোর ক্ষতি চান না। বিশ্বাস আছে না আল্লাহর প্রতি? "
তূর্য ওভাবে থেকেই হালকা গলায় বললো,
" আচ্ছা তো আল্লাহর উপর আমার খুব বিশ্বাস আছে।"
" চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। সারাদিন তো পেটে দানাপানি পরে নাই। আমি খাবার নিয়ে আসি খেয়ে নিন। "
" আমি খাবো না। আমার গুলা দিয়ে খাবার নামবে না। "
" তা বললে তো আমি শুনবো না। খেতে হবে অল্প হলেও। এখন আমায় ছাড়ুন তো দেখি। "
" আরেকটু থাকি "
নীরা থেমে গেলো কিছু বললো না আর। তূর্য কিছুক্ষন পর নীরাকে ছেরে দিলো। নীরা তূর্যের জামাকাপড় বের করে দিয়ে চলে গেলো রান্নাঘরে। তূর্যের জন্য এক গ্লাস দুধ দুটো সিদ্ধ ডিম আর ভাত সাথে কিছু সবজি। সেগুলো একটা ট্রের মধ্যে গুছিয়ে নিয়ে ঘরে চলে আসল মিনিট দশেক পর। নীরা ঘরে এসে দেখলো তূর্য বিছানায় শুয়ে আছে ভিজা চুল নিউএ। খাবার গুলো টি-টেবিলে রেখে তূর্যের কাছে গেলো। তূর্যকে ডাক দিল। তূর্য তাকালো তার অর্ধাঙ্গিনীর দিকে। নীরা ইশারা দিলো উঠার জন্য। তূর্যও বাধ্য জামাই এর মতো উঠে গেলো। নীরা তার ওরনার আচল দিয়ে চুল গুলো ভালো করে মুছে দিলো। তূর্য সেই ছোট যত্ন টা উপভোগ করল। মাথা মুছে দেওয়ার পর খাবার নিয়ে বসলো নীরা। তূর্যর দিকে এক লোকমা ভাত এগিয়ে দিলো। আর চোখ দিয়ে রাঙ্গালো যেনো ভাত টুকু খেয়ে নেয়। তুর্য চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছে তার নুরি ফুলের হাতে। চার লোকমা খাওয়ার পর তূর্য নীরাকে বাধা দিয়ে বললো
" আমি আর খাবো না। প্লিজ জোর করো না আর। "
নীরাও আর জোর করলো না দুধের গ্লাস আর ডিম দুটো তূর্যের দিকে বাড়িয়ে বললো,
" এগুলো এখনি শেষ করুন। কোনো প্রকার না শুনবো না আমি। "
তূর্য আর কথা বারালো না চুপচাপ খেয়ে নিলো। নীরা তূর্যের মুখ মুছিয়ে দিয়ে বললো,
" এখন চুপটি করে ঘুমান। আসছি আমি। "
নীরা চলে গেলো রান্নাঘরে প্লেট গ্লাস রেখে আসার জন্য। হাত ধুয়ে ঘরে এসে দেখে তূর্য আজ মাঝে শুয়েছে আর ডান পাশে জায়গা রেখেছে। নীরা মুচকি হেসে দরজা লাগিয়ে দিলো। ঘরে জিরো পাওয়ারের লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে নিজেও গেলো ঘুমাতে। বিছানায় নিজের গা এলিয়ে দিতেই তূর্য নীরার বুকে মাথা রেখে বললো,
" আজ তোমার বুকে মাথা রেখেই ঘুমাই পাখি। আমার এতো স্ট্রেস ভালো লাগছে না। তোমার বুকে না আমি শান্তি খুজে পাই বিশ্বাস করো। এই শান্তি টা আমি কোথাও পাই নি। কেনো পাইনি কীসের জন্য পাই নি সেগুলো জানি না। আমি শুধু এটাই জানি তোমাতেই আমার শান্তির নীড়। "
→→→★→→→
রাত আরও গভীর হয়েছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা যেন আরও ঘনীভূত। দূরে কোথাও কুকুরের ক্ষীণ ডাক, মাঝেমধ্যে হালকা বাতাসে জানালার পর্দা দুলে উঠছে। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক শব্দে জানান দিচ্ছে সময়ের চলা। তূর্য নীরার বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। ক্লান্ত শরীর, ভেঙে পড়া মন—সব মিলিয়ে ঘুমটাই যেন আজ তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু নীরার চোখে ঘুম নেই। সে একদৃষ্টিতে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতর অজানা ভয়, দুশ্চিন্তা, আর একরাশ ভালোবাসা মিশে অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি করেছে। ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালো। ৩টা ৩০। নীরা আস্তে করে তূর্যের মাথাটা নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিলো, যেন তার ঘুম না ভাঙে। খুব যত্ন করে বালিশে মাথা রেখে দিলো। তারপর চুপচাপ উঠে ওয়াশরুমে গেলো। ওযু করে ফিরে এসে জায়নামাজ বিছালো। দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে গেলো তার রবের দরবারে। নীরার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। ঠোঁট কাঁপছে—
“ইয়া আল্লাহ… আমার স্বামীকে আপনি হেফাজত করুন। তার সম্মান আপনি রক্ষা করুন। তার কষ্ট আপনি সহজ করে দিন। আপনি তো সব পারেন…”
প্রতিটি শব্দে যেন মিশে আছে তার সমস্ত ভালোবাসা, ভয়, আর ভরসা।
★
এদিকে তূর্যের ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেলো। অর্ধনিদ্রায় হাত বাড়িয়ে পাশে খুঁজতে লাগলো— কিন্তু পাশে কেউ নেই।
সে চোখ খুলে চারপাশে তাকালো। ঘরটা মৃদু আলোয় ভাসছে। তার দৃষ্টি গিয়ে থামলো— তার নুরি ফুল জায়নামাজে বসে আছে। তূর্য কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো। বুকের ভেতর হালকা কাঁপন অনুভব করলো। মাথা ব্যথা করছে, শরীরও ক্লান্ত—তবুও নিজেকে সামলে উঠে বসলো। ধীরে ধীরে ওয়াশরুমে গিয়ে ওযু করে এল। তারপর এসে নীরার পাশে দাঁড়ালো। নামাজ আদায় করে নিলো । নামাজ শেষে মোনাজাতে তূর্যও হাত তুলে বললো—
“ইয়া আল্লাহ… আমার ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। আমার সম্মান রক্ষা করুন…”
মোনাজাত শেষ করে তূর্য আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। জায়নামাজেই নীরার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো। নীরা আলতো করে তার চুলে হাত বুলাতে লাগলো। মৃদু স্বরে বললো—
“ঘুম থেকে উঠে এলেন যে…?”
তূর্য চোখ বন্ধ রেখেই বললো—
“আমার বউ রাত জেগে নামাজ পড়বে… আর আমি ঘুমাবো, এটা কী করে হয়?”
নীরা হালকা হেসে বললো—
“রাত জাগবো না। একটু পর ফজরের আজান দিবে, একেবারে নামাজ পড়ে তারপর ঘুমাবো।”
তূর্য চোখ বন্ধ রেখেই বললো—
“তাহলে আমিও তোমার সাথে নামাজ পড়ে ঘুমাবো।”
নীরা মুচকি হেসে বললো—
“বেশ, তাই হবে।”
★
মধ্যরাত পেরিয়ে ভোরের আগমনী বার্তা যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। আকাশের কালো রং একটু একটু করে হালকা হচ্ছে। বাতাসে এক ধরনের শীতলতা—শান্ত, নির্মল। দূর থেকে ভেসে এলো ফজরের আজান।
“আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার …”
নীরা আজানের উত্তর দিতে লাগলো। তূর্য কপাল কুঁচকে বললো—
“কি বিরবির করছো?”
নীরা মুচকি হেসে বললো—
“আজানের উত্তর নিচ্ছি।”
“আজানের উত্তর?”
“জ্বী স্যার, আজানের উত্তর।”
“কীভাবে?”
“আপনাকে পরে শিখিয়ে দিবো। আসুন, আগে নামাজ পড়ে নেই।”
দু’জন আবার নামাজে দাঁড়ালো। নামাজ শেষ হতেই নীরা বললো—
“যান, গিয়ে শুয়ে পড়ুন।”
তূর্য উঠে বসে বললো—
“তুমি ঘুমাবে না?”
“হুম, ঘুমাবো। নামাজ শেষে একটু কোরআন তেলাওয়াত করি, তারপরই ঘুমাবো।”
নীরা বুকশেলফ থেকে কোরআন শরীফ নিয়ে টেবিলে বসলো। হঠাৎ কী মনে করে তূর্যের দিকে তাকাতেই দেখলো— তূর্য বিছানায় বসে শুধু তার দিকেই তাকিয়ে আছে।নীরা হেসে ফেললো। কোরআন নিয়ে এসে বিছানায় বসল। তূর্য নীরার কোলে মাথা রাখলো।
নীরা সেভাবেই কোরআন তেলাওয়াত করতে লাগলো।
★
ভোরের আলো ধীরে ধীরে ফুটতে শুরু করেছে। আকাশে হালকা সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হিমেল বাতাসে পর্দা দুলে উঠছে নরম ছন্দে। বাতাসে ভেসে আসছে কামিনী ফুলের মিষ্টি, সতেজ সুবাস। চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি। তূর্যের মুখে সেই শান্তির ছাপ স্পষ্ট। নীরার কোলে মাথা রেখে সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে—যেন সব দুশ্চিন্তা দূরে সরে গেছে। আর নীরা… সে তাকিয়ে আছে তার প্রিয় মানুষটার দিকে। চোখে ভালোবাসা, মনে একটাই প্রার্থনা—
“আল্লাহ, আমার এই শান্তিটুকু যেন অটুট থাকে। "
চলমান… ✨