ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাগে অনুরাগে তুমি

২১তম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#রাগে_অনুরাগে_তুমি // ১৯ \\ ( শেষ অংশ)

#ইসরাত_জাহান_এশা

সকালের নাস্তা টেবিলে নীরা আর আমেনা চৌধুরি মিলে টেবিলে নাস্তা দিচ্ছে। আমেনা চৌধুরি কিছুক্ষন পর পর নীরার দিকে সন্দিহান চোখে তাকাচ্ছে। আমেনা চৌধুরি আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলো না বলেই ফেললো,

--নীরা

--জ্বী মা

--তোকে একটা কথা বলি?

--জ্বী মা বলুন না

--তোর সাথে কী তূর্যের সম্পর্ক ঠিক আছে?

নীরা স্বাভাবিক গলায় বললো

--জ্বী মা ঠিক আছে তো

--আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।

--কেনো মা

--এই তিন মাসে আমি একবার তোকে দেখি নাই সকালে গোসল করতে।

এবার নীরা কিছুটা মিইয়ে গেলো। আমতা আমতা করে বললো,

--মা কিযে বলেন না আপনি

--আমি ঠিক বলছি আম্মাজান। সব ঠিক না থাকলে বল আমায়। আমি তোর জীবন টা তো আর নষ্ট করতে পারি না।

--মা এগুলো তোমার ভুল ধারনা। আপনার ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক একদম ফাস্ট ক্লাস।

নিরা একটু উপরে আসো তো তারাতারি ।

--ওই দেখুন মা আপনার ছেলে ডাকছে আমি গিয়ে শুনে আসি।

--আচ্ছা যা

★

--ডাকছিলেন আমায়

--হুম

--বলুন

--এই নাও এটা আমায় বেধে দাও।

--টাই?

--জ্বী ম্যাডাম

--আপনি বাধতে পারেন না?

--আমি আপনার কী হই ম্যাডাম? আর তুমি আমার কী হও?

--এটা আবার কেমন প্রশ্ন। আপনি আমার হাসবেন্ড। আর আমি আপনার বউ হই।

--বউদের কাজ কী ম্যাডাম

--জামাইদের সেবা করা। জামাই যা বলবে তা করা। তার কথা মানা। সম্মান করা। আরো আছে।

--আমি কী বললাম এখন তোমায়?

--টাই বাধতে বলেছেন।

--তাহলে বাধো

নীরা হাতে টাই নিয়ে তূর্যের দিকে তাকাল। তূর্য হাত বগলদাবা করে রেখেছে। তূর্য ভ্রু না নাচিয়ে বললো

--বাধো...

--কীভাবে বাধবো? আপনি তো অনেক উচু আমার থেকে। একটু নিচু হন।

--তুমি উপরে উঠো

--কীভাবে

--এভাবে

এই বলে নীরার কোমড় ধরে বিছানায় উঠিয়ে দিলো। নীরার কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো

--এবার বাধো

নীরা কিছুটা লজ্জা পেলো। মনোযোগ দিয়ে টাই বাধছে। টাই বাধা শেষ হলে বললো

--হয়ে গেসে ছাড়ুন এবার

--হয়নি

--মানে?

--আজ সকালে গোসল করো নি কেনো?

--গোসল দিবো কেনো? গোসল দেওয়ার মতো কিছু হইসে আমাদের?

--কিছু হোক বা না হোক , যদি সকালে গসল দিতে তাহলে মা আজ বলতো না আমাদের সম্পর্ক ঠিক নেই।

--কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সব ঠিক আছে

--সেটা আমি, তুমি, সি চার দেয়াল আর আল্লাহ তায়াল জানে। আর কেও জানে?

--না...

--এখন থেকে আমাদের মধ্যে কিছু হোক বা না হোক রোজ সকালে গোসল দিবে কেমন।

--আচ্ছা..

--মনে থাকবে তো ম্যাডাম

--জ্বী..

--এবার গিয়ে আপনার স্বামীর জন্য নাস্তা রেডি করুন

--আচ্ছা নিচে আসুন তারাতারি।

★

_____দেখুন মিস্টার চৌধুরি আপনি আমার অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছেন?

____আপনার যত টাকা লস হয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুন ক্ষতি আমার হয়েছে । তা আমি কী সেই কথা একবার বলেছি? কত টাকা লস হয়েছে বলুন রিটার্ন দিচ্ছি আমি।

____টাকার গরম দেখাচ্ছেন আমায়? এই আদিত্য কে?

____ নিজের টাকা, নিজে কামাই করি । টাকার গরম আমি দেখাবো না তো কে দেখাবে বলুন।

____ শুনুন মিস্টার এখানে আমি আপনার সাথে তর্ক বিতর্ক করতে আসি নাই। আমায় কেনো ডেকেছেন সেটা বলুন।

____ আমার নামে আর আমার বিজনেসের নামে কেস দিয়েছেন কেনো?

_____আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই।

তূর্য ভ্রু তুলে চাইলো লোকটার পানে।

____ কেস দিলে তার কোনো রিজন লাগে। তো আপনি ঠিক কোনো রিজনে আমার নামে কেস দিয়েছেন ।

আদিত্য গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো।

____ প্রথমত আপনার জন্য আমার কোম্পানির অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। মাঝখানে আপনার কোম্পানি বেশি হাইপে উঠার কারণে আমার কোম্পানি থেকে সেল হচ্ছে না। বাহিরে থেকে বিজনেস করি তাও আপনার জন্য আমি পথে বসছি। দ্বিতীয়ত আপনাকে বলা হয়েছে ৫০০ মাল দিলে আপনি পাঠিয়েছেন সেটা হাতে পেয়েছি কিন্তু সেগুলো নকল। আমাকে ঠকিয়েছেন আপনি।

____ওয়েট এ মিনিট নকল মাল?

_____জ্বী নকল

____আমার প্রডাক্টস যে নকল সেটার প্রুভ দেখি।

আদিত্য হেসে চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে বললো

_____এই আদিত্য কোখনো প্রমাণ ছাড়া কথা বলে না মিস্টার চৌধুরি।

এই বলে তার সেক্রেটারি কে কল দিয়ে প্রোডাক্টের সেম্পল আনতে বললো। কিছুক্ষণের মধ্যে তা নিয়ে আসলো। আদিত্য হেসে তূর্যের কাছে দিয়ে বললো

___দেখুন মিস্টার এটা আপনার কোম্পানির তো?

তূর্য নিজেকে শক্ত রেখে প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দেখলো। এটা তার তার কোম্পানির লগ। কিন্তু কিন্তু ভিতরের ড্রেস তাদের তৈরী না। তূর্য নিজেকে শান্ত রেখে বললো

_____দেখুন মিস্টার আদিত্য কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। এটা আমাদের কোম্পানির না। হ্যাঁ মানছি এটা আমার কোম্পানির লগ। কিন্তু ড্রেস আমাদের বানানো না।

_____শুনুন মিস্টার একটা বাংলা প্রবাদ আছে। ঠাকুর ঘরে কেরে , আমি তো মাছ খাই নি। এটা আমার ঠাকুমা বলতো। এখন সরাসরি প্রমাণ পেলাম। আপনি আমায় এই প্রোডাক্ট দিলেন আর আপনি বলছেন এগুলো আপনাদের না। বাহ বাহ কী সুন্দর। একদম মাইন্ড ব্লোয়িং।

তূর্য যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখলো। কিন্তু তার মাথা কাজ করছে না। কী করবে সে। কিছুক্ষন পর আদিত্য বললো

___ওকে ! মিস্টার চৌধুরি আসুন একটা ডিলে আসি। আপনি যদি রাজি হন তাহলে আমি কেস উঠিয়ে নিবো।

___কীসের ডিল

____রাজি আছেন?

_____আপনি আগে ডিলের কথা বলুন। যদি রাজি হওয়ার মতো কিছু হয় তাহলে রাজি হবো। আর নয়তো না।

____শুনলাম আপনি নাকি কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন আবার। আপনার ওয়াইফ কেমন আছে

_____মানে? যা বলবেন ক্লিয়ার করে বলুন

____মানে হচ্ছে আপনার তো বয়স বেরে গেছে। আবার একটা বাচ্চা আছে আপনার। আর এই বয়সে একজন কচি মেয়ে পেয়েছেন। রাত ভরে ফুর্তি করতে পারেন। আর দেখুন আমায় এখনো সিঙ্গেল একটা বিয়েও করতে পারি নাই। আপনার ওয়াইফকে যদি এক রাতের জন্য আমায় দেন তাহলে আপনার নামে যত কেস আছে সব উঠিয়ে নেওয়া হবে। চিন্তা নেই এর জন্য আপনাকে ভালো মোটা অংকের এমাউন্ট দেওয়া হবে। এবার বলুন রাজি আছেন আপনি।

কথা তূর্যের কর্ণপাত হতেই হিংস্র হয়ে উঠলো। এতক্ষনের রাগ বেরিয়ে আসতে চাইলো। চোখ লাল হয়ে গেলো। কপালের রগ ফুলে উঠেছে। পরনের কোট খুলে ফেললো। গলার টাই ধীলে করে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে আদিত্যর সামনে এগলো । কোনো আগাম বার্তা ছাড়া নাক বরাবর একটা পাঞ্চ মারলো। আকস্মিক আক্রমনে আদিত্য চেয়ার সহ উল্টিয়ে পরলো। আদিত্য উঠার আগেই তূর্য আদিত্যর বুকে হাটু ভর দিয়ে আরো কয়েকটা পাঞ্চ দিয়ে বললো

_____ইউ ব্লাডি বিচ, জানোয়ারের বাচ্চা। তোর সাহস কী করে হলো আমার কলিজার দিকে হাত বারানো। তোর কী মনে হয় আমি তোর এই কয়েকটা টাকা পেয়ে খুশি খুশি মনে তোর কাছে আমার জান টা কে দিয়ে দিবো। তুই কী ভাবছিস আমি নিজের কেস নিজে উইথড্র করতে পারবো না। আমার কী সেই এভিলিটি নেই। তোকে ডেকেছি ভালো ভাবে সব মিটমাট করতে কিন্তু তুই সেটার যোগ্য না। এবার তুই আমার আসল রুপ টা দেখবি। আমি তোকে কী করি। আদিত্যর নাম দিয়ে গলগল করে র*ক্ত ঝরছে কিছু বলতে পারছে না। চারদিকে সব অন্ধকার হয়ে গেলো। তূর্য সেখানে আর থাকলো না। উঠে চলে গেলো তার গাড়ির দিকে। তূর্যের যাওয়ার দিকে আদিত্য তাকিয়ে রইলো। মুখ বেকিয়ে হাসলো। কোনোমতে উচ্চারন করলো

____আমিও দেখি তুই কীভাবে তোর কলিজাকে আগলিয়ে রাখিস।

★

তূর্যের বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা গরিয়ে গেছে। সারাটা রাস্তা তূর্যের অস্থির ছিলো। কোনোমতে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরলো। বাড়ির সামনে আসতেই চোখ গেলো বাগানের দিকে। সামনে দেখতেই রাগ আকাশ ছোয়া হলো। নীরা একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে । পাশে নাহিয়ান দাঁড়ানো। তূর্য গাড়ি থেকে নামলো না । কিছুক্ষন পর ছেলেটি নীরকে ছেড়ে দিয়ে নাহিয়ান কে কোলে নিয়ে আদর করলো। তারপর পকেট থেকে চকলেট বের করে নাহিয়ান কে দিলো। নাহিয়ান খুশি হয়ে ছেলেটির গালে চুমু দিলো। নাহিয়ানকে কোল থেকে নামিয়ে নীরার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। তূর্য সেসব দেখে রাগে শরীর কাপছে। নীরা নাহিয়ানকে কোলে নিয়ে ভিতরে চলে গেলো। তূর্য রাগে হিতাহিত জ্ঞ্যান হাড়িয়ে গাড়ির লুকিং গ্লাসে পাঞ্চ মারলো। যার ফলে হাত কেটে র*ক্ত বের হচ্ছে। তুর্য গটগট পায়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। কোনোদিকে না তাকিয়ে ঘরে চলে গেলো। ঘরে গিয়ে দেখলো নীরা তূর্যের জামাকাপড় ভাজ করছে আর নাহিয়ানের সাথে কথা বলছে । তূর্য কে দেখে নাহিয়ান বলে উঠলো

--আম্মু বাবা এসেছে

নীরা পিছন ফিরে তূর্যকে দেখে চমকে উঠলো। তূর্যের হাতের দিকে চোখ যেতেই নীরা তূর্যের হাত ধরে বলে উঠলো

--নাহিয়ানের বাবা হাতে কী হয়েছে আপনার র*ক্ত পরছে তো অনেক

তূর্য ঝাড়া মেরে হাত সরিয়ে নিলো। নাহিয়ানের কাছে গিয়ে বললো

--আব্বু তুমি এখন ফুপুমনির কাছে যাও কেমন। আমি আবার ডাকলে তখন আসবে।

--আচ্ছা বাবা

এই বলে নাহিয়ান চলে গেলো। নাহিয়ান যেতেই তূর্য দরজা শব্দ করে আটকালো। এই শব্দে নীরা কেপে উঠলো। নীরা এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে আবার বললো,

--বলুন না হাতে কী হয়েছে?

তূর্য বিরক্ত হয়ে বলল

--আমায় ছোবে না তুমি। তোমার এই নোংরা হাতে আমায় ধরবে না।

কথাটি শুনার মাত্রই নীরা হাত ছেরে দিলো। কাপা কাপা গলায় প্রশ্ন করলো

--আমি নোংরা?

-হ্যাঁ তুমি নোংরা। অপবিত্র তুমি।

--এ-এসব কী বলছেন আপনি।

--কী বলছি বুঝতে পারছো না। অন্য ছেলের সাথে ধলাধলি করবে আবার বলছো কিছুই বুঝতে পারছো না তুমি বাহ।

নীরা যেনো আকাশ থেকে পড়লো। সে অন্য ছেলের সাথে.. নীরা কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বললো

--আ-আমি ..

--একদম চুপ! কীছু বুঝছিস না তুই। তোকে বলেছিলাম আমার ঠকাইস না। ভালোবাসার চাদরে মুরিয়ে রাখবো। তোকে কষ্ট পেতে দিবো না। কিন্তু.. কিন্তু তুই কী করলি আবার ফিরে আমায় ঠাকাচ্ছিস। বল কেনো ঠকাইলি আমায়। আমি তোকে ভালো বাসি নাই বল।

এই বলে ড্রেসিং টেবিলে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে ঘুষি দিলো। কিছু কাচ তূর্যের হাতে বিধলো। নীরা সেটা দেখে আটকে উঠলো। দৌড়ে গেলো তূর্যের কাছে। তূর্যেরহাত ধরতেই আবার ঝাড়া দিলো। নীরার মুখ চেপে বললো

--তুই আমায় ছোয়ার অধিকার হাড়িয়ে ফেলেছিস। বেড়িয়ে যাবি এখনি আমার বাসা থেকে তোকে দেখতে চাই না আমি।

নীরাকে ঢাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঢাক্কা দেওয়ার ফলে নীরার পায়ে কাচ বিধলো। ব্যাথায় মুখ কুচকে নিলো। তাও সেদিকে পাত্তা না দিয়ে খুড়াতে খুড়াতে তূর্যর পায়ে ধরে বললো

--আপনার দুটো পায়ে পড়ি । আপনি এমনটা করবেন না। আমায় বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েন না। আমি কোথায় যাবো আমার তো এই দুনিয়ায় আপনি আমার আমার ছেলে ছাড়া আর কেও নাই। আমার মা তো সেই কবে ছেড়ে দিয়ে চলে গেসে। বাবা থেকেও নেই। আপনার তো একটা ছোট পরিবার আছে। আমি এই বাসার এক কোণায় থাকব। অনুনয় করবেন নাহয় আমায়। একটা কাজের মেয়ে যেভাবে থাকে সেভাবেই থাকবো না হয়। তাও আমায় তাড়িয়ে দিয়েন না। আমি যে আপনায় বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি নাহিয়ানের বাবা। আমার এই ছোট্ট দুনিয়ায় তো আপনি এসে পূর্ণ করেছেন।

তূর্য পা সরিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো। নীরা পিছন থেকে ডাকলো অনেক কিন্তু তূর্য কোনো সারা দিলো না। নীড়া ফুপাতে লাগলো।

তূর্য বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো গাড়ি নিয়ে। গাড়ি ফুল স্প্রিডে চালাচ্ছে । চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠছে বাগানের দৃশ্যটুকু। রাগে গাড়ি আরো স্প্রিড বাড়িয়ে দিলো। খিলক্ষেতে আসতেই তূর্যের চোখ গেলো ফুটফাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে সেই ছেলেটি। তূর্য গাড়ি সাইডে রেখে ছেলেটির কাছে গেলো। ছেলেটির কাধে হাত রেখে বললো

--আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো সেটার উত্তর শুধু দিবেন

ছেলেটি কপালে ভাজ ফেলে বললো

--কে আপনি

--আমি যেই হই না কেনো। যেটা প্রশ্ন করছি সেটা বলুন আগে

--আচ্ছা কী বলবেন বলেন

--কিছুক্ষন আগে আপনি একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছিলেন সে কে?

--আপনি কার কথা বলছেন

--মেয়েটির সাথে একটা বাচ্চা ছেলে ছিলো।

--আপনি কী নীরার কথা বলছেন?

--হুম

--সেটা বলবেন তো আগে । ও নীরা আমার মামাতো বোন। আমি ৯ বছর কানাডায় ছিলাম ফ্যামিলি নিয়ে কাল ফিরেছি। ওদের বাসায় গিয়েছিলাম তখন জানতে পারি নীরার বিয়ে হয়ে গেসে। তখন ঠিকানা নিয়ে দেখা করতে আসি। ফুপু মানে নীরার মা মারা যাওয়ার পর কেও ওকে দেখতে পারে না সবাই অপয়া ভাবে। কিন্তু ওর জন্য আমার অনেক মায়া লাগে মা মরা মেয়ে বাবা থেকেও নেই তাই ওর সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমার ওয়াইফ সেটা পছন্দ করে না বিধায় যোগাযোগ রাখি না। এতবছর পর এসেছি তো তাই বোন তার সাথে দেখা করলাম। আমি দেশে আসার পর ভাবছিলাম ওকে বিয়ে দিবো। কিন্তু আমার ভাবার আগেই ওর বিয়ে হয়ে গেসে। তবে আমার বোনটা যে সুখে আছে সেটাই অনেক। বায় দা অয়ে আপনি কে? আপনাকে আমি এতো কথা বলছি কেনো?

তূর্য সবটা শুনে যেনো পাথর হয়ে গেলো। সে কী করেছে এটা। সে কী করেছে এটা সে না বুঝে নার নুড়ি ফুলকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। তূর্য নিজের চুল নিজে খামচি মেরে ধরলো। তূর্য কিছু না বলে দ্রুত গাড়ির কাছে গেলো। গাড়িতে উঠে রওনা দিল বাসার উদ্দেশ্যে । গাড়ি চালাতে চায়াতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল যেনো তার নুড়ি ফুল কোথাও না যায়। বাসায় যেনো থাকে।

★

নীরা দুর্বল পায়ে শেখ বাড়ির গেটের সামনে আসলো। দরজায় দাঁড়িয়ে কলিং বেল দিলো। আতিক সেখ দরজা খুলে দিল। দরজা খুলার পর মেয়ের এমন চেহারা দেখে কিছুটা আতকে উঠলো। নীরা তার বাবার দিকে চেয়ে বললো

--ভিতরে ঢুকতে দিবেন না আমায়

আতিক শেখ সামনে থেকে সরে গেলো। নীরা ভিতরে ঢুকলো। মুন্নি নীরাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বললো

--আপুই আসছো তুমি

--হুম সোনা আসছি

তারপর শিমলার দিকে তাকিয়ে বললো

--আমি কিছুদিন থাকি এই বাড়িতে। বেশিদিন থাকবো না। যে কয়দিন থাকবো কাজ করেই খাবো। শুয়ে বসে খাবো না। থাকি কয়দিন।

শিমলার মন টা কেমন মোচর দিলো। নীরাকে অনেক অত্যাচার করেছে কিন্তু এমিন আকুল সুরে বলে নাই। শিমলা নিজে ধাতস্ত করে বললো

--যে কয়দিন মনে চায় থাকিস। কাজ করতে হবে না। ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নে। খাবার দেই তোকে

--খাবো না আমি এখন

এই বলে পা খুড়াতে খুড়াতে নিজের ঘরে চলে গেলো।

আতিক শেখ তাকিয়ে রইলো মেয়ের যাওয়ার পানে।

নিরা ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে মেঝেতে বসে ফুপিয়ে উঠলো। হাটুতে মাথা ঠেকিয়ে আল্লাহর কাছে নালিশ জানালো --আল্লাহ ও আল্লাহ আমার এই পোড়া কপালে কী সুখ দিবে না? যদি সুখ না দিয়ে থাকো তাহলে কেনোই বা দুই দিনের সুখ দিলে। সে আমার কপালে তো আবার দুঃখ নেমে এলো। আমি যে এখন লোভী হয়ে গেলাম ভালোবাসার। দুঃখ যে আর সইতে মনে চায় না। আমার জীবন নিয়ে আর খেলো না আল্লাহ। হয়রান হয়ে গেছি আমি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন