ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাগে অনুরাগে তুমি

৩৬তম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#রাগে_অনুরাগে_তুমি [ ৩৩ ]

#ইসরাত_জাহান_এশা

তপ্ত দুপুরে গরমে অবস্থা কাহিল হলেও দুই ভাই তাদের বধুর দিকে তাকিয়ে থাকতে কাহিল হয় না। দুই ভাই ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। রাজু তূর্যর কাছে গিয়ে বললো

“ ভাইজান বউরা এতো সুন্দর কেন হতে হবে? তারা কী আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবে না? “

তূর্য নীরাকে দেখতে দেখতে বললো

“ আমার অপ্সরা বউ “

রাজু তূর্যের দিকে তাকালো। চোখের পাতাও পরছে না। রাজু সবার দিকে তাকালো। দেখলো সবাই মিটমিট করে হাসছে। রাজু তূর্যর বাহুতে মৃদু ঢাক্কা দিয়ে বললো

“ বড় ভাইয়া সবাই দেখছে “

তূর্য বিরক্ত হয়ে বললো

“ সবাই দেখলে দেখুক আগে আমি আমার ফুলকে দেখে নেই। পুরো একটা হলদে পাখি। “

লাস্টের কথা যেনো সবাই শুনে ফেললো। এমনকি নীরা নিজেও। চার মায়েরাই হেসে ফেললো। তিশা অবন্তী জোরে হাসতে পারছে না। আমেনা চৌধুরী হেসে তূর্যের কান ধরে বললো

“ আব্বা আপনার বউকে আপনিই দেখবেন কিন্তু এখন হলুদ পর্বটা শেষ করতে হবে তো নাকি। আজ তো আপনার তিন ভাই বোনের বিয়ে। তারপর বউকে মন ভরে দেইখেন আব্বা জান। চোখ টা এখন নামান। “

আমেনা চৌধুরীর এহেন কথায় নীরা বেশ লজ্জা পায়। বাকিরা হেসে ফেলে। তূর্য যেনো নিজের সংবীদ ফিরে পেলো। তূর্য আমতা আমতা করতে লাগলো। রুশা নীরার বাহুতে ঢাক্কা দিয়ে বললো

“ আমার ভাসুর দেখি তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে ভাবি “

নীরা লজ্জা পেয়ে বললো,

“ বুবু তুমিও না। “

সিমিন দুই জায়ের উদ্দেশ্যে বললো,

“ এখন গুজুরগুজুর বাদ দিয়ে এখানে আসেন আম্মাজানেরা। এসে দেওর কে হলুদ লাগিয়ে দিয়ে যান। “

রুশা হলুদের বাটি নিয়ে জমেলার কাছে দিলো। জমেলা নীরার কাছে হলুদের বাটি দিয়ে বললো

“ এই যে বড় গিন্নি আপনি আগে হলুদ লাগান।”

নীরা অবাক হয়ে শুধালো।

“ মেজো মা আমি আগে কেনো? মা, আপনি, সেজো মা, ছোট মা আছে। আপনারা থাকতে আমি কেনো? “

জমেলা খেক করে উঠে বললো

“ বেশি কথা বলো কেনো? হলুদ দাও বলছি।”

নীরা ঠোঁট উলটে বললো,

“ একটু মিষ্টি করে বলুন। “

জমেলা হেসে ফেললো নীরার কথায়। জমেলা এগিয়ে এসে নীরার মাথায় হাত রেখে কপালে চুমু দিয়ে বললো,

“ চৌধুরী বাড়ির বড় গিন্নি। আমার বড় ছেলে তূর্যের হলদে পাখি। যাও গিয়ে তোমার ননদের জামাইকে হলুদ লাগিয়ে এসো। তোমার মতো লক্ষী মেয়ে আগে এই কাজ টা শুরু করুক। “

নীরা বোধহয় খুব খুশি হলো। জমেলার কোমর জড়িয়ে গালে টুস করে চুমু খেয়ে বললো

“ এইভাবে মিষ্টি করে কথা বলিবেম মেজো মা। আর আমার সাথে তো এভাবেই বলবেন। বুবুর সাথে এভাবে কথা বলবেন না কেমন। আমি আবার আমার ভালোবাসার জিনিস কাওমে ভাগ দেই না। “

এই বলে জমেলার বুকেই মাথা এলিয়ে দিলো। জমেলা ‘থ’ বুনে গেলো। মেয়েটাযে তাকে কতটা আপন ভেবেছে তার এই আচরণেই বুঝা যায়। জমেলা হলুদের বাটি রুশার হাতে দিয়ে নীরাকে জড়িয়ে ধরে বললো

“ মেয়ে তুই মায়াবিনী। তুই তোর মায়াতে সবাইকে আটকে ফেলেছিস। তোর মেঝো চাচা শ্বশুর ঠিকি বলেছে তুই পারবি সবাইকে নিজের মায়াতে আটকে রাখিতে সংসার টিকিয়ে রাখতে। আমার তখন বিশ্বাস না হলেও এখন হচ্ছে। ভাবি তূর্যের জন্য যোগ্য মেয়ে এনে দিয়েছে। “

নীরার চোখের কোটর ভরে উঠেছে। আগে ভালোবাসা পায় নি বলে কতো আফসোস করতো। আর এখন তার জন্য কতো ভালোবাসা। সবাই তাকে কতো ভালোবাসে। জমেলা তূর্যের দিকে তাকিয়ে করা কন্ঠে বললো

“ দেখ তূর্য তুই আমার এই মেয়েকে কখনো কষ্ট দিবি না। যদি কষ্ট দিস তাহলে আমি এই মেয়েকে আমি অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো বলে দিলাম। “

নীরা ফিক করে হেসে ফেললো। নীরা জমেলার বুক থেকে মাথা তুলে তাকালো তূর্যের পানে। তূর্য এতক্ষণ আচ্ছা মুডে ছিলো। জমেলার শেষ কথা শুনে কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে,

“ মেজো চাচি তোমরা আমার বউকে নিয়ে পড়েছো কেনো? দুনিয়ায় আর মেয়ে নাই? সবাই শুধু আমার বউকে বিয়ে দিতে চায়। বউ আমার আমারই থাকবে। আরেক জায়গায় বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। “

এই বলে নীরার বাহু ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। জমেলা মুখ ভেংচি মারে। সিমিন এবার বললো

“ আচ্ছা তোর বউকে আমরা বিয়ে দিবো না। এবার তোর বউকে বল হলুদ লাগাতে। “

তূর্য নীরাকে ছেরে দেয়। নীরা হলুদের বাটি নিয়ে এগিয়ে যায় রিহানের দিকে। রিহানের গালে, কপালে হাতে হলুদ লাগিয়ে বললো

“ শুনুন দেবরজি আমার ননদিনীকে আপনার হাতে তুলে দিচ্ছি। বড় ভাবি হয়ে একটা উপদেশ দিয়ে যাই। এখন থেকে মনে রাখবেন লিপি আপুর দোষ মানেই আপনার দোষ । এই ছোট কথাটা যদি মাথায় রাখতে পারেন তাহলে আপনার সংসার খুশিতে ভরে যাবে। “

রিহান মাথা চুলকায়। রুশা এসে হলুদ লাগাতে লাগাতে বললো,

“ আরেকটা কথা বলি শুনুন রিহান ভাই। আমার ননদিনী যদি না বলে তাহলে আপনিও না। আমার ননদিনী হ্যাঁ বললে আপনিও হ্যাঁ । এগুলো মাথায় রাখতে ঝগড়া তো হবেই না। ভালোবাসার ফুলের পাপড়ি ঝড়ে পরবে। “

রুশা কথা গুলো রিহানের উদ্দেশ্যে বললেও চোখ ছিলো রাজুর দিকে। রাজু রুশার চোখের ভাষা বুঝে বোকা বোকা হেসে রিহানকে বললো,

“ ভাই এতক্ষণ যা যা উপদেশ দিলো সব মানবি কেমন। “

রিহান মাথা দুই পাশে নাড়িয়ে বললো

“ যথা আজ্ঞা মেরি ভাবি জানেরা। আপনাদের কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। “

নীরা রুশা একসাথে বলে উঠে,

“ সংসার জীবন শুখের হোক। বৎস। “

কথাটা বলতে দেরি হাসির রোল পরতে দেরি হয় না। একে একে সবাই হলুদ লাগিয়ে দেয়। মায়েরা মিলে রিহানকে হলুদ গোসল করিয়ে দেয়। নীরা এবার বললো

“ এবার রিহান ভাইয়াকে তো কে করে নিয়ে যেতে হবে তাই না। “

রুশা বললো,

“হ্যাঁ তো। “

কথা শুনে রাজু কোমরে হাত দিয়ে বললো

“আল্লাহ আমার কোমরে কিযে ব্যাথা রাতে ঘুমাতেই পারি নাই। আমি পারবো না রে ভাই। “

রুশা চোখ কুচকে বললো,

“কাল রাতে তো মহিষের মতো ঘুমাইছো। কখন ব্যাথা উঠলো। মিথ্যা বলছো কেনো। “

“হ্যাঁ অনেক ব্যাথা “

তূর্য শার্টের হাতা গুটিয়ে বললো

“ আচ্ছা আমি নিচ্ছি। “

এই বলে রিহানের কাছে গিয়ে বললো

“ পিঠে উঠতে পারবি না “

রিহান হেসে বললো

“বেশ পারবো “

তূর্য হেসে বললো

“ চল তাহলে “

এই বলে রিহানের দিকে পিঠ ফিরে দাঁড়িয়ে পরলো। রিহান ও তূর্যের পিঠে উঠে পরলো। রিহান তূর্যের গলা জড়িয়ে ধরলো। তূর্যও ভাইকে আগলিয়ে নিয়ে গেলো। নীরা দ্বীর্ঘ শ্বাস ফেললো। মনে মনে হেসে বললো

❝ ইশশ কতো সুন্দর পরিবার। ভাই ভাইয়ের কতো মিল। ভাই বোনের ভালোবাসা। ❞

আমেনা চৌধুরী বললো

“নীরা রুশা শোন। আমরা লিপিকে হলুদ দিয়ে আসলে তোরা বাকি কাজ করে নিস কেমন। এখন অনেক কাজ আমাদের। “

নীরা রুশা দুইজনেই সম্মতি দিলো। সবাই নিচে নেমে এলো।

••••

বাহিরে বাতাশ বইছে ঠান্ডা। দুই পিরিতে দাঁড়িয়ে আছে ঊষা আর লিপি। এবারো নীরা আর রুশা আগে হলুদ দিলো। চার মা মিলি দুই মেয়েকে হলুদ গোসল করিয়ে শেষ করলো। আমেনা, জমেলা দুই বউয়ের কাছে দায়িত্ব দিয়ে তারা ভিতরে চলে গেলো বিয়ের কাজ শুরু করতে। রান্নার লোক এসেছে অনেক আগেই সেখানের দায়িত্ব নিয়েছে তিন কর্তা। আম বাগানের শেষের দিকে পেন্ডেল করা হয়েছে। খাবারের আইটেম বারানো হয়েছে। তিন ছেলে মেয়ের বিয়ে বলে কথা। রিহান ফ্রেশ হয়ে উঠোনে এলো। তূর্যও এসেছে। তূর্য এগিয়ে এসে বোনদের সবার শেষ হলুদ লাগালো। লিপির মুখে আজ অনেক হাসি থাকলেও চোখ ভর্তি পানি। তূর্য লিপির চোখের পানি মুছে দিয়ে ইশারা করলো না কাদতে। কিন্তু চোখের পানি কী মানানো যায়। মানানো যায় না। অঝোরে কেদে দিলো। তূর্য এক হাত দিয়ে লিপিকে আরেক হাত দিয়ে ঊশাকে টেনে নিলো। দুই বোনের মাথায় চুমু দিয়ে বললো

“ পাগলিরা কাদছিস কেনো? ভাইয়া আছে না। ভাইয়া কী চলে যাচ্ছে। একদম কাদবি না। আজকে না তোদের বিয়ে। হাসি খুশি থাকবি। এই না করে তোরে কাদছিস। কথায় আছে না সংগ দোষে লোহা ভাসে এরকমটাই হলো। তোরা তোদের ভাবির সাথে থাকতে থাকতে তোরাও ছিছকাদুনে হয়ে গেছিস। “

নীরা ফুসে উঠলো। লিপি ঊষা কান্নার মধ্যেও হেসে ফেললো। নীরা রিহানের কাছে গিয়ে বললো

“ দেওরজি আমার পারিশ্রমিক কোথায়? “

তূর্য তাকালো নীরার পানে। রিহান চেয়ে বললো

“ ভাবি কীসের পারিশ্রমিক? “

নীরা কোমরে হাত দিয়ে বললো

“ ওমা আমার এই সুন্দর সুন্দর হাত ধারা আপনার আর আপনার বউয়ের জন্য হলুদ বাটলাম। সেই হলুদ গায়ে মাখলেন। আপনার বউ মাখার পর শরীর চকচক করছে দেখেছেন। কতো সুন্দর লাগছে। এখন তো আমার পারিশ্রমিক চাই। “

তূর্য নীরার পিছনে এসে বললো,

“ আচ্ছা চলো আমি তোমায় পারিশ্রমিক দিচ্ছি। “

নীরা পিছনে ফিরে বললো,

“ আপনি দিবেন কেনো? “

“আমার ইচ্ছা “

এই বলে নীরার বাহু ধরে টেনে নিয়ে যায়। নীরা মানা করলেও শুনে না। সবাই হাসছে। রুশা এবার রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো

“ দেবরজি এবার আমার ননদিনীকে কোলে করে নিয়ে যাও। ঘরে রেখে এসো। “

রিহান মাথা নিচু করে নিলো। লিপির কাছে এসে চোখ মেরে পাজা করে কোলে নিয়ে চলে গেলো। লিপি লজ্জা পেলো অনেক। ঊষাকে এবার রিজবি কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে ঢুকলো। রুশা আদির উদ্দেশ্যে বললো,

“ আদি বাচ্চাদের দিকে খেয়াল রাখিস কিন্তু। পুকুর পারে যেনো না যায়। “

“ আচ্ছা মেজো ভাবি “

রুশা চলে যেতে নিলেই পিছন থেকে রাজু ডেকে উঠলো,

“ রুপু “

রুশা থেমে গেলো। অনেক দিন পর রাজু এই নামে ডাকলো রুশাকে। রুশা আর রাজুর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে মিল অনেক। ভালোবাসা অনেক। রাজুর থেকে রুশা ৮ বছরের ছোট। বিয়ের পর রাজু রুশাকে পুতুলের মতোই আগলে রেখেছে। ১৭ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে এই বাড়িতে আসে। তখন রাজুর বয়স ছিলো ২৫ বছরের যুবক। সেই রুশার আজ বিয়ের বয়স সারে পাচ বছর। সে এখন পুরোপুরি যুবতি একজন নারি। তার এখন ২৩ বছর। বিয়ের দুই বছরের মাথায় বর্ষা পেটে আসে। রাজু যেনো আকাশের চাঁদ পায়। সারাটা দিন রুশার সাথে থাকতো। কাজে যেতো না। রাজু রুশাকে আদর করে রুপু বলে ডাকতো। রুশা লজ্জা পেতো অনেক। স্বামীর আহ্লাদীতে। স্বামী আহ্লাদ করতো সেও গা ঘেষে ঘেষে থাকতো। স্বামীর ভালোবাসার জন্য।

••

রুশা রাজুর দিকে তাকায় রাজু হলুদের বাটি থেকে হলুদ নিয়ে রুশার গালে লাগিয়ে বললো,

“ আমার কিশোরী বউটা কবে এতো বড় হয়ে গেলো। সে না আমি কাজ থেকে ফিরে আসলে আমার পিছু পিছু ঘুরে শুধু বকবক করতো। সেই কিশোরী বউটা আবার ফিরিয়ে আনা যায় না? নাকি আমার ভালোবাসার কমতি পরেছে? “

রুশা হেসে রাজুর কোমর জড়িয়ে চারপাশে দেখলো আগে। তারপর গালে চুমু দিয়ে বললো,

“ আপনার কিশোরী বউটা আগের মতোই আছে। সে শুধু এখন আগে থেকে বড় হয়েছে। মা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ নারি সে। দুটো বাচ্চাকে সামলায়। আর রইলো ভালোবাসার কথা। সেটা আগের ন্যায় বহুগুন বেরেছে। তোমার ভালোবাসা আছে বলেই এই রুশা বেচে আছে। “

রাজু হেসে রুশার কপালে গালে চুমু দিলো। পিছন থেকে মেঘলা এসে বললো

“ আব্বু আম্মু কী কচ্ছো তুমরা “

রাজু আর রুশা দূরে সরে দাঁড়ায়। রুশা দ্রুত বাসার ভিতরে চলে যায়। রাজু মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করলো। তারপর মেয়ের নাকে নাক ঘষে বললো

“ মা, আপনার আম্মাকে একটু আদর করলাম বুঝেছেন “

মেঘলা নাক ফুলিয়ে ছোট আঙ্গুল উচিয়ে শাসনের সুরে বললো,

“কিনু আমাল আম্মুকে আদল দিছো। আমায় দিলানা তুমি। আব্বু তুমি পচা হয়ে যাচ্ছো। আমায় আল ভালুবাসোনা। তুমার সাথে আরি। “

রাজু ছোট আঙ্গুল আলতো করে কামর দিয়ে বললো

“ মা, আপনার আম্মাকে যদি আদর না করি চলবে আমার। আপনার আম্মা যে আমার চুল ছিরে ফেলবে। তাছাড়া আমি তো আপনার আম্মাকে ভালোবাসি। সাথে আমি আমার এই ছোট মাকেও ভালোবাসি। “

মেঘলা খুশি হলো। বাবার গালে চুমু দিলো। রাজু মেয়েকে নিয়ে বাসার ভিতয়চলে গেলো।

★

তূর্য নীরাকে নিয়ে পুকুরের শেষ প্রান্তে নিয়ে আসে। বৃষ্টির ফলে জায়গাটা পিচ্ছিল হয়ে য়াছে । নীরা তূর্যকে কপট রাগ দেখিয়ে বললো,

" কী হলো এটা? "

"কী হলো? "

"কী হলো মানে? আমায় এখানে নিয়ে আসলেন কেনো? পড়ে যাবো। অনেক পিচ্ছিল হয়ে আছে। "

তূর্য নীরাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়। নাকে নাক ঘষে। কপালে চুমু দিলো। চোখের পাতায় ফু দিলো। নীরা চুপ হয়ে গেলো। তূর্য মুচকি হেসে গালে নাকে গলায় হলুদ লাগিয়ে দিলো। নীরা অবাক হয়ে বললো,

" আপনি হলুদ পেলেন কোথায়? "

তূর্য নীরার কোমর দুই হাতে চেপে ধরে বললো,

" লিপিকে হলুদ লাগানোর সময় নিয়েছি। আমার হলদে পাখিকে একটু হলুদ রাঙা করতে হবে না বুঝি। "

নীরা লাজুক হাসলো। কী মনে করে বললো,

" একটু নিচু হন। "

তূর্য দুষ্টু হেসে বললো,

" চুমু খেতে মনে চাইসে বললেই হতো। এখানে চুমু খাবে তুমি "

নীরা কপা কুচকে তূর্যর বাহুতে চিমটি কাটলো। তূর্য ব্যাথা পেলো। নীরা ভ্রু কুচকেই বললো

" আপনার মতো অসভ্য না আমি। নিচু হতে বলেছি নিচু হন। "

তূর্য হেসে নিচু হলো। নীরা পা উচিয়ে নীরার গালের সাথে তূর্যর গাল রেখে হলুদ লাগিয়ে দিলো। তূর্য অবাক হলো। নীরা তূর্যের ঘাড় দুই হাতে আগলে নিয়ে বললো,

" আমিও আমার স্বামীর গাল হলদে করিয়ে দিলাম। "

তূর্য অমায়িক হাসে। মেয়েটার মধ্যে বাচ্চামো স্বভাব টা এখনো আছে। তূর্য মাথা নিচু করে বললো

" তাহলে ফটাফট একটা মিষ্টি দাও তো "

"কীসের মিষ্টি? "

" এই যে আমায় চিমটি কাটলে সেটার মিষ্টি "

নীরা বুঝতে পারলো তূর্য কীসের কথা বলছে। নীরা মাথা নিচু করে নিলো। তূর্য যেই না কিছু বলবে তখনি নাহিয়ানের কন্ঠ ভেসে আসে,

" বাবা আম্মু তোমরা এখানে আমি তো খুজতে খুজতে শেষ। "

নীরা তূর্য দুইজনেই চমকে উঠলো। নাহিয়ান চিল্লিয়ে অবন্তীকে ডাকলো।

" ছোট ফুপি আম্মিকে পেয়েছি। "

নাহিয়ান ডাকতে দেরি অবন্তী আসতে দেরি করেনি। অবন্তী এসে বললো

" তোমরা প্রেম করছিলে? "

তূর্য আর কিছু বলতে পারেনা। দুইজনেই স্লিপ কেটে পুকুরে পড়ে যায়। সে জায়গায় ততক্ষনে আদি, তিশা, মুন্নি এসে হাজির। নীরা তূর্য কে শক্ত করে ধরে আছে। তূর্যের বুক পর্যন্ত পানি হলেও নীরার মাথার উপর পর্যন্ত পানি। নীরা একপ্রকার নাকানিচুবানি খেয়েছে। পুকুরের উপরে থাকা সবাই হেসে ফেললো। তূর্য চোখ গরম করে তাকাতেই। সবাই চলে গেলো। আদি চোখ মারলো তূর্যকে। তূর্য বেশ বুঝতে পারলো এখন বাসার সবাই জানবে। তূর্য নীরার দিকে তাকাতেই দুইজনে হেসে ফেললো। অত:পর তূর্য নীরাকে পাজা কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে যেতে লাগলো। বসার ঘরে সবাই বসে আছে। তূর্য আর নীরাকে এমন অবস্তায় দেখে কেউ অবাক হয়নি। উলটো হেসে কুটি কুটি। নীরার ইচ্ছা হলো মাটুর ভিতর ঢুকে যেতে। এতো লজ্জা ছি ছি। রান্না ঘর থেকে রূম্পা, সিমিন বলে উঠলো,

" আমরা কিছু জানি না। আর কিছু দেখিনি। "

শেষ সব শেষ। সবাই যেনে গেলো। তূর্য পা চালিয়ে রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো। ওয়াশরুমের সাওনে নীরাকে নামিয়ে দিলো। নীরা ভিতরে যাবে তখনি তূর্য বললো

" আমিও আসি। "

নীরা কটমট করে তাকালো। তূর্য নিম্নওষ্ঠ কামড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীরা এবার চটে গিয়ে বললো,

" আপনার সমস্যা কী হ্যা? আমার সাথে ভিতরে যাবেন কেনো? "

" গোসল করবো। আর তুমিনলজ্জা পাচ্ছো? লজ্জা কেনো পাচ্ছো? আমি তো সব দেকজে নিয়ে আরো আগেই সোনা বউ। "

নীরা আহত দৃষ্টিতে তাকালো। চোখ নিচে নামিয়ে নিলো। তূর্য ঝুকে এসে নীরর কানের কাছে মুখ নিয়ে গেয়ে উঠে

❝ আমি নষ্ট মনে নষ্ট চোখে দেখি তোমাকে

মন আমার কী চায় বোঝায় কেমনে ❞

নীরা তূর্যর দিকে তাকায়। তূর্য এখনো নিম্নওষ্ঠ কামরে হাসছে। নীরা তূর্যকে ঢাক্কা দিতে চায় কিন্তু পারে না। তূর্যর মতো বলিষ্ঠ দেহ কি নীরার মতো পুনো মাছ কী পারবে। নীরা তূর্যের দিকে আর তাকাতে পারে না। অগধ্যা তূর্যের কথাই মানতে হলো। নীরা তূর্যকে মনে মনে বিশাল বড় গালি দেয়। কিন্তু প্রকাশ করলো না।

চলবে........!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন