#রাগে_অনুরাগে_তুমি [৩৪] ( প্রথম অংশ)
#ইসরাত_জাহান_এশা
বাগানের দিকটা যেন এক টুকরো স্বপ্ন হয়ে উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে পেন্ডেলটা সাজানো হয়েছে খুব যত্ন করে—সাদা আর হালকা গোলাপি কাপড়ের পর্দা বাতাসে নরম করে দুলছে। চারপাশে রঙিন লাইটের মালা ঝুলছে, সন্ধ্যা নামতেই যেগুলো একে একে জ্বলে উঠে পুরো জায়গাটাকে রূপকথার মতো করে তুলবে। পেন্ডেলের খুঁটিগুলোতে গাঁদা আর রজনীগন্ধার মালা পেঁচানো, সেখান থেকে ভেসে আসছে মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ।
পেন্ডেলের মাঝখানে বর-কনের বসার জন্য সুন্দর করে মঞ্চ সাজানো—লাল আর সোনালি কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারে চারদিকে ফুল দিয়ে নকশা করা। মঞ্চের সামনে ছোট ছোট টেবিল আর চেয়ার রাখা, অতিথিরা বসে গল্প করছে, কেউবা হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেছে।
বাগানের চারপাশে সবুজ গাছপালা যেন এই আয়োজনকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। গাছের ডালে ডালে ঝোলানো ফেয়ারি লাইট ঝিকিমিকি করছে, আর হালকা বাতাসে পাতা নড়ে উঠে যেন সুর তুলছে। দূরে রান্নার জায়গা থেকে ভেসে আসছে নানা পদের খাবারের গন্ধ, যা পুরো পরিবেশকে আরও উষ্ণ করে তুলছে।
★
ঊষার ঘরে অবস্থান করছে নীরা , রুশা, অনু,লিপি । অনু কিছুক্ষণ আগেই এসেছে। পরিক্ষার জন্য আসতে পারে নি। তাই কাল পরিক্ষা শেষ হওয়ার পরেই রওনা দিয়েছে। আজ সকালে যখন শুনেছে লিপি আর রিহান ভাইয়ের বিয়ে তখন অনু খুশিতে আত্নহারা হয়ে গিয়েছে। অনু আসার পর থেকে লিপি কথা বলছে না। অনু আর না পেরে কান ধরে লিপি আর ঊষার সামনে দাঁড়িয়ে বললো
“ হ্যাঁ আমার বোনেরা, আমি অনু আপনাদের সামনে আত্নসমর্পণ করিয়াছি । আপনারা দয়া করিয়া এই মেয়েকে ক্ষমা করিয়া বাধিত করিবেন। অনু নামের মেয়েটি খুব বড় ভুল করিয়া ফেলেছে ৷ তাহার ক্ষমার অযোগ্য হলেও তাকে ক্ষমা করার জন্য আবেদন করিয়াছি । “
অনুর ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি দেখে সবাই হেসে ফেললো। লিপি অনুকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ আপু জানো তোমায় কতো মিস করেছি৷ তুমি আমায় আর ঊষা কাওকেই হলুদ দিতে পারোনি। আমরা কতো আনন্দ করেছি তুমি এটেন্ড করতে পারোনি। “
অনু লিপির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
“ আপুর পরিক্ষা ছিলো তো নাকি। আমি বলছিলাম না পরিক্ষা যেদিন শেষ হবে আমি সেদিন রওনা দিয়ে দিবো। এসেছি তো আমি। সারারাত জার্নি করেছি। “
ঊষা মুখ ভেংচিয়ে বললো
“ আমি তো কেও না। কে হই আমি। আমি তো কারোর বোন না। “
এই বলে হাত বুকের উপর ভাজ করে বিছানায় উল্টো হয়ে বসে রইলো। অনু ঊষাকে পিছন থেকেই কাতুকুতু দিতে দিতে বললো
“ ওরে আবার অভিমান করা হচ্ছে হুম। ছোট বোন হয়ে বড় বোনের আগে বিয়ে করছো৷ আবার অভিমান। “
ঊষা হাসতে হাসতে বললো
“ আপু আপু ছাড়ো। কাতুকুতু লাগছে। শাড়ি খুলে যাবে। আপু ছাড়ো। “
অনু ছেরে দেয় ঊষাকে। নীরার দিকে তাকিয়ে বললো,
“ বড় ভাবি রিহান ভাইয়া কোথায়? “
রুশা নিজের মাথায় ক্লিপ আটকাতে আটকাতে বললো,
“ রিহান ভাইয়ের কোন বন্ধুর বাসায় জানি। দুই বর এক সাথে আসবে। রিহান ভাইয়ার সাথে বড় ভাইয়া আর রিজবি ভাইয়া আছে। “
“রাজু ভাইয়া কোথায়? “
“তিনি তো বাবাদের সাথে। “
“আর বাচ্চারা “
“আদি আর অবন্তীর সাথে। “
★
বিকেলটা ধীরে ধীরে গোধূলির রঙে রঙিন হয়ে উঠছে। আকাশে হালকা কমলা আর সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়েছে, যেন সূর্য নিজেই আজকের বিয়ের আনন্দে একটু থেমে গেছে। উঠোন জুড়ে সাজানো আলপনা, চারদিকে গাঁদা আর রজনীগন্ধার গন্ধে ভরে আছে পরিবেশ। দূরে শেহনাইয়ের মৃদু সুর ভেসে আসছে, আর তার সাথে মিশে আছে মানুষের হাসি-খুশির কোলাহল।
•′•
বাসার সব মেয়েরা বর্তমানে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দুই বর পিছনে। আকাশ তূর্যের দিকে একবার তাকিয়ে নীরার পানে তাকালো। তারপর দুষ্টু হেসে বললো,
“ বলছিলাম যে বেয়ান সাহেবা আমরা ভিতরে যাবো না? “
নীরা চোখ কুচকে বললো,
“ আগে টাকা দিন। তারপর ভিতরে যাবেন। “
আকাশ আবার বলে উঠলো,
“ আগে মিষ্টি মুখ তো করান। “
তূর্য আরচোখে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ মিটিমিটি হাসছে। তূর্য এবার নীরার দিকে তাকালো। নীরা লেভেন্ডা কালারের শাড়ি পরেছে। যা আশেপাশে কোনো মেয়ে এই কালারের শাড়ি পরে নি। অন্যান্য লোকেরা খুব সহজে নীরাকে চিহ্নিত করতে পারবে। আজ আর গ্রামের বধুর মতো শাড়ি পরেনি। কুচি দিয়ে আচল ছেড়ে দিয়েছে। লেভেন্ডা কালারের সাথে সাদা কালারের অর্নামেন্টস পরেছে। চোখে মোটা করে কাজল। চুল গুলো বেনি করেছে। চুলে গুজেছে সাদা গোলাপ। তূর্যর রাগ হলো এভাবে কেনো সাজতে হবে? দুই আঙুল দিয়ে কপাল স্লাইট করলো। চোখ বুজে নিশ্বাস নিয়ে আস্তে করে ফেললো। নীরা বাটি থেকে চামচ করে মিষ্টি নিয়ে আগালে তূর্য খপ করে নীরার হাত ধরে মিষ্টি খেয়ে নিলো। যা অনেকেই অবাক ন্যায় চেয়ে থাকলেও। রুশা, অনু, আকাশ, তিশা, অবন্তী, রিজবি, হেসে ফেললো। নীরা চোক ছোট ছোট করে তাকালো। হাত ছাড়িয়ে আবার মিষ্টি খাইয়ে দিতে গেলে। তূর্য আবার একি কাজ করলো। এবার আর হাত ছাড়লো না। নীরা বুঝলো কেনো এমন করছে। নীরা মুচকি হেসে অবাক হয়ে বললো
“ আরে আরে বিয়াই সাব আমার হাত ছাড়ুন। আমার একটা খাট্টাস জামাই আছে। সে যদি দেখে আপনি আমার হাত ধরেছেন সে আপনাকে তপকে ফেলবে। I am his one and only wife , after all. প্লিজ ছেরে দিন। “
তূর্য মুচকি হাসলো। হাত আরো জোরে ধরে বললো,
“ ও আচ্ছা আপনি বিবাহিত বুঝি? “
“ জ্বী আমি বিবাহিত। শুধু বিবাহিত না আমি আবার দুই তিনটা বাচ্চার মা বুঝলেন। ওইযে দেখুন একটা ছোট রাজকুমার ছোটাছুটি করছে ও হলো আমার ছেলে বুঝলেন। “
তূর্যর হাসি পেলো। পিছন থেকে ঊষার ননদ বিথি বললো
“ কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে না যে আপনি বিবাহিত । সাথে বাচ্চার মা। “
নীরা মুচকি হেসে বললো,
“ আসলে কী বলুনতো। আমি আমার খাট্টাস জামাইয়ের মাথার উপর উঠে নাচি তো। তাই আমার বয়স তা বুঝা যায় না। “
তূর্য এবার বেক্কল হয়ে যায়। এই মেয়ে বলছে কি? যারা সত্যি টা জানে তারা হাসছে। জোরে হাসতেও পারছে না। আকাশ এবার বললো,
“ তা আপনার জামাইয়ের নাম কী বেয়ান? “
“ উম্মম…. বলবো না। “
আকাশ ভ্রু তুলে বললো
“কেনো বলবেন না? “
“ আরে ভাই জানেন না। জামাইদের নাম মুখে নিতে হয় না? জামাইদের আবার আদর করে ❝হে গো, ওগো, শোনো গো, কই গো, কোথায় গেলে গো, ❞ এভাবে ডাকতে হয়। আমি আবার পতি ভক্তি পত্নি তো তাই জামাইকে এসব নামেই ডাকি। নাম ধরে ডাকি না। “
আকাশ হেসে ফেললো। তূর্যের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মুখ লাল হয়ে গেসে। লজ্জা নাকি রাগে বুঝা যাচ্ছে না। নীরা তূর্যের দিকে তাকিয়ে ভ্রুদ্বয় নাচালো। তূর্য এবার নীরার হাত ডান হাত থেকে বাম হাতে নিয়ে পকেট থেকে এটিএম কার্ড বের করে রুশার হাতে দিয়ে বললো
“ রুশা জামাইদের ভিতরে ঢুকাও। এই কার্ডে প্রায় অনেক টাকাই আছে। যত লাগবে নিয়ে নিয়ো। আমি ভিতরে যাচ্ছি। “
নীরা শুকনো ঢোক গিলে। কাপনি ধরে যাচ্ছে। আজকে বেশি ফাজলামো করে ফেলেছে। আল্লাহ জানে ওর কী হয়। তূর্য এবার নীরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,
“ চলুন বেয়াই সাহেবা আপনার খাট্টাস জামাইয়ের সাথে দেখা করে আসি। “
নীরা মনে মনে যেই ভয় টা পাচ্ছিলো। আমতা আমতা করে বললো
“ আসলে কী হয়েছে বলুন তো বিয়াই সাব। আমার জামাই তো অনেক বিজি তার সাথে দেখা করতে appointment (এপয়েন মেন্ট) লাগে। “
“ আপনি না বললেন আপনি নাকি তার একমাত্র বউ। আপনি সাথে থাকলেই হবে। চলুন “
এই বলে লাল ফিতের নিচ থেকে তূর্য বেরিয়ে নীরাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। ওরা যেতেই সবাই হেসে দিলো। রুশা এগিয়ে এসে বরদের মিষ্টি মুখ করিয়ে দিলো। দুই বর এক সাথে ফিতে কেটে ভিতরে ঢুকলো। রিজবি, রাজু, আকাশ তিন জন মিলে বরদের স্টেজে নিয়ে গেলো। তাদের বরাদ্ধকৃত আসনে বসিয়ে দিলো।
★
তূর্য নীরাকে নিয়ে ঘরে চলে এলো। ঘরের দরজা আটকে দিলো। নীরাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো। নীরা ঢোক গিললো। নীরা তাকালো তূর্যের চোখের দিকে। তূর্যের চোখ নীরার ঠোঁটে নিবদ্ধ । নীরা ভরকে গেলো। নীরা বুঝতে পারলো তূর্যের পরবর্তী ধাপ। নীরা তূর্যকে ঢাক্কা দিতে দিতে বললো,
“ অসভ্য লোক সরুন এখান থেকে। বাহিরে কতো মানুষ আর আপনি আমায় ঘরে নিয়ে এসেছেন। “
তূর্য নীরার কোমড় থেকে শাড়ি সরিয়ে কোমড় উন্মুক্ত করলো। বাম হাত ধারা কোমড় সহ পেট জড়িয়ে ধরলো। নীরা কেপে উঠলো। তূর্য ডান হাত দিয়ে নীরার কপালে আসা চুল গুলো কানের পিঠে গুজে দিতে দিতে বললো
“ আমি খাট্টাস? “
নীরা মাথা দুইপাশে নাড়াতে নাড়াতে বললো
“ আরে নাহ কে বললো আপনি খাট্টাস? যে বলেছে তার জামাই খাট্টাস আপনি না। “
তূর্য কপাল কুচকালো। হিসাব মিললো না। তূর্য ভাবলো। কয়েক সেকেন্ড যেতেই নীরাকে আরো জোরে চেপে ধরে বললো
“ খুব চালাক হয়ে গেসেন ম্যাডাম। “
“ আমি চালাক বুঝি জানতাম না। “
“জানা লাগবে না। আগে বলুন এতো সেজেছেন কেনো? “
নীরা নিজ থেকে তূর্যের গলা জড়িয়ে গালে চুমু দিয়ে বললো,
“ আমার খাট্টাস জামাইকে খুশি করার জন্য সেজেছি। সে যদি খুশি হয় আমায় দেখে তাই আরকি। “
“ যদি খুশি না হই তখন? “
নীরা দ্বীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
“ তাহলে সব সাজ মুছে ফেলবো “
তূর্য মুচকি হেসে বললো,
“ তাহলে আমি নষ্ট করি? “
“অসভ্য লোক। “
তূর্য নীরার গাল স্পর্শ করতে যাবে তখনি দরজার বাহির থেকে নাহিয়ান দরজা ঢাক্কা দিতে দিতে বললো,
“ আম্মু ও আম্মু তুমি কি এই ঘরে আম্মু। “
তূর্য চমকে তাকালো। নীরা ফিক করে হেসে নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো
" বাবা আমি এখানেই দাঁড়াও দরজা খুলে দিচ্ছি। "
এই বলে তূর্যকে ঢাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো। নীরা দরজা খুলে দেখলো নাহিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। ছোট ব্লেজার কাধে ঝুলিয়ে রেখেছে। নীরা নাহিয়ানকে কোলে নিয়ে ঘরের ভিতরে আসলো। বিছানায় বসিয়ে দিয়ে আচল দিয়ে মুখ সহ গলা ঘার মুছিয়ে দিলো। রোদে থাকার কারণে ফর্সা মুখ খানা লাল হয়ে আছে। তূর্য বিছানায় শুয়ে শুয়ে নীরার কাজ গুলো দেখছে। নীরা নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো
" বাবা বেশি গরম লাগছে। ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দেই? "
নাহিয়ান নীরার কোলে উঠে বুকে মাথা রাখলো। কিছু বললো না। নীরা নাহিয়ানের মাথায় চুমু দিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে বললো
" আমার বাবার কী হয়েছে? মন খারাপ বুঝি?"
নাহিয়ান নিশ্চুপ থাকে কিছু বলে না। নীরার খটকা লাগে। নীরা আবার বলে
" বাবা মুন্নি কোথায়? "
" তিশা ফুপির সাথে "
নীরা নাহিয়ানকে বুক থেকে তুলে কপালে গালে চুমু দিলো। নাহিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখলো চোখ দুটোতে পানি টইটুম্বুর। গাল দুটো লাল হয়ে আছে। ঠোট কাপছে। মনে হচ্ছে কেদে দিবে এখনি। নীরা বিচলিত হয়ে বললো
" আমার মানিক সোনা। কী হয়েছে বাবা তোমার। আম্মুকে বলো। "
তূর্য এবার সোয়া থেকে উঠে তাকালো ছেলের পানে। ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে কিছুটা আটকে উঠে। নাহিয়ানকে নিজের কোলে নিতে গেলেই নাহিয়ান যায় না। নীরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেদে উঠে। নীরা ছেলেকে আগলিয়ে নেয়। নীরার চোখে পানি চিকচিক করছে। নীরা নাহিয়ানের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো
" আমার মানিক, সোনা ছেলে আমার। কাদে না বাবা। তুমি কাদলে তো তোমার আম্মু কষ্ট পায় বাবা। কাদে না। বলো আম্মুকে কী হয়েছে তোমার? কেউ কিছু বলেছে, বকেছে তোমায়, নাকি মুন্নি মেরেছে তোমায়। নাকি পরে গেছো বাবা। "
এই বলে হাত পা চেক করতে লাগলো। নাহিয়ান ফুপিয়ে চলেছে। নাহিয়ানের ফুপানো বন্ধ হলে নীরার বুকেই নাক ঘষে তাকালো নীরার দিকে। ছোট হাত ধারা নীরার গাল স্পর্শ করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো
" আম্মু আমি তোমার ছেলে না? আমি তোমার এই পেট থেকে হই নি তাই না? আমি তোমার সৎ ছেলে? আমি বড় হলে তুমি আমায় অনেক মারবে তাই না? "
নীরার মনে হলো তার কলিজা কেউ ছিরে নিচ্ছে। নীরা নাহিয়ানকে বুকে আগলিয়ে নিলো। তূর্য ছেলের কথা গুলো শুনে চোখ শক্ত হয়ে গেলো। নীরা নাহিয়ানকে অসংখ্যা চুমুতে ভরিয়ে দিতে দিতে বললো
" কে বলেছে তুমি আমার সৎ ছেলে? তুমি আমার ছেলে। আমায় আম্মু বলে ডাকছো না। তুমি আর কারোর সন্তান না। তুমি আমার আর তোমার বাবার ছেলে । আমার রাজকুমার তুমি। তুমি শুধু এই নীরার ছেলে। বুঝেছো বাবা। "
নাহিয়ান ফুপাতে ফুপাতে বললো
"তাহলে ওই দাদুরা কেনো বললো তুমি আমার সৎ মা। আমার আরো ভাই বোন হলে তুমি আমাকে আদর করবে না ভালোবাসবে না। "
নীরা চোখ বন্ধ করে নিলো। বুকে ভিষন ব্যাথা হচ্ছে। তূর্য পলকহীন ভাবে ছেলে আর বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। নীরা শ্বাস ফেলে বললো
" বাসবো বাবা নিজের থেকে বেশি ভালোবাসবো আমার ছেলেকে। তুমি থাকবে আমার কাছে । তোমার আরো ভাই বোন ও আসবে না। তোমায় আমি বুকে আগলিয়ে রাখবো। নাহিয়ানের আম্মু নাহিয়ানকে কথা দিচ্ছে নাহিয়ানকে সব সময় এতো গুলো করে ভালোবাসবে। নাহিয়ানের আম্মু এখন থেকে আর কোনো বাচ্চাকে আদর করবে না। কোলেও নিবে না। শুধু নাহিয়ানকেই ভালোবাসবে আদর করবে। এমনকি মুন্নিকেও না। আমরা বাসায় যাওয়ার সময় মুন্নিকে তার বাসায় রেখে আসবো কেমন। এবার খুশি তো বাবা "
নাহিয়ান নাক টেনে মুচকি হেসে নীরার বুকেই মাথা দিয়ে বললো
" নাহিয়ানের আম্মু শুধু নাহিয়ানকেই ভালোবাসবে। আর কাওকে না। "
তুর্য নীরার সম্পুর্ন কথা শুনলো। তূর্য থম মেরে রইলো। নীরা এটা কী বললো? নাহিয়ানের জন্য নিজের গর্ভে সন্তান ধারণ করবে না। তূর্য নাহিয়ানকে কোলে নিতে গেলেই নীরা দেয় না। নাহিয়ানকে নিয়ে শুয়ে পড়ে। আর তূর্যর উদ্দেশ্যে বলে,
" আমাকে একা ছেরে দিন। যাওয়ার সময় দরজা আটকিয়ে দিবেন। লাইট বন্ধ করে দিবেন। মুন্নির দিকে নজর দিয়েন। কেউ যদি আমার কথা জিজ্ঞেস করে তাহলে বলবেন আমি অসুস্থ। "
তূর্য আর কথায়া বাড়ায় না। বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। নীরা নিঃশ্বব্দে চোখের পানি ফেলছে। নাহিয়ানকে বুকের মাঝেই আগলিয়ে রেখেছে। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। কান্নার ফলে শরীর কেপে উঠছে। নীরা নাহিয়ানকে নিজের বুক থেকে সরায় না।
চলবে………