#আপনি_যে_আমার_ই
#writer_Drm_Shohag
#পর্ব-১৬+১৭
পর্ব-১৬
(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ)
মৌ হিজাব পরে মুখ ঢেকে নিল। অতঃপর বলল,
”আসুন। আমি আম্মু-আব্বুকে ডাকছি।”
এই বলে ঘর থেকে বেরোতে গেলে সোহাগ মৌ এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মৌ সোহাগের সাথে ধাক্কা খেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেল। অতঃপর চোখ-মুখ কুঁচকে বলল,
”এভাবে সামনে আসলেন কেন?”
সোহাগ বুকে দুইহাত গুজে বলল,
”স্বামীর সাথে মন খারাপ করে ঘরের বাইরে পা রাখা মানা।”
মৌ বলল,
”আমি মন খারাপ করিনি।”
”আমি বিশ্বাস করিনি।”
”আমি কি করব?”
”আমি কিছু শুনব!”
”কি শুনবেন?”
”যা বলবেন।”
“কী বলব?”
“আমি যা শুনব”
“আপনি কী কবিতা বলার চেষ্টা করছেন?”
“আপনার কবিতা শোনার অপেক্ষায় বুঝেছেন?”
“আমি কবিতা পারিনা।”
“আমি বাহানা শুনিনা।”
“ধ্যাত! আপনি একটা ঘোড়ার ডিম।”
”ধ্যাত! আমি একটা মানুষের ডিম।”
মৌ এর এক্সপ্রেশন দেখে সোহাগ শব্দ করে হাসল।
মৌ এর কাছে এগিয়ে এসে মৌ এর মাথা থেকে হিজাব সরিয়ে দিল। মৌ মাথা নিচু করে আছে। সোহাগ মৌ এর মাথায় হাত দিলে মৌ চোখ তুলে তাকায়। তা দেখে সোহাগ মুচকি হাসল। অতঃপর বলল,
“তুমি যেমন বলেছ, আমিও তেমন বলেছি। আর বলব না।”
মৌ অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,
”আপনি মিথ্যাবাদী।”
”আপনি সত্যবাদী।”
”আমি সেটা জানি।”
”আমিও তা মানি।”
মৌ মন খারাপ করে বলল,
”আপনি মিথ্যা বলেন। গার্লফ্রেন্ড এর কথা বলবেন না বলেও আজ বললেন।”
সোহাগ মৃদু হেসে বলল,
”তুমি অভিমান না করলে ভাঙাবো কী?”
”তাই বলে এসব বলবেন?”
সোহাগ মৌ এর মাথায় হাত বুলিয়ে মাথা দু'দিকে নাড়িয়ে বলল,
”আর বলবা না। এবার সত্যবাদী হয়ে যাব।”
মৌ বলল,
”হু। মনে থাকে যেন!”
সোহাগ হেসে বলল,
“যথাআজ্ঞা মৌ বউ। এবার আমাকে কবিতা শোনাও।”
মৌ সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,
”সত্যি পারিনা।”
”আমি যে বললাম বাহানা শুনিনা।”
”কবিতা শুনতে হলে আপনার কোনো কবিকে বিয়ে করা উচিৎ ছিল।”
সোহাগ কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
”কিসব বলো। স্বামীর জন্য একটা প্রেমময় বাক্য বললেও সেটাই কবিতা। স্পেশাল কবিতা, বুঝলে?”
মৌ চোখ বুজে বলতে লাগলো,
”রহমান আল্লাহর কাছে মোনাজাতে
খুব করে একটি আবদার রাখি,
ওপারে যাওয়ার টিকিট যেন
দুজনে একসাথেই কাটতে পারি।
আপনাকে ছাড়া ভাসবো আমি
তীব্র কষ্টের সাগরে,
তাইতো আমার দোয়ায় থাকে
একসাথেই যাবো ওপারে।”
সোহাগ মৃদু হেসে বলল,
“রহমান আল্লাহ লজ্জা পায়
বান্দা-বান্দীর আবদার ফিরিয়ে দিতে,
তাঁর বান্দা-বান্দীর চাওয়া
পূরণ করতেই তো তিনি মুখিয়ে থাকে।”
মৌ সোহাগের দুজনের ঠোঁটেই মুচকি হাসি লেগে। সোহাগ মৌ এর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
”সাবধানে থাকবে। কালকে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।”
অতঃপর মৌ কে এর হিজাব পরে দিয়ে মুখ ঢেকে দিল।
দরজার সামনে গিয়ে মৌ বলল,
”আপনি সাবধানে যাবেন। সাবধানে বাইক চালাবেন।”
অতঃপর পা উঁচু করে সোহাগের মাথার চুল কিছুটা এলোমেলো করে দিয়ে মৃদু হেসে বলল,
”পৌঁছে কল করবেন। আল্লাহ হাফেজ। আসসালামু-আলাইকুম।”
সোহাগ মৃদু হেসে বলল,
”আল্লাহ হাফেজ। ওয়ালাইকুমুস-সালাম।”
★★
অয়ন বলল,
“তুই কী এমন ভয় দেখালি মেয়েটার জ্বর এসে গেল!”
ইমন ভ্রু কুঁচকে অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
”এতো চিন্তা! তোর ভাইটাকে যে মেরে মেরে তক্তা বানাতে যাচ্ছিল তখন তো একটুও চিন্তা করিস নি!”
এর মধ্যে সোহাগ এসে বলল,
”কী করে তোদের কী হয়েছে?”
ইমন বলল,
”দেখ এই অয়ন শালা আমার বন্ধু হয়েও আমার শত্রুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।”
সোহাগ বলল,
”কে তোর শত্রু?”
”কে আবার? তোর শালি!”
”পাশ থেকে অয়ন ইমনের পেটে ঘুতা দিল।”
ইমন বিরক্ত হয়ে বলল,
”এক থাপ্পড় খাবি। ঘুতাঘুতি করছিস কেন?”
অয়ন মুখ ফিরিয়ে হাসল। সোহাগের এক ঘুষি না খেলে এর যে আজ পেটের ভাত হজম হবে না তা বোঝা হয়ে গেছে।
সোহাগ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“অয়ন কী দুঃখ প্রকাশ করছে?”
”আরে তোর শালিকে ভয় দেখালাম আর নিম এর পাতা বাটা খাওয়ালাম।”
একটু হেসে বলল,
”ফলাফলে পাক্কা সফল হলাম। আর এদিকে দুঃখ পাচ্ছে এই বেদ্দব বন্ধু নামের শত্রু।”
সোহাগ শার্ট এর হাতা গুটিয়ে ইমনের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
”সব বুঝতে পেরেছি।”
ইমন বলল,
”বোঝানোর জন্যই তো বুঝিয়ে বললাম।”
অতঃপর সোহাগ কে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে মনে পরল মায়ের বদনাম মাসির কাছে করে ফেলেছে।
তার এই এক সমস্যা। কথা বলতে গেলে সামনে কে আছে সেটা মনে থাকেনা। তার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে মানে তার পেটের সব কথা বের করতে হবে।
পাশে অয়নকে খুঁজলে দেখল অয়ন নেই।
আমি এইখানে। ঘেঁষাঘেঁষি করার জন্য খুঁজে লাভ নাই। ইমন রেগে বলল,
“তুই আসলেই সত্যিকারের শত্রু।”
অয়ন পাত্তা দিল না।
ইমন সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,
“শোন তোর শালি আমাদের বেয়াইন। বেয়াইনের সাথেই তো বেয়াইন মজা করবে বল?”
সোহাগ হাত ঘুররিয়ে বলল,
“আপাতত আমার হাতে কে যেন সুড়সুড়ি দিচ্ছে বুঝলি? নিড হেল্প!”
অয়ন এগিয়ে এসে সোহাগকে বলল,
“বাদ দে। বেচারা চোর হয়ে যা মার খেয়েছে। ছেড়ে দে।
চল দেরি হয়ে যাবে। কাজের কথা ভুলে এসবে সময় নষ্ট করিস না দু'জন। ইশরাতকে এনে তারপর কাজে যেতে হবে। এমনিতেও দেরি হবে।”
সোহাগ অয়নের কথা শুনে আর সময় নষ্ট করল না। রওয়ানা হলো তাদের গন্তব্যে।
★★
“হাই ভাইয়ারা!”
মেয়ে কণ্ঠে ইমন, অয়ন, সোহাগ তিনজনই তাকালো পিছন ফিরে। সোহাগ বলল,
“হ্যালো বোন!”
ইমন বলল,
“তোর হাই ফাই এসব রাখ। চল চল যেতে হবে। তোকে সোহাগদের বাসায় রেখে আমরা কাজে যাব।”
ইশরাত তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রেগে বলল,
“কতদিন পর দেখা। আর তুমি আমার নিজের ভাই হয়ে আমার খোঁজ না নিয়ে কাজে লেগে যাচ্ছ। মাঝে মাঝে মনে হয় তুমি আমার সৎ ভাই। আর সোহাগ ভাইয়া আমার আপন ভাই।”
পাশে তাকিয়ে দেখল অয়ন তার দিকে তাকিয়ে আছে, ঠোঁটে মৃদু হাসি। চোখে চোখ পরায় অয়ন কিছুটা বিব্রতবোধ করলেও ইশরাত হেসে অয়নের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“এই যে অয়ন ভাইয়া তুমি ওখানে একা দাঁড়িয়ে কেন? আমার সৎ ভাইয়ের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও।”
ইশরাত এর ছেলেমানুষী দেখে অয়ন শব্দ করে হেসে ফেলল। অতঃপর ইশরাত এর মাথায় হাত দিয়ে বলল,
“অনেক শুকিয়ে গিয়েছিস। ঠিকমতো খাবার খাস না?”
ইশরাত এর মুখ থেকে হাসি সরে গেল। মাথা নিচু করে মন খারাপ করে বলল,
তোমাদের সবাইকে অনেক মনে পরে।
অয়নের মন খারাপ হলো। মা হারা মেয়েটা হুট করেই কতটা বড় হয়ে গেল। আগে যার সব কাজ তার মা করে দিত, তুলে খাওয়াতো। আজ সে একা একা থাকতে শিখে গেছে।
ইশরাত সবার দিকে তাকিয়ে দেখল সবাই মন খারাপ করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। একটু পরই স্বাভাবিক হয়ে বলল,
“চলো সবাই। এতোদিন পর দেখা হয়ে সবাই দুঃখবিলাস করছ। কোথায় একটু খুশি হবে তা না দুঃখবিলাস করছ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।”
ইশরাত এর কথায় ইমন এগিয়ে এসে ইশরাতের চুল টেনে বলল,
“চল চল শুটকি বোন আমার।”
ইশরাত মাথায় হাত দিয়ে রেগে বলল,
“চল চল ভুটকি ভাই আমার।”
এই দু'ভাইবোনের কথায় অয়ন সোহাগ হেসে ফেলল।
ইশরাত আবদার করল সোহাগের কাছে তার সাথে বাইকে যাবে। সোহাগ ইশরাতের সাথে বাইকে যেতে চাইলে সোহাগ কিছুটা বিব্রতবোধ করল। ইশরাতের সাথে বেশ ভালোই ফ্রি সে। নিজের বোন ভাবে। কিন্তুু একসাথে বসে যাওয়া টা বোধয় মৌ এর একদমই ভালো লাগবে না। তার দিক থেকে সমস্যা ছিল না। কারণ তার নিজের বোন নেই। ছোট থেকে ইশরাতকেই নিজের বোন ভেবে এসেছে। মৌ এর কথা ভেবে যেতে চাচ্ছিল না। অতঃপর বলল,
“ইশরাত তুই ইমনের সাথে আয় বোন। আমি আর অয়ন সিএনজি তে আসছি।”
ইমন বলল,
“আমি পারব না। এই শুটকি পিছন থেকে উড়ে গেলে তখন কী হবে?”
ইশরাত রেগে বলল,
“এই ভাইয়া তুমি আমার পিছে লেগে কী পাও?”
“আমি তোর পিছে কখন লাগলাম? আমি তো তোর সামনে দাঁড়িয়ে।”
অয়ন বাইকে উঠে বলল,
“ইশরাত উঠে বস।”
”ইশরাত অয়নের কথায় খুশি হয়ে অয়নের দিকে তাকিয়ে হাসল। ইমনকে মুখ বেঁকিয়ে বাইকে উঠে বসল। অয়ন বিরক্ত হয়ে বলল,
“তুই কী সত্যি সত্যিই উড়ে যেতে চাচ্ছিস?”
ইশরাত মন খারাপ করে বলল,
“কী করেছি?”
“ধরে বস।”
ইশরাত একটু এগিয়ে অয়নের কাঁধে হাত রাখল। অয়ন মৃদু হেসে বাইক স্টার্ট দিল।
★★
ইশরাতকে সোহাগের বাড়ি নামিয়ে দিয়ে সোহাগ, অয়ন, ইমন সিএনজিতে করে তাদের গন্তব্যে রওয়ানা হলো।
একটা বাড়ির সামনে এসে সিনএনজি থেকে তিন বন্ধু নেমে অয়ন ভাড়া মিটিয়ে দিল। ইমন তা দেখে বলল,
”এই তুই টাকা দিলি কেন?”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,
”তো কী হয়েছে?”
”আরে তুই জানিস না আমরা সোহাগের থেকে হাজার হাজার হাজার টাকা পাই।”
সোহাগ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
”কীসের টাকা?”
ইমন মুখ ভেঙিয়ে বলল,
”এ্যাহ! কীসের টাকা! নতুন বউ যেন! তোর শালার পেট ভরিয়েছিস আমাদের টাকায়। এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি? অকৃতজ্ঞ কোথাকার।”
সোহাগ হেসে বলল,
”প্রমাণ ছাড়া সোহাগকিছু বিশ্বাস করে না।”
সেহাগের হাসি দেখে অয়ন ইমন দুজনেই রেগে গেল। টাকা ব্যাপার নয়। কিন্তুু এই বাটপার এভাবে টাকা নিবে আর তারা ছেড়ে দিবে। এটা বন্ধুত্ব নয়। বরং যা নিয়েছে তার চেয়ে দুই-তিনগুণ আদায় করে পেট ভরালে শান্তি পাবে। বন্ধুদের টাকায় আলাদা শান্তি থাকে হয়তো।
ইমন, অয়ন সোহাগের দিকে রেগে তাকিয়ে আছে।
ইমন রেগে বলল,
“এই বাটপার ১০ হাজার বের কর।”
সোহাগ ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কোন দুঃখে?”
“দুঃখে না, সুখে। তোর শালাকে খাইয়েছি তোর কথা মতো। এখন সেই সুখে আমাদের টাকা আমাদের দিয়ে দে।”
সোহাগ অবাক হয়ে বলল,
“১০ হাজার খাইয়েছিস! বাহ! কত বড়লোক আমার বন্ধুরা!
ভাব নিয়ে বলল,
দেখতে হবে তো বন্ধু দু'টো কার।”
“টাকা দিবি কি-না বল?”
“আমি কেন টাকা দিতে যাব?”
“কারণ ওই খাইখাই বাচ্চাকে তুই শিখিয়ে দিইয়েছিস।”
“কে শেখিয়ে দিল সেটা কোনো ফ্যাক্ট না। কে খাওয়ালো সেটাই ফ্যাক্ট।
তোরা খাইয়েছিস, তোদের টাকাই যাবে। সিম্পল! এই সামান্য হিসাব বুঝিস না?”
অয়ন রেগে বলল,
“শালা তোর। পকেট ফাঁকা হবে তোর। তুই এই সামান্য হিসাব বুঝিস না?”
সোহাগ বোঝানোর স্বরে বলল,
“শোন, ফ্রিতে দাওয়াত খাওয়া ঠিক নয়। ফ্রিতে খেলে পেট খারাপ হয়। আমি তোদের বন্ধু হয়ে কী করে তোদের অসুস্থতা মেনে নিই বল? সেই জন্যই তো ভেবে-চিন্তে এই ব্যবস্থা করলাম।”
ইমন রেগে বলল,
“তুই তো জোর করে টেনে এনেছিস আমাদের।
আর এখন ফ্রিতে খাওয়ার খোঁটা দিচ্ছিস।
অতঃপর ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,
অয়ন চল ভাই, আজ আমাদের বিয়ে হচ্ছে না বলে মানুষ সুযোগ নিচ্ছে! চল আমরা কালকেই বিয়ে করে দেখিয়ে দিব।”
অয়ন রেগে বলল,
“তোর ড্রামা কী একটু সময়ের জন্যও বন্ধ হয়না?”
ইমন দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,
তুইও সোহাগের দলে! বউ-টউ পেয়ে গেছিস না-কি!
বউও পায়নি, টউও পায়নি। পেয়েছি তোর মতো বাঁচালকে আর সোহাগেরর মতো দালালকে।
সোহাগ অয়নের কথা পাত্তা দিলনা।
ইমন রেগে বলল,
“তোরা কী আমাকে সবসময় বাঁচাল বলে অপমান করতে চাস?”
সোহাগ বলল,
“অপমান করতে চাই না, অলরেডি অপমান করি।”
“এই তুই চুপ থাক। তোদের অপমান আমি গ্রহণ করিনা। এতো সময় নেই আমার। আমি ভীষণ ব্যস্ত মানুষ।”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“অপমান আবার গ্রহণ করা লাগে?”
“আমার ক্ষেত্রে লাগে। আর এই সোহাগের বাচ্চা শোন...”
সোহাগ বলে উঠল,
“আমার বাচ্চা হয়নি। কদিন আগেই বিয়ে করেছি। তোর স্মৃতিশক্তির আবার কী হলো?”
“বেদ্দব পোলা। আমাদের টাকা আমাদের ফিরিয়ে দে।”
“হা করে আব্বা বল। বলতে পারলে দশ হাজারের সাথে দশ হাজার বোনাস।”
অয়ন বলল,
“তুই কবে থেকে শেয়ালের এক নাম্বার বাচ্চা চালাক প্রাণি হলি?”
সোহাগ বুকে দুইহাত গুজে বলল,
“আমি আমার আব্বু-আম্মুর একমাত্র কিউট বাচ্চা। ডোন্ট শেয়ালের বাচ্চা। তোর কী চোখের প্রবলেম হলো না-কি? হলে টাকা দিচ্ছি। একটা চশমা বানিয়ে নিবি।”
ইমন বলল,
“তুই তো শালা বাটপারের বাপ। আমাদের থেকে কী কৌশলে টাকা হাতালি রে! আজ তোর বিয়ে বলে বেঁচে গেলি। শুধু একবার সুযোগ পাই, তোর তেরোটা আমি বাজাবোই। শালা বাটপারের বাপের বাপের বাপের বাপ।””
সোহাগ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে মিটমিটিয়ে হাসল। অতঃপর বলল,
“আর তোরা বলদের দাদার দাদা।”
অয়ন, ইমন সোহাগের সাথে না পেরে ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে চুপচাপ বসে রইল। ইমন বিড়বিড় করে বলল,
‘তোকে আমি নদীতে, পুকুরে, ডোবায়, খালে-বিলে সবখানে চুবানি খাওয়াব, দাঁড়া। এ্যাহ আসছে ইমন খানের পিছে লাগতে।
তোর শালি কে মুখোশ এর ভয় দেখিয়েছি। তোকে সত্যি সত্যি বোতলের জ্বিন এনে ঘাড়ের উপর বসিয়ে রাখব হুহ!’
★★
বেশ কয়েকবার কল করল সোহাগ মৌ এর নাম্বারে। কেউ ধরার নাম নেই। মেজাজ খারাপ হলো সোহাগের। যে কাজে গিয়েছিল তা একেবারে ঘেটে গিয়েছে। পরবর্তীতে কী করবে তা নিয়ে চিন্তায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাড়িতে এসে যে বউ এর মুখ দেখে মন শান্ত করবে তা তার কপালে নেই। মুখ না দেখতে পেল, ভয়েস শুনে শান্তি পেত তাও এই মহারানীর খবর নেই। আবার কল দেয়ার পরও একই কাহিনী। কোনো খবার নেই। রেগে ফোন ছুঁড়ে মারল।
মৌ মাগরিবের নামাজ পরে মনিরার ঘরে গিয়েছিল। দুপুরের পর থেকে মনিরার আর জ্বর আসেনি। ভয়টাও কেটে গেছে দেখল। তাই নিশ্চিত হয়ে তার ঘরে এলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখল সোহাগের নাম্বার থেকে ৭ বার মিসড কল উঠে আছে। দ্রুত কল ব্যাক করল।
সোহাগ কিছুক্ষণ চোখ বুজে থেকে বসা থেকে উঠে গিয়ে ফোন তুলে দেখল ঠিক আছে কী-না। উপরের গ্লাস ফেটে গেছে। ফোন অন আছে। আলো জ্বলে উঠল। মৌ এর কল। সোহাগ রিসিভ করল না। একবার, দুইবার, এভাবে ১০ বার যখন দিল তখন রিসিভ করে কানে দিল।
এদিকে মৌ চিন্তা করছিল। একটু আগেই ফোন দিয়ে ধরছিল না বলে। বাড়ি ফিরেছে কি-না তা তো জানেনা। রাস্তায় কোনো বিপদ হলো কি-না! এসব ভেবে মৌ এর চিন্তায় মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। রিসিভ হওয়ার সাথে সাথে মৌ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
”আপনি ঠিক আছেন?”
”সোহাগ চুপ।”
মৌ কোনো সাড়া না পেয়ে বলল,
”কথা বলছেন না কেন?”
কোনো সাড়া নেই। মৌ এর চিন্তায় ঘাম ছুটছে। কপাল হাত দিয়ে ঘাম মুছল। অতঃপর বলল,
”প্লিজ কথা বলুন। অনেক চিন্তা হচ্ছে।”
সোহাগ মৃদুস্বরে বলল,
”ঠিক আছি।”
মৌ সোহাগের ঠিক আছি শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। অতঃপর বলল
“কথা বলছিলেন না কেন? আর কল ধরছিলেন না কেন?”
সোহাগ বিছানায় শুয়ে কপালের উপর এক হাত রেখে চোখ বুজে গম্ভীর গলায় বলল,
”তুমি এতোক্ষণ আমার কল ধরোনি কেন?”
“আমি মনিরার ঘরে গিয়েছিলাম। দেখতে পায়নি।”
”আওয়াজ নেই ফোনের?”
”আছে। ওই ঘর থেকে শুনতে পাইনি। আপনি কি অসুস্থ? এতোক্ষণ চুপ করে ছিলেন, আবার কল ধরছিলেন না কেন?”
”রেগে ছিলাম তাই। আমার কল না ধরার শাস্তি এটা।”
মৌ এর মুখ আঁধারে ঢেকে গেল। সে কতটা চিন্তা করছিল মানুষটার জন্য। আর মানুষটা রেগে ছিল বলে তার কল দেখেও ফোন রিসিভ করেনি।
মৌ বিষন্ন স্বরে প্রশ্ন করল,
”বাড়ি ফিরেছেন?”
সোহাগ রুক্ষ কণ্ঠে বলল,
”ফিরে থেকেই কল করছিলাম। কিন্তুু তোমার তো অনেক কাজ। স্বামীকে মনে থাকেনা।”
মৌ এর চোখ জোড়া ভিজে উঠল সোহাগের রুক্ষ কণ্ঠে বাঁকা কথায়।
সে তো ইচ্ছে করে ফোন রিসিভ করেনি এমন নয়। উল্টে সোহাগ ইচ্ছে করে তার কল রিসিভ করল না।
মৌ কিছু বলছে না। ওপাশ থেকে সোহাগও চুপ। সোহাগের এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো লাগছে। রাগ পরে গিয়েছে। মৌ এর দোষ নেই সে জানে। কিন্তুু হুট করেই রেগে যায় আর উল্টাপাল্টা বলে ফেলে। কিছুক্ষণ পর তা বুঝতেও পারে। যেমন এখন বুঝল।
প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে। চোখ বুজেই শুয়ে রইল। ওপাশ থেকে মৌ এর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে লাগলো। ভালো লাগছে। কিছুক্ষণ মৌ এর নিরবতার নিঃশ্বাস অনুভব করে নিক এরপর সরি বলে দেবে ভুলভাল বলার জন্য। এই ভেবে চুপ রইল। এভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে গেল বুঝতে পারল না।
এদিকে মৌ ফোন কানে নিয়ে বসে সোহাগের কথা শোনার অপেক্ষায়। যখন দেখল বেশ অনেকক্ষণ থেকে কথা বলছে না। তখন বেশ কয়েকবার ডাকল।
”শুনছেন?
সোহাগের কোনো সাড়া নেই।
রাগ করে থাকবেন না প্লিজ।
কথা বলছেন না কেন?
শুনছেন?
হ্যালো! শুনছেন? কথা বলুন।”
ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই। মৌ হতাশ হলো। এতো রাগ মানুষটার! আর একটা কথাও বলল না। এরই মধ্যে ফোন কেটে গেল। মৌ এর তীব্র খারাপ লাগলো। কোনো কথা না বলে কল কেটেও দিল।
ফোন রেখে একপাশ ফিরে শুয়ে চোখ বুজল। চোখের কোণ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরল।
★★
সোহাগ ঘুম থেকে জাগা পেল। হঠাৎ মনে পড়ল সে তো মৌ এর সাথে কথা বলছিল। পাশে ফোন অন করে দেখল প্রায় ১ ঘণ্টার মতো ঘুমিয়েছে। সরি বলবে বলে প্রিপারেশন নেওয়ার আগেই ঘুমিয়ে গেছে।
‘শিট’ বলে উঠে বসল। মৌ কে বেশ কয়েকবার কল করল। ধরল না। তার বউ এর যা অভিমান। সামনে থেকে ভাঙাতেই অনেক বেগ পোহাতে হয় সেখানে দূর থেকে সম্ভবই নয়। কী করবে ভাবতে লাগলো।ঘড়িতে ৭:৩০ এর মতো বাজে।
ইশরাত তো এখানেই আছে। ইশরাতকে নিয়ে গেলে কেমন হয়! মেয়েটা অনেক হাসি-খুশি। ইশরাতকে দেখলে, তার সাথে কথা বললে মৌ এর মন ভালো হবে।
এই ভেবে ইশরাত কে বলতে গেল। মায়ের ঘরে গিয়ে দেখল ইশরাত তার মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। তা দেখে হাসল মেহরাব। ইশরাতের মা মারা যাবার পর নাফিসা বেগমই যেন ইশরাতের মা হয়ে উঠেছে। সোহাগ গলা ঝেড়ে বলল,
”কী করছ তোমরা?”
সোহাগের কথা শুনে ইশরাত মাথা ঘুড়িয়ে হেসে বলল,
”তোমার আম্মুর কোল দখল করে নিয়েছি ভাইয়া। তোমার আর জায়গা নেই।”
সোহাগ মৃদু হেসে বলল,
”মায়েদের কোল কখনো সম্পূর্ণ দখল করা যায়না বোন। মায়েদের মন অনেক বড় হয়। আর যার মন বড় তাদের কোলও অনেক বড়। চাইলেও সম্পূর্ণ দখল করা যায় না। অফুরন্ত জায়গায় হাজার মানুষ দখল করলেও বিন্দুমাত্র জায়গা কমে যায় না, বুঝলি?”
ইশরাত নাফিসা বেগমের কোল থেকে মাথা তুলে সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভাইয়া তুমি তো দেখছি গুরুদের মতো কথা বলছো। তোমার নাম এখন থেকে গুরু।”
সোহাগ বলল,
“দেখিস আবার গুরু ডাকতে গিয়ে গরু ডাকিস না।”
ইশরাত জোরে হাসেতে হাসতে বলল,
”ভালো বুদ্ধি। গুরু ডাকার সময় চান্স নিয়ে গরু ডাকা যাবে?”
সোহাগ এগিয়ে এসে ইশরাত এর কান টেনে ধরে বলল,
“পাজি মেয়ে, গরু বলবি?”
”না না গো গরু, সরি সরি গুরু।”
নাফিসা বেগম সোহাগ আর ইশরাত এর ছেলেমানুষী দেখে হেসে ফেলল। অতঃপর সোহাগের হাত ইশরাতের কান থেকে ছাড়িয়ে বলল,
হয়েছে দুজনের কান্ডকারখানা। অতঃপর সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছু বলবে?”
সোহাগ বলল,
“আম্মু ইশরাতকে নিয়ে মৌ এর বাসায় যেতে চাচ্ছি এখনি।”
নাফিসা বেগম অবাক হয়ে বললেন,
”রাত হয়ে গেছে তো। আর কালকে তে মৌ এখানে আসবেই।”
সোহাগ কীভাবে বলবে বউ এর অভিমান ভাঙাতে আজকেই যেতে হবে। অভিমানী বউ এর অভিমান না ভেঙে রাতে ঘুম আসবে না যে। অতঃপর বলল,
”আজকে যাই। ও আজকে আসলে আজই আনব। নয়তে কালকে আসব ইনশাআল্লাহ।”
নাফিসা বেগম আর কিছু বললেন না। ছেলে তার বউ কে চোখে হারায় ভেবে খুশি হলেন। অতঃপর বললেন,
“ইশরাত মা যাও রেডি হয়ে নাও।”
ইশরাত খুশি হয়ে তাকে দেয়া একটা রুমে গেল রেডি হতে।
কিছুক্ষণ পর ইশরাত রেডি হয়ে আসলে সোহাগ বাইক নিয়ে বের হলো। সকালে ইশরাতকে বাইকে নিতে সংকোচবোধ করলেও এখন ভাবল ইশরাত তার নিজের বোনের মতো। ছোট বোন। মৌ কিছু মনে করবে না। বোনকে নিয়ে কেউ উল্টাপাল্টা ভাবে না-কি! সকালের নিজের ভাবনা ভেবে এখন নিজেরই হাসি পেল। বোনের মতো মেয়েকে বাইকে উঠাতে সংকোচবোধ করেছে।
অতঃপর ইশরাত সোহাগের বাইকের পিছনে উঠে বসল।
★★
মৌ ঘুম থেকে জাগা পেয়েছে। বেশ কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েছে। ঘুম থেকে জাগা পেয়ে ফোন চেক করল। সোহাগের কল দেখে ব্যাক করতে গিয়েও করল না। অভিমান বাঁধা দিল। অতঃপর উঠে চোখে মুখে পানি দিয়ে ঘর থেকে বের হলো। এরই মধ্যে বেল বেজে উঠল। মৌ ভ্রু কোঁচকালো।
এতো রাতে আবার কে এলো?
মৌ এর ভাবনার মাঝেই ফারজানা বেগম এসে দরজা খুলে দিল। মৌ দরজার দিকে তাকিয়ে সোহাগকে দেখে অবাক হলো। এতো রাতে মানুষটা কেন আসল? তার জন্য?
অভিমানে চোখ নিচে নামিয়েও আবার উঠালো, সোহাগের পাশে দাঁড়ানো মেয়েটাকে দেখে। সোহাগ কে দেখে যতটা না অবাক হয়েছে। তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছে সোহাগেরর পাশে দাঁড়ানো জিন্স আর টপস পরা মেয়েটিকে দেখে।
মৌ বিস্ময় নিয়ে মেয়েটার পা থেকে মাথা অব্দি চোখ বোলালো। জিন্স, টপস, ঘাড় সমান চুল ছেড়ে দেয়া, মুখে হালকা সাজ।
বিড়বিড় করে বলল,
‘আপনি এই মর্ডান মেয়ে কোথায় পেলেন?’
চলবে ইনশাআল্লাহ............
#আপনি_যে_আমার_ই
#writer_Drm_Shohag
#পর্ব_১৭
(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ)
সোহাগ মৌ এর পাশে এসে কখন দাঁড়িয়েছে সেদিকে মৌ এর খেয়াল নেই। মৌ বিস্ময় নিয়ে তার সামনে দাঁড়ানো মেয়েটাকে দেখতে ব্যস্ত।
বাস্তবে এমন মেয়ের সাথে তার পরিচিতি নেই। তার স্বামীর সাথে এমন মেয়ে পরিচয় আছে ভেবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে।
ইশরাত মৌ এর কাছে এসে বলল,
”হেই ভাবি! আমি সোহাগ ভাইয়ার বোন। আই মিন সোহাগ ভাইয়ার বন্ধু ইমন ভাইয়ার ছোট বোন, আর তাই সোহাগ ভাইয়ারও ছোট বোনের মতোই হচ্ছি।”
মৌ এর হাসি আসল না। ইশরাত এর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবল ছোট বোনের মতো! ছোট বোন তো নয়।
ইশরাত মৌ কে এভাবে চুপ থাকতে দেখে কিছুটা বিব্রতবোধ করল। পাশ থেকে সোহাগ মৌ কে বলল,
”কি হয়েছে? কথা বলছো না কেন?”
মৌ সোহাগের কথা শুনলেও তার দিকে তাকালো না। সোহাগের প্রতি মৌ এর এই আচরণে ইশরাত মনে মনে হাসল। আসার পথে সোহাগ তাকে বলেছে তার ভাবি তার উপর অভিমান করে আছে। সোহাগ অসহায় মুখ করে তাকালো ইশরাত এর দিকে। ইশরাত সোহাগের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে হাসল।
মৌ ইশরাত এর দিকেই তাকিয়ে ছিল। ইশরাত যে সোহাগের দিকেই তাকিয়ে হাসছে তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি মৌ এর। ব্যাপারটায় মৌ খুব বেশি বিরক্ত হলো। সোহাগ না আসলে অভিমান জমা হয়ে থাকতো। কিন্তুু এখন সোহাগ আর এই অচেনা মেয়েটার প্রতি মৌ এর মনে বিরক্তি এসে ভিড় করেছে।
ভদ্রতার খাতিরে মৌ জোরপূর্বক কিছুটা হেসে বলল,
”আসসালামু-আলাইকুম আপু।”
ইশরাত অবাক হলো। সে তো ভাবির থেকে অনেকটাই ছোট। ভাবি বড় হয়ে তাকে সালাম দিচ্ছে, ব্যাপারটায় ইশরাত বেশ অবাক হলো। অতঃপর মৃদু হেসে সালাম এর উত্তর নিয়ে বলল,
আমি তোমার অনেক ছোট হব ভাবি। আপু কেন বলছো?
মৌ কৃত্রিম হাসি লাগিয়ে বলল,
“ছোট, বড় বিবেচনা করে আপু ডাকতে হয়না। যে কাওকেই বলা যায়। আর আমি অপরিচিতদের এভাবে সম্বোধন করতেই ভালোবাসি।”
মৌ এর কথাটা ইশরাতের খুব মনে ধরল। ফারজানা বেগম ইশরাত কে বললেন,
”আম্মু আমার সাথে এসো। তোমাকে ঘর দেখিয়ে দিচ্ছি। ফ্রেশ হয়ে নাও।”
ফারজানা বেগমের ব্যবহারে ইশরাত খুশি হলো। প্রথম দেখাতেই কী সুন্দর করে কথা বলছে। কিন্তুু ভাবি যেন তাকে দেখে খুশি হয়নি। প্রথমে তাকে দেখে কেমন যেন রিয়েকশন দিল।
তবে আরেকটা ব্যাপার ভাবনায় এলো, তাকে সালাম দেয়ার ব্যাপারটা, আবার তাকে আপুও ডাকল। সবমিলিয়ে ইশরাত কিছুটা নয় বরং অনেকটাই অবাক হয়েছে। সে ছোট থেকে দেখে এসেছে ছোটরা বড়দের সালাম দেয়। সেও তার স্যার ম্যাডামদের সালাম দেয়। কিন্তুু বয়সে ছোট কাওকে কখনো সালাম দেয়া হয়নি। আজ নিজের চেয়ে বয়সে বড় একজনের থেকে সালাম পেয়ে অবাক হওয়ারই কথা।
মৌ বলল,
“আম্মু আমি দেখিয়ে দিচ্ছি। তুমি ঘরে যাও।
ফারজানা বেগম কথা না বাড়িয়ে তার ঘরে চলে গেলেন।”
মৌ ইসরাতকে বলল,
“এসো আপু।”
অতঃপর মৌ আর ইশরাত পাশাপাশি হেঁটে চলে গেল।
এদিকে সোহাগ ভাবল এখানে মৌ এর জন্য অপেক্ষা করবে। পরে আবার ভাবল মৌ যতক্ষণে এই ঘরে আসে তার মধ্যে সে ফ্রেশ হয়ে নিক। এটাই ভালো হবে। এই ভেবে মৌ এর ঘরপর দিকে গেল।
★★
“ভাবি তুমি সোহাগ ভাইয়ার উপর অভিমান করে আছো? জানো সারা রাস্তা আমায় বলে এসেছে তোমার অভিমান ভাঙাতে যেন হেল্প করি। আজ না-কি ভাইয়া তোমার অভিমান ভাঙাতেই পারবে না। এই বলে বলে ঠিকভাবে বাইকই চালাতে পারছিল না।”
ঘরে গিয়ে মৌ ইশরাতকে বিছানা ঠিকঠাক করে দিচ্ছিল। ইশরাত এর কথায় মৌ এর হাত থেমে গেল। ভ্রু কোঁচকালো। বাইকে এসেছে! তার স্বামী আর একটা পরনারী একসাথে এক বাইকে দুই ঘণ্টার রাস্তা এসেছে। মৌ এর এতো রাগ কখনো হয়নি। সে রাগে না সহজে। একটুতেই অভিমান হয়। কিন্তুু বিয়ের পর আজ প্রথম ইচ্ছে করল সোহাগের মাথা দেয়ালের সাথে বারি দিতে। এই মেয়েকে তো চেনেই না। একে কিছু বলে লাভ নেই।
অপরিচিত মেয়ের সামনে সিনক্রিয়েট করতে চায় না। তাই ঘনঘন নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল।
ইশরাত আসার পর থেকে মৌ কে খেয়াল করছে সে কিছু বললে মৌ তাকে উত্তর দিচ্ছে না। ভাবি কী তার উপর বিরক্ত? কিন্তুু সে তো কিছু করেনি। ভাবি তাকে কখনো দেখেনি, সেও তো ভাবিকে কখনো দেখেনি। আবার ভাবল সোহাগ ভাইয়ার সাথে ঝামেলা চলছে এজন্য হয়তো ডিস্টার্ব। ভাবনার মাঝে মৌ নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে বলল,
“তার সাথে মিটিয়ে নিব ইনশাআল্লাহ। তুমি একা থাকতে ভয় পাবে?”
মৌ এর কথায় ইশরাত হেসে ফেলল। অতঃপর বলল,
“ভাবি আমি তো একাই থাকি। আমার অভ্যেস আছে।”
মৌ আর কথা বাড়ালো না। অতঃপর বলল,
“ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো।”
এই বলে মৌ ঘর থেকে বের হলো। রান্নাঘরে গিয়ে খাবার গরম করলো। সবাই খেয়েছে। শুধু সে খায়নি। একজনের খাবারই আছে। বেশি না ভেবে গ্যাসের চুলায় ভাত বসিয়ে দিল।
বেশ গরম পরেছে। ঘরে যেতে গিয়েও থেমে গেল। ঘরে মেহরাব আছে। যেতে ইচ্ছে করল না। দাঁড়িয়ে রইল চুলার পাশে। বেশ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আনমনে কিছু ভাবতে ভাবতে হাত চুলায় বসানো পাতিলের সাথে লেগে যায়। সাথে সাথে সরিয়ে আনলেও অনেকটা জায়গা জুড়ে ছেঁকা লেগে গেছে। জ্বলছে হালকা। পাত্তা দিল না সেদিকে।
সোহাগ অনেকক্ষণ থেকে ঘরে মৌ এর জন্য অপেক্ষা করেও যখন দেখল মৌ এর আসার নাম নেই। তখন ঘর থেকে বের হলো। তখন দেখেছিল ইশরাতের ঘর। ভাবল হয়তো ইশরাতের সাথেই আছে। তাই ইশরাতের ঘরের দিকে গেল। ইশরাত বসে ফোন স্ক্রোল করছিল। সোহাগ ডাকলে ইশরাত ফোন রেখে সোহাগের দিকে এগিয়ে আসে। মৃদু হেসে বলে,
“কিছু বলবে সোহাগ ভাইয়া?”
সোহাগ ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে মৌ কে না দেখে চিন্তিত কণ্ঠে বলল,
“মৌ কোথায় ইশরাত?”
ইশরাত ভ্রু কুঁচকে বলল,
“সে তো আামাকে রেখেই গেল। কেন তোমার কাছে যায়নি?”
”না তো।”
সোহাগকে চিন্তিত দেখে ইশরাত বলল,
“চিন্তা করো না সোহাগ ভাইয়া। আমার মনে হয় সে খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। আমরা তো না বলেই এসেছি।”
ইশরাতের কথা শুনে সোহাগের মুখে হাসি ফুটল। ইশরাতের মাথায় হাত রেখে বলল,
“তুই তো জিনিয়াস বোন আমার।”
ইশরাত হেসে তার মাথায় রাখা সোহাগের হাতের উপর হাত রেখে বলল,
”দোয়া কর তোমার বোন যেন আরও জিনিয়াস হতে পারে।”
ভাত হলে মৌ সবকিছু টেবিলে সাজালো। দুটো ডিম ভেজে নিল। অতঃপর ইশরাতকে তার ঘরে ডাকতে এসে ইশরাতের মাথার উপর সোহাগের হাত আর সোহাগের হাতের উপর ইশরাতের হাত, দু'জনের মুখে হাসি দেখে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল মৌ। অতঃপর চোখ নামিয়ে নিল। চোখ জোড়ায় পানি জমেছে।
একে অপরকে ভাই-বোন বলে ডাকছে। অথচ একটু সময় আলাদা থাকতে পারছে না! ছুটে এই ঘরে চলে এসেছে! কই তার খোঁজ তো একবারো করল না। সন্ধ্যায় মানুষটা তার সাথে কেমন রূঢ়ভাবে কথা বলল। অথচ সব ভুলে গিয়ে এই অপরিচিত মেয়ের সাথে কি শুরু করেছে এসব?
ইশরাত মৌ কে দেখে হেসে বলল,
ওই তো ভাবি।
ইশরাতের কথায় সোহাগ পাশ ফিরে তাকালো।
মৌ বারবার পলক ঝাপলাটো। কোনোভাবে চোখের পানিকে আড়াল করার চেষ্টা করল। নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে মুখে মিথ্যে হাসি ফুটিয়ে বলল,
”খেত আসো আপু। হয়ে গেছে।”
এই বলে আর দাঁড়ালো না। সোহাগ মৌ এর প্রস্থান দেখে আবার ইশরাতের দিকে তাকালো। সোহাগের অসহায় মুখ দেখে ইশরাত হেসে বলল,
”চল চল। মন খারাপ কর না। ঠিক হয়ে যাবে। আমাকে ভাবি বলেছে সবকিছু মিটিয়ে নিবে তোমার সাথে। ”
অতঃপর সোহাগের হাত টেনে ডাইনিং এ গেল।
মৌ আড়চোখে ইশরাত আর সোহাগের দিকে তাকালো। সোহাগের হাত ইশারেতর হাতে। সে সোহাগের বউ। আর কত সহ্য করবে স্বামীর সাথে অপর একটা মেয়ের এভাবে চলাফেরা।
ইশরাত চেয়ারে বসলে মৌ খাবার বেড়ে দেয়। সোহাগকে কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও কিছু না বলে আরেকটা প্লেটে ভাত বেড়ে দেয়। সোহাগ মৌ এর উদ্দেশ্যে বলে,
”তুমিও বসো। একসাথে খাই।”
মৌ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। ভাবে তার গলা দিয়ে কী করে খাবার নামবে? অতঃপর বলল,
”আমি খেয়েছি।”
সোহাগ বিশ্বাস করল না। ইশরাত থাকায় বেশি জোর করল না। সে খেয়ে মৌ গর জন্য নিজে ঘরে গিয়ে খাইয়ে দিবে। এই ভেবে আর কিছু বলল না। ইশরাতের পাশের চের্য়ারেই বসে পরল। মৌ দুই চেয়ার পর সোহাগের জন্য খাবার বেড়েছিল। সোহাগ প্লেট টেনে নিল। মৌ তা দেখে চোখ বুজল। সত্যি বলতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। মেহমান কে আপ্যায়ন ছাড়া অন্য কিছু করতে চায় না। তাই এতোকিছু চুপচাপ সহ্য করে নিচ্ছে। এখন অধৈর্য লাগছে। অতঃপর নিজেকে কিছিটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,
”তোমরা খাও। আমি আসছি।”
এই বলে দ্রুত তার ঘরে চলে গেল। গিয়ে মুখ চেপে ধরল। তার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তুু তা সম্ভব নয়। সোজা বাথরুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে কিছুটা শব্দ করে কেঁদে উঠল। এতোক্ষণের জমানো সব অশ্রু যেন একসাথে ফেটে বেরিয়ে আসছে। হিচকি উঠে গেছে। কী করবে সে! সোহাগ কে সে অবিশ্বাস করে না। কিন্তুু নিজের চোখে যা দেখতে তাও তো অবিশ্বাস করতে পারেনা।
সোহাগ ঘরে এসে মৌ কে না দেখে ভ্রু কোঁচকালো। মৌ যায়নি বলে সে নিজেই তার প্লেটেই মৌ এর জন্য খাবার বেড়ে নওিয়ে এসেছে। হাতরে প্লেট টেবিলের উপর রেখে বেলকনিতে দেখল মৌ আছে কি-না! না পেয়ে বাথরুমের দরজায় নক করল। ভিতর থেকে আটকানো দেখে বুঝল মৌ বাথরুমেই আছে। বেশ কয়েকবার ডাকল।
”মৌ? মৌ?
সাড়া নেই। ভাবল হয়তো একটু আগেই বাথরুমে গেছে। তাই বিছানার উপর গিয়ে বসল। অনেকক্ষণ হওয়ার পরও যখন মৌ এর কোনো সাড়া পেল না। তখন সোহাগ চিন্তিত হলো। দ্রুত উঠে দরজায় বেশ জোরে আঘাত করে ডাকতে লাগলো।
মৌ? দরজা খুলছ না কেন?
মৌ? মৌ বউ? কী করছ?”
ছিটকিনি খোলার শব্দে সোহাগ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মৌ মাথা নিচু করে সোহাগকে পাশ দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল। অতঃপর ওপাশ ফিরে চোখ বুজে শুয়ে পরল। সোহাগ মৌ এর কান্ড দেখতে লাগলো। মনে মনে হাসল। মেয়েটার এতো অভিমান?
অতঃপর বিছানায় উঠে বসল মৌ এর পাশে। মৌ কে ডাকল।
সাড়া নেই। হাত দিয়ে ডাকল। মৌ এর নড়াচড়া নেই।
সোহাগের রাগ হলো। আসার পর থেকে এমন করছে। কথা না বলুক। একবার হলেও সাড়া তো দিবে। না খেয়েই ঘুমিয়ে যাচ্ছে।
অত না ভেবে মৌ এর হাত ধরে টেনে তুলল। মৌ চোখ খুলে বিরক্তি নিয়ে তাকালো সোহাগের দিকে।
সোহাগও মৌ এর চোখের দিকে তাকালো। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে গিয়ে অবাক হয়ে চেয়ে রইল মৌ এর দিকে।
সোহাগ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
“এই তোমার চোখে কী হইছে?”
মৌ উদাসীন চোখে সোহাগের দিকে চেয়ে রইল।
ঘরে আলো জ্বালানো থাকায় মৌ কে স্পষ্টই দেখতে পেল সোহাগ। ভালো করে লক্ষ্য করলে বুঝল মৌ কেঁদেছে। কতক্ষণ কেঁদেছে মেয়েটা। অতঃপর মৌ এর গালে হাত দিলে গেলে মৌ সোহাগকে কে ধাক্কা মারে।
সোহাগ বেখেয়ালে থাকায় বিছানা থেকে পরতে গিয়ে বিছানার বক্স ধরে নিজের পরে যাওয়া আটকায়। হাতের কনুই বক্সের সাথে গিয়ে বারি লাগে। বেশ ব্যাথা পেয়েছে। সেদিকে পাত্তা না দিয়ে মৌ এর দিকে অবাক হয়ে তাকালো। বিয়ের পর আজ প্রথম মৌ এর এমন অদ্ভুত আচরণ দেখল।
মৌ অনেক করে চাইল নিজেকে সামলাতে। কিন্তুু পারল না। শব্দ করে কেঁদে উঠল। সোহাগ বিস্ময়াপন্ন। কী হলো মৌ এর?
মৌ এর কাছে এগোতে গেলে মৌ মৃদু চিৎকার করে বলল,
“খবরদার এগোবেন না আমার দিকে। আপনার নোংরা হাতে আমায় ছোঁবেন না। আমার কাছে কেন এসেছেন?”
সোহাগ বুঝল না সন্ধ্যায় তো এরকম করার মতো কিছুই হয়নি। এর চেয়েও বেশি রাগ দেখিয়েছে সে মৌ কে। কিন্তুু মৌ তো তার সাথে কখনো এমন বিহেভ করেনি।
মৌ আবার বলতে লাগলো,
”আপনাকে আমি ভালো ভেবেছিলাম। কিন্তুু আপনি ঘর ছেড়ে বাইরেও নজর দেন। এটা আমি কী করে মেনে নিব?”
সোহাগ বুঝল না মৌ তার ক্যারেক্টার নিয়ে এসব কেন বলছে? সে কার সাথে কী করেছে?
”এই মর্ডান মেয়েটাকে ছাড়া আপনি থাকতে পারছেন না? তাহলে আমায় কেন বিয়ে করেছেন?”
সোহাগ ভ্রু কোঁচকালো। তার বুঝতে একমিনিট সময় লাগলো। মৌ যে ইশরাতকে বুঝিয়েছে তা বুঝল। তার ক্যারেক্টারের দিকে আঙুল তোলার পরও সে শান্ত ছিল। কিন্তুু মৌ তার বোনকে নিয়ে কীসব বাজে মন্তব্য করছে! বাজে ধারণা পোষন করছে, রেগে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। মাথা কাজ করছেনা তার। তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা এমন একজন মানুষকে নিয়ে বাজে কথা বলছে যাকে সে নিজের আপন বোন ভাবে। মাথার চুল টেনে মৃদু চিৎকার করে উঠল। ভাতের প্লেট ছুঁড়ে মারল। মৌ কে টেনে বিছানা থেকে নামিয়ে বলতে লাগলো,
“এই মেয়ে এই তুই কাকে আমার সাথে জড়াচ্ছিস? জানিস ও কে?
ও আমার নিজের বোনের মতো।”
মৌ বলল,
“বোনের মতে, বোন তো নয়!”
সোহাগকে মৌ কে ছুঁড়ে ফেলার মতো করে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“তোর মন মানসিকতা এতে নোংরা! ছিহ! আমার বোনটাকে নিয়ে বাজে বকা শুরু করেছিস।”
মৌ এর মায়েরা ঘুমিয়ে যাওয়ায় আওয়াজ পায়নি। কিন্তুু ইশরাত জেগে থাকায় দৌড়ে এ ঘরে আসল। মৌ কে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে দৌড়ে গেল মৌ এর কাছে। সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,
”সোহাগ ভাইয়া কী হয়েছে তোমাদের? এতে রেগে আছো কেন?”
সোহাগ রেগে বলতে লাগলো,
“আরে রাগবো না আমি?
তুই জানিস ও কী করেছে? ও আমাকে আর তো... বলতে গিয়ে থেমে গেল। এটা ইশরাত শুনলে যে কতটা কষ্ট পাবে। এমনিতে মা হারা মেয়েটা তার পরিবারকে নিজের পরিবার ভাবে। এসব কানে গেলে হয়তো আর সম্পর্কই রাখবেনা তাদের সাথে।”
ইশরাত সোহাগ কে চুপ থাকতে দেখে বলল,
”কী বলতে গিয়ে থেমে গেলে?”
মৌ এর দিকে তাকিয়ে সোহাগের যেন রাগ টা আরও বেড়ে গেল।
হাতের কাছে ফুলদানি পেয়ে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে আছাড় মারল। অতঃপর হনহন করে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
মৌ নিরবে চোখের পানি ফেলতে লাগলো। আর পারছে না কাঁদতে। মনে হচ্ছে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাবে সে।
মৌ কে এভাবে কাঁদতে দেখে ইশরাতের খুবই খারাপ লাগলো। ভাবি তো তাকে বলেছিল সব মিটিয়ে নিবে। তাহলে কী হলো হঠাৎ? ভাবনা বাদ দিয়ে মৌ কে হাত ধরে উঠিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল।
মেঝেতে ভাত ছড়ানো দেখে ভাবল সোহাগ ভাইয়া তো তার সাথে খেয়ে এলো। ভাবির জন্য এনেছিল হয়তো।
মেঝেতে বসে ছড়ানো ভাত প্লেটে উঠাতে উঠাতে ভাবল আগে এক গ্লাস পানি নিয়েও খেতে হতো না, কিন্তুু এখন সব কাজ করতে হয়। মা না থাকলে জীবনটা এমনই হয়। তার আম্মু বেঁচে থাকতে ইশরাত আর ইমন ঝগড়া মারামারি করে এমন ভাত ছুঁড়লে তার আম্মু এসে এভাবে মেঝে থেকে ভাত তুলতো আর তাদের দু'ভাইবোনকে বকতো।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাত এর প্লেট নিয়ে বাইরে গেল।
মৌ যেহেতু আর বাইরে আসেনি। ভাত-তরকারি সব টেবিলেই ছিল। ইশরাত মৌ এর জন্য আরেকটা প্লেটে কিছুটা ভাত বেড়ে ঘরে গেল। মৌ কে একি ভাবে কেমন জড় পদার্থের মতো বসে থাকতে দেখল। হাতের প্লেট টেবিলের উপর রেখে মৌ এর কাঁধে হাত রেখে বলল,
”ভাবি? সোহাগ ভাইয়ার রাগ বেশি। সোহাগ ভাইয়ার উপর রাগ করে থেকো না”
মৌ মুখ ফিরিয়ে তাকালো। ইশরাত মৌ এর চোখ দেখে ভয় পেল। এতো লাল আর ফুলে আছে। কী বলবে বুঝতে পারল না। অতঃপর বলল,
”ভাবি ভাতটুকু খেয়ে নাও।”
মৌ ভাঙা কণ্ঠে বলল,
”খাবো না।”
ইশরাতকে মৌ এর বিরক্ত লাগছে। তার স্বামীর সাথে থেকে এখন তার কাছে আসছে আলগা দরদ দেখাতে।
ইশরাত কিছু ভেবে হাত ধুয়ে এসে ভাত মাখিয়ে মৌ এর মুখের সামনে ধরে বলল,
”ভাবি আমি তো তোমার ছোট বোনের মতো। আমার হাতে খেয়ে নিবা? ছোট বোনের আবদার!”
এ পর্যায়ে মৌ কিছুটা অবাক হলো। অপরিচিত একটা মেয়ে হুট করে একবার দেখেই এতো মায়া করতে পারে?
মৌ এর অবাক চাহনি দেখে ইশরাত মৃদু হাসল। অতঃপর মৌ এর মুখে ভাত দিয়ে আবার ভাত মাখাতে মাখাতে বলল,
“ছোট বোনরা সবসয়ম বড় বোনের হাতে খায়না বুঝলে? ছোট বোনরা মাঝে মাঝে তার বড় বোনকে খাইয়েও দেয়।।
আবার বলতে লাগলো,
”জানো ভাবি আমি একবছর আগেও ঠিকমতো নিজের হাতে খেতে পারতাম না। কিন্তুু এখন অন্যকেও খাওয়াতে শিখে গেছি। আমার আম্মু যখন বেঁচে ছিল তখন আমি পা এর উপর পা তুলে বসে থাকতাম। কিন্তুু এখন তা হয় না।”
ইশরাতের প্রথম দিকের কথা মৌ পাত্তা না দিলেও শেষের কথাটা শুনে অবাক হলো। মেয়েটার মা বেঁচে নেই! মনিরার থেকে এক-দুই বছরের বড় হবে। অথচ মা নেই। অবাক হয়ে বলল,
”তোমার আম্মু বেঁচে নেই?”
ইশরাত মাথা দুইদিকে নাড়াল। অতঃপর মৌ এর মুখে আরেকবার ভাত দিয়ে বলল,
“প্রায় এক বছর হয়ে এলো আম্মু চলে যাওয়ার।”
”কী হয়েছিল?”
”কার এক্সিডেন্ট।
গত একবছর আগে আমরা, অয়ন ভাইয়ারা আর সোহাগ ভাইয়ারা সবাই মিলে কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার প্লান করেছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক করে রওয়ানা দিয়েছিলাম। সারাদিন ঘুরেছি। অনেক মজাও করেছিলাম। কিন্তুু ফেরার পথে আমাদের আর অয়ন ভাইয়াদের কার এক্সিডেন্ট হয়ে যায়।
এই দুই গাড়ির ড্রাইভার আঙ্কেল ওখানে গিয়ে নেশা করেছিল। ভয়ে আমাদের বলেনি। ওভাবেই গাড়ি চালাচ্ছিল। যার ফল আমাদের আর অয়ন ভাইয়াদের কার এক্সিডেন্ট হয়ে যায়। আমার আম্মু, অয়ন ভাইয়ার আম্মু আর ছোট ভাই অমিত মারা যায়।”
বলতে বলতে ইশরাত এর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরল। মৌ এর খুবই খারাপ লাগলো। আহারে! তার বিয়ে হয়ে দু'দিনের জন্য শ্বশুর বাড়ি গিয়ে তাতেই মা বাবার জন্য মন খারাপ করছিল। আর এই ছোট মেয়েটার মা এই দুনিয়াতেই নেই।
ইশরাত আবার বলতে শুরু করল,
“আম্মু মারা যাওয়ার পর সোহাগ ভাইয়ার মা-ই আমাকে ইমন ভাইয়া কে অয়ন ভাইয়াকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে। আসলে আমরা তিন পরিবার এক পরিবারের মতো। ছোটবেলা থেকে এভাবেই বড় হয়েছি। আমরা যে আপন ভাইবোন নয় এটা আমাদের মনেই থাকে না।”
ইশরাত এর কথা শুনে মৌ মনে মনে অনুতপ্ত হলো। কিছু সময়ের জন্য হলেও সে সোহাগকে সে ভুল বুঝেছে।
আসলে এরা সবাই ছোট থেকে সেই পরিবেশে বড় হয়নি যে পরিবেশ একজন মুসলিম এর প্রাপ্য, তা মৌ বুঝতে পারল। কিন্তুু সে তার জায়গা থেকে ভুল নয়। এতোক্ষণ একজন স্ত্রী হিসেবে স্বামীর ভালোবাসায় নিজে ছাড়া অন্য কাওকে কল্পনা করেছিল। এখন তা পরিষ্কার হয়েছে। এখন আগের মতো খারাপ লাগছে না। অনেকটা হালকা লাগছে।
কারণ সে এটা বুঝতে পেরেছে এদের সবার পরিবার ছোট থেকে তাদের এভাবেই বড় করেছে, তাই তাদের কাছে এই ফ্রি মিক্সিং ব্যাপার টা খুব স্বাভাবিক লাগে। কিন্তুু মৌ তো এমন পরিবেশে বড় হয়নি।
এখন একজন মুসলিম হিসেবে তার স্বামী পরনারীর সঙ্গে মিশছে এটা সে মেনে নিতে পারছে না। আর তার শ্বশুর বাড়ির সবাই গায়রে মাহরাম জিনিসটাই যেন বোঝে না।
মৌ ভাবল সে সোহাগকে অবিশ্বাস করে সে ভুল করেছে, তার জন্য সোহাগের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইবে। সে চোখের সামনে যা দেখেছে, মেয়েটাকেও চিনতো না সবমিলিয়ে হুট করেই মাথায় অন্য কিছু চলে এসেছে। তবে সোহাগ যা করেছে সেটা ঠিক নয়। ইসলামে কোনো পরনারী কখনো কোনো ছেলের বোন হতে পারে না। ইসলাম এটাকে সমর্থন করে না। আর না-তো মৌ এটাকে মানতে পারবে। যতই তারা একে অপরকে ভাই-বোন এর নজরে দেখুক।
অতঃপর মৌ বলল,
“বিয়ের দিন তোমাকে যে দেখলাম না!”
ইশরাত মন খারাপ করে বলল,
“আসলে আম্মু মারা যাওয়ার পর আমি পুরো বাড়িতে একা থাকি। আব্বু তো বেশিরভাগ সময় কাজের জন্য বাইরের দেশে থাকে। ভাইয়া থাকলেও সারাদিন তো থাকেনা আবার মাঝে মাঝেই ফিরতে অনেক রাত হয়। আমার পড়াশুনাও হচ্ছিল না। তাই কলেজ এর কাছাকাছি একটা হোস্টেলে উঠেছি।”
মৌ এর ইশরাত এর জন্য খুবই খারাপ লাগলো। মেয়েটার জীবনটা কত কষ্টের! কম বয়সে মাকে হারিয়েছে, ভাই আর বাবা থাকলেও পরিস্থিতির স্বীকারে একসাথে থাকতে পারেনা। মৌ কে প্রথমবার দেখাতেই নিজের হাতে তুলে খাওয়ালো। খুব সহজ-সরল মেয়ে। কিন্তুু তার চলাফেরা মৌ এর কাছে খুবই বিব্রতকর লাগে।
অতঃপর ইশরাত এর হাত থেকে প্লেট নিয়ে বলল,
“আমি খেয়ে নিচ্ছি। তুমি হাত ধুয়ে নাও।”
ইশরাত মাথা নেড়ে উঠে গেল। মৌ এর মধ্যে খেয়ে নিল। অতঃপর প্লেটটা ধুয়ে সবকিছু গুছিয়ে ইশরাত এর ঘরে গেল। দেখল কারো সাথে কথা বলছে।
ইশরাত ঘরে এসে সোহাগকে কল দেয়ার জন্য ফোন হাতে নিলে সোহাগের কল আসল। অতঃপর রিসিভ করে কানে দিলে ওপাশ থেকে সোহাগ বলল,
“আমি আমাদের বাসায় চলে এসেছি ইশরাত। মৌ কে খাইয়ে দিস। ও খায়নি।”
ইশরাত অবাক হয়ে বলল,
“এতো তাড়াতাড়ি কীভাবে গেলে? আর যার জন্য এতো ভালোবাসা তাকে রেখে গেলেই বা কেন?”
”জোরে বাইক চালিয়েছি। বাদ দে এসব।”
”তুমি একাই গেলে। আমি কীভাবে যাব?”
”কালকে ইমনকে পাঠাবো তোকে আনতে। এখন রাখছি। আর মৌ কে খেয়ে ঘুমিয়ে যেতে বলিস।”
এই বলে কল কেটে দিল।
”আচ্ছা সোহাগ ভাইয়া।”
মৌ ইশরাত এর মুখে সোহাগ এর নাম শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ইশরাত মৌ কে দেখে মন খারাপ করে বলল,
”ভাবি সোহাগ ভাইয়া বাড়ি চলে গেছে। তোমাকে খেয়ে ঘুমিয়ে পরতে বলেছে।”
মৌ এর খারাপ লাগলো। মানুষটা তার সাথে ভালো করে দুইটা কথা না বলেই চলে গেছে। তারও দোষ আছে। ভাবল নামাজ পরে সোহাগ কে কল করবে। অতঃপর ইশরাতকে বলল,
“আপু আজ আমি তুমি একসাথে থাকি। আমার ঘরে এসো।”
ইশরাত খুশি হলো। ফোন হাতে মৌ এর কাছে এসে বলল,
”আচ্ছা ভাবি চল। মন খারাপ কর না ভাবি। আসার পর থেকে তোমাকে একটু হাসতেও দেখলাম না।”
ইশরাতের কথা শুনে মৌ মৃদু হাসল। মৌ এর দুই গাল টেনে বলল,
“ইউ আর সো কিউট ভাবি!”
মৌ মৃদু হাসল ইশরাতের কান্ডে।
★★
মৌ ওজু করে এসে ইশরাতের দিকে তাকিয়ে ভাবল ইশরাত কে নামাজ এর কথা বলে দেখবে। মেয়েটার চলাফেরা অন্যরকম। কী জানি নামাজ পরে কী-না! অতঃপর ইশরাতের উদ্দেশ্যে বলল,
”আপু তুমি কী নামাজ পরেছ?”
ইশরাত ফোন স্ক্রোল করছিল। মৌ এর কথা শুনে ফোন থেকে চোখ সরিয়ে মৌ এর দিকে তাকালো। অতঃপর বলল,
”না ভাবি। আম্মু বেঁচে থাকতে মাঝে মাঝে পড়া হতো। এখন পড়াশুনার চাপ আর সময় হয়না তেমন তাই পড়া হয় না।”
ইশরাতের কথা শুনে মৌ অবাক হয়নি। আগেই ভেবেছিল এমন উত্তরই পাবে ইশরাতের থেকে। মৃদু হেসে বলল,
“জানো আপু মুসলিম হওয়ার জন্য নামাজ পড়া টা খুব জরুরি। তোমাকে কেউ ধর্মের কথা জিজ্ঞেস করলে তুমি কী বলো তাদের?”
ইশরাত বলল,
”কেন ভাবি? মুসলিম বলি।”
“কিন্তুু আল্লাহ বলেছেন মুসলিম হতে হলে ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দেয়া যাবে না। নামাজ না পড়লে তো আমরা মুসলিম হতে পারব না।
রাসুল (স) বলেছেন,
”মুসলিম আর কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ।”
তাহলে তুমিই বলো নামাজ না পরেও যদি আমরা নিজেকে মুসলিম দাবি করি সেটা কী ঠিক?”
ইশরাত এর মাথায় হাজারখানেক চিন্তা এসে ভিড় করল। মৌ ইশরাত কে এভাবে দেখে ইশরাতের পাশে এসে বসল। কাঁধে হাত রেখে বলল,
”তোমার আম্মুর জন্য তুমি দোয়া কর না? তুমি চাওনা তোমার আম্মু জান্নাতে থাকুক?”
ইশরাত এর চোখের কোণে পানি জমেছে। সে তো চায় তার আম্মু জান্নাতে থাকুক। খুব ভালো থাকুক। অতঃপর মৌ এর উদ্দেশ্যে বলল,
“ভাবি আমি চাই আম্মু জান্নাতে থাকুক। আমি তো মাঝে মাঝেই আল্লাহকে বলি আল্লাহ যেন আম্মুকে ভালো রাখে।”
মৌ মৃদু হেসে বলল,
“তুমি জানো মানুষ মারা গেলে তার আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়।”
”হ্যাঁ জানি ভাবি।”
“কিন্তুু এটা জানো কয়েকটা কাজ করলে মৃত মানুষ কবরে শুয়ে থেকেও সাওয়াব পায়।”
ইশরাত অবাক হয়ে বলল,
“তা তো জানিনা ভাবি। আজকে তোমার মুখে প্রথম শুনলাম। কি করলে কবরে শুয়েও সাওয়াব পাওয়া যায় ভাবি?”
”সন্তান দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে সেই সওয়াব বাবা-মায়ের কবরে যায়। আবার গুনাহ করলে সেটাও কবরে যায়। তুমি কোনটা চাও আপু?”
ইশরাত মন খারাপ করে বলল,
“আম্মুর কবরে সাওয়াব পাঠাতে চাই ভাবি। কিন্তুু আমি তো অনেকদিন নামাজ পড়িনি। তাহলে কী আম্মুর কবরে গুনাহ গিয়েছে?”
“তা জানি না। তবে গুনাহ গিয়ে থাকলেও এখন যদি তুমি আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে আর কখনে নামাজ না ছেড়ে দাও তাহলে আল্লাহ তোমার আম্মুকেও ক্ষমা করে দিয়ে তোমার আম্মুর কবরে সাওয়াব পাঠাবে।”
ইশরাত খুশি হয়ে বলল,
“আমি আর কখনো নামাজ মিস দিব না ভাবি।”
“জানো আপু আল্লাহ আমাদের অনেক ভালোবেসে বানিয়েছে। নামাজ না পড়লে আল্লাহর ভালোবাসা থেকে বন্ঞ্চিত হয়ে যাবে। আল্লাহ কত দয়ালু, তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিৎ নয় আপু?”
ইশরাত চোখ ভিজে গেল। ইশ! সে কত অকৃতজ্ঞের মতো কাজ করেছে এতোদিন। তাকে তো এভাবে কেউ কখনো বোঝায়নি।
মৌ আবার বলল,
“তুমি জানো এই যে আমরা খাবার খাই, যা যা পাই সব আল্লাহ দেয়, আর আমরা আল্লাহর ডাকে দিনে পাঁচবার সাড়া দিতে পারিনা। আল্লাহ তবুও আমাদের খাওয়া বন্ধ করে দেন না, আমাদের কতকিছু দেন। তাহলে আমাদের কি করা উচিৎ বলো?”
ইশরাত এর খুব খারাপ লাগলো। আর কখনো সে নামাজ মিস দিবে না। সবাই জিজ্ঞেস করলে বলতো সে মুসলিম। অথচ সে তো নামাজই পড়তো না। আর নামাজ না পরেও মিথ্যে মিথ্যে নিজেকে মুসলিম দাবি করতো!
আর তার আম্মুর কবরেও সাওয়াব যাবে সে ভালো কাজ করলে। আল্লাহ কত উপায় দিয়েছেন, অথচ আমরা কাজে লাগাতে জানিনা।
মৌ ইশরাতকে বলল,
“আপু ওজু করে আসো। একসাথে নামাজ পরি। আজ আমার নামাজ এর দেরি হয়ে গেল।”
ইশরাত উঠে ওজু করে আসলে মৌ ইশরাতকে তার একটা বড় ওড়না দিল। অতঃপর মৌ আর ইশরাত পায়ে পা লাগিয়ে নামাজ পরে নিল। মৌ নামাজ পরিয়েছে, ইশরাত সাথে থেকে পরেছে।
নামাজ পরার পর ইশরাত এর অদ্ভুদ শান্তি লাগলো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল ভাবির অছিলায় তাকে নামাজ পরার তৌফিক দেয়ায়।
★★
ইশরাত ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তুু মৌ এর ঘুম আসছে না। সোহাগকে কয়েকবার কল দিয়েছিল। ধরেনি। ভাবল এখন একবার দিবে। অতঃপর ফোন হাতে নিয়ে কল করল সোহাগের নাম্বারে। এবার সাথে সাথেই রিসিভ হলো। মৌ উঠে বেলকনিতে গেল। অতঃপর মৃদু কণ্ঠে বলল,
”কেমন আছেন?”
সোহাগ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
”যেমন রেখেছ।”
“সরি!”
”সরি দিয়ে আমি কী করি!”
“আমি আপনাকে ভুলে বুঝেছি। সরি!”
“অবিশ্বাস করেছ! বুঝলে মৌ সম্পর্কে বিশ্বাসটা খুব জরুরি!”
চলবে ইনশাআল্লাহ.........…