ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বাদশ বসন্তের নীলচিঠি

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: ইয়াজ ইনসাফ দেওয়ান

#দ্বাদশ_বসন্তের_নীলচিঠি

#কলমে #ইয়াজ_ইনসাফ_দেওয়ান

#পর্বসংখ্যা : ৬

( বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষিদ্ধ)

ইয়াশকে এভাবে বেরিয়ে যেতে দেখে ইউভান আর আদিবা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। তারপর আর দেরি না করে ওর পিছু পিছু বেরিয়ে গেল। আর কেবিনের ভেতরে ম্যাডাম এখনও বিস্ময়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। ইয়াশ, ইউভান আর আদিবা ঢাকার ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত ধরে হাঁটছে। ইউভান ইচ্ছে করেই ইয়াশকে শুনিয়ে আদিবার উদ্দেশ্যে বলল,

" কী দিনকাল এল রে, আদি! শেষমেশ আমাদের ইয়াশ ভাইকে কিনা দুই বাচ্চার মায়ের সঙ্গে ফ্লার্ট করতে হচ্ছে! ছি... ছি... ছি... দেওয়ান পরিবারের মান-ইজ্জত আর কিছুই রইল না! "

কথাটা শুনে ইয়াশ কটমট করে ইউভানের দিকে তাকাল। আর একটুও উসকানি দিলেই রাস্তার মাঝখানেই যুদ্ধ বেঁধে যাবে।

" আর একটা কথা বলবি? বললে কিন্তু তোকে লাথি মেরে সোজা ময়লার ড্রেনে ফেলে দেব, সালা!"

ইয়াশকে আরও রেগে যেতে দেখে ইউভান ঠোঁট বাঁকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, "হায় রে! উচিত কথা বললেই দোষ! এই দুনিয়ায় ভালো কথার কোনো দামই নাই।"

ইয়াশ দাঁত কিড়মিড় করে বলল, "তোর উচিত কথাগুলো তোর পেছনেই ভরে দেব আমি। একদম বেয়াদব!"

ওদের দুজনের সাপে-নেউলে সম্পর্কের মতো ঝগড়া দেখে আদিবা বিরক্ত হয়ে বলল, "এই, তোমরা কি একটু থামবে? একটুও ভালো লাগছে না। আমাকে কোথাও সুন্দর একটা জায়গায় ঘুরতে নিয়ে চলো না!"

আদিবার কথা শুনে দুজনেই মুহূর্তের মধ্যে চুপসে গেল। ইউভান হেসে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে, বল কোথায় যেতে চাস? এখনই নিয়ে যাচ্ছি।"

আদিবা সাথে এ কয়দিনে ওদের সম্পর্ক অনেক ভালো হয়ে উঠেছে। এখন আর নিজেকে গুটিয়ে রাখে না, রাখবে কিভাবে রাখতেই দেয়নি বাড়ির কেউ! আর যে মানুষগুলোর সাথে সারা জীবন কাটাবে এখন তাদের সাথে এত দূরত্ব কেন রাখতে হবে সেই ভেবে আদিবা সবার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা শুরু করেছে।আদিবা চারপাশে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, " আমি তো ঢাকার কিছুই ভালো করে চিনি না। কোথায় যাব, সেটাও জানি না। তোমরাই যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই যাব।"

কথাটা শুনে ইউভান এবার ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বলল, " কিরে ভাই, আমাদের এই পিচ্চিটাকে কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাব?"

ইয়াশ একটু ভেবে বলল, " চল, আগে ওকে টিএসসি ঘুরিয়ে আনি। তারপর শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর রমনা পার্কের দিকটাও দেখিয়ে আনব। ঢাকায় এসে এসব না দেখলে আবার কী দেখল!"

ইয়াশের প্রস্তাবে ইউভানও রাজি হয়ে গেল। এরপর তিনজন মিলে সারাটা দিন ঘুরে বেড়াল। টিএসসির আড্ডা, শাহবাগের ব্যস্ততা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস আর রমনা পার্কের মনোরম পরিবেশ সবকিছুই আদিবার কাছে নতুন আর দারুণ লাগছিল। ছোট্ট বাচ্চার মতো আনন্দে কখনো এদিকে, কখনো ওদিকে ছুটে বেড়াচ্ছিল সে। ঘুরতে ঘুরতে বিকেলের দিকে তারা মেডিকেল কলেজে পৌঁছাল। মেডিকেল কলেজ টা ওদের নিজেদের, আজকে অনুষ্ঠান ছিল বিধায় আরো আদিবাকে ঘুরিয়ে দেখানো ও হবে তাই ওরা ওকে নিয়ে এসেছে। আজ কলেজে বড় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চারপাশের রঙিন সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, ওরা তিনজন নিজেদের মধ্যে গল্প করতে করতে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে হাঁটছিল। ঠিক তখনই ইউভানের চোখ পড়ল একটু দূরে হাঁটতে থাকা ইয়াজের ওপর। মনে হলো, সে যেন কোথাও যাওয়ার তাড়ায় দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউভান আর দেরি না করে জোরে ডাক দিল,

" ইজু ভাই!"

পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে ইয়াজ থেমে গেল। ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেল ইয়াশ, ইউভান আর আদিবা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখে ভুরু কুচকে তাকিয়ে উঠল। এরপর সে তাদের দিকে এগিয়ে এল। কাছে এসেই ইয়াজের চোখ পড়ল আদিবার দিকে। মেডিকেল কলেজের মতো জায়গায় তাকে দেখে সে খানিকটা অবাক হলো। কৌতূহলী দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল!

" এই চুটকে রে এখানে কেন এনেছিস?"

"পিচ্চি ঘুরতে চাচ্ছিল। ওকে সারাদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর রমনা ঘুরাচ্ছি। এখানে আসাতেই হতো আমাদের। আবার বাসায় গিয়ে ওকে রেখে আসব, এত ঝামেলা না করার থেকে তাই এখানে নিয়ে আসলাম। ও দেখে যাবে আমাদের ভার্সিটি, সাথে ঘোরাও হলো।"

" একে তো সারাদিন কোনো খোঁজ ছিল না তোদের। এত এত কাজ সব আমার একা একা করা লাগছে। এখন ওকে দেখে রাখবি নাকি কাজ করবি?" ইয়াজ কিছুটা বিরক্ত মুখে বলল।

" আমার সোনা ভাই, তোর আর কোনো কাজ করা লাগবে না। আমরা চলে এসেছি তো। এখন সব কাজ আমরা ভেস্ত দিবো... থুড়ি, করে দিবো। তুই বসে থাক।" ইয়াশের কথা শেষ হতে না হতেই ইউভান বলে উঠল,

" ভাই, তুই অনেক কাজ করেছিস। এখন রেস্ট নে। বাকি টা আমরা সামলে দিবো। পুরা ঝাকা ঝাক, ফাকা ফক করে দিবো। তুই শুধু আদিকে দেখে রাখ।"

ইয়াজ কিছু বলবে, তার আগেই ইয়াশ আর ইউভান দুইজনে দুইদিকে হাঁটা দিল। ইয়াজ হাবলার মতো তাকিয়ে রইল। ওদের কিছু বলার সুযোগই পেল না। ইয়াজ এবার আদিবার দিকে তাকাল। আদিবা গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে নিষ্পাপ ভাব, এখানে কী হলো কিছুই বুঝল না। কী আর বলবে! ইয়াজ আদিবাকে বলল,

" চুটকে আয়। আমার সাথে সাথে পিছু পিছু আসবি। এদিক-ওদিক তাকানোর দরকার নাই। কার ওপর আবার ক্রাশ খেয়ে পরে যাস! হাত-পা ভেঙে গেলে আবার ঝামেলা। এখন পোলাপান তো অল্প বয়সেই এসব নিয়ে পেকে যায়।"

আদিবা বেবদের মতো তাকিয়ে আছে। ওর রাগ লাগছে। এই লোক যখন তখন, যেখানে সেখানে, সবার সামনে খালি চুটকে বলে। এই পর্যন্ত ইয়াজের মুখের উপর কথা না বলা আদিবা আজকে মুখ ফুসকে রাগে বলে উঠলো।

" এই, একদম আমাকে চুটকে বলবেন। আমি পিচ্চি না। আমার বয়স ১২। আর আমার নাক দিয়ে দুধও বের হয় না।"

ইয়াজ টাশ করে পেছনে ঘুরল। মনে হলো, পিছে থেকে কেউ বাঁশ মেরে দিয়েছে। মুখের রিঅ্যাকশন এমনই হলো ইয়াজের। আদিবা এমন ওর সামনে কথা বলতে দেখে আরও বেশি অবাক হল। কাল অব্দি মুখ তুলে তাকাচ্ছিল না।কি নিষ্পাপ লাগছিল সে এখন তার সামনে এমন টসটসে কথা বলছে।

" এরে চুটকে মুখে কি এতোদিন তালা দিছিলি। আজ এমন টসটসে কথা বলছিস আমার সামনে। আবার আবালের তো বলছিস এই চুটকে তোরে কে বলেছে নাক দিয়ে দুধ বের হয় কবে থেকে? বাপের জন্মে শুনিনি তো।"

ইয়াজের কথা শুনে আদিবা বুঝতে পারল ও মুখ ফসকে ভুল কথা বলে ফেলেছে কিছুটা লজ্জা পেলো। তবু ইয়াজের কথার উত্তর দিল নিজেকে দাবিয়ে রাখলো না।

" দেখন দেখন আপনি এটাই জানেন না। গ্রামের দাদিরা বলতো তো, ছোট বাচ্চাদের নাক দিয়ে দুধ বের হয়। আমার তো নাক দিয়ে দুধ বের হয় না। আমি তো তাহলে বাচ্চা না।

ইয়াজ হতাশ, হতবাক, হতভম্ব হয়ে তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ও কী বলবে, কিছুই বুঝতে পারছে না। ইয়াজ মনে মনে বলল,

" এই নাকি আমার বউ! কিসে টিপ দিলে কী বের হয়, সেটাই জানে না। আমার তো ফাটা কপাল। আল্লাহ, তুমি একটা বাড়ি মেরে আমার কপাল আরও ফাটিয়ে দাও। দিয়ে আসলাম এতিমখানায় তবু সুখ সইলো না। আবার আমার বাড়িতে এসে হাজির হইলো। "

-----------

অন্যদিকে......

" আসসালামু আলাইকুম, বিবিজান। কেমন আছেন? সারাদিন শুধু এত এত কাজ করলে কী হবে? একটু আপনার জুনিয়র জামাইয়ের দিকেও নজর দিতে পারেন।"

জারা অফিসে বসে কিছু ফাইলের কাজ করছিল। হঠাৎ ইউভানের কণ্ঠ শুনে মাথাটা উঁচু করে সামনের দিকে তাকাল। তাকাতেই দেখতে পেল, ইউভান দরজার সঙ্গে হালকা হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ইউভানকে দেখে জারার চোখে হালকা একটা হাসির ঝলক দেখা গেল। তবে মুখে বিরক্ত ভাব এনে বলল, " এই বেয়াদব, আমি তোর কোন কালের বিবিজান রে?"

" ওমা! জানো না বুঝি? তুমি তো আমার এ কালের বিবিজান। এই জন্মের, আর যদি মৃত্যুর পর কোনো জন্ম থাকে, তাহলেও সেটার জন্য তোমাকে আমি বুকিং দিয়ে রাখব।"

কথাগুলো বলতে বলতে ইউভান জারার দিকে এগিয়ে এলো। জারার টেবিলের কাছে এসে ওর হাতের ফাইলটা নিয়ে টেবিলের এক পাশে রেখে দিল। তারপর জারার চেয়ারটা ঘুরিয়ে উঠতেই জারার কোমর ধরে তাকে টেবিলের ওপর বসিয়ে দিল। কাজটা এত দ্রুত করল যে, জারা কিছু বুঝে ওঠারই সুযোগ পেল না।

" এই বেয়াদব, কী করলি এটা তুই?"

" কী করলাম, দেখতেই তো পেলে নিজে।"

" দেখেছি, দেখেই তো জিজ্ঞেস করেছি। তুই আমার কোমরে হাত দিলি কেন অনুমতি না নিয়ে?"

জারার কথা শুনে ইউভান হঠাৎ আরও কাছে এগিয়ে গেল। জারার কোমরের দু'পাশে হাত রেখে ওর আরও কাছে চলে এলো। জারা যেন পাথর হয়ে গেছে। কিছু বলতে পারছে না, নড়তেও পারছে না।

ইউভান দু'হাত দিয়ে জারার মেদ মুক্ত কোমরে হালকা চাপ প্রয়োগ করে ধরে আছে। ও একদৃষ্টিতে জারার চোখের দিকে তাকিয়ে রাইল, জারার চোখের দিকে তাকিযে বললো।

" তোমার শরীরের প্রতিটা অঙ্গে, প্রতিটা ভাঁজে, প্রতিটা জায়গায় শুধু আমার রাজত্ব চলবে। আমার ভালোবাসায় তুমি নিজেকেই শেষ করে দিবে, জান।"

জারা একদৃষ্টিতে ইউভানের চোখের দিকে তাকিয়ে ওর কথাগুলো শুনছিল। কোনো ঘোরের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে সে। কথাগুলো বলেই ইউভান ধীরে ধীরে জারার পাতলা, চিকন ঠোঁটের দিকে নিজের মুখটা এগিয়ে নিতে লাগল। কী হলো বুঝে ওঠার আগেই জারা নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। হঠাৎই ইউভান জারাকে ছেড়ে সরে এলো। জারা যে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটার অপেক্ষা করছিল, সেটা না পেয়ে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল। তাকাতেই দেখল, ইউভান ওর চেয়ারে পা তুলে আরাম করে বসে আছে। একদৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। মুখে সেই চিরচেনা শয়তানি হাসি।

জারা কিছুটা রেগে বলে উঠল।

" বেয়াদব ছেলে একটা!"

" তোমার জন্য সব কিছু করতে পারি, হতেও পারি, বিবিজান।"

" বাচ্চা পোলাপান, এত যে পকর পকর করস, শুনি আমার ভালোবাসার জন্য কী কী করতে পারিস?"

" তুমি চাইলে এখনই আমার ইজ্জত লুটে নিতে পারো। যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে লুটে নিতে পারো। তাও আমি তোমাকে কিছু বলব না। নিজ ইচ্ছায় আমার ইজ্জত হরণ করতে দেব তোমাকে। তো, প্রসেসিং শুরু করবা নাকি?

ইউভানের কথা শুনে জারা লজ্জা আর রাগে টেবিলের ওপর থাকা ফাইলটা ইউভানের দিকে ছুড়ে মারল। রেগে গিয়ে বলে উঠল,

" বেয়াদব! নির্লজ্জ! বেহায়া ছেলে কোথাকার! বের হ, বলছি আমার কেবিন থেকে। তুই না হলে আজ তোকে মেরে ভর্তা বানিয়ে দিব!"

কথাটা বলেই জারা টেবিল থেকে নেমে ইউভানের দিকে তেড়ে এলো। ইউভান গতিক সুবিধার না দেখে উঠে দরজার দিকে দৌড় দিল। দরজার কাছে গিয়ে একটু থেমে আবার বলল,

" চাইলে কিন্তু সুযোগটা এখনো নিতে পারো, জান ! "

" দাঁড়া তুই! তোকে আমি উল্টা করে...!"

জারার শেষ কথাটা আর শোনার অপেক্ষা করল না ইউভান। ওকে আর কে ধরে! বুলেটের গতিতে কেবিন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

-------

ইয়াশ ফোনে মুখ গুঁজে করিডোর দিয়ে হেলে দুলে হাঁটছিল। চারপাশের দিকে তার কোনো খেয়ালই নেই । হঠাৎ সামনে থাকা কারো সঙ্গে ধাক্কা খেলো সে। ধাক্কার খেয়ে ইয়াশ দ্রুত মাথা তুলে তাকালো। সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা গুলুমুলু সুন্দরী মেয়ে। মেয়েটার দিকে তাকাতেই যেন ইয়াশের মনে লাড্ডু ফুটতে শুরু করলো। মেয়েটার মুখে ছিলো মিষ্টি একটা হাসি। ইয়াশও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মুচকি হেসে বললো, " হেই প্রিটি গার্ল, I am really sorry. আমি খেয়াল করিনি।"

মেয়েটা মুচকি হেসে বললো, "It's okay. কোনো সমস্যা নেই। রাস্তায় চলাফেরা করতে গেলে এমন একটু হতেই পারে।"

ইয়াশ অবাক হওয়ার ভান করে বললো, "ওহ, থ্যাংক ইউ। তুমি তো বেশ সুইট একটা মেয়ে। অন্য কেউ হলে এতক্ষণে আমাকে ঝাড়ি দিয়ে দিতো। By the way, what's your name?"

মেয়েটা হালকা হাসি দিয়ে বললো, " My name is Tara Sikandar."

ইয়াশ নামটা শুনে মুগ্ধ হওয়ার ভান করে বললো, "তোমার নামটাও তোমার মতোই কিউট।"

তারার মুখে লাজুক হাসি ফুটে উঠলো।

" Thank you."

তারার লাজুক মুখ দেখে ইয়াশ মনে মনে একটা দুষ্টু হাসি দিলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো, " কোন ইয়ারে পড়ো তুমি?"

তারা : থার্ড ইয়ারে।

" এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিলে? বয়ফ্রেন্ডের কাছে নাকি?"

তারা অবাক হয়ে বললো, " ওমা! না না। আমি কোনো রিলেশন করি না।"

তারার কথা শুনে ইয়াশের মুখের হাসি আরও বেড়ে গেলো।

" এত সুন্দর একটা মেয়ে রিলেশন করে না, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।"

" সত্যি বলছি, আমি কারো সাথে রিলেশনে নেই। "

" কেন?"

তারা একটু ভেবে বললো, " পছন্দ করে এমন কেউ নেই। আর আমারও কাউকে পছন্দ হয় না।"

ইয়াশ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বললো "আমি জানি কেন আপনার বয়ফ্রেন্ড নেই।"

তারা অবাক হয়ে তাকালো।

"কেন?"

ইয়াশ মুচকি হেসে বললো, "কারণ এর আগে তো আপনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।"

ইয়াশের কথা শুনে তারা হেসে ফেললো। তারপর ইয়াশ নিজের হাতে থাকা সূর্যমুখী ফুলটা তারার দিকে এগিয়ে দিলো।

" সূর্যমুখী ফুল?"

তারা অবাক হওয়ায় ইয়াশ বললো, " জানো, এই ফুলের সঙ্গে তোমার একটা মিল আছে।"

" কী মিল?"

ইয়াশ মুচকি হেসে বললো, "সূর্যমুখী ফুল যেমন সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে থাকে, আর দেখতে সুন্দর হয়... তুমিও ঠিক তেমনই।"

ইয়াশের কথা শুনে তারা লজ্জায় মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো।

" কে কে ফুলের মতো সুন্দর, আমিও একটু দেখি তো।"

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিত মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো। ইয়াশ সেই কণ্ঠ শুনে পেছনে তাকালো। তাকাতেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। এটা তো তার ৯ নম্বর গার্লফ্রেন্ড রিয়া !

ইয়াশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বললো, " কেউ না তো... কে হবে?"

রিয়া তারার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "এই মেয়েটা কে?"

ইয়াশ তাড়াতাড়ি বললো, " আরে ও তো আমাদের কলেজের স্টুডেন্ট। একটু কথা বলছিলাম।"

তারপর প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললো, " তুমি এখানে কী করছো?"

রিয়া সন্দেহের চোখে তাকালো।

" সত্যি বলছো তো?"

ইয়াশ একটু অভিমানী হওয়ার অভিনয় করে বললো, " তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না? এটাই তোমার ভালোবাসা?"

কথাটা বলেই ইয়াশ আর দাঁড়ালো না। দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলো। কিছুটা দূরে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে বললো, "যাক বাবা, এবারের মতো বেঁচে গেলাম।" কিন্তু তার ভাগ্যে যে আরও বিপদ অপেক্ষা করছে, সেটা সে জানতো না। সামনে তাকিয়ে দেখে, আরেকজন মেয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে।

মেয়েটা কাছে এসেই ইয়াশকে জড়িয়ে ধরলো। ইয়াশও হালকা করে জড়িয়ে ধরে বললো, "I miss you baby."

এটা ইয়াশের ৩ নাম্বার গার্লফ্রেন্ড সাদিয়া! সাদিয়া অভিমানী গলায় বললো, " তুমি আমাকে একদম ভালোবাসো না। সারাদিন কতবার কল দিলাম, একবারও ধরলে না।"

ইয়াশ নরম গলায় বললো, " বেবি, আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। কী করবো বলো, কাজ ছিলো।"

ঠিক তখনই আগের গার্লফ্রেন্ড রিয়া আবার সেখানে এসে হাজির হলো। ইয়াশ আর সাদিয়াকে দেখে সে রেগে আগুন হয়ে গেলো।

"এটা কে ইয়াশ? তুমি ওকে জড়িয়ে ধরে আছো কেন?"

তারপর সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো, "তোর এত বড় সাহস! তুই আমার বয়ফ্রেন্ডকে জড়িয়ে ধরেছিস?"

সাদিয়াও ছাড়ার পাত্রী নয়। ও ফুসে উঠলো রিয়ার উপরে " তোর বয়ফ্রেন্ড? ইয়াশ তো আমার বয়ফ্রেন্ড!"

মুহূর্তের মধ্যে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়ে গেলো। তর্ক থেকে একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলো। আর ইয়াশ?

সে এক পাশে দাঁড়িয়ে শুধু অবাক হয়ে তাদের কাণ্ড দেখছে। কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। অবশেষে মনে মনে বললো,"এখান থেকে কেটে পড়াই ভালো।" এই কথা ভেবেই সুযোগ বুঝে ইয়াশ দৌড় দিলো।

-------------

আদিবাকে নিয়ে ইয়াজ দাড়িয়ে ছিলো মঞ্চের এক সাইডে শিক্ষকদের বসতে দেওয়া হয়েছে যেখানে সেখানে। আদিবাসী দাঁড়িয়ে ছিলো বেশ বোরিং ফিল করছে। ইয়াশ আর ইউভানের কোন খোঁজ নেই। ইয়াশ ফোনে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে ছিলো।প্রফেসর ড: আরহাম বেশিদিন হয়নি চাকরিতে যোগদান করেছেন। ইয়াজের সাথে বেশ ভালোই কথা হয়। অনেকক্ষণ ধরে দুজনকে লক্ষ্য করছিল এগিয়ে এসে ইয়াজকে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করে হঠাৎ!

" আপনার বোনটা তো অনেক কিউট, মাশাআল্লাহ! একদম কিউটের ডিব্বা।" কথাটা বলেই প্রফেসর আরহাম আদিবার গাল ধরে হালকা করে টেনে দিলো। ঘটনাটা ইয়াজের চোখে পড়তেই তার ভেতরে কেমন যেনো রাগ লাগতে রাগলো ওর একদম পছন্দ হলো না বিষয় টা । আদিবার গাল টেনে দেই। সেটা দেখে ইয়াজের প্রচন্ড রাগ হলো " চুটকিকে এভাবে টাচ্ করার সাহস কীভাবে পেলো উনি?" ভাবতেই রাগে সব ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

প্রফেসর রফিক সাহেব ও এগিয়ে এসে মুচকি হেসে বললো, "হ্যাঁ , আসলেই মেয়েটা অনেক কিউট।"

তাদের কথাগুলো শুনে ইয়াজের রাগ যেন তরতর করে বেড়ে গেলো। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে হুট করে সরেও যেতে পারছিলো না। ইয়াজ কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই তার চোখে পড়লো দূর...

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন