ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বাদশ বসন্তের নীলচিঠি

১০ম পর্ব

লেখক: ইয়াজ ইনসাফ দেওয়ান

#দ্বাদশ_বসন্তের_নীলচিঠি

#কলমে #ইয়াজ_ইনসাফ_দেওয়ান

#পর্বসংখ্যা ১০ #প্রথম_খন্ড

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ)

আনায়ার হাত ধরে স্কুল ভবনের ভেতরে ঢুকল আদিবা। যেতে যেতে আদিবা আনায়ার হাতটা অজান্তেই একটু শক্ত করে ধরলো ।আনায়া সেটা বুঝতে পেরে মিষ্টি হেসে বলল, "ভয় পাচ্ছ?"

আদিবা ছোট্ট করে মাথা নাড়ল।

"একটু..."

"আরে ধুর! আমি তো আছিই। আজ থেকেই আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড। কেউ কিছু বললে আগে আমাকে বলবে।"

আদিবার মুখেও ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল।

"আচ্ছা।"

করিডোর পেরিয়ে দু'জনে ক্লাস সেভেনের রুমে ঢুকল। ক্লাসরুমে তখনও পুরোপুরি ক্লাস শুরু হয়নি। সবাই নিজেদের মতো গল্পে ব্যস্ত। আনায়া আদিবাকে নিয়ে শেষের দিকের জানালার পাশের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসল। ঠিক তখনই আরেকটা মেয়ে দৌড়ে এসে বলল, "আনায়া! আজ এত লেট হলো কেন আর এটা কে ?"

আনায়া হেসে বলল, "আয় রিমি, পরিচয় করিয়ে দিই। এ হলো আদিবা দেওয়ান। আজ আমাদের ক্লাসে নতুন এসেছে। আর আমার বেয়ান হয়। নিলা আপুর বয়ফেন্ড এর বোন মানে আমার দুলাভাই এর বোন। "

রিমি হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিল।

" হাই... মানে, আসসালামু আলাইকুম।"

"ওয়ালাইকুমুস সালাম।" সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে আদিবাও উত্তর দিলো। আজ থেকে আমরা তিন জন জানুর বন্ধবি ওকে

আনায়া হেসে উঠল।

"হ্যাঁ, আজ থেকে আমরা তিনজন একসাথেই সব কিছু করবো।

আদিবা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। এরই মধ্যে ক্লাস টিচার রুমে ঢুকতেই সবাই নিজেদের জায়গায় বসে পড়ল।প্রথম ক্লাস শুরু হলো। আদিবা মনোযোগ দিয়ে পুরো ক্লাস করল। দুইটা ক্লাস শেষ হতেই ঘণ্টা বেজে উঠল। টিফিন টাইম। ক্লাসের প্রায় সবাই হইহই করতে করতে বাইরে বেরিয়ে গেল। আনায়া উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

"চল, ক্যান্টিনে যাই। আজ তোকে আমাদের স্কুলের সিঙ্গারা সমচা খাওয়াব।"

রিমি খালি ওকে খাওয়াবি বাহ ভালো তো নতুন পেয়ে পুরাতন ভুলে গেছিস। আপনাকেও খাওয়াবো চলেন বেশি ঢং করা লাগবেনা আপনার আর।

ওরা তিনজন গল্প করতে করতে মাঠের পাশের রাস্তা ধরে ক্যান্টিনের দিকে হাঁটতে লাগল। হঠাৎ সামনের দিক থেকে দ্রুত হেঁটে আসা একটা ছেলের সঙ্গে আবিবার ধাক্কা লেগে গেল। আদিবা সামলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলল, "সরি! আমি খেয়াল করিনি।"

কিন্তু ছেলেটা কোনো উত্তর না দিয়ে কাঁধ দিয়ে এমনভাবে ধাক্কা দিল যে আদিবা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে বসে পড়ল। চারপাশের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী থেমে তাকাল। ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুরা খিকখিক করে হেসে উঠল। ছেলেটা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

"চোখে দেখে হাঁটতে শেখো।"

আদিবা কিছু বুঝতে পারছেনা এমন কেনো করছে কেনো এই ছেলে গুলা। আদিবা কান্না পাচ্ছে ভয়ও করছে এমন কেনো করছে বুঝতে পারছে না। আদিবা কাপাকাপ পায়ে উঠে দ্বারিয়ে দ জামার ধুলো ঝাড়তে লাগল। কিছু বলতে গিয়েও চুপ করে গেল। কিন্তু আয়ানার রাগ মুহূর্তেই মাথায় উঠে গেল। সে এক পা এগিয়ে গিয়ে রাগি গলায় বলল,

" ওতো তো আগে থেকেই সরি বলেছে । তারপরও ইচ্ছে করে ধাক্কা দিলেন কেন?"

ছেলেটা এবার ধীরে ধীরে আয়ানার দিকে ফিরল। মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার ভালো করে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল, "ওহ... কেশবতী কন্যা আবার কোথথেকে এলো?"

একটু থেমে আবার বলল, "দেখতেও তো... সেই লাগছে!"

কথাটা বলে সে সয়তানি হাসি দিয়ে আয়নার হাতটা ধরে ফেলল।

আয়ানা ওর হাতটা টেনে৷ ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু ছেলেটা আরো জোরে শক্ত করে চেপে ধোরলো।

তোর সাহস তো কম না! হাত ছাড় বলছি নাহলে খবর আছে।

ছেলেটা ভ্রু তুলে মুচকি হেসে বলল, আহা সুন্দররি এতো হট নেস শরিরের জন্য ক্ষতি কর একটু কম হট হলেও তো পারো নাকি।

আয়ানার চোখে তখন স্পষ্ট রাগ বিরক্তি। আয়না রাগি গলায় বলল, " প্রথম তো তুই নিজ ইচ্ছাই আদিবা কে ধাক্কা দিয়েছিস আবার আমাদরে সাথে অম্ভর মতো ব্যবহার করেছিস। এটা দেখে বোঝা যাই তুই অতন্ত অসভ্য পরিবাবের। অসভ্য বাবা মার একটা অতি বো বিয়াদপ ছেলে। আর তুই যদি এখন আমার হাত না ছারিস তাহলে তোকে তোর মায়ের নাম স্বর করিয়ে দিবো।

আয়ানার কথা শুনে ছেলেটা আরো বেশি রেগে গেলো রাগি তেজি গলাই বললো। ছারবো না তুই কি করবি কর দেখি তোর কতো সাহস। কথাটা বলার সাথে সাথে ছেলেটা কিছু বুঝে উঠার আগেই আয়ানা হঠাত ওর ডান পা দিয়ে ছেরেটার দু পায়ের মাঝ খানে জোরে লাথি বসিয়ে দিলো। ছেলেটা ওমা গো বলে আয়নার হাত ছেরে ফ্লোরে শুয়ে পরলো। আদিবা রিমি দুজনেই হা করে তাকিয়ে আছে সাথে কেন্টিনের সকলে দেখে ছে ওদের কাহিনি।

ছেলেটা মাটিতে পরে দুপায়ের মাঝ খানে হাত রেখে গড়া গড়ি করছে। আয়না একটু নিচু হয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললো

যদি মনে থাকে এর পর থেকে মেয়েদের দেখে আর কুরকুরি উঠবে না। এই চল তোরা সালা খাওয়ার মুড টাই নষ্ট করে দিলো।

কথা গুলা বলেই আনায়া হাটা দিলো ওর পিছু পিছু আবিদা আর রিমিও হাটা দিলো।

ক্যাটারে সকলে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল এদের কাণ্ডকারখানা।কে কি বলতে বা কি করবে বুঝতে পারছেনা।

কিরে আয়ানা তুই যে ছেলেটা কি এভাবে মারবি আমি ভাবতেও পারি নাই। ছেলেটার ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিলি তো তুই এখন কি হবে ওর কি বিয়ে হবে আর।

কথাটা বলেই রিমি উচ্চ সরে হেসে উঠলো আদিবাও মুচকি আসলো। ওর যে জায়গামতো আর দুইটা দেই নাই এটাই তো ওর সৌভাগ্য। ওর কত বড় সাহস আমাকে আমার অনুমতি ব্যতীত টাচ করে। আনায়া রাগি কন্ঠে বললো কথা গুলা বললো ওরা ক্লাসে চলে গেলো।

আজ এই বেস্তময় ঢাকা শহর টাই যেন আজ একটু বেশি গরম পড়েছে। স্কুল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আদিবা তবে সাথে আয়না রিমি দুজনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিন জনে ঘেমে গেছে প্রচন্ড রোদের তেজ। সূর্যমামা আজ একটু বেশিতে তেজ দেখাচ্ছে।পৃথিবীর মানুষকে কাঠফাটা গরম দিয়ে। মুরগির চিকেন রোস্ট করে দেওয়া চিন্তা ভাবনা করে রেখেছে মনে হয়।সূর্য মামার সাথে মনে মামি রাত্রে ঝগড়া লাগছে।তাইতো আমগো উপরে প্রতিশোধ নিতেছে মামা।

আনায়া রেগে কথাগুলো বলল ওর রাহে ফুসফুস করছে গরমের কারণে গাল দুটো লাল হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল। ওর নাক টুকটুকে লাল হয়ে গেছে। দেখতে পুরো টমেটোর মত লাগছে হঠাৎ একটা বাইক গেটের সামনে এসে থামল।ওরা তিনজন বাইকের দিকে তাকালো। ইউভান এসেছে তুমি বাইকটা থামিয়ে ওর হেলমেট খুলে ওদেকে দেখতে পেলো তাই হাতে ইশারা দিয়ে কাছে আসতে বলল।ওরা ৩ জন ইউভানের দিকে এগিয়ে গেলো।

" আদি স্কুলের প্রথম দিন কেমন কাটলো?? কোন সমস্যা হয়নি তো।"

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন