ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বাদশ বসন্তের নীলচিঠি

১১তম পর্ব

লেখক: ইয়াজ ইনসাফ দেওয়ান

#দ্বাদশ_বসন্তের_নীলচিঠি

#কলমে #ইয়াজ_ইনসাফ_দেওয়ান

#পর্বসংখ্যা ১০ #দ্বিতীয়_খন্ড

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ)

আনায়া রেগে কথাগুলো বলল, রাগে ফুসফুস করছে গরমের কারণে গাল দুটো লাল হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল। ওর নাক টুকটুকে লাল হয়ে গেছে। দেখতে পুরো টমেটোর মত লাগছে হঠাৎ একটা বাইক গেটের সামনে এসে থামল।ওরা তিনজন বাইকের দিকে তাকালো। ইয়াশ আর ইউভান এসেছে, বাইকটা থামিয়ে হেলমেট খুলেই ওদেরকে দেখতে পেলো। তাই হাতে ইশারা দিয়ে কাছে আসতে বলল। ওরা ৩ জন ইয়াশ আর ইউভানের দিকে এগিয়ে গেলো।

" আদি স্কুলের প্রথম দিন কেমন কাটলো?? কোন সমস্যা হয়নি তো।"

ইউভানের কথাটা জেনো আনায়ার রাগ তরতর করে বাড়িয়ে দিলো। আনায়া এবার উত্তপ্ত লাভার মতো ফেটে উঠলো। হঠাত করে দ্রুত পায়ে ইউভানের বাইকের কাছে চলে আসলো। একদম ইউভানের মুখের কাছে এসে কটমট করে বললো।

" এই তপ্ত রৌদে এতক্ষন ধরে দাড় করিয়ে রেখেছেন। তার পর এই এই প্রশ্ন করছেন। একা ওই বজ্জাত ছেলেদের জন্য দুপুরে খেতে পারি নাই । আবার আপনি ১ ঘন্টা পরে এসে বলছেন দিন কেমন কাটলো। "

ইউভান একটু অবাক হয়ে জিঙ্গেস করলো।

" বজ্জাত ছেলেদের জন্য কিছু খেতে পারো নাই। মানে কি? কে কি বলেছে তোমাদের?? "

হঠাত করেই ইউভানের আর ইয়াশ দুজনেরই মুখের ভঙ্গি গম্ভির হয়ে গেলো। আদিবা পরিস্থি খারাপ হতে দেখে। দ্রুত ইউভানের দিকে এগিয়ে বললো,,

" আরে একে তো তুমি দেরি করে এসেছো। তাই এর মাথা রোদে গরম হয়ে গেছে। তাই আজে বাজে বলছে। এই আনায়া আজ চলি আমি কাল দেখা হবে আল্লাহ হাফেজ।" বলেই আদিবা ইউভানের বাইকে উঠে বসলো। ইউভান তেমন গুরুত্ব দিলো না। আদিবাকে সুন্দর করে হেলেমট পড়িয়ে দিলো।

" বনু ধরে বস ভাইয়াকে শক্ত করে। "

কিন্তু ইয়াশ আয়ানার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে গুরুজোরা কুঁচকে তারপর বললো, " আর তোমরা থাকো! আর এই ধানি লঙ্কা তোমার তেজ একটু কমাও এতোটুকু একটা বাচ্চা মেয়ে ঝাঝ

কতো "

কথা গুলা বলেই ইয়াশ আর ইউভান আর এক মুহূর্ত দাড়ালো না সেখানে বাইক টান দিয়ে বেরিয়ে গেলো। আর এদিকে আনায়া রাগে ফুসছে। আর ইয়াশকে পিছন থেকে গালি দিচ্ছে। তার বোন তার থেকে বয়সে এত বড় হয়েও এমন একটা বজ্জাত বয়ফ্রেন্ড কই থেকে জোটালো। কেয়ারলেস দুলাভাই একটা জুটেছে।

-------

আদিবা ইয়াশ আর ইউভানের সঙ্গে বাড়ি ফিরে প্রথমেই চারপাশে চোখ বুলিয়ে আরিবা দেওয়ানকে খুঁজল। কিন্তু কোথাও তাঁর দেখা মিলল না। পরে জানতে পারল, জরুরি কোনো কাজে তিনি বাড়ির বাইরে গেছেন। বাড়ির অন্য সদস্যরাও যে যার কাজে ব্যস্ত। আদিবা নিজের ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর নিচে নেমে তিন ভাইবোন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেল। অনেকক্ষণ গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ হতেই ইয়াশ আর ইউভান বাইক নিয়ে কোথাও বেরিয়ে গেল। ওদের চলে যাওয়ার পর পুরো বাড়িটাই যেন আরও নির্জন হয়ে উঠল। আদিবা নিজের রুমে ফিরে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। ভেবেছিল একটু শুয়ে থেকে আবার উঠে পড়বে। কিন্তু কখন যে চোখে ঘুম নেমে এসেছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি।

হঠাৎ মসজিদ থেকে ভেসে আসা আসরের আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙল তার। ঘুম জড়ানো চোখে উঠে প্রথমে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর অজু করে মনোযোগ দিয়ে আসরের নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষে আলমারি খুলে একটি সাদা গোল কুর্তি বের করল।কারণ ওযু করার সময় জামাটা ভিজে গেছিল একবারে নামাজ আদায় করে চেঞ্জ করবো। আদিবা গলায় জড়িয়ে নিল লাল রঙের একটি ওড়না। ওড়নার দুই প্রান্ত সামনের দিকে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রেখে আয়নায় একবার নিজেকে দেখে মৃদু হাসল। নিচে নেমে চারদিকে তাকিয়ে দেখল, এখনও বাড়িতে তেমন কেউ ফেরেনি।

ঠিক তখনই পচা মিয়া এগিয়ে এল।

" আম্মাজান, আপনের কি কিছু লাগবে? সবাই ফিরতে আজ রাত হয়ে যাবে। ছোট ম্যাডাম যাওয়ার আগে কইয়া গেছেন, আপনের খেয়াল রাখতে। আর রহিমা আছে, কিছু লাগলে ওরে খালি ডাক দিয়েন।"

আদিবা হালকা হেসে মাথা নাড়ল।

" আচ্ছা, পচা মিয়া। দরকার হলে অবশ্যই বলব। "

পচা মিয়া চলে যেতেই আদিবা ড্রয়িংরুমের নরম সোফায় গিয়ে বসল। কিছুক্ষণ মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থেকেও মন বসল না। চারপাশের নীরবতা তাকে আরও বেশি বিরক্ত করতে লাগল।

হঠাৎ তার মনে পড়ল, এই বাড়ির উপরের তলায় বিশাল একটা লাইব্রেরি আছে। এখানে আসার পর থেকেই খেয়াল করেছে, বাড়ির সবাই অবসর পেলেই সেখানে গিয়ে বই পড়ে। ভাবতেই তারও ইচ্ছে হলো একটা উপন্যাস নিয়ে বসার।হঠাৎ আদিবার মনে হলো এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা ছাড়া বই পড়ার আসল মজাই যেন আসে না। ভাবনাটা মাথায় আসতেই আর দেরি করল না। রান্নাঘরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে একবার রহিমাকে ডাকবে কি না ভাবল। কিন্তু পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলল। "থাক, মানুষটাকে আর বিরক্ত করে কী হবে!"

ছোটবেলা থেকেই সংসারের প্রায় সব কাজই সে করেছে। পরিস্থিতি তাকে বয়সের আগেই অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। রান্না করা, চা বানানো এসব তার কাছে নতুন কিছু নয়। রান্নাঘরে ঢুকে ফ্রিজ থেকে এক প্যাকেট দুধ বের করল। ছোট একটা পাতিলে দুধ ঢেলে চুলায় বসিয়ে দিল। অল্প সময়ের মধ্যেই দুধ গরম হয়ে উঠল।

আদিবা নিজের পছন্দের একটি কাপ বের করে রাখল। এরপর সাবধানে চুলা বন্ধ করে গরম পাতিলটা নামাতে যাবে...

ঠিক সেই মুহূর্তেই কোথা থেকে যেন একটা মোটা তেলাপোকা উড়ে এসে সোজা তার হাতে বসে পড়ল। " আআআ!" চমকে উঠে আদিবার হাত কেঁপে গেল। মুহূর্তের মধ্যে গরম পাতিলটা হাত থেকে ছিটকে পড়ল। ফুটন্ত দুধের গরম অংশ তার এক হাতের ওপর ছলকে পড়তেই তীব্র জ্বালায় শরীর কেঁপে উঠল। " উফফ...!" ব্যথায় চোখে সঙ্গে সঙ্গে পানি চলে এল। কাঁপতে কাঁপতে সে দৌড়ে গিয়ে পানির ট্যাপ খুলে হাতটা ঠান্ডা পানির নিচে ধরল। জ্বালাটা কিছুটা কমলেও ব্যথা যেন ক্রমেই বাড়ছে । এরই ভিতর আবার হতচ্ছাড়া তেলাপোকাটা যেন আজ তাকে ছেড়ে কথা বলার পাত্রই নয়! একটু পরেই আবার উড়ে এসে তার কাঁধে বসে পড়ল।

" ইসস! আবার তুই! "

এবার হাতের ব্যথার কথাও ভুলে গেল আদিবা। রাগে গজগজ করতে করতে চারদিকে তাকিয়ে রান্নাঘরের এক কোণায় রাখা একটা ঝাড়ু চোখে পড়তেই সেটা তুলে নিল। তেলাপোকাটা ততক্ষণে আবার উড়ে বেড়াচ্ছে। ঝাড়ু হাতে নিয়ে তার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আদিবা দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলতে লাগল,

" তোর দশ দিন, আর আমার এক দিন! আজকে তোর খবর আছে। এত সাহস! আমার হাত পুড়িয়ে দিয়েছিস! দাঁড়া... আজ তোকে এমন ভর্তা বানাব, নিজের বংশও চিনতে পারবি না! "

হাতে তখনও প্রচণ্ড জ্বালা করছে। মাঝেমধ্যে ব্যথার জায়গায় ফুঁ দিচ্ছে, আবার পরক্ষণেই ঝাড়ু হাতে তেলাপোকার পেছনে ছুটছে।

কিন্তু চালাক পোকাটাও কম নয়। একবার এদিকে, একবার ওদিকে উড়ে আদিবাকে আরও রাগিয়ে তুলতে লাগল। শেষ পর্যন্ত ফস করে রান্নাঘর ছেড়ে ড্রয়িংরুমের দিকে উড়ে গেল। আর ঝাড়ু হাতে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তার পেছন পেছন ছুটল আদিবা।

অন্যদিকে........

ইয়াজ দুপুরের দিকেই বাড়ি ফিরেছিল। চুপচাপ খাওয়া-দাওয়া সেরে সোজা নিজের রুমে চলে গিয়েছিল। তাই আদিবা, ইয়াশ কিংবা ইউভান কেউই তার বাড়ি ফেরার খবর পায়নি। গত রাতটা প্রায় পুরোপুরি হাসপাতালেই কেটেছে তার। ভোরের দিকে বাড়ি ফিরে কোনোমতে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে ছুটতে হয়েছিল। হাসপাতাল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ঠিকমতো বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগই হয় না তার। তাই আজ বাড়ি ফিরে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিল।

অনেকক্ষণ পর ঘুম ভাঙতেই প্রথমে অজু করে আসরের নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষে হালকা ক্লান্তি নিয়েই ভাবল, এক কাপ গরম কফি খাওয়া দরকার। সেই ভাবনা থেকেই ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল।

এদিকে ঝাড়ু হাতে যুদ্ধংদেহী ভঙ্গিতে তেলাপোকার পেছনে ছুটছে আদিবা।

"আজ তোকে ছাড়ব না! পালিয়ে কোথায় যাবি?"

তেলাপোকাটাও যেন তাকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে। কখনো এদিকে, কখনো ওদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ করেই সেটা উড়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াজের প্যান্টের মধ্যাংশের ওপর গিয়ে বসল। বজ্জাত তেলাপোকাটা জায়গা পেল না ভারী অশ্লীল তেলাপোকা।

এদিকেরাগে অন্ধ হয়ে থাকা আদিবার সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই।নিজের হাতের অবস্থাও যে বের হয় সেদিকেও খেয়াল নেই তেলাপোকাটা কোথায় বসেছে সামনে কে দাঁড়িয়ে আছে সেটাও খেয়াল নেই। সব দিকে জ্ঞান হারিয়ে দৃষ্টি দিলো কিভাবে তেলাপোকাটাকে ভর্তা করা যায়।এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে ঝাড়ুটা সজোরে চালিয়ে দিল। ঝাড়ুর বাড়িটা সোজা গিয়ে পড়ল ইয়াজের প্যান্টের মধ্যে অংশে উপর।

"আহ্! গেল রে গেল! "হঠাৎ ব্যথায় চিৎকার করে উঠল ইয়াজ।তারপর আদিবার দেখে তাকিয়ে বলে উঠলো,

" আল্লারে আল্লাহ আমার বাপ হওয়ার মেশিন অকেজো করে দিলো রে চুটকে। "

ঠিক সেই মুহূর্তেই তেলাপোকাটা উড়ে মেঝেতে পড়ে নিস্তেজ হয়ে গেল।সেটা দেখে আদিবার ঠোঁটের কোণে বিজয়ের হাসি ফুটতে যাচ্ছিল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই ইয়াজের মুখের দিকে চোখ পড়তেই হাসিটা মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল। সে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো এক লাফে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। হাত থেকে ঝাড়ুটাও টুপ করে মেঝেতে পড়ে গেল। বিস্ফারিত চোখে ইয়াজের দিকে তাকিয়ে কয়েকবার ঢোক গিলে নিজের মাথায় আলতো চাপড় মেরে ফিসফিস করে বলল,

"ইয়া আল্লাহ... আমি কী করলাম!"

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন