চলো, এবার এই গল্পের মানুষগুলোর সঙ্গে একটু পরিচিত হওয়া যাক।
সকাল শেখ এর বয়স এখন ২৪ বছর ছুঁই ছুঁই বয়স। উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। সুঠাম দেহের এই তরুণকে প্রথম দেখাতেই চোখে পড়ে তার চেহারার আলাদা এক আকর্ষণ। গায়ের রং ধবধবে সাদা নয়, বরং লালচে-ফর্সা, যাকে এক কথায় বলা যায় ‘লাল সুন্দর’।
তার মুখে কেমন যেন এক ধরনের নিজস্ব আলো আছে। বিশেষ করে নামাজের পর মুখে সেই প্রশান্তির ছাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চেহারায় এমন এক মায়া, যার দিকে তাকিয়ে কোনো মেয়ে সহজে চোখ ফেরাতে পারে না।
তবে তাকে দেখে যতটা শান্ত-সংযত মনে হয়, তার অতীতটা ঠিক ততটা সরল নয়। আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকে তাকায়নি, এমনটা বললে অবশ্যই ভুল হবে। জীবনে একাধিক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তবে সেগুলোর কোনোটাই কখনো পূর্ণাঙ্গ সম্পর্কে গড়ায়নি। অনেকগুলো সম্পর্কই ছিল নামহীন, অনিশ্চিত একেকটি ‘সিচুয়েশনশিপ’।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো মেয়েকেই সে নিজের জীবনের জন্য সত্যি করে বেছে নেয়নি।
পাখির বয়স এখন ১৩ তে পরেছে।শান্ত স্বভাবের মেয়ে। অযথা কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে পছন্দ করে না, নিজের মতো করে থাকতে ভালোবাসে। তবে নিজের মতামতের ব্যাপারে সে বেশ দৃঢ়। সে যা সঠিক মনে করে, সেটা নিয়ে সহজে নড়ে না। তার বিশ্বাস, সে যা ভাবছে বা করছে, শেষ পর্যন্ত সেটা সবার ভালোর জন্যই। আর তাই নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সে বেশ একগুঁয়ে।
তবে এই শান্ত মেয়েটার ভেতরে লুকিয়ে আছে বেশ হাসিখুশি আর দুষ্টু একটা স্বভাব। কাছের মানুষদের সঙ্গে থাকলে তার সেই দুষ্টুমির কোনো শেষ থাকে না। কখনো কখনো এমন কিছু কাণ্ড করে বসে, যার পর নিজেই মুখ চেপে হাসে।
অন্যায় দেখলে অবশ্য তার সেই শান্ত স্বভাবটা আর থাকে না। অন্যায়ের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্বভাবে নেই। প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করতে সে একটুও পিছপা হয় না।
সকালদের পরিবার
আব্বাস শেখ — মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা। ছোটখাটো প্যান্টের ব্যবসা করেন। সংসারের খরচ কমিয়ে চলার ব্যাপারে বেশ সচেতন। স্বভাবে কিছুটা রাগী, আর ছেলে সকালের সঙ্গে এই জায়গায় তার বেশ মিল।
সালেহা শেখ — আব্বাস শেখের স্ত্রী। খুবই শান্ত ও ধৈর্যশীল স্বভাবের মানুষ। পড়াশোনা বেশি দূর করেননি, মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। সংসার আর সন্তানদের নিয়েই তার ছোট্ট পৃথিবী।
আইভি শেখ ও মারিয়া শেখ — সকালের দুই বড় বোন। দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে এবং নিজেদের সংসার আছে। তবুও বাবা-মায়ের সংসারের প্রতি তাদের টান এতটুকুও কমেনি। সুযোগ পেলেই বাবার বাড়িতে আসে, আর এলে ভাই সকালকে নিয়ে খুনসুটি, ঝগড়া আর হাসি-ঠাট্টায় পুরো বাড়িটা সরগরম করে রাখে।
পাখিদের পরিবার
জহিরুল মিয়া — পাখির বাবা। রাগী ও কঠোর স্বভাবের মানুষ। বেশি কথা বলেন না, তবে মেয়েকে নিয়ে খুবই সতর্ক। ভালোবাসেন ভীষণ, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ করেন মূলত শাসন আর কড়াকড়ির মাধ্যমে।
মমতাজ বেগম — পাখির মা। শান্ত স্বভাবের এবং সংসারী একজন নারী। মেয়েকে খুব ভালোবাসেন, কিন্তু মেয়ে মানুষ বলে তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাই পাখির ওপর তারও বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
ইয়াসিন মিয়া ও নাহিদ মিয়া — পাখির দুই ছোট ভাই। দুজনেই এখনো ছোট, পৃথিবী আর মানুষের জটিলতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। তাদের ছোট্ট জগতজুড়ে আছে খেলাধুলা, দুষ্টুমি আর পরিবারের আদর।
এই দুই পরিবার একই চারতলা বাড়ির দুই তলায় থাকে। নিচতলায় নতুন ভাড়াটিয়া হয়ে এসেছে সকালদের পরিবার, আর দ্বিতীয় তলায় আগে থেকেই থাকে পাখিদের পরিবার।
একই বাড়ি, দুই পরিবার, দুই রকম জীবন।
কিন্তু কেউ তখনও জানে না, এই একই ছাদের নিচেই ধীরে ধীরে তৈরি হতে যাচ্ছে এমন এক গল্প, যা তাদের দুটো পরিবারকেই বদলে দেবে।