ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#পর্ব_৬

#লেখনিতে_খাদিজা_পারভিন

"শালা ইচ্ছা করছে উঠে গিয়ে ওর গলাটা ধরে টান মেরে সোজা করে দেখি ওর মুখটা।ওর মুখ দেখার জন্য এতক্ষণ ধরে বসে আছি আমি বাথরুমে গিয়েও এতক্ষণ বসি না, পুলিশ না থাকতে ওর কল্লা কেটে মুন্ডু টা আমার সামনে রেখে দেখতাম‌।"

মুখে বিরক্তি নিয়ে বললো নিশা।

"বস রাগ খুব খারাপ জীনিস, কন্ট্রোল করুন বস কন্ট্রোল।"

চন্দন মুখটা গোমড়া করে নিশার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে।

"আচ্ছা চন্দন,তোর যখন ইয়ে পাবে তখন যদি আমি তোকে বলি বাথরুমে যাওয়া যাবে না কন্ট্রোল চন্দন কন্ট্রোল, তুই পারবি?"

"এই মুহূর্তে আমাদের মধ্যে হাজির হয়েছে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইন্সপেক্টর আব্রাহাম ক্রুস।যিনি বিদেশ থেকে লেখাপড়া শেষ করে আবার মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন দেশের সেবা করতে।আজ আমরা তার জীবনের সফলতার কাহিনী তার মুখ থেকেই শুনবো।"

স্টেজের এক প্রান্ত থেকে ভেসে এলো মুজিবুর স্যারের বেসুরো গলা।

নিশা আব্রাহামকে দেখার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু তার সাথে থাকা পুলিশদের জন্য মুখটা দেখা যাচ্ছে না।

আব্রাহাম স্টেজে উঠলেই নিশা দেখতে পেলো সেই মুখ। কিন্তু কে এই ?

নিশা চিনতে পারছে না,"এই কি সেই আব্রাহাম যে ছিল আমার ছোট বেলার একমাত্র বন্ধু।এই কি সেই আব্রাহাম যারা বাবা আমার বাবাকে খুন করেছিলো, আমার মাকে ধর্ষণ করেছিলো।"

নিশার মাথা ঘুরছে ,রাগে গা জ্বলছে মস্তিষ্কের ভেতরকার সব কিছু চলে গেছে সেই ভয়ংকর অতীতে।

আব্রাহামকে যখন মাইকের সামনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো তখন সে সৌজন্য মূলক হাসি দিয়ে এগিয়ে গেল সেদিকে।

নিশার নজর আব্রাহামের দিকে একদম বাজ পাখির মতো পলক পড়ছে না চোখে। নিখুঁত দৃষ্টি দিয়ে চেহারা মেলানোর খেলায় মেতেছে সে মনে মনে।

আব্রাহাম কিছু বলার আগেই তার চোখ পড়লো নিশার দিকে।

সে হাতে একটা তুড়ি দিয়ে নিশার দিকে আঙুল পয়েন্ট করলো, "হেই ইউ,সাদা পাঞ্জাবি কালো লুঙ্গি মেয়ে বা ছেলে যাই হও না কেন ওখান থেকে উঠে পিছনে গিয়ে দাড়াও।"

নিশা তাকিয়ে আছে, শুধু নিশা নয় অনুষ্ঠানে থাকা প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে গার্ডিয়ান পর্যন্ত আব্রাহামের দিকে তাকানো।

আব্রাহাম নিজেও জানে না সে কত বড় ভুল করে ফেলেছে।

সবাই নিশার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করছে পুরো এলাকা নীরব হয়ে গেছে , নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই ।নিশার সাথে থাকা ছেলে গুলো রাগে ফুঁসছে। চন্দন উঠে কিছু বলতে যাবে তখনই নিশি তাকে থামিয়ে দেয়।

সবার ধারনা ছিল নিশা একচুল ও নড়বে না কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিশা উঠে দাঁড়িয়ে সেই আসন ছেড়ে দেয়।

আব্রাহাম তখন পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষার্থীকে সেখানে এসে বসতে বলে কিন্তু সে আসে না।

নিশা সোজা হেঁটে গিয়ে স্টেজে উঠে আব্রাহামের জন্য যেই চেয়ারটা সাজানো ছিল সেখানে গিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে‌।

আব্রাহামের চোখ মুখ রাগে লাল‌ হয়ে গেছে এত গুলো মানুষের ভিতরে ডেকে এনে অপমান এই অসভ্য মেয়েকে আজ সে উচিত শিক্ষা দিবে, ভদ্রতা কাকে বলে আজ সে তাকে শেখাবে।

নিশার নজর এখনো আব্রাহামের দিকে। নিশার এমন‌ বেশরম তাকানো দেখে আব্রাহামের আরো রাগ হলো।

হাতে থাকা মাইকটা দূরে ছুড়ে মেরে সোজা এসে নিশার পাঞ্জাবির কলার ধরে সে তাকে তার চেয়ার থেকে টেনে তুললো।

নিশার সাথে থাকা ছেলেরা গর্জে উঠলো কিন্তু নিশা আবারো তাদের হাত দিয়ে মানা করে।

আব্রাহাম এক হাত দিয়ে নিশার কলার ধরে অন্য হাত দিয়ে তাকে থাপ্পড় মারতে যেতেই নিশা আব্রাহামের হাত ধরে ফেলে।

আব্রাহাম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে একটা মেয়ের গায়ে কিভাবে এত শক্তি থাকতে পারে এটা ভেবে অবাক হচ্ছে।

নিশা আব্রাহামের হাতের যেই অংশটা ধরেছে সেখানে অনেক ব্যাথা করছে মনে হচ্ছে রক্ত জমে যাচ্ছে। আব্রাহাম নিশার কলার ছেড়ে দিলো কিন্তু নিশা আব্রাহামের হাত ছাড়ছে না।

"আরে স্যার একটা পুরুষ হয়ে অবোলা নারীর গায়ে হাত তুলছেন লজ্জা করে না?"

"আপনি নারী?"

"কেন আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে?"

"আছেন তো লুঙ্গি পরে,এটা কি নারীর পোশাক?"

"ওহ শিট,ভুল করে পরে চলে এসেছি হয়তো কিন্তু পোশাকের কথা না হয় বাদ দিলাম,আমার সফটওয়্যার কিন্তু মেয়েদেরই সেখানে কোনো ভ্যাজাল নেই স্যার।দেখবেন নাকি?"

"ইউ বিস্ট" বলে আব্রাহাম আবারো তাকে মারতে গেলে এবার নিশা উল্টে তার নাক বরাবর একটা ঘুষি মারে সাথে সাথে সেখান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়।

এতক্ষণ আব্রাহামে সাথে থাকা পুলিশ গুলো তার কথায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো কিন্তু এবার তারা আব্রাহামের আদেশর জন্য অপেক্ষা করলো না তারা নিশির দিকে তেড়ে আসলে নিশি ও তার ছেলেরকে ইশারা করে তাদেরকে মারার জন্য।

মূহুর্তের মধ্যেই সাজানো গোছানো পরিবেশটা বিশৃঙ্খলায় পরিনত হয় পরিস্থিতি বুঝে গার্ডিয়ানরা তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুলিশ সহ আব্রাহাম মাটিতে শুয়ে আছে।নিশীর সঙ্গি দের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

নিশি ঘাড়ে রাখা সানগ্লাসটা খুলে চোখে দেয়,

" আব্রাহাম ক্রুসের জীবনের সফলতার কাহিনী অনেক আছে কিন্তু স্যাড স্টোরি একটাও নাই তাই আজ তার উপর করুনা করে বিনামূল্যে তার জীবনের একটা স্যাড স্টোরি বানিয়ে দিলাম।" বলেই একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটা শুরু করলো নিশা

নিশার কথা শুনে চন্দন, বাঁধন সহ তার সাথে থাকা সবাই ফিক করে হেসে দিলো।

" এখন কোথায় যাবেন বস?"

"একটু পরে আমাদের থানা থেকে ডাক আসবে তার আগে অন্য একটা কাজ সারতে হবে চল।"

নিশা চলে যাওয়ার সাথে সাথে স্টেজের পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রিন্সিপাল আর বাকি টিচাররা বার হয়ে এসে আব্রাহাম আর বাকি পুলিশের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।

নিশা বাজারের ভিতরে গেল, পা রাখতেই কানে এলো ফরিদ চাচার দরদাম করার আওয়াজ। চিৎকার করে নিএর মাছের গুণগান গাইছেন ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন—"এক দাম, বেছে নেন", "তাজা মাছ, নদী থেকে সদ্য ধরা"

নিশা বিরক্তি নিয়ে, "ওই বুড়ো ডেমনা! মাছ বিক্রি করছো নাকি নাটকের মহড়া দিচ্ছো? তোমার চিৎকার শুনে মাছগুলোও লজ্জায় আবার নদীতে ঝাঁপ দিতে চাইবে!"

"বুড়োর গলার জোর দেখেছেন মনে হচ্ছে মাছ না, পুরো বাজারটাই বিক্রি করে দিবে।

বস বলেন তো ওর দোকান উপড়ে ফেলে সব মাছ নিয়ে আসি।"

দ্বিতীয় বারের মতো চন্দনের গালে আবার থাপ্পর পড়লো,"শালা ফ্রি খাইতে খাইতে জিহ্বা বড় হয়ে গেছে? নিশা মাগনা খায় না চোদ*না"

ফাও কথা বলবি তো তোকেও এইবার কোরবানিতে কোরবানির দিয়ে দিবো।"

পাশে থাকা সবাই সজোরে হেসে দেয়। চন্দনের মুখ ছোট হয়ে যায় , গালে হাত বোলাতে বোলাতে বলে "আচ্ছা"

বাজারে হাঁটতে হাঁটতে নিশা একের পর এক জিনিস কিনছে—মাংস ,চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন।

"বস এত বাজার দিয়ে কি হবে?বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান আছে নাকি?"

"বাজারের সাথে আমার পুরনো প্রেম। দেখা হলেই টাকা খরচ করতে ইচ্ছা করে।"

নিশা কে অনেক পরিমানের ডাল কিনতে দেখে চন্দন আবারো জিগ্গেস করে, এটা চন্দনের পুরাতন অভ্যাস কোনো কিছু নিয়ে কৌতুহল হলে তা না জেনে থামবে না," বলুন না বস এত বাজার দিয়ে কি হবে?"

"বাড়িতে একটা হাতি পুষি। ওর ডায়েট চার্ট মেনে চলতে হয়।"

বাঁধন আর চন্দন একে অপরের মুখের দিকে তাকায়। এত বাজারের রহস্য কিছুতেই বুঝতে পারে না।

কিন্তু বাজার শেষ করে নিশা ভারি ভারি সব ব্যাগ সবার হাতে দিয়ে তার পিছন পিছন আসতে বলে।

মাথার উপর চড়া রোদ নিশা ঘেমে একাকার মাথা নিচু করে লুঙ্গির প্রন্ত দিয়ে বার বার কপাল,মুখ মুছে চলেছে।

হাঁটতে হাঁটতে নিশা এসে থামলো একটা এতিম খানার সামনে এসেই জোরে একটা ডাক দিলো , " কিরে সোনা পাখির আন্ডা বাচ্চা সব কই।"

নিশার এক ডাকে এতিমখানার বাচ্চারা দৌড়ে বেরিয়ে এসে নিশাকে জড়িয়ে ধরে।

চলবে__

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন