ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

৮ম পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#পর্ব_৮

#লেখনিতে_খাদিজা_পারভিন

"কে আছো ঐ বেয়াদপ মেয়েটাকে থানায় ধরে নিয়ে এসো।আজ ওকে একটা শিক্ষা দিবো।" টেবিলের উপর পা উঠিয়ে হাতে একটা পাজল নিয়ে তা ঘুরিয়ে যাচ্ছে আব্রাহাম।

"জি স্যার এত রাতে একটা মেয়েকে ধরে আনা কি ঠিক হবে?"

আব্রাহাম পাজলের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রতনের দিকে তাকালো।এক মিনিট তার দিকে শুধু তাকিয়েই আছে। আব্রাহামের এমন দৃষ্টিতে রতন একটু নড়েচড়ে উঠে, জামার কলার ঠিক করে রতন মুখে একটু মুচকি হাসি দিয়ে চোখ কোড়া করে আব্রাহামের দিকে তাকায়।

আব্রাহাম এবার জোরে হেসে দেয়।হাসি থামছে না তার।চেয়ার থেকে উঠে হাসতে হাসতে রতনের কাছে আসে,রতনের কাঁধে হাত রাখে।

" কি বললে তুমি?হা হা হা..ঐ টা মেয়ে?কোন দিক থেকে দেখে ওকে তোমার মেয়ে মনে হয়?

কি একটা ন্যাকড়ার মতো লুঙ্গি পড়ে,গলায় একগাদা শিকল হাতে একগাদা শিকল দেখে মনে হয় শিকল রানি। বস্তি কোথাকার।"

রতন কিছুক্ষণ আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে থাকে, " এই এলাকায় সব থেকে ধনী মহিলা নিশা।"

"আরে ওকে মহিলা বলো না, জন্তু বলো। আর এত কথা কেন বলছো যা বলেছি তাই করো।"

রতন আর কোনো কথা না বলে চলে যায়। আব্রাহাম উঠে গিয়ে আবার নিজের জায়গায় কায়দা করে বসে।

ঘাড়ের পিছনে হাত বেঁধে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে।

জাহানারা আর রহিমা মিলে টেবিলে রাতের খাবার সাজাচ্ছে।নিশার ঘরে ফুল দিয়ে "লুঙ্গি ডান্স" গান বাজছে।ভিতরে সে নাচছে কিনা দরজা বন্ধ থাকায় জানার উপায় নেই। কেউ গিয়ে তাকে থামাবে এ সাহস জাহানারা ছাড়া আর কারো নেই।

"রহিমা তুই রান্নাঘর থেকে ডালের বাটি আর গ্লাস গুলো নিয়ে আয়।"

"আচ্ছা"

জাহানারা হাত থেকে তরকারির বাটিটা টেবিলের উপর রেখে ভেজা হাত আঁচলে মুছে নিশার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।

"নিশা দরজা খোল। নিশা ,নিশা"

অনেকবার ডাকার পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার উপর জোরে কয়েকবার ধাক্কা দিলো।

জাহানারা হতাশ‌ হয়ে চলে যেতে পা বাড়ালে গান বন্ধ হয়ে যায় আর খট করে দরজা খোলার শব্দে আবার পেছন ফিরে তাকায়।

নিশা বের হয়েছে। জাহানারা তাকিয়ে আছে তার দিকে, বৃষ্টিতে ভেজার ফলে তার অবস্থা খুবই খারাপ।চোখ সহ ফর্সা মুখটা লাল হয়ে আছে।মনে হচ্ছে টোকা দিলে রক্ত গড়িয়ে পড়বে।

জাহানারার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।চোখের পাতা ভিজে আসে।নিজেকে বার বার প্রশ্ন করে, "কেন আমি আমার মেয়েকে ভালো করে রাখতে পারিনা।"

"কি হয়েছে ডার্লিং?দরজা ভেঙে ফেলবা নাকি?"

নিশার মাথায় গামছা বাধা,সে ঘর থেকে বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ালো।তারপর জাহানারা কে দরজা দেখিয়ে বললো, "এমন ভাবে দরজা ধাক্কা দিচ্ছিলে মনে হচ্ছে এটা কোনো সাধারন দরজা না।এটা হলো পাতাল পুরির দরজা। এর ভিতরে বন্দি আছে রানি জাহানারা বেগমের একমাত্র রাজকন্যা প্রিন্সেস নিশা। রানি জাহানারা বেগম এসেছেন তার মেয়েকে উদ্ধার করে রাজ্যে ফিরেয়ে নিয়ে যেতে। জয় মহারানি জাহানারা বেগমের জয়।"

জাহানারা জোরে নিশার কান ধরে, " অনেক পেকে গেছো। আমার আহ্লাদে বাঁদর হয়ে গেছো তাই না? এসো আজ তোমার সব বাঁদরামি বার করবো আজ।

"আহ্ মা লাগছে ছাড়ো।"

"লাগার জন্যই তো ধরেছি।"

জাহানারা নিশার কান ধরে টেনে নিচে নিয়ে যায়। তারপর খাবার টেবিলে বসায়।নিশা চেয়ারের উপর পা উঠিয়ে বসে।

জাহানারা চোখ বড় করে তাকায় তার দিকে," পা নামা অসভ্য।"

"পারবোনা।"

জাহানারা আবার তেড়ে এলে নিশা তাড়াতাড়ি পা নামায়।

"নিতা আপু,আমাকে কুলে নাও।আমাকে তকলেট দাও।"

রোদেলা এসে নিশার জামা ধরে পিছন থেকে টানে।

নিশা তাকে দেখে সাথে সাথে কোলে নেয়, " আরে আমার প্রিন্সেস যে, তুমি এখনো ঘুমাওনি কেন?"

"আমি তোমাল সাথে ঘুমাবো।"

" আমার সাথে ঘুমালে তোমার মা তোমাকে বকা দিবে।"

ছোট্ট রোদেলার মন খারাপ হয়ে যায়।নিশা তাকে কোলে বসিয়ে এক হাতে প্লেট ঠিক করে পর পর ভাতের লোকমা গালে দিয়ে যাচ্ছে্।

রোদেলা তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, " আমি ও খাবো।"

নিশা হেসে তার গালে খাবার দিতে গেলে জামিলা এসে নিশার হাত ধরে ফেলে।এক টান দিয়ে রোদেলাকে নিশার কোল থেকে নিয়ে যায়।

" কত বার বলতে হবে তোকে যে আমার মেয়ের থেকে দূরে থাকবি? তোর জন্য আমার ছোট্ট মেয়েটা বাবা হারা হয়েছে,আমি স্বামী হারা হয়েছি এখন কি আমাকে সন্তান হারা করতে চাস?"

রাগে ফুঁসছে জামিলা, নিশা তার দিকে একবার তাকায় কিন্তু নিজের খাওয়া বন্ধ করে না।কপাল থেকে গামছা টা খুলে জামিলরা দিকে বাড়িয়ে দেয়,

" নেও চোখ মুছো, তারপর আবার বলো।"

জামিলা তার হাত থেকে গামছা নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলো। চেঁচামেচি শুনে জাহানারা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

"তুই সব সময় ওর সাথে এমন ব্যবহার করিস কেন‌ জামিলা?

জামিলা কোনো কথা না বলে মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো।

বাইরে গাড়ির শব্দ শুনে নিশা জানালা দিয়ে এক পলক তাকিয়ে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।

কলিংবেলে শব্দ পেয়ে জাহানারা নিশার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে," এখন আবার কে এলো?"

"আমার শশুরবাড়ির লোক। অনেকক্ষণ আমাকে দেখে না তাই দেখতে এসেছে দরজা খুলো।"

জাহানারা নিশার কথা কিছুই বুঝতে পারে না।দরজা খুলতে তিনজন পুলিশকে দেখে তার মেজাজ গরম হয়ে গেলো।

" কি চাই আপনাদের এত রাতে?শান্তিতে থাকতে দিবেন না? এখন রাতেও আসা শুরু করেছেন?"

রতন ঘরের ভিতর একটু উকি দিয়ে নিশা কে খেতে দেখে হালকা হাসে, " তা আপনার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করুন, পুলিশ মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেখুন কি সুন্দর খেয়ে চলেছে। পুলিশের গায়ে হাত দেওয়ার অপরাধে উনাকে গ্রেফতার করতে এসেছি।"

পুলিশ মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে শুনে জাহানারার খুব হাসি পায় কিন্তু অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখে।

রতন বাকি দুই জন পুলিশকে নিয়ে সোজা হেঁটে নিশার কাছে যায়, "আমরা আপনাকে গ্রেফতার করতে এসেছি।"

"অপেক্ষা করুন খাওয়া শেষ করে ভেবে দেখবো যাবো কি যাবো না।"

রতন হালকা হাসে, " আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমরা আইনের লোক ।আপনার কি মনে হয় আমাদের সময়ের দাম নেই? সারাদিন আপনার মতো ঘুড়ে বেড়াই?"

নিশা খাবার প্লেট থেকে মুখ তুলে রতনের দিকে তাকায়। রতন এক পা পিছিয়ে যায়।কি ভয়ংকর দেখতে লাগছে।কোমর অব্দি চুল ছেড়ে দেওয়া,চোখ মুখ লাল হয়ে আছে,গায়ে সাদা শার্ট।

"আচ্ছা আপনি খান ,আমরা আছি।"

নিশা খাচ্ছে আর পাশে তিনজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে।পাশের সোফায় জাহানারা বেগম পায়ের উপর পা তুলে বসে আছেন।

নিশার খাওয়া শেষে উঠে গিয়ে জাহানারা বেগমের পাশে বসে পড়ে, তার আঁচলে হাত মোছে।

" নাহ্ যাই একটু হেটে আসি শরীরটা কেমন ম্যাচ ম্যাচ করছে।

আচ্ছা মা থাকো আমি একটু ঘুরে আসি‌।"

জাহানারা কঠিন মুখ করে জবাব দেয়, " ঘরের কাজ শেষ করতে আমার আর এক ঘন্টার মতো লাগবে।এর মধ্য আসতে পারলে ঘরে ঢুকতে পারবি নয়তো সারা রাত বাইরে গাছ তলায় থাকবি।"

নিশা উঠে দাঁড়িয়ে বলে, " আধা ঘন্টার মধ্যে আসছি।"

নিশা ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।পুলিশরা সেখানে দাঁড়িয়েই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে।

নিশা আবার সদর দরজার কাছে এসে বলে, "আপনারা যাবেন নাকি আমি একাই চলে যাবো।"

একজন এগিয়ে গিয়ে নিশার হাতে হ্যান্ডকাফ লাগতে গেলে, নিশা তাকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দেয়, " সর ল্যাওড়ার বাল। এ রতন বাবু এটা কে হ্যাঁ? নতুন নাকি?"

রতন কিছু বলে না শুধু বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে নিশার দিকে।

আব্রাহামের চোখটা ঘুমে লেগে গেছিলো হটাৎ একটা বিকট শব্দে তার চোখ খুলে যায়।

"সামনে দেখতে পায় নিশা‌ টেবিলের উপর এক পা রেখে দাঁড়িয়ে আছে।"

আব্রাহাম মুখ শক্ত করে টেবিলের উপর রাখা নিশার পায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, " পা নিচে রাখুন।"

নিশা আর একটু তার দিকে ঝুঁকে বলে, " রাখবো না।"

নিশার গলায় থাকা ইংরেজি তে নিশা লেখা লকেটকা ঝুলে আছে। আব্রাহাম লকেট ধরে টান দিয়ে নিশা কে আরো কাছে নিয়ে আসে, " পা ভেঙ্গে রেখে দিবো।"

চলবে__

(বেশি রেসপন্স পেলে পরের পার্ট খুব তাড়াতাড়ি দিবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন