#অবাধ্য_মন_পাখি
#পর্ব_৩০
#writer_খাদিজা_পারভিন
"জানো মা,একটা গল্প যেখানে আমি ভিলেন, আবার একই গল্পে আমিই নায়িকা, আবার অন্য কারও গল্পে আমিই শেষ ভরসা। হাতের রেখা এক হলেও, কাজের রূপ আলাদা। কি অদ্ভুত বলো!" জাহানারা বেগম কিছুই বললেন না।আনমনে বসে মেয়ের মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন।নিশার চোখ ভেজা। অনেক দিন হলো চোখে পানি আসে না। কান্নাকাটি তার ভালো লাগে না কিন্তু চোখের পানি কি কোনো বাধা মানে?
সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো মনের ভেতরের ঝোড়ো হাওয়া থামিয়ে চোখের জল আটকে রাখা। মন কাঁদলে চোখ যে আর আড়াল মানতে চায় না।
হটাৎ তখনই দরজার এসে দাঁড়াল রহিমা,"আপামনি আসবো?"
নীরব আবেগঘন পরিবেশটা রহিমার আগমনে এক নিমেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। নিশা এক ঝটকায় চোখ মুছে কঠিন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, "কী চাই?"
"আপামণি, সেই পুলিশ এসেছে।"
কথাটা শোনামাত্রই নিশার মাত্র নরম হওয়া মনটা এক সেকেন্ডের মধ্যে আগুনে রূপ নিল। রক্ত আবার গরম হয়ে গেল তার। মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে উঠল, "হয় ওরে বিষ খাইয়ে দে, নয়তো আমাকে এক পেগ বিষ দে। এই মাদার** যে কী চায়, তা ওই উপরওয়ালাই ভালো জানে। পুলিশ না হলে এতদিন দেহ পাতালে আর মন আকাশে পাঠিয়ে দিতাম।"
কথাগুলো বলে গজগজ করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে এল নিশা। কিন্তু ড্রয়িং রুমে যাওয়ার আগেই হঠাৎ দুটো ছোট হাতের বাঁধনে ধরা পড়লো নিশা।
"নিতা,আমাকে তোলে নাও। তোলে নাও।"
ছোট্ট রোদেলাকে দেখেই নিশার মুখের সব রাগ ধুয়েমুছে গেল। এক চিলতে অমলিন হাসি ফুটে উঠল তার সুন্দর ঠোঁটে। নিশা ঝুঁকে পরম স্নেহে রোদেলাকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে নিল।
"তুমি কিভাবে আমার গন্ধ পাও প্রিন্সেস?তোমার নাক এত লম্বা কেন?"
রোদেলাকে কোলে নিয়েই সে ধীরপায়ে ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়াল।
আব্রাহাম বসে আছে সোফায়। একটা হাত সোফার পেছনের হেলে রাখা অংশে ছড়ানো, গায়ে গাঢ় কালো শার্ট, নীল জিন্স প্যান্ট—আজকে তাকে একটু বেশিই হ্যান্ডসাম লাগছে। আর সামনে টি-টেবিলের ওপর রাখা একটা বিশাল মিষ্টির প্যাকেট।
নিশা মিষ্টির প্যাকেটের দিকে এক নজর তাকিয়ে আব্রাহামের দিকে চোখ বাঁকিয়ে বলল, "কী ব্যাপার ইন্সপেক্টর ?আপনি কি আজকালের মধ্যে মারা যাবেন নাকি? মরার খবর জানানোর জন্য আগেভাগেই মিষ্টির প্যাকেট নিজে নিয়ে এলেন? এসবের কি দরকার ছিল আবার। আপনার আত্মার অগ্রিম মাগফিরাত কামনা করি।"
সে সোজা হয়ে বসে রোদেলার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়াতে গেলেই নিশা তাকে নিয়ে সরে গেলো।
আব্রাহাম নিশার চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, " মিষ্টিটা মরণের নয়, নতুন জীবনের জন্য। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।"
কথাটা শুনে নিশার কিছুক্ষণের জন্য নিরব হয়ে গেলেও পরক্ষনেই ঘর ফাটিয়ে হাসি শুরু করলো ।তার হাসি দেখে রোদেলাও মহা খুশি তে হাসলো আর হাতে তালি দিলো।
"এত কাল দেখতাম ছেলের পরিবার আসে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কিন্তু আজ ছেলে নিজেই চলে এসেছে? পরিবার কোথায় আপনার? ওহ আপনার সম্মানিত পিতা তো একটা খুনি ধর্ষক, লোক সমাজে আসবে কি করে তাও একটা কথা।এক কাজ করুন আপনার পিতা কে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসুন। তারপর আপনাদের জানাজা আর আমার বিয়ের কথা একসাথে হবে।"
নিশার প্রতিটি ধারালো কথা আব্রাহামের গায়ে যেন ফুটন্ত তেল ঢেলে দিচ্ছিল। ভেতরের রাগটা সে বহুকষ্টে চেপে রাখল, চেহারা একেবারে বরফের মতো ঠাণ্ডা রেখে নিশার দিকে তাকিয়ে রইল।
সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে জাহানারা বেগম সবটা শুনছিলেন।কিন্তু নিশা আরও কিছু বলার আগেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাহানারা বেগম আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন। তিনি এক পা এগিয়ে এসে নিশাকে কড়া গলায় বলে উঠলেন, "নিশা, তুই একদম চুপ করবি।"
মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে এবার জাহানারা বেগম রণমূর্তি ধারণ করে সোজা আব্রাহামের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তার দুই চোখ দিয়ে তখন যেন সত্যি সত্যি আগুন ঝরছে। তিনি আব্রাহামের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ইচ্ছা মতো তোপ দাগতে শুরু করলেন—"এত বড় সাহস তোর? আমার বাড়িতে পা রাখার সাহস হয় কি করে তোর?আবার আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিস?তোরা তো এক একটা জানোয়ার।তোর বাপ জানোয়ার তুই তার জন্ম তুই ও জানোয়ার। তোরা বাপ বেটা কে দেখলে কে বলবে তোরা লজ্জার ঘর থেকে বেরিয়েছিস?
ওই মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে এখনই বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে আর কোনো দিন তোর ছায়া যেন আমার বাড়িতে না পড়ে।মনে রাখবি আমি জাহানারা বেগম কিন্তু নিশা মল্লিকের মা।"
ওদিকে নিশা তার মায়ের এই অচেনা, বিধ্বংসী রূপ দেখে পুরো হা হয়ে গেল। জাহানারা বেগম যে একজন পুলিশ অফিসারকে এভাবে ধুয়ে দিতে পারেন, তা নিশার কল্পনারও বাইরে ছিল। নিশা এক বর্ণও কথা না বলে, বোকার মতো হাঁ করে মায়ের চিল্লাচিল্লি দেখছিল আর মহা মজা নিচ্ছিল। নিজের দুই হাতের তালু দিয়ে রোদেলার দুটো কান শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে, যাতে মায়ের মুখ থেকে বের হওয়া বিষাক্ত গালিগুলো তার কানে না যায়।
কিন্তু বেচারি রোদেলা কান বন্ধ থাকায় বড্ড বিরক্ত হয়ে গেল্ সে নিশার হাতের নিচে নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে টানাটানি করতে করতে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, "আমাল কান তারো! আমি কিছু তুনতে পাচ্ছি না। আমাকে তুনতে দাও না"
আব্রাহাম বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।তখন নিশা বলে উঠলো,"খুনির ছেলে কখনও নায়ক হয় না এটা মাথায় ঢুকিয়ে নেন।"
আব্রাহাম মূখে হাসি রেখে তার দিকে এক পলক তাকালো,"নায়ক না হই, তোমার গল্পের শেষ অধ্যায়টা আমিই হবো। চলি আবার দেখা হবে।"
বলেই সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে বেরিয়ে গেলো।
হালকা অন্ধকার আর টিমটিমে আলোর নিচে একটা কাঠের চেয়ারে শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে ফাহিম। তার ন্যাড়া মাথা বেয়ে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত, মুখ বন্ধ করা মোটা কালো টেপ দিয়ে। ভয়ে আর যন্ত্রণায় তার চোখ দুটো যেন কোটর ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
ফাহিমের ঠিক সামনেই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘাকৃতি ছায়ামূর্তি। তার মুখে ধাতব নেকড়ের মুখের মতো নকশা করা একটা মাস্ক। হাত দুটো জিন্সের পকেটে গুজে সে ঠান্ডা চোখে ফাহিমকে দেখছিল। ফাহিম কেবল বন্ধ মুখেই নাকে শব্দ করে, অনবরত আকুতি-মিনতি জানাচ্ছে নিজের জীবনটা ভিক্ষা পাওয়ার জন্য। বারবার মাথা ঝুঁকিয়ে ক্ষমা চাইছে, হাত জোড় করার চেষ্টা করছে কিন্তু দড়ির বাঁধনে শরীর অবশ।
ধীরে ধীরে সেই ছায়ামূর্তি এগিয়ে এল। ঘরের মধ্যে যেন বাতাসের তাপমাত্রা এক নিমেষে কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। লোকটা অত্যন্ত মন্থর গতিতে তার এক হাত বাড়াল। তারপর মুখের মাস্কটা আলতো করে সরিয়ে ফেলল।
মাস্কের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো এক মারাত্মক, বিষাক্ত সুন্দর অভ্রের মুখটা।
তার ঘন বাদামি চুলের নিচে ওই বাদামি, রক্ত তৃষ্ণার্ত চোখ দুটো যেন অবলীলায় মানুষ খুন করার পর কোনো অপরাধবোধ ছাড়া এক চিলতে হাসতে পারে।
চেহারায় এক জাদুকরী সৌন্দর্য, কিন্তু তার শরীরে তিলমাত্র দয়া,মায়ার অস্তিত্ব নেই। ধবধবে সাদা শার্টের হাতা দুটো তার কনুই পর্যন্ত গুটানো, আর ফোলা রগগুলো জানান দিচ্ছে তার ভেতরের অপ্রতিরোধ্য শক্তির কথা।
অভ্র ফাহিমের একদম কাছে গিয়ে ঝুঁকে দাঁড়াল।
অভ্র একহাতে ফাহিমের চিবুক চেপে ধরে তার গাঢ় বাদামি চোখে এক বিষাক্ত আনন্দ ফুটিয়ে তুলল। ফাহিমের কানে কানে বলল,
"জানিস ফাহিম, আল্লার দুনিয়ায় একটাই ভুল মানুষ বারবার করতে পারে, কিন্তু আমার দুনিয়ায় ভুল করার সুযোগ কেবল একবারই মেলে।তুই ভুল করে আমার সুইটহার্টকে টাচ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিস।"
কথাটা শেষ করেই অভ্র ঝটকা দিয়ে ফাহিমের মুখ থেকে কালো টেপটা টেনে ছিঁড়ে ফেলল। ফাহিম চিৎকার করে কাঁদতে লাগল, "আমাকে বাঁচতে দিন। আমাকে মাফ করে দিন! আমি জানতাম না, আমি আর কোনোদিন_"
"আহ্! গ্যানগ্যান করিস না," অভ্র বিরক্তিভরে বাধা দিল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক, রক্তপিপাসু হাসি। "আমার ফায়ার বার্ডকে স্পর্শ করার একটাই শাস্তি ধার্য আছে এই আর তা হলো মৃত্যুদণ্ড।"
কথা শেষ হওয়ার আগেই অভ্র তার কোমর থেকে বের করল এক চকচকে, সাইলেণ্সার লাগানো ৯ মিমি পিস্তল। ফাহিম চোখ বন্ধ করে শেষবারের মতো গোঙাতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে অভ্র সোজা তার কপালে গুলি চালিয়ে দিল।
এক নিমেষে স্তব্ধ হয়ে গেল ফাহিমের শরীর। গুলির ধাক্কায় তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলে পড়ে গেল, আর চোখের পলকে মেঝের ধুলোয় ছড়িয়ে পড়ল কালচে লাল রক্ত। পিস্তল থেকে বের হওয়া হালকা ধোঁয়াটার কাছে নাক দিয়ে ধোয়ার ঘ্রান নিতে লাগলো এটা তার পছন্দের ঘ্রান।
পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডদের দিকে ঘুরেও না তাকিয়ে, হুকুম জারি করল,
"বডিটা কেটে ছোট ছোট টুকরো কর। আর শহরের যত বুভুক্ষু ড্রেন-পাগলা কুত্তা আছে, তাদের সামনে গিয়ে ফেলে আয়। আজ রাতে যেন এই আবর্জনার এক টুকরো হাড়ও বেঁচে না থাকে।"
হুকুম দিয়েই অভ্র তার কালো মাস্কটা আবার মুখে টেনে দিল। তারপর মৃতদেহের রক্ত গড়িয়ে আসা মেঝের ওরপ থেকে দ্রুত কদমে অন্ধকার গলি ধরে হেঁটে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে।
যাওয়ার পথে ফোনে একটা মেসেজ এলো মেসেজ টা দেখে অভ্রের চোখ জ্বলে উঠলো।
নিশার বাড়ি থেকে একরাশ অপমান আর গায়ের জ্বালা নিয়ে নিজের ফ্লাটে এল আব্রাহাম। মেজাজ তখন একবারে তুঙ্গে। ড্রয়িং রুমে ঢুকেই শার্টের বোতামগুলো সব আলগা করে সোজা চলে গেল নিজের ঘথে। সেখান থেকে মদের একটা বোতল তুলে নিয়ে কোনো গ্লাস ছাড়াই সোফায় এসে ধপাস করে বসে পড়ল।
ডিরেক্ট বোতল মুখে ঢেলে মদ গিলতে লাগল সে, জাহানারা বেগমের অপমানে যেন তার রগে রগে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
তখন দরজার আড়াল থেকে আলতো পায়ের শব্দে এগিয়ে এল রূপা ভাবি। রূপার পরনে আবছা ছায়ায় শরীর উন্মোচন করা শাড়ি। সে ধীর পায়ে আব্রাহামের সামনে এসে এক টানে তার হাত থেকে মদের বোতলটা সরিয়ে নিল।
রূপা সোজা গিয়ে আব্রাহামের কোলে চেপে বসল। মদের বোতলে নিজের মুখে এক চুমুক নিয়ে, গিলে না ফেলে সে তার ঠোঁট দুটো সোজা আব্রাহামের গাল আর ঠোঁটের মাঝে চেপে ধরল। ভেজা মদের তীব্র স্বাদ আব্রাহামের গালে মেখে দিয়ে রূপা পরম তৃপ্তিতে হেসে উঠল। তারপর নিজের নরম আঙুলগুলো আব্রাহামের শক্ত চিবুক আর গালে আলতো করে বোলাতে বোলাতে আদুরে গলায় বলল, "আমাকে কবে বিয়ে করবে তুমি? আমার আর সহ্য হচ্ছে না,তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্তও আমার থাকতে ইচ্ছে করে না। আমি ডিশিসন নিয়ে ফেলেছি, আমার স্বামীটাকে ডিভোর্স দিয়ে পাকাপাকিভাবে তোমার কাছে চলে আসব।"
আব্রাহামের চোখের মনি দুটো তখন মদের নেশা আর রূপার উত্তপ্ত স্পর্শে ধীরে ধীরে মোচ্ছন্ন হয়ে আসছিল। সে নিজের শক্তিশালী বাহু দুটো দিয়ে রূপার কোমর শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের বুক ঘেঁষে টেনে আনল। রূপার ঘাড়ের কাছে নিজের উষ্ণ শ্বাস ফেলে মিষ্টি গলায় বলল, "খুব তাড়াতাড়ি ।আর অল্প কিছুদিন পরেই তোমাকে আমার বৌ বানাবো।
কথাটা বলেই আব্রাহাম রূপার খোলা পিঠে নিজের হাতের পেষণ বাড়াল। রূপা আনন্দে আব্রাহামের গলা জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ লুকাল।
তখনি জোরে শব্দ করে জানালার কাচ ভেঙে একটা কিছু ভেতরে এলো। আব্রাহাম আর রূপা লাফিয়ে উঠলো।
একটা পাথরের কাগজ পেছানো, আব্রাহাম কাগজ টা মেলে দেখলো সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা, " দুনিয়ার সব মেয়ে নিয়ে শুয়ে থাক দরকার হয় সব গুলো একসাথে নিয়ে থাক আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু খবরদার যদি নিশার দিকে হাত বাড়িয়েছিস তাহলে আর কোনো মেয়ের কাছে যাওয়ার মতো মেইন জিনিসটা আর থাকবে না।কেটে দিবো।"
আব্রাহামের দ্রুত জানালা খুলে বাইরে দেখলো রাতের অন্ধকার নামায় আর কাউকে দেখতে পেলো না।
আব্রাহাম জোরে জোরে হেসে দিলো তার এমন হাসি দেখে রুপা একটু ভয় পেয়ে গেলো।
তারপর কাজটা কুচি কুচি করে ছিড়ে ছুড়ে ফেলে দাঁতে দাঁত চেপে বললো," নিশু পাখি শুধু আমার।"
সকালে দরজা ধাক্কার শব্দে নিশার ঘুম ভেঙ্গে ছাড়খার ।নিশা উঠে চোখ মুছতে মুছতে দরজা খুললো।দরজার সামনে জামিলকে দেখে একটু অবাক হলো।নিশা দরজা খুলতেই জামিলা চিৎকার করে কেঁদে উঠল," আমার রোদেলাকে পাচ্ছি না নিশা।"
চলবে_