#অবাধ্য_মন_পাখি
পর্ব_৩৬
#লেখনিতে_খাদিজা_পারভিন
"আমার এখনি আমার বৌকে লাগবে।"এই এক কথা পাঁচশত বার বলা হয়ে গেছে অভ্রের ।কোনো মতে ছাদ থেকে নেমে বাইরে গাড়ির কাছে আসে।
গাড়িতে ওঠার আগমুহূর্তে অভ্র হঠাৎ ব্র্রেক কষা মানুষের মতো দাঁড়িয়ে পড়ল। পকেট থেকে চাবি বের করে আকাশের দিকে ছুড়ে দিয়ে জড়িয়ে যাওয়া গলায় বলে উঠল,
"আমার ঘরের তিন নম্বর ড্রয়ারে কাবিননামাটা আছে, নিয়ে এসো।আমার প্রিয় লুঙ্গিবৌ ঐ থালাচাটা পুলিশের মুখের কথা বিশ্বাস করলেও এই অভ্রর কথা বিশ্বাস করবে না। কাগজ ছাড়া গেলে আজকে আমারে দরজায় দাড় করিয়ে রাম দা দিয়ে গলা কাটবে।"
আকাশ আর কী করবে নিশা কে প্রথমবার দেখেই তার প্রান যায় যায় অবস্থা এখন নাকি তার বাড়িতে যাওয়া লাগবে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে গিয়ে ঘর থেকে কাগজটা নিয়ে এলো। তারপর গাড়ি চলতে শুরু করল। অভ্র ড্রাঙ্ক অবস্থায় মাঝে মাঝে চোখ খুলে নিশার বাড়ির পথ দেখাচ্ছে, আর আকাশ সেই মাতাল জিপিএস ভরসা করে কোনোমতে স্টিয়ারিং ধরে রেখেছে।
আব্রাহামের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় সে কোনো হোটেলে না গিয়ে আজ টার্গেট করেছে নিশার বাড়িতে থাকার।নিশার বাড়ির উদ্দেশ্যে সেও রওনা দিয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ ধরে খাটের তলায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকায় রহিমার পুরো শরীর যেন জমে একাকার। হাঁটু, কোমর, পিঠ সব জায়গায় টনটন করছে ব্যথা। সেখানে আর থাকতে না পেরে পা টিপে টিপে বের হলো।
খুব সাবধানে নিজের ঘরের সামনে গিয়ে এক লাফে ভেতরে ঢুকে করে দরজা আটকে দিল। বুকের ওপর হাত রেখে জিরোতে যাবে,তখনই কিছু একটা আন্দাজ করে সে পেছন ফিরে তাকাল।
রহিমার বুক ধড়ফড় করে উঠে শ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়।তার খাটের ঠিক মাঝখানে শুয়ে আছে নিশা।
রহিমার আত্মার রামপাখি তখন খাঁচা ছেড়ে উড়ার উপক্রম। সে সোজা দৌড় দিয়ে গিয়ে নিশার পায়ে একদম আছাড় খেয়ে পড়ল।
— "ও আপামনি। আমারে ক্ষমা করে দেন। আমার ভুল হয়া গেছে আপামনি।আর কোনো দিনও আপনার বিপক্ষে যাবো না।"
নিশা কোনো কথা না বলে পকেট থেকে একটা চুইংগাম বের করে মুখে দিয়ে বলল,
"চল তোকে থিয়েটারে ভর্তি করে দিয়ে আসি।ঐখানেই অভিনয় করবি।ডেমনি মাগি।"
রহিমা তখনও হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "আপামনি, আর হবে না।খোদার কসম।"
"নিজে ভুল করে খোদাকে টানবি না। নিরিবিলি থাকতে দে খোদাকে।তোরে একটা সুযোগ দিতে পারি।"
রহিমা গদগদ হয়ে বলে,'' জি আপামনি বলেন।"
"আমার আজকে খুব কাচ্চি বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করছে আর সাথে ইলিশ মাছ ভাজি আর আর আর পায়েশ খেতে মন চায়।যা বানিয়ে নিয়ে আয়।''
রহিমা মুখ কালি করে বললো," এখনি একসাথে এত কিছু?"
"আমার রাম দা টা নিয়ে আয় তো।"
"আমি এখন ই রান্না করতে যাচ্ছি।" রহিমা এক দৌড়ে রান্নাঘরে চলে গেল।নিশা সেখানেই শুয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রল করতে লাগলো।
এই রাতে ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে রান্নাঘরে হাঁসফাঁস করছে রহিমা। কড়াইয়ের ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ শব্দ আর তেলের ছিটকার মধ্যে তার অবস্থা কাহিল। ওদিকে আব্রাহাম এসে একের পর এক অধৈর্য হয়ে কলিংবেল বাজিয়েই চলেছে। বাড়িতে এখন নিশা আর রহিমা ছাড়া আর কেউ নেই। জামিলার মায়ের শরীর অসুস্থ থাকায় জাহানারা বেগম আর জামিলা আজ বিকালে ক'দিনের জন্য জামিলার মায়ের বাড়িতে গেছে।
রহিমার হাত-পা কাঁপছে। একপাশে ইলিশ মাছ ভাজি হচ্ছে, চুলার কাছ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য নড়লেই মাছ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
আর মাছ পুড়লে নিশা তার কী গতি করবে, সেটা ভাবতেই রহিমার পিঠের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠাণ্ডা স্রোত নেমে গেল। নিশা মুখের কথা বাতিল করে রাম দা বের করতে এক মুহূর্তও ভাববে না। কিন্তু ওদিকে অবিরাম কলিংবেলের তীক্ষ্ণ শব্দ রহিমার মাথার রগগুলোকে যেন ছিঁড়ে ফেলছে।
অতিষ্ঠ হয়ে হাতে চাটু নিয়েই সে দৌড়ে গেল দরজার দিকে।
নিশার বাড়ির দরজার সামনে আব্রাহাম দাঁড়ানো। তার পেছনে এসে হাজির হয় অভ্র আর আকাশ। টলতে টলতে আব্রাহামকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অভ্রর ভ্রূ কুঁচকে আসে। চরম বিরক্ত হয়ে আকাশকে উদ্দেশ্য করে বলে, "এই এঁটো থালাচাটা পুলিশ অফিসার আবার এইখানে কী করে?"
কারো উপস্থিতি টের পেয়ে আব্রাহাম পেছনে ফেরে। অভ্রকে দেখে সরাসরি চড়া গলায় জিজ্ঞেস করে, "কী চাই আপনার এখানে?"
অভ্র দাঁত বের করে একগাল হেসে জড়িয়ে যাওয়া গলায় উত্তর দিল, "বৌ চাই।"
"আর ইউ ড্রাঙ্ক?"
অভ্র কিছু বলার আগেই পাশ থেকে আকাশ বিনয়ের সাথে নিজের ডান হাতের তর্জনীর ওপরের এক কর মেপে দেখায়। গলার স্বরে রাজ্যের হতাশা আর ক্লান্তি নিয়ে বলল, "জাস্ট আ লিটিল।"
এরপর তিনজনই দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে তুমুল প্রতিযোগিতায় কলিং বেল বাজাতে শুরু করল। শব্দের গ্যাঁড়াকলে পুরো বাড়ি গমগম হয়ে উঠেছে।
কিছুক্ষণ পর রহিমার আর ধৈর্য রইল না। সাঁ সাঁ করে এসে কবাট দুটো এক টান মেরে খুলে দিল সে। অন্য যেকোনো দিন হলে রহিমা আগে দরজার ওপাশ থেকে জানতে চাইত ‘কে?’। কিন্তু আজ বাড়িতে নিশা স্বমহিমায় উপস্থিত থাকায় রহিমার ওসব সাবধানতার মনে জোর ছিল না।
দরজা খুলেই রহিমা অবাক।মাঝরাতে দরজার মুখে তিনজন পুরুষ মানুষকে এভাবে অদ্ভুত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে ভ্যাবাচেকা খেয়ে জিজ্ঞেস করল, "এত রাতে কী চাই আপনাদের?"
পলকের মধ্যে অভ্র আর আব্রাহাম একসাথে, প্রায় একই সুরে গর্জে উঠল, "বৌ চাই।"
রহিমা চোখের পাতা পিটপিট করে চরম বিস্ময়ে বলল, "বৌ কে?"
আবারও দুজন একই সাথে কড়াগলায় বুমেরাংয়ের মতো বলে উঠল, "নিশা মল্লিক।"
আব্রাহামের চোখ দুটো তখন ছানাবড়া। সে অভ্রর দিকে ঘুরে বলে উঠল, "হোয়াট দ্য ফাক! আমার বৌ কবে থেকে আপনার বৌ হলো, অ্যাঁ?"
অভ্র হেসে উত্তর দিল, "যেদিন থেকে আপনি নিজেকে আমার বৌয়ের ভণ্ড স্বামী বলে দাবি করছেন, ঠিক সেই আশুভ দিনটা থেকেই।"
"আপামনি ও আপামনি, আপনার দুই ভাতার আইছে।মানে আপনার জামাইরা আইছে।ধুর, মানে তিনজন লোক এসেছে।"
রহিমা ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের রুমের দিকে মুখ করে ডাক ছাড়লো "আপামনি ও আপামনি,আপনার দুই ভাতার আইছে। মানে, আপনার জামাইরা আইছে।ধুর! মানে, তিনজন লোক এসেছে বাইরে।"
"এত রাতে আবার কোন ডেমনা এলো" নিশা ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মেরে চোখমুখ কুঁচকে সে বাইরে এসে দাঁড়াতেই সামনের দৃশ্য দেখে একটু অবাক হলো।
নিশাকে বের হতে দেখেই আকাশের বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।সে এক দৌড়ে পাশের একটা বড় গাছের আড়ালে গিয়ে শুট করে লুকিয়ে পড়ল, যেন সে ওখানে ছিলই না।
নিশা অগ্নিদৃষ্টিতে আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে বলল, "আপনার গায়ের চামড়া কি শুকরের? গণ্ডারের চামড়াও তো এত মোটা হয় না।বারবার মানা করার পরও এখানে পড়ে আছেন কেন?"
পাশ থেকে ড্রাঙ্ক অভ্র হেসে মাথা দোলাতে দোলাতে বলল, "হাহ্, একদম খাঁটি কথা।আমারও বহুকাল ধরে সন্দেহ, লোকটার চামড়া হয়তো কোনো মহিষ বা শুয়োরের ছাল দিয়ে বানানো। তা না হলে এত গালি খেয়েও পাউডার মাখা মুখের এক্সপ্রেশন চেঞ্জ হয় না কেন?"
নিশা এবার ঝাঁঝালো চোখে অভ্রের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, "আর আপনার এখানে কী কাজ? মাঝরাতে মাতলামি করতে এসেছেন?"
অভ্র এক চোখ বন্ধ করে ঢুলতে ঢুলতে হাসল, "বৌয়ের কাছে আসতে আবার কাজ লাগে নাকি? জামাইরা তো অকাজেও বৌয়ের ঘরে হানা দিতে পারে।"
নিশা কপাল কুঁচকে, ভ্রূ বাঁকিয়ে বলল, "কে বৌ?"
অভ্র বুকের ছাতি টান করার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল, "কেন, আপনি।আমার ফায়ার বার্ড মাই ফিনিক্স জলজ্যান্ত সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাও জিজ্ঞেস করছেন?"
নিশা চবলল, "মানে?"
অভ্র এবার দুই দিকে দুলতে দুলতে বিকট গলায় ডাক দিল, "আকাআআাশ, অম্বর,বাতাস কোথায় হারিয়ে গেলি ? এদিকে আয়।"
গাছের আড়াল থেকে আকাশ থরথর করে কাঁপতে কাাঁপতে বেরিয়ে এলো। অভ্র তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই আকাশ ভাবল, মাতাল স্যার বুঝি ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে তার হাত ধরতে চাইছে।আকাশও অত্যন্ত দরদ নিয়ে স্যারের হাত চেপে ধরল।
অভ্র এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে খিঁচিয়ে উঠল, " বলদ,রোমান্স করতে হাত বাড়াইনি। কাগজ দে, কাবিননামা।"
আকাশ "ওহ ওহ!" করে পকেট থেকে তড়িঘড়ি করে কাবিনের কাগজটা বের করে নিশাকে দিল।
নিশা কাগজটা হাতে নিয়ে চোখ বোলাতেই তার সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে।
বর-কনের জায়গায় বর হিসেবে লেখা 'অভ্র রায়ান চৌধুরী' এবং তার পাশে নিখুঁত স্বাক্ষর, আর কনের জায়গায় নিশার নামের পাশে একটা বিশাল টিপছাপ মারা। তারিখ একই,এটা কিভাবে সম্ভব।
নিশা রাগী দৃষ্টিতে আব্রাহামের দিকে তাকাল।আব্রাহাম থাবা দিয়ে নিশার হাত থেকে কাগজটা কেড়ে নিয়ে একনজরে দেখল। রাগে তার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।তার সব প্লান এভাবে ভেস্তে গেলো।
কাগজটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে সে অভ্রর দিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসিয়ে বলল," এর দাম কিন্তু আপনাকে হাড় জিরজিরে করে মেটাতে হবে, মনে রাখবেন।"
এটা বলে সে সবার দিকে একবার তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
অভ্র হেঁচকি তুলতে তুলতে মুচকি হেসে জবাব দিল, "দাম? দাম তো আমি ক্যাশে চুকাব না কি কিস্তিতে, সেটা সময় বলবে এঁটো থালাচাটা অফিসার।তবে এখন আপনার মুখটা দেখে মনে হচ্ছে ফ্রিতেই খিঁচুনি উঠে গেছে।"
কথাটা শেষ করেই অভ্রর শরীরের সব ব্যাটারি যেন একবারে ডাউন হয়ে গেল। চোখ দুটো বুজে সোজা ওখানেই মাটিতে শুয়ে পড়ল।
আকাশ কাঁচুমাচু মুখ করে নিশার সামনে এসে হাত জোড় করে নিবেদন করল, "ম্যাডাম, প্লিজ, রাতটা অনেক হয়েছে, স্যারের অবস্থা খুবই খারাপ। উনাকে আজকের রাতটার জন্য অন্তত একটু ভেতরে শুতে দিন, দয়া করে।"
অভ্রের বেহাল দশা দেখে সে আর না করল না। কিন্তু সমস্যা হলো,এই ঢ্যাঙা মাতালকে ঘরে তুলবে কে? আকাশ অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু অভ্রকে তুলতে পারলো না। একপর্যায়ে চেষ্টা ছেড়ে দিয়ে আকাশ উঠে নিজের হাঁটুতে হাত দিয়ে হাঁফাতে লাগলো।
হটাৎ নিশা এক টানে আস্ত বিশালদেহী মাতাল অভ্রকে পাঁজা কোলে তুলে নিল।যেন কোনো তুলোর বস্তা তুলেছে।তারপর হনহন করে ভেতরে গিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফাতে ধপাস করে শুইয়ে দিল।
সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আকাশ আর রহিমা হা করে, চোখ গোল গোল করে দেখছিল। রহিমার মুখ দিয়ে গাল বেয়ে লালা পড়ার দশা, আর আকাশের চোয়াল খুলে একহাত নিচে নেমে গেছে।একটা মেয়ে একটা শক্তপোক্ত ছেলেকে এভাবে কোলে তুলে নিয়ে গেল?
আকাশ রহিমাকে বললো," আপনার ম্যাডাম কোন চালের ভাত খায়?আর কি কি খায়?"
নিশা ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে এসে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে আকাশের দিকে তাকিয়ে শীতল গলায় জিজ্ঞেস করল, "আপনিও থাকবেন নাকি ভেতরে? আপনিও মাতাল?"
আকাশের বুকের ভেতর অমনি সব যন্ত্রপাতি ঢোল বাজাতে শুরু করেছে।সে মনে মনে বলল," আকালে মরার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নাই।জেনেশুনে বাঘীনির গুহায় রাত কাটাতে চায় কে?এখানে থাকলে তো সকাল সূর্য আর দেখা হবে না।"
আকাশ একগাল মাখন-মাখা হাসি হেসে বলল, "না না ম্যাডাম।আমি একদম ঠিক আছি।আমি বরং এখন আসি কাল সকালে এসে স্যারকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবনে। গুড নাইট ম্যাডাম।"
বলার সাথে সাথেই আকাশ উল্টো জোরে হেটে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো। রাস্তায় গিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিলো আর বললো," স্যারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি বড় ভালো মানুষ ছিলো হয় দুই একটা খুন করেছে কিন্তু লোকটা ভালো মনের ছিলো।"
নিশা অভ্রের বিপরীতে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে ভাবছে "এ কেন আমাকে বিয়ে করলো আবার মনে মনে এই ভেবে খুশি হচ্ছে যে আব্রাহামের সাথে তার বিয়ে হয় নি। রাস্তার ভিখারি,পাগল ,গরু যার সাথেই বিয়ে হোক সমস্যা নেই কিন্তু আব্রাহাম নয়।"
চলবে__