ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে শুধু তুই

৫ম পর্ব

লেখক: আয়শা মনি

উপন্যাস: হৃদয়ে শুধু তুই

লেখিকা: আয়শা মনি 

পর্ব: ৫

কলেজ শেষ করে আজ আয়রা তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসেছে। কারণ সে আর রাইছা মিলে অদ্বয়ের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার একটা জবরদস্ত আইডিয়া পেয়েছে। আজ থেকেই আয়রা অদ্বয়ের কাছে পড়তে বসবে। তাই কলেজ থেকে এসেই সে গোসল করে নিয়েছে। নয়তো অন্যদিন সে আসরের সময় গোসলে যায়।

দুপুরে খাবার টেবিলে মুসতাক আহমেদ আয়রাকে এত তাড়াতাড়ি গোসল করতে দেখে বললেন,

— আয়রা, তুমি কি আজ কোথাও পড়ে গিয়েছিলে?

আয়রা বলল,

— না তো কেন, বাবাই?

মুসতাক আহমেদ হেসে বললেন,

— না, আজ এত তাড়াতাড়ি গোসল করলে তাই জিজ্ঞেস করলাম।

তার কথা শুনে সবাই হাসছে, শুধু অদ্বয় বাদে। অদ্বয় সুমাইয়া বেগমকে জিজ্ঞেস করল,

— কাকিমা, আয়রা কখন গোসলে যায়?

সুমাইয়া বেগম বললেন,

— ওর কি গোসল বা খাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা আছে নাকি!

অদ্বয় আয়রাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

— কাকিমা, কাল থেকে যেন নিয়মিত খায় আর কলেজ থেকে এসেই গোসল করে। না হলে ভালো হবে না।

অদ্বয়ের কথা শুনে আয়রা মনে মনে বলল,

নিজের চলাফেরার ঠিক নেই, এসেছে আমাকে বলতে!

অদ্বয় খাওয়া শেষ করে উঠে চলে গেল।

সন্ধ্যায় অরণ্য, আরিয়ান আর নাদিম বাসায় এসেছে। আয়রা ভাইদের সঙ্গে ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। তখনই মেইন দরজা দিয়ে অদ্বয় প্রবেশ করল।

অদ্বয় আয়রাকে টিভি দেখতে দেখে বলল,

— আয়রা, পড়তে বসতে হবে—এই খেয়াল আছে?

আয়রা বলল,

— আজ না বসি? কাল থেকে পড়ব। আজ ভাইয়ারা বাসায় আছে।

অদ্বয় গম্ভীর হয়ে বলল,

— পাঁচ মিনিটের মধ্যে যেন বই-খাতা নিয়ে আমার রুমে তোকে দেখি।

তারপর ভাইদের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তোরা অফিসে যা। একটা মিটিং অ্যাটেন্ড করতে হবে।

তিনজনই মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল। অদ্বয়ও নিজের রুমে চলে গেল।

এদিকে আয়রা মনে মনে অদ্বয়ের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে।

ফাতেমা বেগম বললেন,

— আয়রা, তুই তো এখন পড়তে যাবি। অদ্বয়ের কফিটা নিয়ে যা।

তখনই আয়রার মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল।

— আচ্ছা মাননি, তুমি যাও। আমি বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

ফাতেমা বেগম চলে গেলেন। আয়রা রান্নাঘরে গিয়ে এক কাপ কফি বানাল। তারপর কফিতে বেশ খানিকটা লবণ মিশিয়ে দিল।

রুমে ঢুকতেই একটা সুন্দর ঘ্রাণ নাকে এলো। বুঝল, এটা অদ্বয়ের পারফিউমের ঘ্রাণ। আয়রা মনে মনে বলল,

এই করলার শরীরের ঘ্রাণ এত সুন্দর কেন!

ঠিক তখনই ফ্রেশ হয়ে অদ্বয় বের হলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আয়রাকে বিড়বিড় করতে দেখে বলল,

— কী বিড়বিড় করছিস? কফিটা টেবিলে রাখ আর পড়তে বস।

গোসল করা অদ্বয়ের দিকে তাকিয়ে আয়রা থমকে গেল। অদ্বয় কালো ট্রাউজার আর কালো ফুলহাতা গেঞ্জি পরেছে। মাথা পুরো মুছেনি, তাই চুল থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, চোখ দুটো গাঢ় কালো। চুলগুলো বাবরি হলেও এখন কপালে পড়ে আছে।

অদ্বয়কে এভাবে দেখে আয়রা যেন ক্রাশ খেয়ে বসল।

অদ্বয় বলল,

— কী এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? পড়বি না?

আয়রা হকচকিয়ে গেল। নিজের ভাবনার জন্য নিজেই লজ্জা পেল।

অদ্বয় এবার রাগী সুরে বলল,

— কী ভাবছিস? যা, পড়তে বস।

— জ্বি… বসছি। আপনার কফি।

— তুই বানিয়েছিস? রাখ টেবিলে।

— হ্যাঁ, আমি বানিয়েছি।

আয়রা কফি রেখে পড়তে বসল।

অদ্বয় মাথা মুছে এসে আয়রার সামনে বসল।

— দেখি তোর কফি কেমন হয়েছে। ভালো হলে কাকিমাকে বলে বিয়ে দিয়ে দেব!

এই বলে কফিতে চুমুক দিতেই সঙ্গে সঙ্গে মুখ থেকে বের করে ফেলল। অদ্বয় বুঝল—এটা আয়রার ইচ্ছে করেই করা। কিন্তু কিছু বলল না। সুমাইয়া বেগমকে দিয়ে আরেক কাপ কফি আনাল।

অদ্বয় কিছু না বলায় এবার আয়রাই চিন্তায় পড়ে গেল।

হঠাৎ অদ্বয় বলল,

— এবারের মতো কিছু বললাম না। নেক্সট টাইম এমন করলে খারাপ হবে। মন দিয়ে পড়।

আয়রা চুপচাপ বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু তার মন বইয়ে নয়—অদ্বয়ের গম্ভীর চোখের দিকেই আটকে আছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন