ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে শুধু তুই

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: আয়শা মনি

উপন্যাস: হৃদয়ে শুধু তুই

লেখিকা: আয়শা মনি 

পর্ব:৬ 

অদ্বয়ের চোখ লাল হয়ে গেছে।কপালের সব রোগ ফুলে গেছে রাগে।আয়রা রিতি মত ভয়ে কাপছে।তাও সাহস সঞ্চয় করে একনাগাড়ে  বললতে লাগলো,,

sorry sorry sorry sorry sorry,,, 

আমি শুধু একটু শয়তানি করেছিলাম।আমি বুঝিনি আপনি এত রেগে জাবেন।

I am really sorry.”

আয়রার মুখে এত বার sorry শুনে অদ্বয়ের এর রাগ দ্বিগুণ বেরে গেলো।

রাগে অদ্বয় আয়রার গাল চেপে ধরে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে বলল,,

I f* your, sorry.”**

অদ্বয়ের এই রুপ দেখে আয়রা এক প্রকার কান্না করে দিয়েছে। আয়রার কান্না দেখে অদ্বয় ওকে ছেড়ে দিয়ে বলল,,

“Get out of my room.” 

আয়রা কিছু না বলে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে আসল।

দুজনের মধ্যে কেউই আর রাতে খেলনা।

আয়রা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পরেছে। 

অন্য দিকে অদ্বয় রাগ সামলাতে না পেরে ওর বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেছে। 

প্রতিদিনের মত আজও একটি সুন্দর সকাল রচিত হয়েছে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পরেছে গোটা পৃথিবীতে। সূর্যের আলো জানালা ভেদ করে আয়রার চোখে পরতেই পিট পিট করে চোখ খোলে আয়রা।

আরমোরা ভেঙে উঠে বসতেই কাল রাতের কথা মনে পরে।তার মনে অনেক অভিমত জমেছে।কি এমন করেছে সে যাতে ওর সাথে এমন করল।আয়রা ঠিক করল ও অদ্বয় এর সাথে কথা বলবে না।

আজ আর কলেজ জাবেনা ঠিক করল আয়রা। তাই রাইছাকে কল করল ও জাবেনা এইটা বলতে।

আয়রা:ডার্লিং আমি আজ কলেজ যাব না।

রাইছা:কেন?

আয়রা: এমনি।ভালো লাগছেনা।

রাইছা :তাহলে আমিও জাবনা।

আয়রা:আচ্ছা ডার্লিং শুন।

রাইছা:হ্যাঁ,বল

আয়রা পরে রাইছাকে সব খুলে বলল,,আয়রা কথা শুনে রাইছাও অদ্বয়ের মত রেগে গেল।

রাইছা:এইটা ঠিক করিস নি তুই। কারো পছন্দের জিনিস নিয়ে এমন করা ঠিকনা।

আয়রা:হুমম,, তাই তো আমি সরি বলেছিলাম পরে আরও রেগে গেল।

রাইসা:তোর সরি টা মনে হয় পছন্দ হয়নি।

আয়রা:হুম, তাই হবে৷ আচ্ছা ডার্লিং আমি ফ্রেশ হয়ে তোকে কল দেই। নয়তো আবার আমার মা জী বাড়ি মাথা তুলে ফেলবে।

রাইছা:আচ্ছা যা।

রাইছার সাথে কথা  শেষ করে আয়রা ফ্রেশ হয়ে নিচে গেল। খাবার টেবিলে আয়রা জানতে পারলো অদ্বয় কাল রাতে বাসায় ফেরেনি। আয়রার মনটা খারাপ হয়ে গেল।তার জন্য লোকটা আসেনি।আয়রা রাকে এমন বেখেয়ালি ভাবে খেতে দেখে মোজাফফর  সাহেব বললেন,,

কি হয়েছে মামনি। 

আয়রা:কিছু না বাবাই। 

মোজাফফর সাহেব:আজ কলেজে যাবে না? 

আয়রা: না।

মোজাফফর সাহেব: কেন।

আয়রা:ভালো লাগ ছেনা বাবাই।

মুশতাক আহমেদ :তাহলে আমি অদ্বয়কে বলে দিচ্ছি তোমাকে নিয়ে জাতে গুড়ে আসে।

আয়রা:না, কাকাই লাগবেনা আমি গাড়ি করে রাইছাদের বাড়ি চলে যাব।

ইশতিয়াক:না দরকার নেই যেতে হলে আমি তোকে দিয়ে আসব একা একা যেতে হবেনা।

আয়রা:ঠিক আছে। 

খাওয়া শেষ করে রেডি হয়ে নিচে গেল। নিচে গিয়ে দেখল অদ্বয় সোফায় বসে আছে। আয়রেকে রেডি হয়ে নিচে নামতে দেখে অদ্বয় জিজ্ঞেস করল,,  কোথায় যাচ্ছিস? 

আয়রা:রাইছাদের বাড়ি। 

অদ্বয়:কেন।

আয়রা:ভালো লাগ ছেনা তাই।

অদ্বয়:কে নিয়ে যাবে।

আয়রা:ইশতিয়াক ভাইয়া।

অদ্বয় ছোট ভাইয়ের উদ্দেশ্য বলল,,

তোর যেতে হবেনা আমি নিয়ে যাচ্ছি। 

বড় ভাইয়ের কথা কর্ণকহলে প্রবেশ করতেই তরিতব্যাগে এসে বলল,,

ভাইয়া আমি নিয়ে যাই।

-না

—ভাইয়া প্লিজ । তুমি তো যান।

—কি জানে।

আয়রার কতা শুনে ইশতিয়াক পিছনে ফিরলে তাকাল।ভাইকে মানাতে গিয়ে ভুলেই গিয়ে যে এখানে আয়রাও আছে।

—কিছুনা। তোদের সাথে আমিও যাব।

—আপনাকে কেন যেতে হবে।

—সেটা আমি তোকে বলবনা।

ইশতিয়াক ড্রাইভ করছে।পাশে অদ্বয়, আর পেছনের ছিটে আয়রা বসেছে।

হঠাৎ ইশতিয়াক বলে উঠলো,, ভাইয়া তুমি তো অনেক ভালো গান গাও। একটা গাও এমনিতে এভাবে চুপচাপ যেতে অনেক বোরিং লাগছে।

ছোট ভাইয়ের কথা শুনে মুচকি হাসলো অদ্বয়।

চুপচাপ ড্রাইভ কর।

—না একটা গাও না।

—না।

—একটা গাইলে কি হয় গান। 

আয়রার কথা শুনে অদ্বয় পিচলে হাসলো।পরক্ষণেই

গেয়ে উঠলো.... 

তোমার চোখে আকাশ, আমার

চাঁদ উজাড়, পূর্ণিমা

ভিতর থেকে বলছে, হৃদয়

তুমি আমার, প্রিয়তমা

পথের শুরু থেকে শেষে,

যাবে তোমায় ভালোবেসে।

বুকে আছে তোমার জন্য,

অনেক কথা জমা।

গান শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইশতিয়াক জোরে চেচিয়ে উঠলো। বোধহয় অদ্বয়ের গাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল  চেচানোর জন্য। তা অবশ্য বোঝার বোধগম্য হলোনা। 

আয়রা এক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অদ্বয়ের পানে।তার কিশোরী বয়সে এই প্রথম এমন অনূভুতির শিকার হলো।আয়রার চোখে বার বার ভাসছে অদ্বয়ের সেই সদ্য গোসল করা মূর্ত। 

ওরা কিছুক্ষণের মধ্যেই পোওছে গেল রাইছাদের বাড়ি। গাড়ি থেকে নেমেই আয়রা রাইছাকে কল দিয়ে নিচে আসতে বলল।

রাইছা নিচে নামতেই আয়রা গিয়ে ওকে জারিয়ে ধরলো। 

— ডার্লিং তোকে বলেছিলাম কল দিবো।কিন্তু দেখ আমিই চলে এসেছে।

— হুম। কিন্তু আমাকে বললিনা কেন যে তুই আসবি তাহলেতো আমি আম্মুকে বলে তোর জন্য বিরিয়ানি রান্না করতাম।

— তো এখন রান্না করবি।দেখ ভাইয়া রাও এসেছে।

আয়রার কথা শুনে রাইছা আয়রার পিছনে তাকাগেই একটা চিনা মুখ দেখতে পেল।

ইশতিয়াকের সাথে চোখা চোখি হতেই রাইসা মাথা নিচে নামিয়ে নিল।

— কেমন আছেন আপনারা?

দুজনেই এক সাথে জবাব দিল,,

ভালো আছি। 

ইশতিয়াক আবার ফের প্রশ্ন করলো,, তুমি কেমন আছো? 

— জ্বি ভালো আছি।

অদ্বয় আয়রাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,

তাহলে তুই থাক আমি এসে সন্ধ্যায় তোকে নিয়ে যাব।

অদ্বয়র কথা শুনে আয়রা তরিত ব্যাগ এ শুধালো,, ভেতরে আসবেননা,,

— না আমাদের কাজ আছে।এটা বলেই অদ্বয় গাড়ির দিকে হাটতে লাগল।

এদিকে ইশতিয়াক বড় ভাইয়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে মনে,,

কি হতো যদি আরেকটু থাকতো।

ওরা চলে যেতেই আয়রা রাও বাড়িতে প্রবেশ করল।

সময় কারো জন্য থেমে থাকেনা।সময় তার নিজ গতিতেই চলছে। এর মধ্যে  চলে গেছে আরও ১০ দিন। 

আয়রা পার্টির জন্য একটা সাদা গ্রাওন পরেছে।  গোলাপি  উষ্ট যোগালে হালকা লিপ বাম। গাড়ো বাদামী  চোখের নিচি গাড়ো করে কালজ দেওয়া। হাটু অব্দি চুল গুলো খোলা।এতেই জেন আয়রাকে পরির মত লাগছে।

আয়রা রেডি হয়ে নিচে নামতেই সুমাইয়া বেগম মেয়েকে সুরা পড়ে "ফু" দিয়ে দিল।যাতে মেয়ের দিকে কেউ নজর দিতে না পারে। 

এটা দেখে ইশতিয়াক মনে মনে,,

কিন্তু কাকিমা এখম আর "ফু" দিয়ে লাভনেই  তোমার পরির মত মেয়ের দিকে যার নজর দেওয়ার সেতো দিয়েই দিয়েছে।

আজ অদ্বয় এর অফিসের ওপেনিং সেরিমনি।তার ফ্রান্সে কোম্পানি থাকার সুবিধার্থে বেশি কষ্ট করতে হয়নি।অনুষ্ঠানে পুরো শেখ পরিবার উপস্থিত। 

ওপেনিং সেরিমনি এর পাশাপাশি অদ্বয়ের দেশে আসার জন্যও পার্টির আয়োজন করাহয়েছে।

আয়রা একজায়গায় চুপ করে বসে ছিল।তার কিছু ভালো লাগছেনা।

হঠাৎ কোথা থেকে এক ছেলে এসে আয়রা হাত ধরে টানতে লাগলো। আয়রা সব শক্তি দিয়ে চাইছে হাত ছাড়াতে কিন্তু পারছেনা।

পরক্ষণেই ছেলেটা মাটিতে পরে গেল। এক মূহুর্তেই সব শান্ত। ছেলেটার নাক বেয়ে অবিরাম রক্ত বের হচ্ছে। 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন