পর্ব: ৮
মুজাফফর সাহেবের কথা শুনে রিনা বেগম মুশতাক আহমেদের উদ্দেশ্য বললেন,,
— ভাইজান ছেলে মেয়েরা ছোট ওরা এসবের কি বুঝে, তখন ওরা আবেগের বসে কি না কি বলেছে ওইটা ধরে রাখলে হবে, আর নীলারতো অদ্বয় বাবাকেই পছন্দ।
রিনা বেগমের কথা শুনে আরিয়ান অবিশ্বাস্য চোখে নীলার দিকে তাকালো, সে ভেবে ছিল নীলা হয়তো রিনা বেগমকে কিছু বলবে।হঠাৎ আরিয়ান চিৎকার করে উঠলো,,
— মানি,,নীলা ভায়াকে পছন্দ করে কিভাবে।ওতো আমাকে ভালোবাসে।আমরাতো ২ বছর জাবত রিলেশন শিপেও আছি।এটা সবাই জানে।নীলা বল তুমি আমাকে ভালোবাস। তুমি চুপ করে কেন আছো।
মুশতাক আহমেদ এখন সবার উদ্দেশ্যে ধমক দিয়ে বললেন,,
"চুপ কর সবাই"
— রিনা নীলার সাথে আরিয়ানের বিয়ে তো ঠিক হয়ে ছিল এখন আবার এসবের মানি?
— ভাইজান,, নীলার আরিয়ানকে না অদ্বয়কে পছন্দ।
— নীলা তোমার কি সত্যি অদ্বয়কে পছন্দ?
— জ্বি,,
নীলার মুখ থেকে "জ্বি" শব্দটি বের হবার সাথে সাথে জম,,জম,, আওয়াজে প্লেট পরে ভেঙে গেল।
আরিয়ানের চোখ রাগে লাল হয়ে গেছে। ও সাধারনত খুব শান্ত ছেলে। কিন্তু রাগ উঠলে ওকে থামানো অসম্ভব।
— কিন্তু তোমার তো আরিয়ানের সাথে রিলেশন ছিল।
— মামা,,ওটা শুধু একটা মোহ ছিল।আমি সত্যি অদ্বয় কে ভালোবাসি
নীলার মুখ থেকে অদ্বয় আর ভালোবাসি শব্দটি বের হতেই ওর গালে লাগাদার ৪ টা থাপ্পড় পরল।
— তোর সাহস কিভাবে হলো আমার নাম আর ভালোবাসি বলার।
নীলা গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর গালে অদ্বয়ের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ বসে গেছে।
— ভাইজান,,তোমার বাসায় এসেছি বলে কি তোমরা আমাদের সাথে যা ইচ্ছা তাই করবে।অদ্বয়ের সাহস কিভাবে হলো আমার মেয়ে মারার।
— আপনার ভাগ্য ভালো ভাইয়া শুধু ওকে থাপ্পড় দিয়েছে। আপনি এখানে আর এক মূহুর্ত থালে আমি এখন ওকে মেরেই ফেলব।
নাদিমের কথা শুনে মুশতাক আহমেদ ওর গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল,,
— তোর সাহস কিভাবে হয় ওর সাথে বিয়াদপি করার।এখানে বড়দের মধ্যে কথা চলছে তোমরা চুপ থাক।
— কাকাই কেন ভাইয়ারা চুপ থাকবে।আপনার বোন আর বোনের মেয়ে আমার ভাইয়ার সাথে যা করেছে এটা অনন্যায় নয়।
— আয়রা তুমি চুপ থাক।ছোট ছোটর মত থাক।
— কেন বাবা ও কেন চুপ থাকবে। আপনার বোনকে বললে আপনার খারাপ লাগে ওর ভাইয়ের সাথে অনন্যায় করলে ও কিছু বলতে পারবেনা কেন।
— রিনা শুন তুই আমার বোন আমি তোকে ভালবাসি ঠিক আছে। কিন্তু তাই বলে তুই আমার ছেলে মেয়েদের সাথে অনন্যায় করবে তা আমি মেনে নেব না।যদি আয়িয়ানের সাথে নীলার রিলেশন না থাকতো তাহলে আমি অদ্বয়কে বুঝিয়ে নীলার সাথে নিয়ে ঠিক করতাম।
— তুমি এখন কি বলতে চাইছো ভাইজান।
— আমি বলতে চাইছি তুই এই মূহুর্তে তোর মেয়েকে নিয়ে আমার বাসা থেকে বের হয়ে যা। এই শেখ বাড়ির দড়জা তোর জন্য আজীবনের জন্য বন্ধ।
— তুমি এটা বলতে পারলে।
— হ্যা, যা তোরা চলে যা।
রিনা বেগম রাগে গজগজ করতে করতে নীলাকে নিয়ে চলে এলো।
— ভাইজান,,
মুশতাক আহমেদ খাদিজা বেগমের দিকে তাকালেন।
— হুম বল,,
— এটাকি ঠিক হলো ভাইজান।
— তা ছাড়া আমি কি করব বল, ছোট থেকে গাধার মত খেটে আমি তোদের মানুষ করলাম। কি করিনি আমি তোদের জন্য। তারপরও রিনা সব সময় নিজেরটা বুঝেছে।ওর মত লভির এইটু শাস্তির জগ্য।
— তাই সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
মুশতাক আহমেদ কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেল।
শেখ বাড়ির তিন কর্তি মিলে সব গুছাচ্ছে। নাদিম, ইশতিয়াক ওরাও বাইরে চলেগেছে।ডয়িং রুম পুরো শান্ত হয়ে আছে। তার সাথে আরিয়ানও।ওর মনের ভিতর ঝড় বইছে।ঝড়ের ব্যেগয়ে যখন গাছের পাতা,ডাল এখান থেকে ওখানে তোল পাল করে তেমনি ওর মনে এখন তোলপাল চলছে।হঠাৎ কাঁধে কার স্পর্শ পেয়ে হালকা আৎকে উঠেলো আরিয়ান।
— ফুফু,,তুমি
— হ্যা,, আমি বুঝি এখানে আসতে পারিনা।
— না তাহবে কেন।
— আচ্ছা বল এখানে এভাবে কেন বসে আছিস।
— ভালো লাগছেনা।
— কষ্ট পেলে ওইটা কাওজে সেয়ার করতে হয়।এতে একটু হলেও কষ্ট কমে যায়।
খাদিজা বেগমের কথা শুনে আরিয়ান আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলনা।
— ফুফু,,আমি কি খতি কেরছিলাম। আমার সাথে কেন এমন হলো।আমিতো সত্যি ওকে ভালোবেসে ছিলাম।তার থেকে বড় কথা আমিতো ওর কাছে জাইনি ও আমার কাছে এসেছে। তাহলে এমন কেন করল।
— জীবনে এমন অনেক মানুষ আসে যারা থাকার জন্য নয় কিছু শেখানোর জন্য আসে।
— কিন্তু আমিতো ওকে চেয়েছিলাম।
— হুম তুই চেয়েছিলি কিন্তু ও চাইনি।জীবনে এমন অনেক বাঁধা আসবে তোকে শেষ করার জন্য কিন্তু তুই যদি হার মেনে জাস তাহলে কিভাবে।
— এখন আমি কি করব ফুফু,,
— আমি বলব না তুই কারো খতি কর,,আমি বলব তুই সব ভুলে যেয়ে আবার নতুন করে শুরু কর।ওদের দেখিয়ে দে।যে তুই ও অদ্বয়ের মত হতে পারিস।তুই ওদের থেকে আরও ভালো ডিজার্ভ করিস।
— তুমি বলছ মুভওন করতে।
— না,,সব ভুলে যেতে বলছি।তুই আবার নতুন করে সব শুরু কর।রেজাল্টের তুই ভাইজানের কোম্পানিতে বসবি।কিন্তু ওইটার আসায় থাকবিনা।
— মানি তুমি বলতে চাইছ আমি নিজের একটা কোম্পানি খুলি।
— হুম।
— কিন্তু আমি তো এসবের কিছু বুঝিনা।
— অদ্বয় আছেতো।
— ফুফু তুমিও অদ্বয় ভাইয়ের। কেন আমার কি কমতি আছে।
— তোর কোন কমতি নেই। তোর এখন অদ্বয়কে একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।
— কেন!
— কারণ ও নাথলে আজ তুই নীলার আসল চেহারা দেখতে পেতি।শুন অদ্বয় তোদের ভালো চায় তোদের ভালোবাসে। ভাইজান যেমন আমাদের ভালোবাসেন।
— ফুফু তুমি এত কথা কিভাবে জানো?
— বড় হো বুঝবি। নে এখন চোখের পানি মুছ। ছেলেদের চোখে পানি মানায় না।
— হুম। আর আমি এখনি অদ্বয় ভাইকে Thanks দিব।
তখনি অদ্বয় বাইরে যাবার জন্য বের হচ্ছিল। অদ্বয়কে দেখে আরিয়ান দৌড়ে ভাইয়ের কাছে গেল,,
— ভাইয়া Thanks..
— কেন?
— তুমি না থাকলে আমি নীলার আসল চেহারা দেখতে পেতামনা।
— এতে আমি কি করেছি।
— যাইহোক তুমিি করেছো সব।আর ভাইয়া একটা সাহায্য লাগবে।
— কি সাহায্য।
— আমাকে কোম্পানি সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতে হবে।এতে তোমার সাহায্য লাগবে। আমি কোম্পানি খুলবো।
— হুম ভালো কথা।আচ্ছা কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলিস আমি আছি।আর তার আগে আমার অথবা বাবার অফিসে বস কয়দিন যা।
— হুম ফুফু বলেছে।
— ও তাহলে এতক্ষণ ফুফু তোকে পরামর্শ দিয়েছে। তাইতো বলি তোর মত গর্ধব এত কিছু বুঝল কিভাবে।আমি তো এখনি বলে ফেলেছিলাম এই না হলে আমার শালা।
— ইশ ভাইয়া।
— আমিও এখানে আছি।সব বুঝেফেলেছি কিন্তু।
— হুম জানি।তুমি বুঝবেনাতো কে বুঝবে আমাকে বল।
— কেন তোর বউ কই।
— বউ বাহ ফুফু বিয়েই করলামনা বউ বানিয়ে দিলে।আর তোমার ভাইজান যেই মনেতো হয়না আমাকে আর বিয়ে করতে দিবে।
— হুম ভালোই হবে আমার বোনটা বেঁচে যাবে।
— দাঁড় তুই
আরিয়ানকে আর পায়কে।
— ফুফু ভালোই করেছে ওকে বুঝিয়ে নয়তো দেখা যেত এতক্ষণ কিছু একটা করে বসেছে।
— হুম
— ফুফু কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি
— হুম বল এতে অনুমতি নেওয়ার কি আছে।
— ফুফু তুমি তো আমার best friend তুহিনকে চিনই।
— হ্যাহ্যা চিনিতো। অনেক ভালো ছেলে।
— ফুফু ও আয়শাকে পছন্দ করেছে।ও অনেক ভালো ছেলে।
— হুম জানি ভালো নাহলে তুই মিসতিনা, কিন্তু
— কি কিন্তু ফুফু
— কিন্তু এটা ঠিক হবে।ও জানে আয়শা যে জীবনও মা হতে পারবেনা।
— হুম আমি বলেছি এতে ওর কোনো সমস্যা নেই। এমনকি ওর পরিবারকেও ও বলেছে তুহিন বাবা মার একমাত্র ছেলে হওয়ায় তারাও কোনো অমত করেনি।
— হুম তাহলে ঠিক আছে আমি তোর ফুফার সাথে কথা বলে দেখব।
— ফুফু আর আয়শা।
— ওকে নিয়ে চিন্তা করিসনা সেদিনিই ও আমাকে বলেছে তুহিনের কথা।ওর অনেক পছন্দ হইছে।
— তহলপতো হলই। আমি কি আয়শার নাম্বার দিতে পারব।
— দে দেখি। কি হয় যদি মিলে তাহলে আমি পরের মাসেই কথা বলব।
অদ্বয় কিছু বললনা মুচকি হেসে চলেগেল উপরে।ও ভেবপ ছিল আরিয়ান বেরিয়ে গেছে ভেবে ওকে খুজতে নিচে নেমেছিল।
— "ম্যাগনোলিয়া"
— ম্যাগনোলিয়া কি?
— কিছুনা। কি করছিলি
— কিছুনা।
— যা নিচে যা তখন কিছু খাসনি এখন খাবি যা
— না আমি খাবনা।
অদ্বয় আয়রার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকাল
— যাচ্ছি যাচ্ছি।
— হুম,, যা।