পর্ব: ৭
আয়রা ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেছে। কি থেকে কি হয়ে গেল সে কিছুই বুঝল না।
সবাই তাকিয়ে আছে সামনের মানুষটির দেকি।
আয়রার মুখ থেকে অস্পষ্ট শুরে বের হয়ে এলো আদ্বয় ভাই।
অদ্বয়ের চোখ রক্তিম লাল। কপালের রোগ অসাভাবিক ভাবে ফুলে আছে।কপাল গেয়ে ঘাম ঝরছে। সে সর্বচ্চ চেষ্টা করছে নিজের রাগ সামলাতে।পরক্ষণেই বলে উঠলো,,
— এটাই প্রথম করেছিস তাই এতোটুকু। দ্বিতীয় বার এমন হলে জান বের করে ফেলব মা**র**দ।
ইতি মধ্যে সবাই ফিসফিস করতে লাগলো।
হঠাৎ অদ্বয় সবার উদ্দেশ্য চেচিয়ে বলতে লাগলো,,
— সবাই একটা কথা কান খুলে শুনে রাখুন,,ওর গায়ে হাত দেওয়াতো দূরের কথা ওর দিকে যদি কেউ খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় তাহলে আমি তার জান কবজ করে ফেলব।
— আর তুই এখানে একা বসে কি করিস।
আয়রা ভয়াত্তক কন্ঠে বলল,,
ভাইয়া আসলে আমার ভালো লাগছিল না তাই বসে ছিলাম।
— যা আম্মুর কাছে যেয়ে বস।আর তোকে যদি কাকি মনি বা মায়ের কাছ থেকে দূরে যেতে দেখেছি তাহলে তোরও এর থেকে খারাপ অবস্থা করব।
এটা বলে অদ্বয় আয়রার হাত ধরে সুমাইয়া বেগমের কাছে নিয়ে গেল।
— কাকিমনি ওকে তোমার কাছে রাখবে কথাও যেতে দিবেনা একা একা।আর কথাও যেতে হলে তুমি সাথে যাবে নয়তো আরিয়ান কে নিয়ে যেতে বলবে।আমি ওকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি।
— আচ্ছা। আমি ওকে একা ছাড়বোনা। একন তুই শান্ত হো।মানুষ কি বলবে।
— কাকি মানি তোমার কি মনে হয় মানুষের কথার কারনে এখন আমি আমার পরিবারকে রক্ষা করবোনা।
অদ্বয় সুমাইয়া বেগমকে আর কিছু বলতে না দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
আয়রা চুপচাপ গিয়ে সুমাইয়া বেগমের পাশে বসে পড়ল। তার বুকটা এখনো ধকধক করছে। এত মানুষের সামনে অদ্বয় এভাবে তার জন্য এমন করবে সে ভাবতে পারেনি।
হাঠাৎ আয়রার মাথায় একটা কথা খুব ভালোভাবে গেথে গেল,,,
অদ্বয় ভাইকি তাকে ভালোবাসে?
না এটা হতে পারেনা অদ্বয়তো তাকে দেখতেই পারেনা।
আয়রা আবার নিজেকেই প্রশ্ন করলো,,
তাহলে তার জন্য এত মানুষের সামনে এমন কেন করলেন?
সেটার উত্তরও আয়রাই দিল,,
হয়তো আমি তার পরিবারের একজন সদস্য তাই।
আয়রাকে এমন আন মনা দেখে সুমাইয়া বেগম বললেন,,
— কি হয়েছে তোর? ওই বিষয়টা নিয়েকি এখন মন খারাপ?
— না,, মা।
— তাহলে?
— কিছু না।
— আয়রা আমি তোর মা আর যাই হোকনা আমি তোকে পড়তে পারি।
সুমাইয়া বেগমের কথা শুনে আয়রা তার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো,,
— মা....
— তোর মনে অদ্বয়কে নিয়ে একটা সুন্দর অনূভুতি আছে।
— কিন্তু মা। অদ্বয় ভাইতো আমাকে পছন্দ করে না।
— ধৈয্য ধারণ কর।
আয়রা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এই একটা যাকে সে সব বলতে পারে।
পুরো পার্টিতে আয়রার চোখ শুধু অদ্বয়কেই খুঁজেছে। কিন্তু অদ্বয়কে সেই ঘটনার পর আর দেখতে পাওয়া যায়নি।আর তরসইতে না পেরে আয়রা এবার আরিয়ানাকে প্রশ্নই করে বসলো,,
— ভাইয়া, অদ্বয় ভাই কথায়?
— কেন, ভাইয়াকে দিয়ে এখন তোর কি কাজ।
— এমনি,,বলনা কথায়?
— ভাইয়াতো তুহিন ভাইয়া কে আনতে গেছে।
— তুহিন কে ভাইয়া?
— তুহিন ভাইয়া হলো ভাইয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড।
আয়রা আর কিছু বলল না।
কিছুক্ষণ পরেই অদ্বয় আর তুহিন এসে উপস্থিত হলো।
অদ্বয়কে দেখেই আয়রা ওর কাছে গেল।
— কথায় গিয়েছিলেন?
আয়রাকে দেকে তুহিন অদ্বয়কে চিমটি কেটে ফিসফিস করে বলল,,
— ভাই এটাইকি ভাবি?এখন থেকেই এত দখল দারি বাহ।
— তোর মুখ বন্ধ রাখ।
অদ্বয় এবার আয়রার দিকে তাকিয়ে রাগী শুরেই বলল,,
— তুই এখানে কি করিস? তোকে বলে ছিনা একা একা কোথাও যাবিনা।
— না,না, আমি এতক্ষণ আম্মুর কাছেই ছিলাম।আপনাকে দেখে এদিকে এলাম।এখন বলুন কথায় গিয়ে ছিলেন?
— তোকে কেন বলব?
— "ইস" বলুননা।
— ওকে আনতে গিয়েছিলাম। ও তুহিন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।
— ওও,, ভালো আছেন ভাইয়া।
— হুম ভালো আছি।তুমি কেমন আছো মিষ্টি পরি?
— আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ভাইয়া। কিন্তু মিষ্টি পরি কেন?
—কারন তুমি পরির মতো দেখতে।
— হুম,, আপনার তাহলে চোখে পরেছে।কিন্তু যার পরার কথা তার এখন পরেনি।
— সে কে?
— থাক সে কথা বাদ দিন।
অদ্বয় এবার একটু জারেই বলল,,
যা কাকিমার কাছে যেয়ে বস।
আয়রাকে সুমাইয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে অদ্বয় তুহিনকে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,,
— এদিকে আয় তোর মিষ্টি পরি হচ্ছে।
— এমন করিস কেন? আচ্ছা বাদদে,,ওই মেয়েটা কেরে?
তুদিন আয়শার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল,,
অদ্বয় তুহিনের অঙ্গুলের বরাবর তাকিয়ে বলল,,
— কেন?তোর ওকে দিয়ে কি কাজ,,
— কিছুনা তুই বল।
— ও আমার কাজিন আয়শা।
— কিন্তু তোদের পরিবারেতো একটাই মেয়ে আয়রা ভাবি।
— গর্দব,, ও আমার বড় ফুফুর একমাত্র মেয়ে।
— ওহ,, ওর কি কোনো boy friend আছে?
— আমি কি করে জানব।ওর কেউ আছে কিনা।কিন্তু তুই তোর bf কে দিয়ে কি করবি।
— শশুর বানাবো শালা।
— দুনিয়ায় আর কাউকে পেলিনা শশুর বানাবার জন্য। শেষ মেষ আমার কাজিনের bf কেই পেলি।
অদ্বয়ের কথা শুনে তুহিন রাগে ফুসছে।সে এমনি কথার কথা বলেছিল। তাই বলে ও এটাকে এমন ভাবে বড় করবে নাকি।
তুহিনের রাগ দেখে অদ্বয়ের এখন হাসি পাচ্ছে। কিন্তু এখন হালে বধহয় ওর আর সংসার করা হবেনা। তার আগেই তুহিন ওকে উপরের টিকিট কেটে দিবে।তাই কোনো রিক্স না নিয়েই বলল,,
— ভাই ফুলিসনা,আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোকে ওর সব ডিটেইলস এনে দিব।এখন চল বাবার সাথে দেখা করবি।
তুহিনও আর কিছু বললনা। অদ্বয়ের পিছু পিছু গেল।
নতুন কাম্পানি শুরু করায় অদ্বয় এখন একটু বেশিই ব্যসতো।তাই আপাতত নাদিমি আয়রাকে পড়ায়। আর কিছু দিন পর থেকেই অদ্বয় পড়াবে।
আজ বাসায় শেখ বাড়ির দুই মেয়ে খাদিজা বেগম আর রিনা বেগম এসেছেন।আসার কারণ হলো অদ্বয়।অদ্বয় দেশে আসার পর ওর সাথে দেখা করতে তারা আাসেনি।সেদিন পার্টিতেও একটা কাজে আটকে জাওয়ায় আাসা হয়নি।শুধু তাদের মেয়ে,,আয়শা ও নিলাকে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
আয়শা হলো খাদিজা বেগমের একমাত্র মেয়ে।ওর বাবা রফিক মির্জা। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা।
আর নীলা হলো রিনা বেগমের বড় মেয়ে। ছোট মেয়ে আরও ৫ বছর আগে মারা গেছে। ওর বাবা কালাম কালি।তিনি হলেন একজন আইন জিবি।
বাবার মৃত্যুর পর মুশতাক আহমেদ চার ভাই বোনকে বাবার মত আগলে রেখেছেন।
আয়রা খাবার খাওয়ার জন্য নিচে নামতেই নীলাকে দেকতে পেল।ওর আর বুঝতে বাকি রইলোনা যে ফুফুরা এসেছে।ফুফুরা আসলে আয়রা সবচেয়ে বেশি খুসি হয় কিন্তু এবার নীলাকে দেখে একটুও খুশি হয়নি।
— কিরে তুই এখানে দাঁড়িয়ে আছিস যে।
আকশমিন কথা শুনে আয়রা হকচকিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই একটা শক্ত পক্ত শরীরের সাথে ধাক্কা খেল।
আয়রা ধাক্কা খেয়ে পরে জেতে নিলেই অদ্বয় ওকে তারাতাড়ি ধরে ফেলল।
— চোখে দেখিসনা দিন দুপুরে ধাক্কা খাস।
— পিছনে কেউ থাকলে সেটা আমি দেখব কিভাবে।আর আনিইবা কেন এই দিন দুপুরে ভুতের মত পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন।
— আমি ভুতের মত দেখতে?
— এটা আমি কখন বললাম।
— তাহলে ভুতের মত মানি কি।
— ভুতের মত আর কি হবে।আর আপনি ভুতনা আপনি হলেন একটা বজ্জাত বেডা।
—আমি বজ্জাত বেডা হলে তুই হলি ম্যাগনোলিয়া।
—"ম্যাগনোলিয়া" কি?
— তোর বুঝতে হবেনা। খেয়েছিস?
— না।
— আমি খাবার টেবিলে যাচ্ছি ২ মিনিটের মধ্যে তোকেও যাতে দেখি খাবার টেবিলে।
— হুম যাচ্ছি। কিন্তু আরেকটা কথা।
— হুম বল।
— আপনি একটু নীলা আপুর সামনে কম যাবেন।
— কেন?
— আমি বলেছি তাই।
— আচ্ছা যাবনা তুই তারাতাড়ি আয়।
অদ্বয়ের পিছু পিছু আয়রাও গেল খাবার টেবিলে। অদ্বয় সবার সাথে কথা বলছে।
হঠাৎ রিনা বেগম বলে উঠলেন,,
— ভাইজান কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি?
— হুম বল,,এতে অনুমতি নেওয়ার কি আছে?
— আসলপ ভাইজান,, অদ্বয়েরতো বিয়ের বয়স হয়েছে।
— হুম তা ঠিক বলেছিস।এখন তুই কি বলতে চাইছিস।
—আসলে ভাইজান,, বলছিলাম যে,,
—এত আমতা আমতা না করে বলল,,
— আসলে আমি অদ্বয়কে আমার মেয়ের জামাই করতে চাইছিলাম।
রিনা বেগমের কথা শুনে পুরো ডাইনিং টেবিল পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছে।মায়ের কথা শুনে নীলা লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে।অদ্বয়কে তার সেই দিনি পছন্দ হয়েছিল। মুশতাক আহমেদ কিছু বলতে জাবেন ঠিক তখনি অদ্বয় বলতে শুরু করল,,
— ফুফু এই প্রথম বলেছেন তাই কিছু বললাম না,কিন্তু আবার যদি আমি এইসব কথা শুনি তাহলে আমি ভুলেযেতে বাধ্য হবো যে আপনি আমার ফুফু।
আয়রা এতক্ষণ মাথা নিচু করে রেখে ছিল।অদ্বয়ের কথা শুনতে তার দিকে তাকালো।
হঠাৎ মুজাফফর সাহেব বলে উঠলেন,,
— ভাইজান,, আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে কিন্তু আগে থেকেই কথা বলাছিল।আরিয়ানের সাথে নীলার বিয়ে হবে।এবং কি ওরা তো দুই জন দুই জনকে ভালোবাসে।তাহলে এইসব কি। আমার ছেলেটাকে নিয়ে এমন ভাবে কেন খেললো। আমার ছেলে কি দোষ করেছিল।