ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে শুধু তুই

১২তম পর্ব

লেখক: আয়শা মনি
উপন্যাস: হৃদয়ে শুধু তুই
লেখিকা:আয়শা মনি
পর্ব:১২
— কে বলছেন?
— আপনার জামাই মহাশয় বলছিলাম। 
— কিন্তু আমারতো কোন জামাই নেই!
— হবু জামাই। 
— ওও তাহলে আমি হবু জামাই কে একটা কথা বলতে চাই।
— কি কথা?
— ফোনটা রাখি কাল আমার পরীক্ষা পড়তে হবে।
— ওকে বাট তার আগে একটা কাজ করতে হবে।
— কি কাজ।
— একটা হাম দিতে হবে।
আয়শা কিছু না বলে ফোন রেখে দিল
রাত এখন ১১ টার ঘরে। পুরো পৃথিবী যেন থমকে গেছে। চার দিক নিরব আঁধারে ছেয়ে পরেছে।পুরো শেখ বাড়ি গভির ঘুমে তলিয়ে আছে।ঘুম নেই শুধু দুই জনের চোখে।সেই ৭ টা থেকে পড়াচ্ছে অদ্বয়।আয়রা একটু পর পর ঝিমাচ্ছে আর অদ্বয় মাথায় গাট্টা কেরে ঘুম ভাঙাচ্ছে।অদ্বয় এবার বুঝতে পারল ওকে এভাবে পড়ালে হবে।তাই আগে ঘুম ভাঙানোর জন্য ওকে এক কাপ কফি বানিয়ে এনেদিল।আয়রা অবশ্য খেতে চাইছিলনা প্রথমে। কারণ সে ভেবে ছিল অদ্বয়ও হয়তো কফি তে কিছু মিশিয়েছে।অদ্বয় বলল,,
— এখন ১১:৩০ বাজে তারাতাড়ি পড় ১২ টায় যেতে দিব।
— কিন্তু আমার সব পড়াতো হয়ে গেছে। 
— তুই শিওর। সব পাড়বি তো।
— হুম। পাড়ব এখন ঘুমাতে যাই। 
— যা,,
আয়রা বই সব ফেলেই ওর রুমে চলে গেল। ওর অনেক ঘুম পেয়েছে। আজ এক সপ্তাহ ও ঠিক মত ঘুমাতে পারেনা।অদ্বয়ও আয়রার বই গুছিয়ে রেখে শুয়ে পরলো।হঠাৎ অদ্বয়ের ফোনের রিংটোন বেযে উঠলো। স্কিনে ম্যাগনোলিয়া নামটি দেখে ভ্রু কুঁচকিয়ে ফোন রিসিভ করল,,,
কি হয়েছে। আমার নাম্বার কথায় পেলি।
ফোনের ওই পাশে থেকে ভেসে এলো।
বাবার ফোন থেকে নিয়ে ছিলাম।আমি ঘুমিয়ে পরছি এটা যানা নোর জন্য ফোন দিয়েছ।
এটা বলেই আয়রা ফোন কেটে দিল।অদ্বয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে ফোন রেখে দিল।
আয়রা ফজরের সময় উঠেছে। ফজরের নামাজ পরেই প্রথম রাইছাকে ফোন দিয়েছে।দুই বান্ধবী কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে দিল। ওদের পরীক্ষা ৮ টা থেকে। তাই ফাতেমা বেগম আয়রাকে খাবার খাওয়িয়ে দিচ্ছে। আর এদিকে আয়রা একবার এদিকে যাচ্ছে তো আবার ওদিকে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে ফাতেমা বেগম বসে পরলেন।সে আর পারছেনা। আয়রা এমন ভাব করছে যেন সেই প্রথম পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। সুমাইয়া বেগম ওর সব গুছিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে ৫ বার অদ্বয়ের রুম থেকে ঘুরেও এসেছে আয়রা। আয়রাকে এমন ছটফট করতে দেখে এবার সুমাইয়া বেগম একটু ঘমক দিয়েই বললেন,,এই এক যায়গায় চুপ করে বসতে পারছিস না।মেয়ে মানুষ এত ছটপটে হতে কি হয়েছে। এর প্রতি উত্তরে আয়রা বলে উঠলো,, তুমিওতো মেয়ে তোমার এতো কথা বলতে কি হয়েছে। বেয়াদব মেয়ে মুখে মুখে কথা বলিস দিব একটা।কে কাকে কি  দিবে শুনি।পেছন থেকে মনসুর আহমেদের কথা শুনে আয়রা নেকা কান্না করতে শুরু করল।দেখনা মেজ বাবাই আজ আমার পরীক্ষা তাও মা বোকছে।কেন সুমাইয়া তুমি কেন আমার মেয়ে কে বোকেছো।তোমার সাহস কিভাবে হলো আমার মেয়ে কে বোকার।ভাইজান আপনারা তিন ভাই আর আপনাদের ৫ ছেলে মিলে লাই দিয়ে দিয়ে ওকে মাথা তুলে ফেলেছেন।অদ্বয়তো তাও একটু শাসন করে।আমাদের এক মাত্র মেয়ে আর ওদের এক মাত্র বোন তাহলে আমরা মাথা রাখবো না।একটু শাসন করুন পরে যখন জামাই এসে বলবে আপনার মেয়ে কি শিক্ষা দিয়েছেন এত বেয়াদব কেন তখন বুঝবেন।আমাদের মেয়ে কে আমরা বিয়েই দিব না। কাকি মনি আর তুই এই কথা শুনবেও না।তার আগেই আমি ওকে সোজা করবো।পিছন থেকে অদ্বয়ের কথা শুনে আয়রা তাকালো।
আয়রাকে ইশতিয়াক নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। দুর ভাগ্য ক্রকে আয়রা আর রাইছা আলাদা জায়গায় পরীক্ষা দিবে।তাই ইশতিয়াক আর দারায়নি ওকে অদ্বয় নিতে আসবে।আয়রার পাশে একটা ছেলে বসেছে নিরব।ও পুরো পরীক্ষার সময়টাতে আয়রাকে যালিয়েছে। ৩ ঘন্টা পরীক্ষা শেষে আয়রা নিচে নামতেই অদ্বয়কে দেখলো।আয়রা এক দৌড়ে অদ্বয়ের সামনে এসে দাড়ালো। 
— পরীক্ষা কেমন হয়েছে? 
— অনেক ভালো কিন্তু। 
— কি কিন্তু? 
— সময় ভালো কাটেনি। 
— কেন।
— আরে বলবেনা আমার পাশে একটা ছেলে বসেছিল পুরো সময় টাতে আমাকে বিরক্ত করেছে। 
ঠিক তখনি নিরব সেখানে এসে আয়রার কাছ থেকে ওর নাম্বার টা  চাইলো।আয়রাকে কিছু বলতে না দিয়ে অদ্বয় বলল,, ও ফোন ইউস করে না।আপনাকে তো জিজ্ঞেসা করিনি। আমার বলনি কিন্তু আমি উত্তর দিব।ও কোন পর পুরুষের সাথে কথা বলেনা।আরে আমি পর পুরুষ কিভাবে হলাম কিছু দিন পর তো আপনি আমার সম্বন্ধী হবো।সাথে সাথে নিরবের নাকে একটা ঘুসি পরলো।পরপর আরও কয়েকটা ছেলেটার নাক বেয়ে অঝোরে রক্ত পরছে।আমি এখন কি বললামনা পরে দেখে দিব বলেই রিনব কোনো মতে পালিয়ে গেল।চল গাড়িতে উঠ। আয়রা কিছু না বলে গড়িতে উঠলো।বাসায় পৌঁছে আয়রা রাইছাকে কল দিয়ে সব খুলে বলল।এর উত্তর পাওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে গেল। আয়রার মেজা খারাপ হলো।
বাইরে মেঘ জমেছে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছে। আয়রা বেলকানিতে গিয়ে দাড়ালো।হালকা বাতাসের সাথে বৃষ্টির কিছু ফোটা আয়রার শরীরে এসে লাগছে।আয়রা এক দৌড়ে ছাদে চলে গেল।বৃষ্টি ঝিরিঝিরি থেকে এখন ফোটায় রুপ নিয়েছে। আয়রা দুই হাত মেলে বৃষ্টিকে অনুভব করছে।বৃষ্টির প্রতিটা ফোটা আয়রার শরীর স্পর্শ করছে।এতে কিছুক্ষণ বাদে বাদে আয়রা শিউরে উঠছে।আয়রা নিজের মতো দু হাত মেলে বৃষ্টিতে ভিজ্জে। কিন্তু সে যানেনা দুটি চোখ তার উপর নিবন্ধ হয়ে আছে।তকে দেখে তার শরীরের লোম কাট দিয়ে উঠছে।আয়রা সাদা জামা পড়ায় গায়ের সাথে লেপ্টে গিয়ে শরীরের প্রতিটি অংশ বুঝা যাচ্ছে। চুল গুলো খোলা থাকায় ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আাছে।
নিচ থেকে অদ্বয় আয়রার বেশ কিছু ছবি তুলল।অদ্বয় পুরো ভিজে গেছে। তাই নিজের রুমে না গিয়ে সোজা ছাদে চলে গেল।কিরে তুই বৃষ্টিতে ভিজ্জিস কেন।আচমকা অদ্বয়ে কথা শুনে আয়রা তাকাতে গিয়ে পরে যেতে নিলে অদ্বয় সাথে সাথে ধরে ফেলল।অদ্বয়ের দুই হাত আয়রার কমরে।বৃষ্টির ফোটা আয়রার ঠোঁটে পরছে।অদ্বয় নিজেকে আর সামলাতে না পেরে আয়রার ঠোঁটে তার ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।হঠাৎ আয়রা অনুভব করল সে ব্যাথা পাচ্ছে। তাকিয়ে দেখে অদ্বয় নিজের জায়গায় দাড়িয়ে আছে। তার মানে এগুলোও তার ভাবনা।এটা কিহলো।কথায় কি হলো।আমি পরেগেলাম আপনি ধরলেননা কেন।আমি কেন ধরব যা জামা পালটে পড়তে বস বলেই অদ্বয় চলে গেল। আয়রাও অদ্বয়ের গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে নিচে চলে গেল। দেখতে দেখতে আয়রার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে আয়রা আর নিরবকে দেখেনি।নিরবের জায়গায় একটা মেয়ে বসেছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন