ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে শুধু তুই

১৩তম পর্ব

লেখক: আয়শা মনি

পর্ব:১৩

অদ্বয় অফিসে বসে আছে।বসে আছে বললে ভুল হবে একটা ফাইল চেক করছে।হঠাৎ দড়জায় খটখট শব্দে সামনে তাকালো অদ্বয়।

— কিরে তুই? 

— আসতে পারি নাকি।

— না এই সময় তুই। তোর তো এখন আয়শার সাথে ফ্লাট করার কথা।

— শালা সম্পর্কে আমি তোর বোন জামাই হই।সম্মান দিয়ে কথা দিয়ে কথা বলব।তা বলুন  ধরনের সম্মান চান আপনি।

—সম্মান আবার বিভিন্ন ধরনের হয় নাকি?

— হ্যা,,হয়তো।কোনটা নিবি বল।

— কি কি আছে।

— আমি পার্টির ওই ছেলে টাকে যেই সম্মান দিয়েছি ওইটা নাকি পরীক্ষার হলের ওই ছেলেটার মত সম্মান। 

— ভাই তোর সম্মান তোর কাছে রাখ।আর যদি দিতে চাস তাহলে ওদের দে।

— তোর কাছে আমার বোনকে বিয়ে দিবনা।

তুহিনের হাত থেকে কফির কাপটা নিচে পরে গেল।

— আরে কি করছিস আমার অফিস কি ভেঙে ফেলবি নাকি। 

— শালা বিয়ে দিবি না মানে।

— বিয়ে দিব না মানে বিয়ে দিব না।

— কেন?

— তোর দোম নেই।

তুহিন দুই হাত দিয়ে ওর শরীর ডাকার চেষ্টা করে জিজ্ঞেসার শুরে বলল,,, 

— আমার দোম নেই তোকে কে বলল।আর আমি পারিবা না পারি তাতে তোর কি।আমিকি তোর সাথে করবনাকি।

অদ্বয় চোখ গরম করে বলল,,

— তোর মাইন্ড ঠিক কর শালা।

— না আমার সব ঠিক আছে তোর চরিত্রে সমস্যা। ছিহ ছিহ,, শেষ মেষ একটা অবলা ছেলের দিকে নজর দিলি।

তুহিন আবার একটু কান্নার অভিনয় করে বলল,,

— শয়তান তুই আমার দেহ পাবি মন পাবিনা।

পিছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠ শর বেসে এলো,,

— ছিহ,,আপনারা কি করতে চাইছেন।আমি যা ভাবছি আপনারাকি তা।

আয়রা তুই এখানে?

— কেন ভয়পেয়েছেন।আমি না আসলেতো আপনাদের সম্পর্কে যানতে পারতামনা।ছিহ,অদ্বয় ভাই আপনার কাছে এটা আমি আসা করিনি।আর তুহিন ভাইয়া আপনার না আয়শার সাথে বিয়ে কিছু দিন পর আপনি ওর সাথে এমন করতে পারলে।

 অদ্বয় তুহিন দুজনি বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে। 

— পরি আমি সত্যি বলছি আমার কোনো দোষ নেই। আমাকে ওই বলছিল আমার দোম নেই।তুমি যেটা ভাবছে ওইটা আমিনা ওও।

তুহিন অদ্বয়ের দিকে আঙুল তাক করে বলল,,অদ্বয়ের রাগে কপালের রোগ ফুলে গেছে। 

— তোদের দুইটা এখন আমি লাত্থি মেরে এখান থেকে বের করে দিব বেয়াদব। এই তুই বল কেন এসে ছিস।

— আসলে ভালো লাগছিলনা তাই ভাব লাম আপনার অফিসটা দেখে যাই।

— পরি চল আমি তোমাকে সব ঘুরিয়ে দেখাই।

— না,, দরকার নেই আয়রা এখানে বস পরে দেখিস।আর তুই যা ভাগ।

— তোর কাছে থাকতে আসিনি। আমি গেলাম।

— যাওয়ার আগে মিটিং এটেন্ট করেযা।

— কিন্তু ওখানে তো তোর যাওয়ার কথা।

— হ্যা এখন তুই যা।আমার একটা কাজ পরে গেছে। 

তুহিন কিছু না বলে চলে গেল। 

— একা এসেছিস।

— না আমি আর আয়শা এসেছি। 

— আয়শা এসেছে বলিসনি কেন।

— ও বলতে নিষেধ করে ছিল। 

— ওও,,কিছু খাবি।

— না,,

— আমি কাজ করব তোর বোর লাগলে আমার ফোনে গেম খেলতে পারিস। 

আয়রা টেবিল থেকে অদ্বয়ের ফোন নিল।

— অদ্বয় ভাই পাসওয়ার্ড কি?

— 3 12 2008

আয়রা বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে।কারণ এটা তার জন্ম তারিখ। 

— এত ভাবতে হবে এইটা অনেক সহজ মনে থাকে তাই দিয়েছি।

— তাহলে আপনারটা কেন দিলেননা অদ্বয় ভাই। 

অদ্বয় কিছু না রুম থেকে চলে গেল।

তুহিন তার রুমে প্রবেশ করতেই চোখ দুটো কপালে উঠে গেল।

— আয়শা তুমি?

— হ্যা বাসায় ভালো লাগছিল না তাই চলে এসেছি। কেন কোনো সমস্যা। তাহলে চলে যাই।

— না না ভালোই হয়েছে ওদিকে অদ্বয় করুক আর এদিকে আমি।

— কি করবেন?

— বলবনা সোজা করে দেখাবো জান। 

বলেই তুহিন আয়শাকে কোলেতুলে টেবিলের উপর বসিয়ে দিল।

— কি করছেন ছাড়ুন। 

— চুপ আমাকে আমার কাজ করতে দেও।

বলে তুহিন আয়শার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। প্রথমে আছতে আছতে করলেও সময়ের সাথে সাথে সেটা ব্যাথায় পরিবর্তন হলো।তুহিনের হাত আয়শার পুরো শরীর যুরে বিচরণ করছে।এক পর্যায়ে তুহিন ঠোঁট থেকে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিল। তুহিন ক্রম গত ভাবে নিচে নামছে।আয়শার নরম স্থানে মুখ ডুবাতেই আয়শা আর্তনাত করে উঠলো,, 

— তুহিন আমরা এখনো অবিবাহিত। 

কথাটা কেন পৌঁছাতেই তুহিন দূরে সরে গেল। 

— সরি আমি কনট্রোল হারিয়ে ফেলেছিলাম।

— সেই জন্যই বলেছিলাম তোর দম নেই।

তুহিন পিছনে তাকাল। 

— তুই এখানে কি করিস? 

— মন চাইলো তাই আসলাম। আমি কি আর যানতাম তুই যেখানে সেখানে এসব আকাম কুকাম করিস।

আয়শা লজ্জায় মাথা নিচে নামিয়ে নিয়েছে। 

তুহিন আর আয়শার বিয়ের ডেট ফিক্সড হয়েছে। সামনের শুক্রবার বার বিয়ে। তাই পুরো  মির্জা বাড়ি সাজানো হয়েছে। খাদিজা বেগমের এক কথা আয়রাদের এক সপ্তাহ আগে বিয়ে উপস্থিত হতে হবে।তাই শেখ পরিবারও চলে গেছে। বাসায় শুধু অদ্বয় আছে। ও আরও ২ দিন পরে যাবে। খাদিজা বেগম রিনা বেগম কেউ আসতে বলেছে।তারাও ২-১ দিনের মধ্যে চলে আসবে।আয়রা রাইছাকে আনতে পাঠিয়েছে ইশতিয়াক কে।আয়রাই নিয়ে আসতো কিন্তু রাইসা ওর মামা বাড়ি থাকায় আনতে পারেনি।

ইশতিয়াক ৩০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে। রাইছার কোন খবর নেই।সেইযে বলেছিল আপনি দাড়ান আমি ব্যাগ নিয়ে আসি ১ মিনিট লাগবেএখন আসেনি।তাই আর ধৈর্য ধরতে না পেরে ইশতিয়াক নিজেই বাড়ির ভেতরে চলে গেল।

— বাবা কে তুমি? 

হঠাৎ প্রশ্নে ইশতিয়াক সাবনে তাকিয়ে দেকলো এক জন মধ্যে বয়েসকো লোক।

— জ্বি আমি ইশতিয়াক আয়রার বড় ভাই রাইছাকে নিতে এসে ছিলাম।

— ওও রাইছা তো উপরে দারাও ডাক দেই।

বলেই ভদ্রলোক রাইছাকে ডাকতে লাগলো,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন