ফন্ট সাইজ:
থিম:
দো দিলে জাহান

২৪তম পর্ব

লেখক: বর্ষা

#দো_দিলে_জাহান

#পর্বঃ২৭

#বর্ষা

৮৯.

সময়ের গতি ধরে রাখা অসম্ভব। তেমনি সময় অসময় আসতে আসতে পুরো পনেরোটা দিন কেমন করে যেন কেটে গেছে।মাত্র এই কয়দিনে অনেক কিছু হয়ে।সব বদলে গিয়েও যেন থমকে গেছে।কি বলবে বলার ভাষা সবাই হারিয়েছে। দুই মেয়ের শশুরবাড়ি থেকে প্রশ্ন করা হলে কি উত্তর দিবে তাও গোছানো হচ্ছে ইতিমধ্যে।

নূরিয়া ক্যাচাল করেছে।তার মতে মেহের নাকি তাকে সিঁড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চেয়েছে।মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কারণটা কি জানেন?নূরিয়া চিন্তা করেছিল এই পৃথিবীতে বাবা না থাকলে সবাই পর।আর তাই সৎ হলেও একটা ভালো বাবা চাই নূরিয়ার তার সন্তানের জন্য।আর সে বাবা হিসেবে তীব্রর চেয়ে বেষ্ট কাউকে পায়নি।

(অতীত)

মেহের নিচতলার দিকে আসার সময় নূরিয়া সবে সিঁড়িতে পা রাখে।নূরিয়া যখন দুইটা সিঁড়ি অতিক্রম করে ততক্ষণে মেহের ওর সামনে।পাশ কেটে যেতে নিলেই ধাক্কা না লাগলেও সে পড়ে যেতে নেয়।তবে পরে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলে মায়া বেগম।

-"আরে নূরিয়া সাবধানে।এখনই তো পরে যেতে"(মায়া)

-"মা আমি তো সাবধানেই যাচ্ছিলাম।মেহেরই তো ধাক্কা দিলো"(নূরিয়া)

-"মেহের?মেহের কেন ধাক্কা দিবে তোমায়?"(মায়া)

-"মা তূর্যয় ওকে রেখে আমায় বিয়ে করেছিলো।এখন ওর সন্তান আমার পেটে। মেহেরের হয়তো খারাপ লাগছে....তাই"(নূরিয়া)

-"মিথ্যা বলছো কেন ভাবী?আমি তোমায় কখন ধাক্কা দিলাম। তোমার সব সাথে তো আমার টাচও লাগেনি।"(মেহের)

-"মেহের নূরিয়ার পেটে বাচ্চা।ও কি নিজের ক্ষতি চাইবে!ভুল করলে ভুল স্বীকার করতে হয়।তোর কথা ভেবে আমি তূর্যয়কে ক্ষমা করেনি আর তুইই কিনা আমার সন্তানের শেষ অম্বল হারাতে ব্যগ্র হয়েছিস!"(মায়া বেগম)

মেহের অবাক হয়ে যায়।তার ফুফি তাকে বিশ্বাস করলো না!অপরাধ না করেও অপরাধী গণ্য করা হলো তাকে।ঠিক তখনো মেহেরকে অবাক করে দিয়ে নূরিয়া কাঁদতে কাঁদতে বললো,

-"আজ আমার সন্তানের বাবা বেঁচে থাকলে আমার কতো খেয়াল করতো!কেন হারিয়ে গেলে তূর্যয়"

মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়ার নাটক করে নূরিয়া।তবে এবার আর ধরতে পারেন না মায়া বেগম।তিনি যে দূরে পাশ ফিরে মেহেরকে বকতে ব্যস্ত ছিলেন।নূরিয়া এমন জায়গায় পরেছিলো যে সেখানে ছোট ছোট কয়টা টব রাখা ছিলো। বারান্দায় নেওয়ার জন্যই এখানে রাখা। সেগুলোর ওপরে গিয়ে পড়তেই " ও বাবা,ও মা " বলে চিৎকার করে ওঠে সে।

মড়মড় শব্দে সেদিকে তাকাতেই রক্ত দেখে চমকে যান মায়া বেগম।মেহেরও চমকে যায়।নূরিয়ার চিৎকারের আওয়াজে পুরো বাড়ি এক হয়ে যায়। দ্রুত ওঠানোর চেষ্টা করা হয়।পারে না মায়া বেগম আর মেহের।বাসায় পুরুষ মানুষও নেই একজন।বৃদ্ধ একজন আছে সে তো বিছানায় পড়া এখন।তখনই জায়িনকে আসতে দেখে মায়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে,

-"জায়িন বাপরে নূরিয়ারে একটু ওপরে নিয়া চল বাপ। তাড়াতাড়ি চল"

জায়িনের ইচ্ছা না থাকলেও সাহায্য করে সে।ডাক্তার ডাকা হয়।সবার মন ভেঙে দিয়ে ডাক্তার জানায় নূরিয়ার মিসক্যারিজ হয়েছে। পাশাপাশি কোমড়ে প্রচন্ড আঘাত পাওয়ায় হয়তো দুই-তিনদিন হয়তো হাটতেও পারবে না ঠিকঠাক। গুটিকয়েক ঔষধের নাম লিখিয়ে আর একবার কোমড়ের এক্সরে করে নিতে বলে চলে যায় ডক্টর।

-"সব দোষ মেহেরের।এই মাইয়া যদি তখন আমার তূর্যয়ের বউরে ধাক্কা না দিতো তাইলে এমন কিছুই হইতো না।মহাসিন ভাই তোমার মাইয়ার জন্য আমার ছেলের শেষ সম্বলও আমি হারাইছি!"

মায়া বেগমের কান্নায় পরিবেশ যেন ভারী হচ্ছে।মহাসিন তালুকদার জানেন না আসলে কি ঘটেছে।জুনায়েদ তালুকদার আর তান্মি বেগম কয়েকদিনের জন্য মেয়ের কাছে কানাডা গিয়েছেন।এইতো মাত্র দুইদিন হলো। মহাসিন তালুকদার মাত্রই বাড়ি ফিরেছিলেন অফিস থেকে।আর হঠাৎ করেই এমন হটকারীতা মার্কা কথা শুনে সে সব গুলিয়ে ফেলছেন।

-"মেহের মা কি হয়েছে?"

মহাসিন তালুকদার মেহেরের কাছে জানতে চান।মেহের বাবার দিকে তাকায়। অশ্রুসিক্ত নয়নে। তৃষ্ণার হাতে কেস এসেছে।তাই ইনভিস্টিগেট করে লড়বে সে আদালতে।তাই বাড়ি নেই।আর মারিয়াম,মাহিন একসাথেই যায় আবার একসাথেই ফেরে।তবে এ বাড়িতে মারিয়ামকে রেখে সে যায় মুবাস্সির আদনানের কাছে।সবাইকে তৃষ্ণা বুঝিয়েছে নূরিয়ার এ অবস্থায় বাসায় ডক্টর থাকলে ভালো তাই.....

-"আব্বু বিশ্বাস করো আমি নূরিয়া ভাবীকে ধাক্কা দেইনি।উনি নিজেই পড়ে গেছে।ফুফি তুমিও তো সেখানে ছিলে।মিথ্যা বলছো কেন এখন?"(মেহের)

-"তুই ধাক্কা না দিলে কি ও ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতো।আর ও যদি ওখানে দাঁড়িয়ে না থাকতো ওর কি মাথা ঘুরতো?ঘুরলেও হয়তো এমনে পড়তো না।তোর ধাক্কা দেওয়ার কারণেই হইছে। তুই আমার নাতির খুনি"(মায়া বেগম)

-"আহা মায়া!শান্ত হো।এভাবে চিৎকার করলে অসুস্থ হবি।মেহের মা তুইও ঘরে যা।আমি তোর ফুফিকে দেখছি।"(মহাসিন তালুকদার)

মেহের উল্টো দিকে হেঁটে যেতে নেয়।কষ্ট পায় বাবা হয়তো বিশ্বাস করেনি তাকে এই ভেবে। তবে মহাসিন তালুকদার মেয়ের হাত ধরে আলতো স্বরে বলেন,

-"আমি বিশ্বাস করি মা তোকে।তোর ফুফির কথায় কষ্ট পাস না।অতি শোকে পাগল হয়ে গেছে।"

৯০.

-"তোর হৃদমাঝারে থাকতে চাই গভীরে,

অতুল হারা বাঁকে গাইতে চাই সমস্বরে।

তোর নামের অক্ষরে আমি আটকেছি কেমন করে!

তোর নামের অক্ষরে আমি আটকেছি কেমন করে!

.....(বাকিটুকু আপনারা একটু ভেবে নিয়েন)

গিটার হাতে এমনিতেই টুংটাং শব্দ করছে জায়িন। অনেকগুলো দিন হয়েছে তার জীবন থেকে রিনি হারিয়ে যাওয়ার। রিনি কি আদৌ কখনো তার জীবনে ছিলো!হয়তো না তবে আশেপাশে তো ছিলো।

মোবাইলের দিকে তাকিয়ে হাত থেমে যায় জায়িনের। বুশরা কল করেছে।সেম ব্যাচে পড়লেও কখনো তেমন করে কথা হয়নি একে অপরের।জায়িন তো দুই বোন নিয়েই ব্যস্ত থাকতো।আর বাইরে চার পাঁচ জন ফ্রেন্ড ছিলো।এইটাই এনাফ ছিলো ওর কাছে।

হয়তো ইমার্জেন্সি ভেবে কল রিসিভ করে জায়িন।কেমন মাদকতা মেশানো কন্ঠ শোনা যায় ওপাশ থেকে।হয়তো ড্রাংকড হয়েছে মেয়েটা।বলছে,

-"এইযে গোমরামুখো!কি হয়েছে তোমার আগে তো হাসতে এখন কেন হাসো না?আমার না তোমার হাসিটাকে আমার করে চাই।না,না আমার তো পুরো তুমিটাকেই চাই।তুমি কি আমার একান্ত মানুষ হবে?"

জায়িনের কন্ঠটা ভালো লাগে।তবে বুশরার কথা ওর ভালো লাগে না।এই কথাগুলো বলতেই কি আজ মেয়েটা নাম্বার নিয়েছিলো?বড্ড ফাজিল মেয়ে তো!ভাবা যায় কোনো মেয়ে এমনও করবে! রাগান্বিত কন্ঠে জায়িন বলে ওঠে,

-"এই মেয়ে এই তুমি কি ছাইপাশ গিলেছো নাকি?কিসব আজেবাজে বকছো! থাপ্পরে সোজা করতাম সামনে পেলে"

-"হুশ...আমি কেন ছাইপাশ খাবো।আমি তো জুস খেয়েছি।আর তুমি আমায় মারবে!(কন্ঠে যেন আবেগ বেড়িয়ে আসছে)

-"আরে আরে কেঁদো না।মারবো না।এই জুস খুয়েছো ভালো হয়েছে।এখন ঘুমাও।রাখছি"(জায়িন)

-"প্লিজ আমায় ছেড়ে যেও না।সবাই যদি চলে যাও তাহলে আমি বাঁচবো কিভাবে!"(বুশরা)

-"তোমার পরিবার নিয়ে, পড়াশোনা নিয়ে আর বন্ধুদের নিয়ে"(জায়িন)

চলবে কি?

বিঃদ্রঃ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া-আপুরা।আজকেই পরবর্তী পর্ব আসবে সকাল এগারোটার দিকে। ভুল-ত্রুটিগুলো মার্জনার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।হ্যাপি রিডিং

গল্পটি সম্পর্কে রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমাদের গ্রুপে। গ্রুপ লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ

https://facebook.com/groups/holde.khamer.valobasa/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন