ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্ধকার শেষে আলোর দেখা

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Rahiya sheikh Raisa
ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিশাল এক বাড়ি—চৌধুরী ভিলা।
উঁচু লোহার গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই দুপাশে সাজানো বাগান, মাঝখানে প্রশস্ত পাথরের পথ আর তার শেষে দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা বিশাল বাড়িটি। বাড়িটির প্রতিটি কোণেই আভিজাত্যের ছাপ। বহু বছরের পুরোনো ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে তৈরি এই বাড়িটাই চৌধুরী পরিবারের ঠিকানা।
চৌধুরী পরিবার ব্যবসায়িক জগতে বহু বছর ধরেই পরিচিত। তাদের পারিবারিক ব্যবসার নাম—Chowdhury Group of industry. 
আর সেই পরিবারের একমাত্র ছেলে মহভীর চৌধুরী মাহির।
তবে মাহভীর শুধু বাবার ব্যবসার উত্তরাধিকারী হয়ে বসে থাকেনি। নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম আর বুদ্ধিতে সে গড়ে তুলেছে নিজের আলাদা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—
Himi Group of Industries.
অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক মহলে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। আর Himi Group-এর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা মানুষটিই মাহভীর।
সকালের নাশতার টেবিলে বসে ছিলেন পরিবারের সবাই।
মিনহাজ চৌধুরী( মাহিরের বাবা) প্রতিদিনের মতো খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তার ব্যক্তিত্বে এমন একটা দৃঢ়তা ছিল, যা বয়স বাড়ার পরও একটুও কমেনি।
তার পাশে বসে ছিলেন সাথী চৌধুরী।(মাহিরের মা)
পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত মানুষ তিনি। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে তার ছোট্ট জগত।
আর টেবিলের অপর পাশে বসে থাকা মেয়েটা যেন পুরো পরিবেশের বিপরীত।
মাহা চৌধুরী।(মাহিরের বোন)
চঞ্চল, প্রাণবন্ত আর অসম্ভব কথা বলতে ভালোবাসে।
মাহা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
— মা, ভাইয়া এখনো আসেনি?
সাথী মৃদু হেসে বললেন,
— আসবে। অফিসে যাওয়ার আগে হয়তো কোনো কাজ আছে।
মাহা বিরক্ত মুখে বলল,
— ভাইয়ার জীবনে অফিস ছাড়া আর কিছু আছে নাকি?
মিনহাজ চৌধুরী খবরের কাগজ নামিয়ে বললেন,
— তোমার ভাইয়ের কাজ নিয়ে এত মাথা ঘামানোর দরকার নেই। নিজের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করো।
— আমি নিজের পড়াশোনা ঠিকই করি। কিন্তু ভাইয়াকে একটু মানুষ করাও তো আমার দায়িত্ব।
সাথী হেসে ফেললেন।
— তোমার ভাইকে মানুষ করার দায়িত্ব তোমাকে কে দিয়েছে?
মাহা গম্ভীর মুখ করে বলল,
— কেউ দেয়নি। নিজে থেকেই নিয়েছি।
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল মাহভীর।
কালো শার্ট, কালো ঘড়ি, হাতে ফোন। মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।
মাহা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— এই যে! যার জীবনে অফিস ছাড়া আর কিছু নেই, সে অবশেষে হাজির।
মাহভীর একবার বোনের দিকে তাকাল।
— সকাল সকাল শুরু করিস না, মাহা।
— দেখেছ মা? আমি কিছু বললেই রেগে যায়।
সাথী ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
— আগে বসে নাশতা কর।
মাহভীর কোনো কথা না বলে চেয়ার টেনে বসল।
মিনহাজ চৌধুরী এবার ছেলের দিকে তাকালেন।
— আজ Chowdhury Group-এ যাবে?
— হ্যাঁ।
— আর Himi Group?
— দুপুরের পর যাব।
মিনহাজ মাথা নাড়লেন।
— দুই জায়গার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়।
মাহভীর শান্ত গলায় বলল,
— আমি সামলে নেব।
এই ছিল মাহভীর।
কথা কম।
নিজের সিদ্ধান্তে অটল।
আর দায়িত্বের জায়গায় কোনো আপস নেই।
সাথী চুপচাপ ছেলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
মায়ের চোখে পড়ছিল—ছেলেটা আগের চেয়েও বেশি গম্ভীর হয়ে গেছে।
কিন্তু তিনি কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।
মাহভীর যখন নিজের ভেতরে কোনো কথা লুকিয়ে রাখে, তখন জোর করে তার মুখ থেকে সেটা বের করা যায় না।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে অনেক দূরে বরিশালে।
শেখ পরিবারের বাড়িটা চৌধুরী ভিলার মতো বিশাল নয়। তবে বাড়িটার প্রতিটি কোণে একটা আপন উষ্ণতা আছে।
বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন আবু সায়েদ শেখ।(রাইসার বাবা)
তার পাশে বসে ছিলেন তার স্ত্রী লিজা শেখ।(রাইসার মা)
তাদের একমাত্র মেয়ে—রাহিয়া শেখ রাইসা।
মেয়েকে তারা অসম্ভব ভালোবাসেন।
তবে পড়াশোনার কারণে রাইসা এখন বরিশালে থাকে না।
সে ঢাকায় থাকে তার খালাতো বোন মেহার সঙ্গে।
মেহাও তার বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে।
তার বাবা ইলিয়াস হোসাইন আর মা সাকিলা পারভীন।
রাইসা আর মেহার সম্পর্কটা ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম। খালাতো বোন হলেও তারা একে অপরের কাছে অনেকটা আপন বোনের মতো।
রাইসা যেখানে যায়, মেহাও প্রায় সেখানেই।
সেদিন সকালে লিজা মেয়েকে ফোন করেছিলেন।
— রাইসা, ঠিকমতো খাচ্ছিস তো?
ওপাশ থেকে রাইসার হাসির শব্দ।
— হ্যাঁ মা। তুমি চিন্তা করো না।
— মেহা কোথায়?
— এই তো পাশে।
সঙ্গে সঙ্গে মেহার গলা শোনা গেল,
— খালা, ওকে নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না। আমি আছি তো!
লিজা হেসে বললেন,
— তোমরা দুজন একসঙ্গে থাকলেই আমার চিন্তা কমে যায়।
আবু সায়েদ পাশে বসে বললেন,
— পড়াশোনাটা মন দিয়ে করিস। আর নিজের যত্ন নিবি।
— জি বাবা।
ফোনটা কেটে গেল।
মেহা রাইসার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তোর বাবা-মা তোকে নিয়ে যত চিন্তা করে, আমার মা-বাবাও আমাকে নিয়ে ততটাই করে।
রাইসা মুচকি হেসে বলল,
— আমরা দুজনই তো আমাদের পরিবারের একমাত্র মেয়ে।
মেহা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— হ্যাঁ। তুই তোর বাবা-মায়ের রাজকন্যা, আর আমি আমার বাবা-মায়ের।
রাইসা হেসে বলল,
— আর আমরা একে অপরের কী?
মেহা এক মুহূর্তও না ভেবে বলল,
— সেটা তো জানিসই। তোর ছায়া!
রাইসা হেসে মাথা নাড়ল।
দুই পরিবার।
দুই শহর।
দুই রকম জীবন।
একদিকে চৌধুরী পরিবারের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, অন্যদিকে ভালোবাসা আর আপনজনের উষ্ণতায় ভরা শেখ ও হোসাইন পরিবার।
তখনও কেউ জানত না—
এই দুই পরিবারের গল্প খুব শিগগিরই এমন এক জায়গায় গিয়ে মিলবে, যেখান থেকে তাদের কারও জীবন আর আগের মতো থাকবে না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন