ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্ধকার শেষে আলোর দেখা

১৬তম পর্ব

লেখক: Rahiya sheikh Raisa

১৮ আগস্ট ২০২৬।

সন্ধ্যা নামতেই চৌধুরী বাড়ি আলোয় ঝলমল করে উঠেছে।

আজ মাহার জন্মদিন।

বাড়ির চারপাশ ফুল আর আলোয় সাজানো। বিশাল লনে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, একপাশে খাবারের আয়োজন, অন্যদিকে stage। চৌধুরী গ্রুপের business circle-এর পরিচিত মানুষজন, আত্মীয়স্বজন, মাহার university-এর বন্ধু—সবাই একে একে এসে পৌঁছেছে।

মাহা, মেহা, প্রিয়া, স্মৃতি, রহিম, সাজ্জাদ আর সাকিন—সবাই আজ উপস্থিত।

আর রাইসা?

আজ তাকে যেন অন্যরকম লাগছে।

তার পরনে ল্যাভেন্ডার রঙের শাড়ি। হালকা শাড়িটা তার সাজকে আরও কোমল করে তুলেছে। খোলা চুলগুলো পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে। হালকা গয়না আর ছোট্ট টিপের সঙ্গে মুখের স্বাভাবিক হাসিটা তাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বাকিদেরও সুন্দর লাগছে।

মাহা রাইসাকে দেখেই বলল,

— রাইসা! তোকে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে!

রাইসা হেসে বলল,

— জানি। আজ তোর birthday, তাই একটু সুন্দর তো লাগতেই হবে।তোদেরও কম সুন্দরী লাগছে না।

মেহা হেসে বলল,

— জানি আমরা"

প্রিয়া বলল,

— আজকে কিন্তু সত্যিই অনেক সুন্দর লাগছে।

স্মৃতি মুচকি হেসে বলল,

— আর ওর হাসিটা দেখেছিস?

রাইসা হেসে বলল,

— তোরা সবাই মিলে আমাকে লজ্জা দিচ্ছিস কেন?

মাহা তার হাত ধরে বলল,

— আজকে কিন্তু তুই আমার সঙ্গেই থাকবি।

— থাকবই।

---

কিছুক্ষণ পর music শুরু হলো।

মাহা, মেহা, প্রিয়া আর স্মৃতি নাচতে শুরু করল।

রাইসাকেও তারা টেনে নিল।

কিছুক্ষণ পর রাইসা নিজের স্বভাবমতো হাসতে হাসতে নাচতে শুরু করল।

কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাহভীরের চোখে দৃশ্যটা মোটেও ভালো লাগল না।

তার চোখে পড়ল কয়েকজন ছেলে রাইসার দিকে অস্বস্তিকরভাবে তাকিয়ে আছে।

মাহভীরের মুখ শক্ত হয়ে গেল।

সাকিন পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

— কী হলো?

— ও এই ভাবে সবার সামনে নাচ্ছে কেনো?

— কি?

মাহভীর কোনো উত্তর দিল না।

তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট।

---

কিছুক্ষণ পর রাইসার হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হলো।

সে  কাউকে কিছু না বলে বাগানের দিকে চলে গেল।

বাড়ির পেছনের বাগানটা বেশ নির্জন।

রাইসা একটা বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে পেটের ওপর হাত রাখল।

— উফ... একটু বসি।

ঠিক তখনই পেছনে পায়ের শব্দ হলো।

রাইসা ঘুরে দেখল মাহভীরের এক business partner তার দিকে এগিয়ে আসছে।

লোকটা কাছে এসে কথা বলার চেষ্টা করল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার আচরণ অস্বস্তিকর হয়ে উঠল।

রাইসা পিছিয়ে গেল।

— আপনি একটু দূরে থাকুন।

লোকটা তার কথা উপেক্ষা করে আরও কাছে আসতে চাইলে রাইসা এবার কঠিন গলায় বলল,

— আমি বলেছি, দূরে থাকুন।

ঠিক তখনই পেছন থেকে মাহভীরের কণ্ঠ ভেসে এলো—

— what happened here?

লোকটা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকাল।

মাহভীরের চোখে প্রচণ্ড রাগ।

— মাহভীর, ব্যাপারটা—

— চুপ।

মাহভীর রাইসার দিকে তাকাল।

— আমার সঙ্গে আয়।

রাইসা বলল,

— কিন্তু—

— এখনই।

রাইসা চুপ করে তার সঙ্গে ঘরের দিকে গেল।

---

ঘরে ঢুকেই মাহভীর দরজা বন্ধ করল।

তারপর রাইসার দিকে তাকিয়ে প্রচণ্ড রাগে বলল,

— তুই এখানে কী করছিলি?

— আমার পেট ব্যথা করছিল। তাই একটু একা থাকতে এসেছিলাম।

— আর ওই লোকটা?

— আমি ওনাকে আসতে বলিনি!

— আমি নিজের চোখে দেখেছি!

— আপনি পুরোটা দেখেননি।

মাহভীর গর্জে উঠল,

— চুপ!

রাইসা থেমে গেল।

মাহভীরের গলা আরও কঠিন হলো।

— নষ্ট মেয়ে! তুই নিজের সীমা কবে বুঝবি?

রাইসার চোখে পানি এসে গেল।

— আমি কিছু করিনি।

— টাকার লোভী! সবসময় নিজের মতো চলবি, তারপর কেউ কিছু বললে নির্দোষ সাজবি!আমি তহ ভেবেচিলাম সুধু আমার সাথেই এতা করেছিস এখন দেখি সব বরলোকদের সাথে?লজ্জা থাকা দরকার। ছি নষ্টা মেয়ে মানুষ। দেখলেই বমি পাচ্ছে।

— আমি সত্যি—

— তুই কী ভাবিস? সবার সামনে এভাবে নাচবি, সবার দৃষ্টি নিজের দিকে টানবি, তারপর বলবি তুই কিছুই করিসনি?এই ভাবে খোলামেলা সারি কেন পরেছিস। answer me Stupid!

রাইসা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

— আমি তো মাহার birthday-তে আনন্দ করছিলাম।

— আনন্দ করার নাম করে বেহায়াপনা করবি?

রাইসা মাথা নিচু করে ফেলল।

মাহভীর থামল না।

— চরিত্রহীনতারও একটা সীমা থাকে। নিজের সম্মান যদি নিজেই না বুঝিস, অন্য কেউ সেটা তোকে শিখিয়ে দিতে পারবে না।

রাইসার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।

— আপনি আমাকে এত ঘৃণা করেন?

মাহভীর কঠিন গলায় বলল,

— তোর ওপর আমার কোনো ভরসা নেই।

রাইসা কাঁপা গলায় বলল,

— আমি আপনার কোনো ক্ষতি করিনি।

— তুই আমার জীবনে এসেছিস—এটাই যথেষ্ট।

কথাটা শুনে রাইসা নিঃশব্দ হয়ে গেল।

মাহভীর দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

তারপর থেমে বলল,

— মনে রাখিস, আজ থেকে তোর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা শুধু একটা কাগজের সম্পর্ক।

রাইসা ধীরে চোখ তুলল।

— মানে?

মাহভীর ঠান্ডা গলায় বলল,

— ছয় মাস।

রাইসার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

— কী?

— ছয় মাসের মধ্যে divorce-এর ব্যবস্থা করব।

বলেই মাহভীর দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।

দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে রাইসা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ধীরে বিছানার পাশে বসে পড়ল।

বাইরে তখনও গান বাজছে।

মাহার জন্মদিনের আনন্দ চলছে।

মানুষ হাসছে।

কেউ জানে না, একই বাড়ির একটা ঘরে একটা মেয়ে নিঃশব্দে নিজের ভেঙে যাওয়া মনটা সামলানোর চেষ্টা করছে।

রাইসা চোখের পানি মুছে খুব আস্তে বলল,

— আমি তো কিছুই করিনি...

কিন্তু আজ তার কথাটা শোনার মতো কেউ ছিল না।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন