ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্ধকার শেষে আলোর দেখা

১৫তম পর্ব

লেখক: Rahiya sheikh Raisa

১৭ আগস্ট ২০২৬।

বর্ষার শেষভাগের সকাল।

চৌধুরী বাড়ির বিশাল বারান্দার রেলিং বেয়ে বৃষ্টির পানি টুপটাপ করে নিচে পড়ছে। আকাশটা পুরোপুরি মেঘলা না হলেও রোদের তেজ নেই। বাতাসে একটা স্নিগ্ধতা, অথচ বাড়ির ভেতরের পরিবেশটা আজ বেশ ব্যস্ত।

কারণ আর মাত্র আজকের দিন পর—

১৮ আগস্ট।

মাহার জন্মদিন।

চৌধুরী পরিবারের কাছে মাহার জন্মদিন কোনো সাধারণ দিন নয়। প্রতি বছরই বেশ বড় করে আয়োজন করা হয়। তবে এবারের আয়োজনটা একটু অন্যরকম।

কারণ এবার মাহার সঙ্গে রাইসার বন্ধুত্বও পরিবারের সবার নজরে এসেছে।

সকাল থেকেই বাড়ির নিচতলায় লোকজনের আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে।

কেউ ফুলের decoration নিয়ে কথা বলছে, কেউ catering-এর menu নিয়ে। কেউ অতিথিদের তালিকা মিলিয়ে দেখছে, আবার কেউ business circle-এর মানুষদের invitation confirm করছে।

চৌধুরী গ্রুপের নাম দেশের বড় ব্যবসায়িক মহলে পরিচিত। তাই মাহার জন্মদিন মানেই শুধু পরিবারের মানুষদের নিয়ে ছোটখাটো অনুষ্ঠান নয়।

ব্যবসায়িক জগতের পরিচিত মুখ, ঘনিষ্ঠ পরিবার, পুরোনো বন্ধু, আত্মীয়স্বজন—সবাইকে নিয়ে বড় একটা gathering হবে।

রাইসা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতেই এত মানুষের আনাগোনা দেখে থেমে গেল।

— মাহা!

দূর থেকে মাহা ছুটে এসে বলল,

— কী?

— এখানে এত মানুষ কেন?

মাহা হেসে বলল,

— আমার birthday আসছে বলে।

রাইসা চোখ বড় বড় করে বলল,

— জন্মদিন নাকি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান?

মাহা হেসে তার হাতে একটা invitation card ধরিয়ে দিল।

— এটা দেখ।

রাইসা কার্ডটা খুলে বলল,

— ১৮ শে আগস্ট...

তারপর মাহার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আর একদিন দিন!

— হ্যাঁ।

— তাহলে আমাকে এতদিন আগে বলিসনি কেন?

মাহা ভ্রু তুলে বলল,

— তোকে বলিনি?

— না!

— গত সপ্তাহে বলেছিলাম।

— আমি ভুলে গেছি।

— সেটাই তো স্বাভাবিক।

রাইসা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— তুই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে আমার জন্মদিনের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করিস না!

মাহা হেসে তার হাত ধরে বলল,

— এবার তুই আমার জন্য কী করবি সেটাই বল।

রাইসা একটু ভেবে বলল,

— আগে বল, কী চাই?

— কিছুই না।

— মিথ্যা।

— সত্যি।

— তাহলে আমি তোর জন্য একটা আলমারি কিনে দেব।

মাহা হেসে বলল,

— আমার আলমারি আছে।

— তাহলে একটা নতুন আলমারি।

— রাইসা!

— আচ্ছা আচ্ছা। দেখি।

দুজনের হাসির শব্দে পাশ দিয়ে যাওয়া সাথী বেগমও হেসে ফেললেন।

— তোরা দুইজন সকাল থেকে শুরু করেছিস?

রাইসা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— মা, আপনার মেয়ের জন্মদিন। আমার না। আমি তো শুধু দায়িত্ব পালন করছি।

মাহা বলল,

— কী দায়িত্ব?

— তোকে বিরক্ত করার।

সাথী বেগম মাথা নেড়ে বললেন,

— এই মেয়েটার মুখ বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।

রাইসা হাসতে হাসতে বলল,

— মা, আমার মুখ বন্ধ হলে বাড়িটা একদম চুপচাপ হয়ে যাবে। তখন কিন্তু সবাই আমাকে খুঁজবে।

---

দুপুরের দিকে বাড়ির ভেতরের ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেল।

মিনহাজ চৌধুরী নিচের বসার ঘরে কয়েকজন business associate-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন।

চৌধুরী গ্রুপের আগামী সপ্তাহের একটা গুরুত্বপূর্ণ meeting নিয়েও আলোচনা হচ্ছিল।

অন্যদিকে মাহভীরও অফিসে যাওয়ার আগে বাবার সঙ্গে কিছু business papers নিয়ে কথা বলছিল।

রাইসা দূর থেকে সেটা দেখছিল।

মাহভীরের পোশাকে বরাবরের মতোই সেই গম্ভীরতা।

মুখে কোনো হাসি নেই।

হাতে ফাইল।

কথাবার্তায় শুধু কাজ।

রাইসা মাহার কানে কানে বলল,

— তোমার ভাই কি কখনো birthday party-তে হাসে?

মাহা বলল,

— হাসে।

— কবে?

— খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো business deal হলে।

রাইসা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— তাহলে আমার birthday-তে ওনাকে ডাকব না।

মাহা হেসে বলল,

— এটা তো আমার birthday!

— হ্যাঁ, তোরটাই।

— তাহলে আমার birthday-তে তুই আমার ভাইকে নিয়ে এত ভাবছিস কেন?

রাইসা থমকে গেল।

— আমি? ভাবছি কোথায়?

মাহা মুচকি হেসে বলল,

— কিছু না।

রাইসা চোখ সরিয়ে নিল।

---

কিছুক্ষণ পর মাহভীর সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিল।

রাইসা ঠিক তখনই তার সামনে পড়ে গেল।

হাতে একটা invitation list।

রাইসা হাসিমুখে বলল,

— মাহভীর সাহেব!

মাহভীর থামল।

— কী?

— ১৮ো আগস্ট কিন্তু আসতেই হবে।

— কোথায়?

— আপনার নিজের বাড়িতে।

মাহভীর ভ্রু কুঁচকে বলল,

— আমি জানি।

— তাহলে আবার জিজ্ঞেস করলেন কেন?

— তুই কথা না বলে থাকতে পারিস না?

রাইসা মুচকি হেসে বলল,

— না।

মাহভীর বিরক্ত হয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে লাগল।

রাইসা পেছন থেকে বলল,

— আপনার বোনের birthday। একটু হাসিমুখে থাকবেন কিন্তু।

মাহভীর থেমে পেছনে তাকাল।

— আমাকে কীভাবে থাকতে হবে সেটা তুই ঠিক করে দিবি?

রাইসা মাথা নেড়ে বলল,

— না। তবে চেষ্টা করতে তো বলতেই পারি।

মাহভীর কড়া গলায় বলল,

— আমার ব্যাপারে বেশি কথা বলবি না।

রাইসা এবার চুপ হয়ে গেল।

মাহভীর ওপরে উঠে চলে গেল।

মাহা দূর থেকে পুরো ঘটনাটা দেখছিল।

সে রাইসার কাছে এসে বলল,

— আবার কিছু বলল?

রাইসা হালকা হেসে বলল,

— তোর ভাইয়ের একটা সমস্যা আছে।

— কী?

— ও মনে করে পৃথিবীর সব মানুষ ওকে বিরক্ত করার জন্য জন্মেছে।

মাহা হেসে ফেলল।

— তুইও তো ওকে বিরক্ত করিস।

— সেটা আলাদা ব্যাপার।

---

বিকেলের দিকে মাহার birthday invitation-এর final list তৈরি হলো।

পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের পাশাপাশি চৌধুরী গ্রুপের business circle-এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষও আমন্ত্রিত।

মাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরাও থাকবে 
মেহা, প্রিয়া, স্মৃতি—সবাই।

সাকিন, রহিম, সাজ্জাদরাও আসবে।

রাইসা list দেখে বলল,

— বাহ! এটা তো birthday না, পুরো reunion!

মাহা বলল,

— তুই থাকলে যেকোনো অনুষ্ঠানই বড় হয়ে যায়।

রাইসা হেসে বলল,

— ঠিক বলেছিস।

তারপর হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটা নামের ওপর।

মাহভীর চৌধুরী।

রাইসা কয়েক সেকেন্ড নামটার দিকে তাকিয়ে রইল।

মাহা সেটা লক্ষ্য করে বলল,

— কী হলো?

রাইসা সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে বলল,

— কিছু না।

— নিশ্চিত?

— হ্যাঁ।

তারপর কার্ডটা বন্ধ করে হাসল।

— তোর birthday আমি এমন করব, মনে থাকবে।

মাহা রাইসাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

— তুই থাকলেই আমার birthday perfect।

রাইসা মৃদু হেসে বলল,

— আমি থাকবই।

বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

১৭ আগস্ট ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আর চৌধুরী বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে—

১৮আগস্টের জন্য।

কিন্তু কেউ জানে না, মাহার সেই জন্মদিনের রাতেই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হবে, যা রাইসা আর মাহভীরের সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও জটিল করে তুলবে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন