<কঠোর সতর্কতাঃ সংবেদনশীল পরিস্থিতি খোলামেলা বর্ণনা করা হয়েছে। যারা ভয়াবহতা নিতে পারেন না; এরিয়ে যাবেন>
~~~
(বর্তমান)
অনুপমা বাংলার মাটিতে পা রেখেছে। এক লাবন্যময়ী নারী হেটে চলেছে হিলের শব্দ করে, যার চারপাশ ঘিরে হাটছে কালো পোষাকধারী সুঠামদেহী কতগুলো পুরুষ।
কালো সুট, গম্ভীর মুখের সৌষ্ঠব দেহী একজন, অনুপমার জন্য কারের ডোর ওপেন করে। রুপস্রী 'অনুপমা রিন্সেল' উঠে যায় তার জন্য বিশেষায়িত কালো রঙের 'পোর্শে' তে।
----
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। এখানকার বাতাসও যেন মানুষকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাড় করায়, ফিসফিসিয়ে কথা বলে। চারপাশে নিস্তব্ধতার আওয়াজ। ঘিরে দাড়িয়ে উঁচু বিল্ডিং মহড়া দিয়ে চলেছে,, কিছু জায়গায় কয়েকটা গাছও পাওয়া যাবে। সবকিছুই কেমন আওয়াজহীন, ভারী করছে চারপাশ।
সরু করিডোর পার করে, সম্মুখস্থ কক্ষের প্রবেশমুখে দাড়ায় অনুপমা। নেমপ্লেইটে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা 'কর্নেল জারিফ হায়দারি'।
অনুপমা পা বাড়ায় সামনে।
কক্ষটা পুরোটাই শুন্যতায় পরিপূর্ণ। অনুপমার সামনে প্রসস্ত ডেস্ক, সোজা বসা মহিমান্বিত পুরুষদেহ'টা। ফাইলে গম্ভীর দৃষ্টি তার। পেছনে The 'DGFI'
"Directorate General of Forces Intelligence"
এর প্রতীকচিহ্ন শ্রেষ্ঠত্ব ছড়াচ্ছে।
অনুপমা কখনোই এই ব্যক্তি'কে নিজের অন্তর্ভুবনে রাখার, ভাবনা'ই আনতে পারে নি! এই ব্যক্তিকে বাইরে থেকে যতটুকু জটিল মনে হয়, ভেতরটা তার থেকেও
বেশী— যেখানে না কেউ প্রারম্ভের প্রান্ত পাবে না অন্তিম!..কূট-ধূর্তবৃত্ত চিন্তা কানায় কানায় পরিপূর্ণ এই পৌরুষ মস্তিষ্কে।
অনুপমার ভাবনার রেশ কাটে গম্ভীরমুখী বাক্যে, "কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবে ওভাবে?" –দৃষ্টি ফাইলে।
অনুপমা তার মিষ্টি লিপস্টিকের ঠোঁটে হাসি টেনে আনে,
" দেখছিলাম আপনাকে, কতদিন পর দেখা আমাদের! "
"আমাকে দেখার জন্য এখানে আসা?" জারিফ চোখ নিবদ্ধ করে তার বৈধ অনুপমা স্ত্রী'র ওপর। তার স্ত্রী'র সৌন্দর্য যেন সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায়! পড়নে টুইড কাপড়ের ব্ল্যাক্ প্রিন্সেস সুইং কোট। ঢেউ খেলানো ব্রাউন চুলগুলো নরমভঙ্গিতে ছেড়ে রাখা।
জারিফ উঠে দাড়ায়, এগিয়ে যায় অনুপমা বরাবর। অনুপমা'র চোখ জারিফের দৃষ্টিতে নিবদ্ধ, নড়চড় হয় না। কিন্তু ঠোঁটে টানা মিষ্টি হাসি; যে হাসির রেখা চোখ পর্যন্ত পৌছাচ্ছে না।
জারিফ, অনুপমার মধ্যে একহাত দুরত্বও নেই।
অনুপমার দৃষ্টি সরে না। মোহবিষ দৃষ্টি। সামনের পৌরুষ চোখ ওর মধ্যে ঘৃনা-ক্রোধের জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ ছাড়া– আর কিছুর উৎপত্তি ঘটায় না! যতবার তাকায় ঐ চোখে, তার ঐ বিধ্বংসী-বিধ্বস্ত, রাতের কথা মনে হয়। যখন ওর পুরো দুনিয়া ওর চোখের সামনে ধবংস– নষ্ট হয়েছিল!
~~
অনুপমার কালো অধ্যায়ের শুরু, যখন বাবাহীন অনুপমার একাকি মায়ের বাড়িতে, 'কর্নেল জারিফ হায়দারি'র পায়ের ধুলা পড়ে। বাড়ি বয়ে এসে বিয়ের প্রস্তাব দেন! অনুপমার মা দুর্ভাগ্যবশত, বিয়ের প্রস্তাবে নাকচ্ করে দিয়েছিলেন।
ওনার অনুপমা তখন মাত্র ভার্সিটিতে! তিনি মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করে বিয়ে দিবেন। এটা ছিল ঐ একাকী কষ্টে লালন-পালন করা মায়ের, সন্তানের প্রতি চিন্তাভাবনা। তিনি চাননি তার মেয়ে স্বামীর কাছে মাথা নিচু করে থাকুক!
জারিফ হায়দারি শান্ত-গম্ভীরভাবে বেরিয়ে যান বাড়ি থেকে ঐদিন। কিন্তু ঐ বেরিয়ে যাওয়াটাই বোধহয় কাল হয়ে দাড়ায় মা-মেয়ের!
এর কয়দিন পরই তাদের নিজ নিরাপদ বাসস্থান-প্রতিষ্ঠান থেকে মা-মেয়ে একসাথে হাওয়ায় মিশে যায়।
মধ্যরাত বোধহয় তখন। অনুপমার চোখ খুলে নরম বিছানায়। আশপাশ থেকে ভয়ঙ্কর জীবের শব্দ ভেসে আসছে কানে। —মা! মা কোথায়!?… মা'কে ভেবে অনুপমা হুড়মুড় করে উঠে বসে। ওর মা!— ওর একমাত্র ছোট্ট দুনিয়া এই দুনিয়ায়!
চিল্লায়ে ওঠে আতঙ্কিত অনুপমা। সামনের দৃশ্যে ওর ভিতসহ নড়ে ওঠে। আশপাশের সবকিছু যেন ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতেছে, —" মা!…এইহ্! খবরদাড়!! আমার মা'কে কেউ ছুবি না!"
সর্বশক্তি দিয়ে অনুপমা বল প্রয়োগ করে, মায়ের কাছে যেতে। সঙ্গেসঙ্গে টেনে ধরে শিকল ওকে বেডের সাথে। অনুপমার দুনিয়া ওর সামনে পড়ে আছে মেঝেতে।
—"কি করেছিস্ তুই আমার মায়ের সাথে!?" শক্ত হুংকার দিয়ে ওঠে অনুপমা। শিকলের লাগাতার শব্দ হচ্ছে ওর দাপাদাপিতে। একপর্যায়ে দাপাদাপিতে দাড়িয়ে যায় অনুপমা, সমানে জোড়াজুড়ি করে চলছে শিকলের সাথে। চিল্লায়ে চিল্লায়ে বলছে মা'কে ছেড়ে দিতে।
কিন্তু কেউ শুনছে না তার চিল্লায়ে বলা আহাজারি!
অনুপমার সামনেই জারিফের শান্ত পুরুষপৃষ্ঠ বসা একটা চেয়ারে। যেখানে নিচেই পড়ে আছে অনুপমার মা'টা।
জারিফ সটান দাড়িয়ে থাকা লোকের চোখে তাকায়, লোকটা পেছন ডেস্ক থেকে ইনজেকশন বের করে।
এতে অনুপমার হুংকার জোড়ালো হয়, "খুন করবো! খুন করবো তোকে জারিফ হায়দারি আমার মা'য়ের কিছু হলে!!"
জারিফ কি এই ভয়ানক হুংকারে কোনো ভ্রুক্ষেপ করল?– না! এই মহিলাকে ড্রাগ পুশ করা, জরুরি ছিল। নয়তো অনুপমার বিয়েতে মনোনিবেশ করতে অসুবিধা হতো, ওনার উপস্থিতিতে। তাই যাতে বিয়ে সুষ্ঠুভাবে হয় তারই ব্যবস্থা করেছে সে। ভুল কি করেছে?... ওনার এমনিতেও মরার সময় কাছিয়েছে।
জারিফ ওঠে দাড়ায়, " মহিলাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আসবে।"
— "কিহ্ বললি! যাবে না! কেউ যাবে না! বলছি না আমিইই!!" এইমুহূর্তে অনুপমা ভেঙে পড়ে। চিল্লানো আহাজারির মতো শোনায়।
জারিফ ঘুরে দাড়ায়। মুখে নিশঃব্দ হাসি, " কাল আমাদের বিয়ে, সোনাপাখি।"
অনুপমার কানে কিছু যায় না। অদ্ভুত তীক্ষ্ণভাবে চিল্লাচ্ছে ও। এতটাই তীক্ষ্ণ হচ্ছে যে চিল্লানোর মধ্যে কোনো শব্দ বোঝা যাচ্ছে না।
--
রাতের শেষ প্রহর। অনুপমা কোনোভাবে পালাতে সক্ষম হয় নরক থেকে। রাতের কালো গাছের সারি, নিচের পিছলানো ভেজা কাদা-মাটির ঘাস, খালি পায়ে মারিয়ে চলেছে খুরিয়ে খুরিয়ে। পড়নে গোলাপি সেলোয়ার-কামিজ। ছাড়া চুল। শরীরে নেই শক্তি এতটুকু। কিন্তু উদ্দেশ্য এই ঘন জঙ্গলে মা'কে খুঁজা।
কোথায় আছে ও, জানে না। চারপাশে শুধু কালো সারি সারি গাছ। নিচে ভেজা এবরোথেবরো উচু-নিচু কাদামাটি। উঁচু-নিচু হওয়ায় ও দৌড়াতে পারছে না । আবহাওয়া অনেক আর্দ্র। কালো গাছের সাথে উঠে যাওয়া লতা-পাতার পানি ওর গায়ে লাগছে অন্ধকারে।
কোন দিকে যাবে বুঝে না। আকাশ দেখা যায় না। কোনো তারা নেই। দিক নির্দিষ্ট করার উপায় নেই– "ও্! ও্!"
হঠাৎ পিছলিয়ে পড়ে যায় ও কাদা-মাটিতে এই আধারে।
কিন্তু পড়ে যাওয়ার পর, এই অন্ধকারেও ওর সামনের আকার-অবয়অব দেখে— ওর মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে! স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি এই দৃশ্যের মুখোমুখি কখনো হবে ও। ওর মা! ওর একমাত্র মায়ের নগ্ন দেহের ওপর একটা পুরুষ অবয়ব চড়ে আছে!!
অনুপমার মাথা কাজ করে না। শুধু বুঝে ওর মাকে বাচাতে হবে। সামনের পিছলা এবরোথেবরো মাটি, গাছ মুহূর্তে উপেক্ষা করে হৈ হৈ করে ওঠে পাগলের মতো, দৌড়ে পৌছায় মায়ের কাছে।
লোকটা শব্দে গাছ থেকে কোনোরকমে কাপড় নিয়ে দৌড় লাগায়। কারন এটা যে 'কর্নেল জারিফ হায়দারি'র হবু বউ'য়ের কণ্ঠ! এই সম্বোধন'টা না থাকলে অনুপমা'কেও হয়তো নরপশু- কুকুরের শিকার হতে হতো।
অনুপমার মাথা ভোঁ ভোঁ করে। নিচের মাটি অনুভব হয় না। "মা! এই মা! মাগো!! ওঠো- " অনুপমা তার মায়ের গাল-মুখ নিজের কাদামাটির হাতে হাতরাচ্ছে। পাশের কাদামাটিতে জরানো কাপড় তার মায়ের শরীরে ধরফর করে জরায়, তার মাতৃগর্ভ যে নগ্ন। মা'যে কোনো শব্দ করছে না মা'কে হাসপাতালে নেওয়া দরকার তো। পাগল অনুপমা মাকে বলে, "মা!- ওঠো! একটু কষ্ট করে ওঠো! তোমাকে হাসপাতালে নিব! মা!"
ওর মা কোনো সারা-শব্দ দিচ্ছে না । তিনি কি যেতে চাচ্ছেন না অনুপমার সাথে? রাগ করেছেন মেয়ের ওপর মা'কে একা জঙ্গলে ছাড়ায়?? ওর মা বাড়ির বাইরের ওয়াশরুমে একা যেত না কখনো। স্বামীর মৃত্যুর পর, দশ বছরের থেকে মেয়েকে নিয়ে ওয়াশরুমে যেত অনুপমার মা'টা। মেয়েকে বাইরে দাড় করিয়ে রাখতো। মেয়ে'যে তার সাহসী। এতকিছু একা করে ফেললেন। অথচ কখনো একা রাতে বাইরের ওয়াশরুমে যান নি। এই মা'কে কিভাবে অনুপমা একা জঙ্গলে ছাড়ল। অনুপমার দোষ অবশ্যই।
অনুপমার গলা ভার হয়ে আসে। কান্নায় শব্দ আর হচ্ছে না। মা কি উঠবে না?? —"মা!..." অনুপমার মা উঠে বসে।
অনুপমা বড় নিঃশ্বাস ফেলে। ওর মা ঠিক আছে। ক্রোধে জ্বলছে শরীর ওর। -"মা! তুমি চিন্তা করো না আমি ওদের একেকটাকে গুণে গুণে মারব!!... তুমি তো ঠিক আছো।.... মা! কই যাও!! মা! এই মা!!"
বৃষ্টি আবার নেমেছে। ঝড়ঝড় করে। সারি সারি গাছের উচু টিলা মতো জায়গা। নিচে কাদামাটি তে পড়েআছে দুটো নারী শরীর। একটা কোনোরকমে জড়ানো কাপড়ে মোড়ানো শরীরের ওপর আরও একটা নারী শরীর।
নারী হয়ে জন্মটাই বিপদ, বিশেষ করে মানুষ নামক জীবের জন্য। নারী হলেই হলো। মৃত হোক, বাচ্চা হোক, শ্যামলা চেহেরা হোক, অথবা আগুন সুন্দরী; পুরুষ নামক জানোয়ারদের আসে যায় না। নারী হলেই হলো।
কালো অবয়বগুলোর এই সন্তষ্টজনক ঘটনার পুরোটাই দৃষ্টিগোচর হয় জারিফের। গাজীপুরের এই শালবনে জায়গায় জায়গায় সিসিটিভি তো এমন নজরদারির জন্যই লাগানো হয়েছে। যাতে এসব দেখে মজা নেওয়া যায়। তাদের কি আসে যায় এসব ঘটনায়? তাদের সাথে তো আর খারাপ কিছু হচ্ছে না। এটাই যথেষ্ট।
সকাল হয়ে আসে। অনুপমার আবার চোখ খুলে এই সুন্দর দুনিয়ায়। সেই একই নরম বিছানা। কিন্তু অনুপমার ভাবভঙ্গি আগেরবারের থেকে ভিন্ন। একদম নিথর। অভিযোগ-রাগ-ক্রোধ কোনো কিছু প্রকাশের তাড়া– আগ্রহ নেই। শরীরে কোনো অনুভুতি অনুভব হচ্ছে না।
জারিফ রুমে প্রবেশ করে পায়ের ভারী শব্দের সাথে। বিয়ের রক্ত-লাল শাড়ী নিয়ে এসেছে। সাথে লাল ব্লাউজ, লাল মারমেইড স্কার্ট। আর একটা টকটকে লাল বধূ-ঘোমটা। কোনো প্রসাধনী নেই। কোনো চুলের বাধনী নেই। শুধু চুল ধোয়ার জন্য প্রসাধনী আছে। জারিফ অনুপমার ঢেউখেলানো খোলা চুলের, প্রসাধনীবিহীন মুখশ্রী পছন্দ করে যে।
বিয়ে হয় অনুপমার। সুন্দর রক্ত-লাল দিয়ে বিয়ে। কবুল বলে অনুপমা, 'জারিফ হায়দারি' নামক পুরুষের নামে; যেই নামের জঙ্গলেই গতরাতে তার দুনিয়া নষ্ট হয়েছে।
—হাতটা ওর চিবুক স্পর্শ করেছে, সামনে ঐ নিকৃষ্ট ভয়ানক চোখদুটো ওর দিকে তাকিয়ে।
অনুপমা ঠোঁটের হাসি সরায় না, চিবুকে রাখা জারিফের হাতটা অত্যন্ত যত্নের সাথে সরিয়ে দেয়। ততটা যত্নের সাথে- যতটা যত্ন দিলে সামনের মানুষটাকে মৃত্যু দেওয়ার সময় তার শরীর থেকে ঝড়ে পরা প্রতিটা রক্তবিন্দুর জন্য মুখ দিয়ে অদ্ভুতসব আর্তনাদ বের হবে!
জারিফের ঠোঁটে মৃদু হাসি। সে চেনে এই ব্যবহার- হয়ে আসছে গত চার বছর ধরে। অদ্ভুত হলেও সত্য বিয়ের পর জারিফ কখনো অনুপমার ওপরে জোড় করে নি কোনো বিষয় নিয়ে। কেন পারে নি বা পারছে না সে ঠিক জানে না!
এই মেয়ের সামনে ওর নার্ভাস সিস্টেম স্লো হয়ে যায়! শ্বাস ধীর গতির হয়! হৃস্পন্দনের হার বেড়ে যায়!
-------
কলিংবেল বেজে চলেছে। খোঁজ নাই কারও। কারন সব মনোযোগ এখন সামনের জ্বলজ্বল করা স্ক্রিনে। দুইজন অর্থাৎ মাহিম-আবেশ সোফায় বসে হাতের রিমোট সমানে টিপে যাচ্ছে। বসার ভঙ্গিও যে কতভাবে বদলাচ্ছে তার ঠিক নেই। স্ক্রিনে রেসিং হচ্ছে। কার রেস। টানটান উত্তেজনা। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। একজন আগে যাচ্ছে তো আবার পিছাচ্ছে।
রাইনিকা'র ডোজ ছিল খাওয়ার পর। এখন ও ঘুমাচ্ছে। কিন্তু বাইরে যা শব্দ হচ্ছে মনে হয় না ঘুম বেশীক্ষণ টিকবে।
এই মাহিমের গলার ডেসিবেল অনেক উঁচু। এ আবেশের সাথে থাকলে- আবেশের গলার স্বরও উচুতে পৌছে যায়। দুইজন আলাদা থাকলে ভিন্ন কথা। কিন্তু একজায়গায় থাকলে মনে হয় ঘুর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। মাঝেমাঝে দুইজনের চলন-বলন দেখে বোঝার উপায় নেই, একজন যে ছোট।
আবেশের কার এগিয়ে যাচ্ছে- অনেকটা এগিয়ে গেল মাহিমের থেকে– সহ্য হলো না মাহিমের! কিচ্ছু করার নেই। এভাবে হবে না— সোজা রিমোট ধরে টান দিলো মাহিম।
আবেশের চোখ বড়বড় হয়ে যায়, রিমোট আকড়ে ধরে,
– "চিটার হালা! খেলতে আইছছ্!"
মাহিমের উঁচু ডেসিবেল গলা প্রতিরোধ করে, "হেহ্! যে পারে সব ভাবেই পারে! তুই পারতাছছ্ না আর আমারে চিটার কছ্"
আবেশ মাহিমের ঘাড় পেচিয়ে ধরে,"চামার! গলা নামায়া। আমার বউ ঘুমায়!"
কলিংবেল জোড়ে জোড়ে বাজছে। বাইরের লোকটা এখনো দাড়িয়ে।
মাহিমের কান এখন খুলে , হাত দিয়ে ইশারা করে দড়জার দিকে। বুঝায় 'বাইরে কেউ আছে'।
আবেশের হুশ ফিরে, মনে পড়ে অর্ডারের কথা! সে খাবার অর্ডার করেছিল। রান্নার মতো জিনিস বাসায় এখন নেই। কোনোরকম স্যুপটা করা হয়েছিল। সে রিমোট ফেলে উঠে যায় অর্ডার রিসিভ করতে।
-------
খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ হবে। আবেশ তার রুমে চলে যায়। সেখানে নিজের ড্রেসিং রুমে তার সাজানো কাপড় থেকে জিন্স'র পাতলা কম্ফোর্টেবল একটা জগার বের করে।
মাহিমও চলে এসেছে পিছুপিছু। এসব দেখে সে মুচকি হাসে, বুঝতে পাড়ে আবেশের মাথায় কি চলছে। এখন আবেশ এই জগার'র অপারেশন করতে চলেছে। এসব সে বরাবরই করে আসছে। তার নিজের ফ্যাশন সেন্স নিয়ে সে খুবই সংবেদনশীল। যার জন্য ড্রেসিংরুমে বড় একটা টেবিল রাখা আছে সাথে কাঁচি। আর বিভিন্ন সরঞ্জাম যা সে নিজের কাপড়ের অপারেশনে কাজে লাগায়।
আবেশ ঐ জগার'টা নিচ থেকে কিছুটা এবরোথেবরো করে কেটে নেয়। ব্যাস্।
মাহিমের ঠোটের রেখা প্রসারিত হয়। এটা রাইনিকার জন্য। রাইনিকার তো জামা কিনা হয় নি। কিন্তু শুধু এইটা? সে প্রশ্ন করে, – " সাথে কি দিবি? "
আবেশ বড় একটা টিশার্ট বের করে গ্রে রঙের। ওপরে কোনো ডিজাইন নেই। কিন্তু তার আফসোস হচ্ছে টিশার্টটা পিঙ্কিশ হলে ভালো হতো। কিন্তু তার কাছে তো গোলাপির কোনো বালাই নেই! যাইহোক, এখন কেনা যাবে!
মাহিম আবেশকে দেখছে আর হাসছে। আবেশের এই রুপ তার কাছে অনেক উপভোগ্য। এসব দেখে তারও বিয়ে করতে মন চায়। কিন্তু সে তো এখনো ভার্সিটিই কমপ্লিট করে নি।
আবেশের সরু নজর যায় মাহিমের মুখে। তার মুহূর্ত লাগে মাহিমের চিন্তাভাবনা পড়তে, ধমকে উঠে, "যাহ! বাসায় যা। আগে পড়াশোনা শেষ কর। তারপর বিয়ে। তুই এখন ফ্ল্যাটে কম আসবি। বাসায় বউ আছে আমার।" আবেশ ঠেলে পাঠায়ে দেয় মাহিম'কে।
মাহিম মুখ ভ্যাংচাতে ভ্যাংচাতে বিদায় নেয়।
-----
চলবে~
#পর্ব১১
#wrong_profile
#সেয়ারা_তিষিকা
< যারা পড়েন, দয়া করে অনুভূতি জানাবেন। এটা আমাকে অনেক সাহায্য মনোযোগ ধরে রাখতে❤️ >