ফন্ট সাইজ:
থিম:
Wrong Profile

২৩তম পর্ব

লেখক: সেয়ারা তিষিকা

ঝুম বৃষ্টির মধ্যে মাটির রাস্তা থেকে আজিজুল ডাক দিলেন রাইনিকাকে। আবেশ-রাইনিকা প্রথম দিকে শুনতে না পেলেও যখন আজিজুল তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন তখন ডাক স্পষ্ট হয়।

আবেশ সামনে সবুজ ধানক্ষেতের মাঝে কাঁদা-পানিতে একাকার আইলের দিকে তাকায়; আজিজুল এক হাতে ছাতা বৃষ্টির বিপরীতে ধরে আরেক হাতে লুঙ্গি উঁচিয়ে এই ভরা বৃষ্টিতে আইল ধরে এগিয়ে আসছেন। মুখে অমায়িক হাসি ঝুলছে, এখান থেকেও বোঝা যাচ্ছে। মেয়েকে দেখার খুশি!
রাইনিকা হাসিমুখে আব্বুর পানে চেয়ে। আব্বুকে দেখেই উঠে দাড়িয়েছে ও। আবেশ শুয়া থেকে উঠে বসেছে শুধু এই দৃশ্য দেখতে। সে দেখছে মেয়ে আর বাপের একত্রিত হওয়ার মুহূর্তটুকু। পুরা পরিবারের মধ্যে এদের সম্পর্কই চোখে স্বাভাবিক লাগছে। 
ব্যাঙ্গাত্মক হাসে আবেশ। স্বাভাবিকতা এই পর্যায়ে যে মেয়েকে দেওয়া পাশবিক যন্ত্রণার লেশমাত্র তার চেহারার হাসিতে ফুটছে না। মনুষ্য বৈশিষ্ট্যহীন এই প্রাণীকে যতদ্রুতসম্ভব খাচায় ঢুকিয়ে চিড়িয়াখানায় পাঠানো দরকার।
আজিজুল এসে ছাতা ধরে রাইনিকার মাথায়, নিজের শরীরের শালটা রাইনিকার ভিজতে থাকা শরীরে পরিয়ে দেয়। তারপর নিচে বসা আবেশের দিকে তাকায় গম্ভীর মুখে, " বৃষ্টির এই ঠান্ডা পানিতে মেয়েকে ভিজা-
" তাজা রক্তের ছোঁপ দেখলাম আপনার বাড়ির লটকন গাছে। দেখে একদম মানুষের রক্তের মতো লাগলো, শশুর মশাই?" আবেশের কণ্ঠে বেলাগাম নাটকীয়তা।
বৃষ্টির শব্দের জন্য রাইনিকার কানে কথা পৌছায় না কিন্তু আজিজুলের কানে আসে প্রতিটা উচ্চারিত শব্দ। শব্দগুলোতে আজিজুল ভড়কে যান, মুহুর্তমাত্রের জন্য। পরক্ষনেই তার মুখে সেই হাসি প্রসারিত হয়, আবেশের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, " হাস-মুরগির রক্ত বোধহয়। আমার মেয়ের জন্য রান্না করা হচ্ছে।" 
"ওহ্! হতে পারে।" আবেশের ঠোঁটেও হাসি; চোরের চুরি নিয়ে তামাশা করা হাসি। সে আজিজুলের হাতে ভর না দিয়েই উঠে দাড়ায়, 
" আপনার বয়ষ্ক হাড্ডিতে আমার মতো তাগড়া যুবক কিভাবে ভর দেয় বলুন?"
রাইনিকা তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে, বুঝতে পারছে না কি কথা চলছে সেখানে। 
আজিজুলের হাসি গায়েব হয়ে যায় আবেশের বেলেহাজ কথাবার্তায়। তিনি রাইনিকার দিকে ঘুরে দাড়ান, 
"জামাইবাবা আসতে পারবে, তুই চল আমার সাথে।"
কিছুটা অপ্রস্তুত-অস্বস্তি অনুভব করে অপ্রাকৃতভাবে এই প্রস্তাবে রাইনিকা। আদিম ঐ সুপ্ত ভয় এখনো তাড়া করছে ওকে। রাইনিকার চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা, ও এগিয়ে গিয়ে আবেশের হাতের মুঠোয় নিজের চিকন আঙুলের ছোট হাত গুজে অস্বাভাবিকভাবে, " চলো, সবাই একসাথে যাই।" 
আবেশ না থাকলে হয়তো ও এই ভয় গিলে নিয়েই চলতো ওর আব্বুর সাথে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ওর কাছে অপশন আছে এই ভয়কে এড়িয়ে চলার। তাহলে কেন ও সেই অপশন বেছে নেবে না?
অবশেষে এই বৃষ্টি পাড় করে একটা কালো ছাতার নিচে তিনমাথা একসাথে। রাইনিকা মাঝখানে, আর জামাই-শশুড় দুই পাশে, আবেশ ছাতা ধরেছে।
তারা বাড়িতে আসতে আসতে বৃষ্টির গতি কমে গিয়েছে। ঝিরিঝিরি পড়ছে। বাতাস আছে হালকা। আকাশ এখনো মেঘলা। বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করতেই আজিজুলের সরুচোখ ওনার খেলাঘরের সামনের লটকন গাছটার আশেপাশে যায়। যেন সতর্ক চোখ বুলাচ্ছেন সেখানে, সবার চোখের আড়ালে।
" শশুড়মশাই, বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে বোধহয়।" আবেশের ঠোঁটের তির্যক হাসিতে স্পষ্ট উস্কানি।
আজিজুলের মুখ শক্ত হয়ে আসে। উত্তর দেয় না আবেশের কথায়, " মরিয়ম! মরিয়ম!! মুমুবার কাপড় ছাড়াও। ঠান্ডা লেগে যাবে মেয়ের। "
আজিজুল ছাতা থেকে বের হয়ে ভিতরে চলে যায়।
আবেশের মুখের হাসি যায় নি। বরং খানিক প্রসারিত হয়। সামনের কোনো মানুষ এই হাসি খেয়াল করলে, সেই হাসির ধরনে তার ভিতরে ভয় সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিপক্ষ আবেশের পাতা ফাঁদে পরে ভয় পেলে, তার কথার জালে জরিয়ে গেলে এটা তার মধ্যে অদ্ভুত উন্মাদনার সুখ জাগায়। এই হাসি সেই অদ্ভুত সুখকে মানুষের দৃষ্টির সামনে নিয়ে আসছে। বাস্তবিক অর্থে ঐ লটকন গাছে কোনো রক্তের দাগ ছিলই না।
রাইনিকা পা টিপে কাদা-শ্যাওলায় পিচ্ছিল হয়ে ওঠা উঠানে দাঁড়িয়ে আবেশের দিকে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, " আপনারা কি নিয়ে এত-
"ছাতা ধরো।"
রাইনিকা অর্ধেক বলা কথাটুকু থামিয়ে আবেশের কথা মতো ছাতার দান্ডি ধরে। পরমুহূর্তেই আবেশ ওকে কোলে তুলে সামনে হাঁটা ধরে। এখন আর এমন যখন-তখন কোলে তুলা রাইনিকাকে আশ্চর্য করতে পারে না। স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে ওর জন্য।
ঐদিকে ঘরের ভিতর থেকে মরিয়ম আর কুলসুমের দ্রুত পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। সামনের উঠান এতক্ষণের বৃষ্টিতে একদম সব শ্যাওলা জেগে যেকোনোভাবে পিছলা খেয়ে পড়ার জন্য যথোপযুক্ত হয়ে উঠেছে। যেজন্য আবেশ ওকে কোলে তুলে নিয়ে হাটছে, যেভাবে শুকনো সমতলে মানুষ হাঁটে সেভাবেই সে হাটছে, এই শ্যাওলার পিচ্ছিল উঠানে স্বাভাবিক-সাবলীলভাবে বড়ো বড়ো পা ফেলে।
আবেশ সামনে থাকা সতর্কতার সাথে হাঁটা আজিজুলকে পার করে আগেই পৌছে যায় প্রধান দরজার দোরগোড়ায়। পরে দুইদিক থেকে মরিয়ম, কুলসুম আর আজিজুল পৌছায় দরজায়।
আজিজুল মরিয়মের হাত থেকে গামছা একরকম ছিনিয়ে নিয়ে ভেতরে এগিয়ে যায়। কুলসুমের মুখ হা হয়ে আসে সামনে চোখ রাখতেই। ঐভাবেই চোখ ঐদিকে রেখে হাত বাড়ায় রাইনিকার হাতের দিকে ছাতা নেওয়ার জন্য।
আবেশ নামায় রাইনিকাকে।
মরিয়মের চোখও অভিভূত হয় মুহুর্তের জন্য। পরপরই পাশে কুলসুমকেও আবেশের মুখমন্ডলের দিকে এভাবে তাকাতে দেখে জোরেসোরে চাপড় দেন ওর মাথায়। ব্যাস্ত হয়ে গামছা এগিয়ে দেয় আবেশের দিকে, ভেতরে নিয়ে আসে দুজনকে।
ভেতরে বয়সের ভারে ঝুকে পড়া আছিয়া একটা লাঠি নিয়ে সোফায় বসে আছেন প্রধান-দড়জাকে পিঠ দিয়ে। শব্দে চোখ ফেরালে সামনে আবেশ-রাইনিকাকে এগিয়ে আসতে দেখেন। হঠাৎই উনি লাঠিতে ভর দেওয়া হাত নাড়িয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। ভাজে জরিয়ে আসা মুখে আওয়াজ তুল্লেন, " ও মায়া মায়া গোওও!! লায়কলাহাইন ছেড়া কইত্তে লইয়া আইছছরে, ছেড়ি??"
রাইনিকা খিটখিটায়, " বুড়ি হইছে, এখনো রঙ-ঢঙ যায় না?"
আছিয়া পাত্তা দেয় না রাইনিকাকে। লাঠিতে ভর দিয়ে উঠে আসেন ভিজা শরীরে দাড়ানো আবেশের দিকে। পেছনে শীতল বাতাসে প্রধান দড়জার নীল পাতলা পর্দা উড়িয়ে আনছে ঘরের ভিতরে। অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন বড়ঘর আজ বাইরের কালো মেঘলা আকাশের বদৌলতে। তিনি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে পরখ করেন আগা-গোরা আবেশকে এই আলো-আঁধারের মধ্যেই। তাকে রাইনিকা ও জামাইয়ের আসার ব্যাপারে বলেছে মরিয়ম। কিছুক্ষণপর আবার মুখের ভাজ প্রসারিত করে বলেন "নাগোও! আমগো জামাই এক্কেরে লায়ক ছাড়াইয়া।"
আবেশের পড়নের ভিজে আসা শার্ট শরীরের সাথে লেপ্টে পেশীগুলোকে প্রকাশ করছে, নিচে জিন্স থেকে পানি মেঝেতে পড়ছে। কপালে ভেজা চুল থেকে পানি টপটপ করে পড়ছে। এই অবস্থাতেই হাতে কপালের পরে থাকা ভিজা, পানি চুইয়ে পড়া চুল পেছনে ঠেলে। সে জানে সে হ্যান্ডসাম। কিন্তু এদের এমন রিয়েকশনে তাকে এবার লজ্জা পেতে হবে দেখছি।
রাইনিকা ভেজা কাপড়ে দুই পায়ে আলসে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে মাথা মুছছে পেছনে, আর পেছনের আসা বাতাসে কেঁপে কেঁপে উঠছে বারকয়েক "কেউ কি আমার দিকে একটু লক্ষ্য রাখবে? আমিও ভেজা দাড়িয়ে। "
মরিয়ম তাড়িয়ে ওঠে, "দুজন ভেতরে যাও। যাও। ভেজা কাপড় ছেড়ে এসো।"
রাইনিকার বিয়ের সময় যখন আবেশ এসেছিল তখন একেতো রাত তারওপরে মোমবাতির আলোতে বিয়ে হয়েছে এদের। পরিস্থিতিও পুরো ভিন্ন ছিল। তাই সরাসরি ঘরের কোনো নারীসদস্যের সাথে দেখা হয় নি তার। আর গতকালকেও তারা পৌঁছিয়েছে মধ্যরাতে। ফলস্বরূপ আজকের কাহিনী। 
°°°°
আবেশ ওয়াশরুমে চলে গিয়েছে চেঞ্জ করতে। রাইনিকা যেমন ভেবেছিল তাই হয়েছে। সে আম্মুর দেওয়া গামছা মাথাতেই লাগায়নি, চুল মোছা তো আরও পরের বিষয়। ভাগ্যিস রাইনিকা তার দৈনিক ব্যবহারের কিছু জিনিস এনেছে। কিছু না। বলতে গেলে ব্যাগের সবই ও আবেশের এনেছে। কারন ও তো জানেনা তার কি কি দরকার হয় আর কখন কি দরকার হয়। তাদের বিয়েরইবা কয়দিন হয়েছে?
রাইনিকা একটা লঙ ফ্রক পড়ে লাল রঙের, সোনালী লেস তাতে। ও এখন আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল শুকচ্ছে, নিজেকে অনেকদিন পর রঙিন কাপড়ে দেখছে। ভালো লাগছে ওর। শুধু ঠান্ডা না লেগে যায় এই বৃষ্টির পানিতে ভিজে। ভাবতেই ঠাস করে হাঁচি দেয় ও। —"এটা খাও। ঠান্ডা লাগবে না।"
আবেশ ওর দিকে একটা ট্যাবলেট এগিয়ে দেয়।
রাইনিকা টেবিলে রাখা জগ থেকে পানি নিয়ে ট্যাবলেটটা মুখে দেয়। " আপনি কিভাবে জানতেন এমন হবে আর ট্যাবলেট লাগবে?"
আবেশ রাইনিকার অন্য হাত থেকে ড্রায়ারটা নিয়ে নেয়। নিজের ভিজা চুল শুকাতে শুরু করে আয়নার সামনে দাড়িয়ে, " আমার কারে এসব সবসময় থাকে।"
রাইনিকা এগিয়ে এসে আবেশের হাত থেকে ড্রায়ার ছিনিয়ে নিতে চায়, " কি কি থাকে বলুন তো আপনার কারে? পুরা দুনিয়াসুদ্ধ আপনার কারে রাখেন নাকি?" লাফিয়ে লাফিয়ে কথা বলায় আওয়াজ কিছুটা থেমে থেমে আসছে। রাইনিকা আসলে লাফিয়ে হাত উচিয়ে আবেশের হাতের ড্রায়ার ছুতেই চাচ্ছে কিন্তু পারছে আর না। একেতো হচ্ছে আবেশ লম্বা তার ওপরে সে হাত উঁচিয়ে তার মাথার চুল শুকচ্ছে। যেখানে রাইনিকা নিচে শুধু ছোটাছুটি করছে মনে হচ্ছে। 
আবেশ ড্রায়ার রাইনিকার দিকে এগিয়ে ধরে। রাইনিকা ছুতে গেলেই আবার উঠিয়ে নিজের চুল শুকাতে শুরু করে। দ্বিতীয়বার আবেশ এমন করলে রাইনিকা আচমকা খপ করে ধরে ড্রায়ার। ধরার সময় রাইনিকার চেহারার কঠোর ভাবভঙ্গিতে, আবেশ হেসে দেয়। রাইনিকা চোখ-টোখ বড় করে দুই ঠোট একেঅপরে চেপে দৃঢ় মনোভাবে ছু মেরে নিয়ে নিয়েছে ড্রায়ার আবেশ থেকে। আবেশ হার মেনে নেয়। শেষে হাতে কয়েকবার ব্রাশ করে চুল। ওমনি কুলসুমের ডাক পরে দরজায়। রাইনিকা যেয়ে দরজা খুলে। 
" রাই জামাইবাবারে নিয়া খাইতে চইলা আইয়ো। "
" তুমি যাও। আমরা আইতাছি।"
"তারাতারি করো।" কুলসুম চলে যায়।
~~~~
সেগুন কাঠের লম্বাটে কারুকার্য করা ডার্ক ব্রাউন ডাইনিং টেবিল। মরিয়ম, কুলসুম কার কি লাগবে সেটাতে ব্যস্ত।রাইনিকা, আবেশ পাশাপাশি বসে। আজিজুল তাদের মুখোমুখি। সাথে আকবর, আছিয়া।
মরিয়ম পাতে খাবার বেরে দিচ্ছে। মাঝেই আজিজুল ভারী গলায় আওয়াজ করে, " তোমাদের বিয়ে কোনো স্বাভাবিক বিয়ের মধ্যে গন্য হয় না। বিয়ে ভাঙার ইচ্ছে আমার নেই, যেহেতু আমার মেয়ের মত আছে এতে। কিন্তু এ ধরনের বিয়েতে আমার মেয়েকে দেওয়া যাবে না। তাই সবাইকে জানিয়ে বিয়াই-বিয়াইনকে খবর দিয়ে ধুমধামে আমার মেয়েকে নিয়ে যাবে তুমি। "
" তাহলে আজ থেকেই শুরু করুন তোরজোর। পৌরশুদিন বিয়ে। আমি বাবা-মাকে জানিয়ে দিব বরযাত্রী নিয়ে আসতে। " আবেশ মনোযোগী খাওয়াতে। 
আকবর হঠাৎই খুব আশ্চর্য নিয়ে প্রশ্ন করে, " বর এখানে রেখে ওখান থেকে কিভাবে বরযাত্রী নিয়ে আসবে?"
আবেশ প্লেট থেকে মুখ তুলে সহাস্যে তাকায় আজিজুলের দিকে। আজিজুল চুপ। আবেশের মুখেও কথা নেই। দুই জন একে অপরের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে; যেখানে বাইরে থেকে একে অপরের চিন্তাভাবনার প্যাচ বুঝা দুঃসাধ্য। তবে যেন এরা শব্দছাড়া কোনো চুক্তির আলোচনায় বসেছে; শেষ-সিদ্ধান্তে একপক্ষ আরেকপক্ষের পিছুহটার অপেক্ষা করছে।
 আবেশের লটকন গাছে রক্তের মিথ্যা কথার নাটক আজিজুলকে ভাবাচ্ছে। সে অবশ্যই কোনো কিছু না জেনে এই জাল ফেলতে যাবে না, পরীক্ষার জন্য। সে অবশ্যই কিছু জানে। 
আবেশ নিজের সন্দেহ বা যতটুকু জানা ছিল সেটাকেই নিশ্চিত করেছে এই পরীক্ষার দ্বারা। রক্তের টোপ ফেলেছে আবেশ, আজিজুল সেটা গিলেও নিয়েছে। 
কিন্তু কে এই ছেলে?…তখন বিয়ের সময় বাপের নাম যেন কি বলেছিল?………খেয়ালে আসছে না আজিজুলের। কিন্তু এই অসহ্যকর কথার ধরন, মুখচোখের আকার, ভাব-ভঙ্গিমা আশ্চর্যজনকভাবে একজনের সাথে মিলছে। এটা কিভাবে সম্ভব? এর বাপের কণ্ঠ তো শুনেছে আজিজুল?....আসলেই? তখন কেন মাথায় আসে নি??... মেয়ের জ্বালায় পাগল হয়ে গিয়েছিল যে আজিজুল তখন! এখন আজিজুল মুখে হাসি টানে,
 " বর ছাড়া বরযাত্রী হয় না কে বলেছে? আমাদের জামাই খুলনার বদলে না হয় পাশের বাড়ি থেকে আসবে। বরযাত্রীও সেখান থেকেই আসবে না হয়। "
আবেশ শশুড়ের হার মেনেও না মানার বিষয়টাতে হেসে ফেলে মাথা নুইয়ে। তার এই ছোট্ট চিমটিতে তার শশুড়ের জ্বালা ধরে গেছে। একদম ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে তাকে নিয়ে। না পারছে ধরতে না পারছে একেবারে ছাড়াতে। কৌতুহলী হয়ে পরেছে তাকে নিয়ে। কৌতুহল দমাতে জেলা থেকে জেলা পর্যন্ত আলাদা না করতে পারলেও এবাড়ি থেকে ওবাড়ি হলেও আলাদা করবেন তিনি। নাছোড়বান্দা শশুড় তার। 
আজিজুল আবার বলতে শুরু করেন, " বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তোমরা আলাদা থাকছ। আবেশ খাওয়া শেষে খেলাঘরে আসবে।"
তব্দা খেয়ে যায় সবাই শেষ লাইনে। শুধু আবেশই নিশ্চিন্তে খাবার খেয়ে যাচ্ছে। আকবর ছাড়া খেলাঘরে প্রবেশ সবার জন্য নিষিদ্ধ। সেখানে আবেশকে সেই ঘরে যেতে বলছেন তিনি। আকবর তো ভাতের লোকমা তুলতেই ভুলে গিয়েছে।
—" বড়চাচু কাকে খেলাঘরে নিয়ে যাচ্ছ অথচ আমাকে নিলে না?" ইনামা হেটে আসছে প্রধান দড়জা হয়ে হাতে বড় একটা বয়াম ঝুলছে।
এগিয়ে এসে কুলসুমের হাতে বয়াম দেয়।
আজিজুল ইনামাকে উদ্দেশ্য করে বলে, " যেয়ে তোর আব্বুকেসহ চাচুদের খবর দে বড়ঘরে আসতে, দশ মিনিটের মধ্যে।"
ইনামা ছুটে বের হয়ে যায় খবর পৌছাতে।
আজিজুল উঠে পরেন খাবারের হাতে। পরপরই আবেশ উঠে যায়। তারপরেই আকবর। 
রাইনিকা এইদিকে বুঝতে পারে না মোড় কোনদিকে ঘুরছে। কুলসুম আর মরিয়ম বসেন খাওয়ার জন্য। আছিয়া খাবার মুখে নিয়ে রসালো স্বরে বলেন, " কি রে ছেড়ি? জামাই পছন্দ হইছে না নি? না হইলে আমারে দিয়ালা। আমার জামাই মইরা ভুত হইয়া গেছে অনেক আগে।"
রাইনিকা চোখ রাঙিয়ে তাকায় দাদুর দিকে।
আছিয়া হেসে আবার খাবার মুখে দেয়। রাইনিকা কুলসুমের দিকে তাকায়, " কেডা কেডা বাড়িতে আছে চাচিআম্মু?"
" যেরা নাই হেরাও আইয়া পরবো তোমার আব্বুর ডাকে, যেরা আছে তাগর একটু পড়েই দেখতে পাইবা।"
~~~~
আছিয়া আশফাক ইযায এবং আশফাক ইযায এর ছেলে পাঁচটা। মেয়ে ছিল না তাদের। সে জন্য আশফাকের আফসোস না থাকলেও আছিয়ার খুব ছিল। তখনই তার বড়ছেলে আজিজুল ইযায মেয়ে সন্তান এনে দেয় তাদের কোলে। বংশের প্রথম মেয়ে রাইনিকা মুমুবা। মুমুবার আগে একটা ভাই হয়েছে তার মেজ চাচা, আরমান ইযাযের ঘরে, ইরহান ইযায। তারপর রাইনিকা হওয়ার পরপরই মেজচাচি অন্তসত্বা হয়, বংশের দ্বিতীয় মেয়ে ইনামা ইযায আসে। সেজ চাচা, আফজালের ঘরে তারপর দুইছেলে একমেয়ে হয়; ফাইজা ইযায, ফাইয়াজ ইযায, ফারহান ইযায। ছোট চাচা, আফতাবের ঘরে দুই মেয়ে একছেলে; অনিভ ইযায, অনিজা ইযায, অনিশা ইযায। আর সবচেয়ে ছোট চাচা হলো আকবর যিনি মাত্র বিয়ে করলেন। আকবর ছাড়া বাকি সব ভাই আলাদা আলাদা ঘর তুলেছে। আকবর আর আছিয়া এখন আজিজুলের সাথেই থাকছে। জায়গা-জমি দিয়ে তো ছিলেন আশফাক আকবরকে কিন্তু সেখানে ঘর তুলে নি আকবর। রাইনিকাদের বাড়ির চারিপাশে সব ওর চাচাদেরই বাড়ি, রাস্তার এপাশ-ওপাশ মিলিয়ে।
ইরহান এখন বংসীয় ব্যাবসায় হাত লাগাতে শুরু করেছে, যদিও সে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে কুয়েটে। এই সাবজেক্টের প্রতি আগ্রহ পুরোটা বড়চাচা আজিজুল এর জন্য। ইরহান আপাতত খুলনায়। ইনামা বেলাবতেই কলেজে পড়ছে। ফাইয়াজ আর ফারহান জমজ। এরা এইবার কলেজে ফার্স্ট ইয়ার। ফাইজা এইবার ক্লাস টেনে, সামনের বার এসএসসি দিবে। একই হাইস্কুলে অনিজা এইটে আর অনিশা সেভেনে পড়ছে। আর সবার ছোট হচ্ছে অনিভ যে এখন ক্লাস সিক্সে উঠেছে।
এই পরিবার কুন্ডলির খাতা আবেশের সেদিনই পড়া শেষ যেদিন সে রাইনিকাকে বিয়ে করতে গিয়েছিল। মাহিম তাকে পুরো কুন্ডলী পড়ে শুনিয়েছিল কারে। সাথে আজিজুলের অন্ধকারে যেয়ে চিপায়-চুপায় ঘটানো কারবার সহ।
আজিজুল তার খেলাঘরে বসে। হিসাবের খাতা দেখছেন গতকালকের আকবরের লটকন ডেলিভারি করার। 
এইঘরে ঢুকতে প্রথম দরজার পর আরেকটু হাটলে আরো একটা দরজা পরে। এইটাই এই ঘরে ঢুকার মেইন দরজা। যেখানে এখন আবেশ দাড়িয়ে। তার দুটো হাত জিন্সের পকেটে গুজা আছে। দরজা খুলার জন্য আলাদা করে হাত বের করা খুউব কাহিলের। সে বাম পা উঁচু করে ঠেলা দেয় দড়জায়। খুলে যায় দরজা। সে ঘাড় কাত ভিতরে দেখে, কি আছে। আজিজুল বসে ভিতরে টেবিলের ঐপাশে। তার মুখের অভিব্যক্তি কঠিন যা বোঝা যাচ্ছে।
আবেশ ভিতরে ঢুকে। আজিজুল পর্যন্ত যেতে যেতে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশে দেখতে থাকে। ঘরের আলো একদম ধবধবে সাদা। চারপাশে ওয়ালও পুরো সাদা। আজিজুল ঘরের একপাশে বসে আছে। আর ঘরের অন্যপাশ মাঝখানে একটা দেয়াল দিয়ে পৃথক করা। ঘরের অন্যপাশটায় ঢুকার পথে মোটা লাল কাপড়ের একটা বড় পর্দা। এপর্যন্ত এসে আবেশ থেমে যায়। এক ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে, " কি রাখেন ঐখানে, শশুড়মশাই?
বলেই পর্দার ভিতর দিয়ে শরীর বাঁকিয়ে ঢুঁ মারে একটা ঐ ঘরে। —"আবেশ!"
" আসছি! আসছি!!"
আবেশ ফেরত আসে ভালোমানুষের মতো। আজিজুলের সামনে যেয়ে দাড়ায়। পকেটে এখনো তার হাত গুজাই আছে।
" কতদুর জানো আমার বিষয়ে? "
" কতদুর জানলে আপনি খুশি হবেন?"
আজিজুল হাসে, "বেশি জ্ঞান কখনো কখনো মৃত্যুর দুয়ার খুলে দেয়। "
" তাই নাকিইই? আজকে জানলাম। জ্ঞান দানের জন্য ধন্যবাদ। যদিও যার-তার জ্ঞান দান আমার সহ্য হয় না। "
" ভদ্রতা বজায় রাখো!"
"একদম! কতটা ভদ্রলোক আমি বলুন তো! আপনার বডি পার্টস গুলো এখওনো কা*টি নাই আমি, যেভাবে আপনি কা*টেন প্রতিদিন, লা*শের। তারপর লটকন বানায়ে এক্সপোর্ট করেন। কি পরিমান ভন্ডামি!!" আবেশ মুখ কুঁচকে ফেলে কথায়, যেন বাজে কাজে তিরস্কার জানাচ্ছে সে।
আজিজুলের মুখ কঠিন হয়ে আবার পরমুহূর্তেই মুখে হাসি টানে, " বুয়েটে পড়াশোনা করেছ। সিএসসি না?"
আবেশ তির্যক হাসে। এবারো পকেট থেকে হাত বের করে না। সে ডানপায়ের শুজ সামনের চেয়ারের পায়াতে লাগায়ে চেয়ার তার কাছে টেনে আনে। ঝুঁকে দেখে ময়লা আছে কি না চেয়ারে, ময়লা থাকুক না থাকুক ফু দেয় কয়েকটা। তারপর সেটাতে বসে। এরপর প্রশ্নের উত্তর দেয়, " হু। "
" তোমার বাবার মাছের বিশাল আড়ত আছে। বেশীর ভাগ চিংড়ি। সাদা সোনা বলি যেটাকে। দেশের সিংহভাগ চিংড়ি রপ্তানি মংলা বন্দর দিয়ে তোমার বাবার মাছের আড়ত থেকে হচ্ছে। যেটার পুরো নিয়ন্ত্রণ তোমার বাবা করছে। " আজিজুল কথায় কথায় উঠে আসেন চেয়ার থেকে। হেটে আবেশের কাছে এসে তার কান বরাবর ঝুঁকেন, ধীরস্থির গলায় নিচুস্বরে বলেন, "কিন্তু এই চিংড়ির ব্যাবসার আগে পাটের ব্যাবসা ছিল তোমার বাবার, জানো??"
আবেশের মুখ বিকৃত হয়, " আমার বাপের পাটের ব্যাবসা মনচায় চিংড়ির ব্যাবসা থাকুক, আপনের বাপের কি ছিঁড়ছে তাতে?"
আজিজুল খুশি হয় সঠিক জায়গায় হাত লাগানোতে, "বাচ্চা! বাচ্চা!!"
ঘুরে আজিজুল টেবিলের ঐপাশে গিয়ে দাড়ায়, ঝুঁকে দুই হাতের থাবায় টেবিলে ভর দিয়ে দৃষ্টি আবেশের দিকে দেয়, 
" তোমার জন্মের আগ থেকে আমার ব্যাবসা চলে, সেখানে তোমার মতো দুই দিনের পোলা আমার কি বা*ল ছিড়বে?? "
আবেশ চুল ঝাড়া দিয়ে উঠে দাড়ায়। চুল হাতে পেছনে ঠেলে, " আমার বাপেরে চিনেন, কিন্তু আমারে চিনেন না। এই দুই দিনের পোলা আপনের বা*লসহ আরো অনেক কিছু ছিড়ার ক্ষমতা রাখে। "
— "তোমরা কি এত কথা বলতেছ বলোতো?? বাইরে চাচু-চাচিরা চলে আসছে তো আব্বু! " রাইনিকার জোরে আওয়াজ পাওয়া যায় বাইরে থেকে।
এইভাবে আজিজুলের সাথে কথা রাইনিকাই বলতে পারবে। যত দরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাই চলুক না কেন রাইনিকার কোনো বাধা নেই তার মাঝে কথা বলার, তখন আব্বুকে ডাক দেওয়ার।
দুইজন একসাথে বের হয়ে আসে খেলাঘর থেকে।
রাইনিকা আবেশের দিকে তাকিয়ে। যে সামনে বড়ঘরের দিকে হেটে যাচ্ছে। মনে তো হচ্ছে এটা রাইনিকার না তার নিজের বাড়ি। খেলাঘর থেকে বের হয়ে কেমন উপেক্ষা করে চলে গেল সামনে থাকা রাইনিকাকে। যেন রাইনিকা তার চোখের সামনেই ছিল না। মুখ দেখে মনে হচ্ছে তিনি তার আলাদা দুনিয়াতে মগ্ন। যতসব, ফাউল জামাই!
আজিজুল লটকন গাছের নিচে দাড়িয়ে সামনে রাইনিকাকে দেখছেন, যে এখন আবেশকে দেখতে ব্যাস্ত। তিনি আসলেই চিনেন, খুব ভালো করে চিনেন সেলিম রাওয়াদকে, কিন্তু সেলিমের ছেলেকে দেখার সাধ্য কখনো হয় নি তার। সেই ছেলে কি না তার জামাই হিসেবে এসেছে। বাপ ছিল এক আশ্চর্য বস্তু!! আর ছেলে সেই অতিআশ্চর্য জেনেটিকের পুরাটা ধারন করে বসে আছে। সেজন্য এতটুকু তো ঠাহর করাই যাচ্ছে, ছেলে যে বাপের মতই চরম রকমের ধরিবাজ। প্রথম বিয়ের রাতে যদিও তার সন্দেহ হয়েছিল। তারপরও তিনি এতকিছু ভাবেন নি। ভাবতে চান নি। তার বিতৃষ্ণা চরমে উঠে গিয়েছিল! নিজের অজান্তেই তিনি কোনোরকম বিদায় করতে চেয়েছিলেন তার মেয়েকে! নিম্নতম খোঁজখবর ছাড়া তুলে দিয়েছিলেন তার মেয়েকে কোনো বদমায়েশের হাতে। যা এখন ভাবতেই রাগের মাত্রা বাড়ছে নিজের প্রতি। তার এতটুকু মাথায় রাখা উচিত ছিল এই বিতৃষ্ণা স্থায়ী হবে না, তিনি কতটা নরম তার মেয়ের প্রতি তা তো তিনি নিজে জানেন। তখনকার বেখেয়ালির ফল তাকে এখন ভোগ করতে হচ্ছে! 
রাইনিকা হঠাৎই দৌড় লাগায় সামনে। একদৌড়ে আবেশের সামনে যেয়ে দাড়ায়। হুট করে রাইনিকার সামনে চলে আসায় আবেশ থমকে দাড়ায়। বড়ঘরের প্রধান-দড়জার দোরগোড়ায় তারা। রাইনিকা দুই হাত কোমরে তুলে, মাথা উঁচু করে আবেশের দিকে তাকিয়ে। সামনে রাইনিকার এই ভাবমূর্তিতে আবেশের ঠোঁটে হাসি চলে আসে, আরেকটু ঝুঁকে রাইনিকার মাথা বরাবর মাথা নামায় আবেশ, 
"কি চাই??"
" আপনাকে "
" তোমার কাছে ওয়ারেন্টি কার্ড নাই আমাকে সামলানোর এখনো।"
রাইনিকার মাথাভর্তি এখন অন্যচিন্তায়; ফলে আবেশের বলা কথাটা ওর ভিতরে ঢুকতেই পারে না বের হয়ে যায়,"এইসব ওয়ারেন্টি কার্ড-ফোয়ারেন্টি কার্ড দরকার নাই আমার। আগে বলুন কিসব চলছে আপনার আর আমার আব্বুর মধ্যে? "
আবেশ হঠাৎই মাথা সোজা করে ফেলে, নাক কুচকায়, 
" বাপ আছে আমার মেয়ে-আমার মেয়ে করে কানের পোঁকার ইজ্জত মারে, আর মেয়ে এইদিকে আমার আব্বু!! এতবাদ দিয়া দয়াল বাপ-মাইয়ার মধ্যে ফাঁসায় দিসে!" 
—ফট করে টান খায় শার্টের কলারে আবেশ। নিচু হতে বাধ্য হয় সে আচমকা টানে। রাইনিকা অস্থির গলায় বলে,"কি করছেন বলুন তো আপনারা? না বললে আমি কিন্তু নিজেই বার করব! তখন-"
—" এই ছেড়া কেডা? তরে বিরক্ত করতাছে নি রাই!? " পিছনে উঠান থেকে একটা কর্কশ তরুন কণ্ঠ তেড়ে আসে আবেশের দিকে। রাইনিকা আবেশের কলার থেকে হাত সড়াতে পারে না আবেশ পলকেই ওকেসহ ঘুরিয়ে সড়িয়ে আনে। ঐ ছেলেটা আবেশকে ধরতে যেয়ে ফাঁকা যায়গায় হুমড়ি খেয়ে পড়তে নেয়।
পুরো ঘটনা দৃষ্টিগোচর হয় ভিতরে বড়ঘরে থাকা ও উঠানে থাকা বড়ছোটদের। তাদের ঐ ছেলের হুমড়ি খেয়ে পড়া থেকে রাইনিকাকে অন্য কোনো পুরুষের জাপটে ধরে জায়গা পরিবর্তন বেশী ট্রিগার করেছে বলে মনে হলো। ভিতর-বাহির থেকে সবাই তেড়ে আসতে থাকে আবেশের দিকে সাথে গর্জন ধ্বনি ফ্রি। 
আবেশ ফোঁস করে শ্বাস ফেলায়। পাগল নাকি এই গুষ্টির সবগুলা। আবেশ ধরলে এখানকার একটাও বাঁচবে? শশুড়মশাই কই? সামলাবে নিজের গুষ্টিরে নাকি আমি-
—" বড়ঘরে আসতে বলেছি আমি। "
সাথেসাথে রাগ দমায়ে নেয় সামনে-পিছনের মানুষগুলো। একে একে উঠে যায় বড়ঘরে। কেউ-কেউ সরু চোখে তাকায় আবেশের দিকে। 
আবেশ নিচ ঠোঁট উল্টায়ে প্রসংশা করে, " তোমার আব্বুর বাহিনী দেখছি সেই!! কমান্ডো ফেইল একদম।"
রাইনিকা চোখ রাঙায়ে তাকায় আবেশের দিকে। এতক্ষণে খেয়াল করে ওর হাত এখনো আবেশের কলারে। সাথেসাথে নামিয়ে এনে, ভিতরে হাটা দেয়। আবেশ নিজের মুচরে থাকা কলারের দিকে তাকায়। কি হাইপার বউ!! সবার বউই কি এমন? নাকি খালি তার একার? সে আবার সুন্দর করে ঠিক করে কলারটা। পরে ভিতরের দিকে হাটা দেয়। 
~~~~
চলবে~~
#wrong_profile 
#পর্ব 19 (surprise ep) 
#সেয়ারা_তিষিকা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন