#জল_তরঙ্গে——#পর্বঃ১০
#ইরফা_মাহনাজ
[চমক স্পেশাল 🐸]
⛔ (পর্বটিতে কিছু কটু বাক্যর ব্যবহার করতে হয় গল্পের স্বার্থে। এই গল্পের ম্যাক্সিমাম চরিত্র লাল পতাকা 🚩)
_____________________
--- ছাড়ুন আমাকে। নামিয়ে দিন নির্লজ্জ্ব লোক। আপনার লজ্জা নাই থাকতে পারে আমার তো আছে।
আলতার একটা কথাও কানে তুলছে না অসভ্য পুরুষটা। নিজের মতো করেই আলতাকে এক হাতে কাঁধে তুলে অন্যহাত পকেটে গুঁজে আছে। উন্মুক্ত পৌরুষ শরীরটার সাথে চেপে থাকায় আলতার প্রচন্ড অসস্তি হচ্ছে।
গায়ের লোমকূপ দাড়িয়ে গিয়েছে রমণীর। বদনে তাহার লাজের ছাপ। তরণ আলতাকে নিয়ে এসে বাইকের সামনে দাঁড় করায়। টুটুলকে তখন বলায় বেচারা যে কিভাবে এতো কম সময়ে বাইক হাজির করেছে সেটা কেবল ওইই জানে।
বাইকের সামনে এসে আলতাকে উদ্দেশ্য করে ধমকে ওঠে,
--- বাইকে ওঠো।
--- ন... না আমি আপনার সাথে যাবো না।
এমনিতেই মেজাজ বিগড়ে আছে তরণের তার মধ্যে আলতার ত্যাড়ামি মোটেই সহ্য হলো না। খেকিয়ে উঠলো,
--- ভাতার লাগি তোর কোন *** না যে যাবি না। ভাতারের লগে যাবি তাতে এতো নখড়ার কি আছেরে স্টুপিড মহিলা?
তরণের ধমকে কেঁপে উঠলো আলতার ছোট্ট কায়াটা। নরম মনের মানবী অল্পতেই মূর্ছা যায়। আলতার ভাবসাব দেখে তরণের বুঝতে আর বাকি রইলো না এই মেয়ে ভেবলার মতো এখানেই জীবন পাড় করে দিতে পারবে।
যা করার তাকেই করতে হবে। ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে। কপালে আঙ্গুল ঘষে কিছুক্ষন ভাবলো। তারপর সূর্যকে বলে উঠলো,
--- সূর্য হুডি খোল।
সূর্য বেচারা আঁতকে উঠলো। ট্রেন্ডের জন্য হুডি পড়েছিল। নিজের বুকে দুই হাত দিয়ে আগলে শুধালো,
--- ইয়ার ব্রো ন্যাষ্টি কথা বার্তা কেনো বলিস!
--- কু*** রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে তুই এখানে তোর ভাষণ চো***? আমি তোরে ল্যাংটা হইতে বলি নাই জাস্ট হুডি খুলতে বলছি।
সূর্য আর রিস্ক নিলো না হুডি খুলে তরণের হাতে দিতেই ও সেটা পড়ে নিলো। খালি গায়ে শুধু হুডি পড়া। তাও সামনে দিয়ে সেটা সম্পূর্ণ খোলা। বডির প্রতিটা পৌরুষ খাঁজ আর সিক্স প্যাক দেখা যাচ্ছিলো।
এসব দেখে আলতা মনে মনে ভাবে,
--- পড়ারই বা কি দরকার ছিলো? যখন সবই দেখা যাচ্ছে।
তরণ তাকালো আলতার নত করে রাখা মাথাটার পানে। তারপরই লোক জনের ধার না ধেরে এক থাবা বসালো রমণীর বাঁকা কোমরের খাঁজে।
খামচে ধরলো তরণ। অস্ফুটে "আহ" শব্দ বেরিয়ে আসে সঙ্গে সঙ্গে আলতার মুখ থেকে। সেসবে পাত্তা দেওয়ার সময় নেই তরণের। ছোট্ট দেহটা এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে বাইকে চড়ে বসলো।
নিজের মুখোমুখি করে আলতাকে নিজের বুকের সাথে চেপে বাইকে বসে তরণ। এভাবে পুরুষ শরীরের এতটা কাছে লেপ্টে থাকতে লাজে আড়ষ্ট রমণী।
তরণের খালি বুকের সাথে একদম পিষে যাচ্ছে আলতা। কেমন হাঁসফাঁস লাগে। তরণ মোটেও তোয়াক্কা করে না। উল্টে রাশভারি কণ্ঠে আওড়ায়,
--- ধরে বস স্টুপিড মহিলা। গায়ের যত শক্তি আছে ততো শক্তির প্রয়োগ করে চেপে ধর আমাকে।
আলতা কাপা কাপা হাতে তরণকে ধরে। এটা বোধহয় তরণ নামক পুরুষের পছন্দ হয়নি। অসন্তুষ্ট গলায় শুধায়,
--- জানি গায়ে জোর নেই তাই বলে এতো কম। মনে হচ্ছে আমি তুলো জড়িয়ে বসে আছি। হাওয়া দিলে উড়ে টিনের চালে ল্যান্ড করবে।
রাগ লাগলো আলতার। তাই খামচে ধরলো তরণের পিঠ। আরো লেপ্টে গেলো সে অসভ্য পুরুষটার দিকে। বাঁকা হাসে তরণ। আলতার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
--- লিসেন কেয়ারফুলি স্টুপিড মহিলা। সবার সামনে প্রটেক্ট করেছি মানে আমি বিয়ে মেনে নিয়েছি এমন নয়। তাই ঢ্যাং ঢ্যাং করে আমার মাথায় চড়তে যেও না। তুলে এক আছাড় মারবো। তুলোর মতো বডি চ্যাপ্টা হয়ে যাবে।
মুখ বেকায় আলতা। বয়েই গেছে তার। তার এখন চিন্তা হচ্ছে গুঞ্জনের জন্য। মেয়েটা আলতাকে নিজের বলদামির জন্য কাঁচাই চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
****************
দোলনায় চুপচাপ বসে আছে গুঞ্জন। ছাদে পাতা এই দোলনাটাও অতীতের স্মৃতি বহন করে। চুল গুলো খোলা। হালকা বাতাসে উড়ছে। পার্টি শেষ। রাত হওয়ায় গুঞ্জনকে যেতে দেয় না তরঙ্গ।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসে। এক ধ্যানে আকাশ দেখতে দেখতে নিজ মনেই বিড়বিড় করে,
--- তুমি জানতেও পারলে না তরঙ্গ। তুমি কতটা ধোয়াশার মাঝে আছো। তোমার মা আমাদের এক সাথে দেখা সংসারের স্বপ্নটা ভেঙে দিলো।
অতীত~
ডিভোর্স এর দুই দিন আগে স্রোত আসে তরঙ্গের রুমে। যেখানে কাপড় ভাঁজ করছিলো গুঞ্জন। শাশুড়িকে এই অবেলায় দেখেই উঠে দাড়ায়। জানতে চায় কিছু লাগবে কিনা।
--- কিছু লাগবে আম্মা?
--- হুম। লাগতো।
--- জি বলুন।
স্রোতের এতো শান্ত স্বরে বলা কথায় একটু বিস্মিত হলো গুঞ্জন। তবে সেসব নিয়ে বেশি ভাবলো না। স্রোত বলল,
--- তরঙ্গ তোমায় কিছু বলেছে?
--- না তো কি বলবে?
--- যাক ভালোই হলো। এখন এই মেয়েকে নিশ্চিন্তে আমার পুঁথি পড়ানো যাবে।
মনে মনে ভেবে কুটিল হাসলো। দুইদিন আগেই স্রোত খুব বাজে ভাবে তরঙ্গের কান ভাঙ্গায়। যেহেতু তরঙ্গ এ ব্যাপারে গুঞ্জনের সাথে কিছু বলেনি তাই এই সুযোগটাই কাজে লাগায় স্রোত।
--- দেখো গুঞ্জন তুমি আমার মেয়ের মতোই। তাই তোমার ভালোর জন্যই বলছি তুমি বরং তরঙ্গকে ডিভোর্স দিয়ে দেও।
আঁতকে উঠলো গুঞ্জন। বুক টা ধক করে উঠলো। উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো গুঞ্জন,
--- এসব কি বলছেন মা! আমি কেনো আপনার ছেলেকে ডিভোর্স দিবো।
--- দিবে কারণ তরঙ্গ তোমাকে না তার জীবনে তন্দ্রাকে চায়।
--- সে কি নিজে এ কথা বলেছে মা?
বজ্রকঠিন স্বরে জানতে চাইলো গুঞ্জন। আর স্রোতও খুব ভালো মতো বুঝিয়ে দিলো। সেদিন রাতে তরঙ্গ বাড়ি ফিরলো না। গুঞ্জন যেই ভয় পেয়েছিলো সেটা সত্যি করে দিয়ে পরের দিন স্রোত প্রমাণ করলো রাতে তন্দ্রা আর তরঙ্গ একসাথেই ছিলো।
যদিও পুরো ব্যাপারটা গুঞ্জনের বুঝতে ঢের দেরি হয়ে যায়। ততদিনে যা হওয়ার হয়ে যায়। স্রোত এই জঘন্য কাজটা কেনো করলো জানে না গুঞ্জন। তবে স্রোত যে ইচ্ছে করেই গুঞ্জন-তরঙ্গের ডিভোর্স করায় এতে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।
আর পুরো ব্যাপারটা আজ পর্যন্ত অজ্ঞ তরঙ্গ। সে জানেই না তার পিঠ পিছে তার মা তার জীবনের কত বড় ক্ষতিটা করে!
অন্যদিকে ~
রুম অন্ধকার করে বসে আছে তরঙ্গ। ঠিক বসে নেই। আসলে সে শুয়ে আছে। কিছু একটা মাথায় আসতেই চট করে উঠে দাড়ায়।
একটা ড্রয়ার খুলে বের করে একটা কাগজ। কাগজের উপরে অস্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে কিছু একটা লেখা। কাগজটার দিকে তাকিয়ে থেকে শুধালো তরঙ্গ,
--- সামান্য একটা কাগজ অথচ এটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলো!
এরই মাঝে নিচ থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসলে কাগজ টাকে তার নিজস্ব জায়গায় রেখে দেয় তরঙ্গ। নিচে যাওয়ার জন্যই উদ্যোত হয়।
**************
স্রোতের মাথায় যেনো বাজ পড়লো। যে ছেলেকে সে কখনও বিয়েই দিবে না বলে ঠিক করে দিলেও নিজে পছন্দ করে দিবে সেই ছেলে কিনা মাঝরাতে বউ নিয়ে হাজির!
দরজায় সটান দাড়ানো দাম্ভিক পুরুষ তরণ। যার শক্ত হাতের মুষ্ঠীতে বন্দি আলতার নরম তুলতুলে হাতটা। অল্প ছোয়ায় লাল হয়ে গেছে।
বিষয়টা খেয়াল হতেই কপালে ভাঁজ পড়ে তরণের। আওড়ায়,
--- স্ট্রেঞ্জ! ভালো মতো চেপে ধরার আগেই লাল হয়ে গেলো? এর সাথে তো দেখছি চাপাচাপিও করা যাবে না।
স্রোত বিলাপ করতে করতে এগিয়ে আসলেন। আলতাকে উদ্দেশ্য করে ছুড়লেন বিষবান। ভীতু রমণী আরো কুঁকড়ে গেলো। নজর এড়ালো না তরণ নামের কঠোর মানবটার।
বুকের কোথাও কাটার মতো বিধলো। নিজ মায়ের আলতার উপর গলা চড়িয়ে কথা বলা, কটু বানে বিদ্ধ করা মোটেও পছন্দ হলো না তরণের। চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। ধারালো জ-লাইন ব্লেড রুপ নেয়।
--- আমার বউয়ের সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলবে না মা। বিষয়টা আমার মোটেও ভালো লাগলো না। আমি মাম্মাস বয় না যে মেনে নিবো। এটা আমার লাস্ট ওয়ার্নিং।
এতক্ষন যাবৎ দোতালার করিডর থেকে মজা নিচ্ছিলো গুঞ্জন। বেশ ভালোই লাগছিলো তার। সাথে কিছু পপকর্ন আর সফ্ট ড্রিঙ্কস হলে ব্যাপারটা একদম জমে ক্ষীর হয়ে যেতো।
উপভোগ করছিলই তবে তরণকে কোনো মেয়েকে এভাবে ডিফেন্ড করতে দেখে একটু অবাক হলো। জীবনে কোনোদিন তরণ তাকে সম্মান দেখায়নি। তাই অবাক হওয়ারই কথা।
সে ভাবলো মেয়েটা কে যার জন্য তরণ তার মায়ের উপর কথা বলল।
--- দেখতে হচ্ছে তো গুঞ্জন। চল তবে।
বলেই নিচে নামে। দরজার চৌকাঠে পরিচিত এক মুখ দেখতে পেয়েই থমকে উঠলো গুঞ্জন। জায়গায় ফ্রিজ হয়ে গেলো।
--- আ... আলতা!!
গুঞ্জনের মুখ থেকে নিঃসৃত হওয়া বাক্যটা কর্ণকুহর হতেই মাথা উঁচিয়ে তাকালো শব্দের দিকে। ব্যাস আলতা শকড।
--- গুঞ্জন তুই!
--- মনে হচ্ছে দুজন দুজনকে চেনো।
তরণের ব্যাঙ্গ করে বলা কথা শুনেও কোনো পাত্তা দিলো না গুঞ্জন। সে দৌড়ে আলতার নিকট গিয়ে ওর বাহু ধরে ওকে ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
--- আলতা তুই এ... এখানে? তাও আবার বিয়ের শাড়িতে! তুই তো রাঙামাটি গিয়েছিলি তাহলে এসব কি?
চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো গুঞ্জন। কান্নায় ভেঙে পড়ে আলতা। গুঞ্জন খুব করে চাইছে এই বিয়ে যেনো মিথ্যে হয়। তবে তাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে তরণ বলে বসে,
--- তুমি বোধহয় একটু আগের আমার বলা কথাটা শুনতে পাওনি।
--- জাস্ট শাট আপ তরণ!! আমাদের মাঝে আসবে না।
--- ব্যাপারটা আমার বউকে নিয়ে না হলে ভেবে দেখতাম। কিন্তু ব্যাপারটা যেখানে আমার বউ রিলেটেড সেখানে নো কম্প্রোমাইস।
তারপর কিছু সময় কিছু একটার সমীকরণ হিসেব করে মাথায় হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো অসভ্য তরণ।
--- অত্তেরি! ডোন্ট ইয়্যু সে মাই এক্স ভাবিজান আমার সদ্য বিয়ে করা বউজান তোমার ফ্রেন্ড!
তারপর আলতার দিকে ফিরে কেমন শরীর দুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
--- স্টুপিড মহিলা তুমি বলোতো?
--- আমার বান্ধবীর সাথে এভাবে কথা বলবে না তরণ।
--- তোমার বান্ধবী...
বলতে বলতেই নিজ কথায় ফুল স্টপ পড়ে যায় তরণের। সে বলে,
--- ইট'স ট্রু! মাই গেস ইজ ক্যারেক্ট! ওএমজি! শেষ মেস সিনিয়র বউ। উমম,, নট ব্যাড বাডি। আই ক্যান হ্যান্ডেল। আফটার অল স্টুপিড মহিলাকে দেখে বুঝা যায় না সে আমার বড়।
তরণের ফালতু মজা গুলো টলারেট করা যাচ্ছে না। তবুও চোখ বুঝে লম্বা শ্বাস ফেলে তরণকে শুধায়,
--- আলতাকে ছেড়ে দেও তরণ। সে সহজ, নিষ্পাপ। আমার মতো আরেকটা নিষ্পাপকে আমি জাহান্নামের সাথে সাক্ষাৎ করাতে চাচ্ছি না। আমার সাথে যা করেছো আলতার সাথে করার ট্রাই করলে আমি গুঞ্জন জেলের ঘানি টানিয়ে ছাড়বো তোমাদের।
থেমে নির্লিপ্ত, নির্লজ্জের মতো ঘাড় কাত করে দাঁত কপাটি বের করে থাকা তরণের দিকে তাকালো গুঞ্জন। ছেলেটার এমন গা ছাড়া ভাব সহ্য হচ্ছে না গুঞ্জনের। আলতা তার বান্ধবী কম বোন বেশি। সেই মেয়েটার অবস্থা নিজের মতো করুন কোনোকালেই সে হতে দিতে পারে না।
গুঞ্জনের রাগের সীমানা ছাড়িয়ে গেলো। ও এগিয়ে এসে এক থাবা বসায় তরণের হুডির কলারে। ভিতরে কিছু না পড়ে শুধু হুডিই পড়ে আছে তরণ।
গুঞ্জনের আক্রমনেও হাসে অসভ্য ছেলেটা। কন্ঠায় তেজ ঢেলে শুধালো গুঞ্জন,
--- আই সয়ার আলতার কিছু হলে সব কটাকে মেরে পুঁতে রাখবো। মানুষ নিজের থেকে বেশি নিজের কাছের মানুষের জন্য হিংস্র হয় বেশি।
এক ঝটকায় গুঞ্জনের হাত থেকে নিজের কলার ছাড়িয়ে নেয় তরণ। গায়ের আলসেমি ছেড়ে হাতের, ঘাড়ের মটকা ফুটায়। মটমট আওয়াজ হয়। শিকারির মতো নজর তাক করে গুঞ্জনের দিকে।
পরপরই অশরীরীর মতো ঘাড় কাত করে তাকায় পাশেই জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে থাকা নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর দিকে। সিগারেট পোড়া ম্যানলি ঠোঁট জোড়া গোল করে অশ্লীল শব্দের সাথে চুমু ছুড়ে আলতার পানে।
উপস্থিত জনতার তোয়াক্কাই করলো না ছেলেটা। তারপর গুঞ্জনের দিকে ফিরে বলে উঠে,
--- শি ইজ নাও তরণের বান্দি। পার্সোনাল প্রপার্টি। তরণের বান্দার উপর কেউ কিছু বলবে আর আমি তরণ সেটা দেখবো ইটস টোটালি ইম্পসিবল। ওকে জাহান্নাম দেখানোর কথা চিন্তাও করলে আমি তাকেই জাহান্নাম থেকে ঘুরিয়ে আনবো।
প্যান্টের পকেটে দুই হাত গুঁজে শয়তানের মতো হেলে দুলে ফের শুধায়,
--- সো ইয়্যু মাই ডিয়ার এক্স ভাবি আলতাকে নিয়ে যাওয়ার কথা তোমার এই গাধা মার্কা মাথা দিয়ে বের করে দেও। ও যাবে না। আমি বেঁচে থাকতে তো নয়ই।
আকস্মিক তরণ নামক অভদ্রের উপর হামলা করে বসে গুঞ্জন। তরণের গাল একদিকে বেঁকে যায়। "ঠাস" আওয়াজে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে নিস্তব্ধতা।
তরণ তার কাত হওয়া মাথাটা তির্যক ভাবে উঠিয়ে তাকায় গুঞ্জনের দিকে। শয়তানি ফুটে ওঠে ওর মুখে চোখে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
--- ইয়্যু ব্লাডি বি*চ হাউ ডেয়ার ইয়্যু?
বলে যেইনা গুঞ্জনকে মারতে যায় অমনি ওর হাতটা ধরে ফেলে একটা শক্ত পক্ত পুরুষালি হাত। যেটা আর কেউ না বরং তরঙ্গ।
চিড়বিড়িয়ে বলে,
--- ইয়্যু এজহোল হাও ডেয়ার টু টাচ হার? তোকে আমি আজ এখানেই কবর দিবো জানো**।
___________
চলবে~