#উপন্যাস
#চোখে_চোখে_মিলন
#লেখিকা: জুঁই শাহ্
#পর্ব : ০৬
আদ্রো কিছুটা অবাক হলো। মনে মনে ভাবলো,
__তাহলে কি অহনা রাতের সব ঘটনা ভুলে গিয়েছে নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে বুঝতে দিচ্ছে না কোনটা।
ভাবনার ভিতর বেঘাত ঘটলো অহনার বলা একটি কথায়,
__রাতে কার সাথে কথা বলছিলেন আপনি আদ্রো ভাইয়া।
হঠাৎ প্রশ্ন করায় আদ্রো কিছুটা ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। বলল,
__আমার একটা ফ্রেন্ডের সাথে। কেনো কোনো সমস্যা?
__না আপনার কথা শুনে মনে হলো আপনি কোথাকার না কোথাকার ডোন।
বলেই পাগলের মতো হাসতে শুরু করেছে অহনা। অহনার হাসি দেখে আদ্রো কিছুটা সস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। তাহলে হয়তো অহনা কিছু বুঝতে পারে নি। অহনা সবকিছু মজা মনে করেছে। আদ্রো এবার অহনার হাতটা ছেড়ে দিয়ে বলল,
__এতে এতো হাসার কি আছে বুঝলাম না। আমার ফ্রেন্ডের সাথে আমি যা ইচ্ছা বলবো তুই লুকে লুকে আমার কথা শুনিস তাই না।
কথাটা শুনে অহনা চুপসে গেছে।
__না একদমি না। আপনার মতো বান্দরের কথা লুকে লুকে শুনতে আমার বয়েই গেছে। বলেই অহনা দৌড় দিয়েছে
__কিহ! আমি বান্দর দারা তোর আজকে খবর করছি।
বলেই আদ্রোও ছুটলো অহনার পিছন পিছন। মহনা নিরবে আদ্রো এবং অহনার কান্ড গুলো দেখছিলো। এতোক্ষণ অনেক কষ্টে হাঁসি আটকে রাখছে আর আটকাতে পারলো না এবার মহনা জোরে জোরে হেঁসে উঠলো। আর ফিস ফিস করে বলল,
__এই জন্যই তো আপনাকে এতো ভালো লাগে মি.আফরোজান আদ্রো চৌধুরী। তবে খুব তাড়াতাড়ি এমন একটা সময় আসবে যেদিন আমি আপনাকে নিজের করে নিবো।
বলেই নিচে চলে গেলো মহনা। আদ্রো এবার অহনাকে ধরে ফেলেছে। দুই জনে প্রাই মারামারি বেধে ফেলেছে। অবশেষে আয়না সরকার এসে ওদের দুজন কে দুই দিকে পাঠিয়ে দিলো। আয়না সরকার বলল,
__কি করছিস তোরা। এখনো কি এসব করার বয়স আছে তোদের। বড় হবি কবে তোরা??
__আম্মু আহনা আমাকে বান্দর বলেছে।
__দেখেছো ফুপ্পি বান্দরকে নাকি বান্দর বলা যাবে না।
__আম্মু দেখেছো তোমার সামনে ও আবার আমাকে বান্দর বলেছে তুমি কিছু বলবে না। আমি যদি বান্দর হয় তুই শাঁকচুন্নি!
__কিহ! আমি শাঁকচুন্নি..
অহনা কথা শেষ না করতেই আয়না সরকার এবার ধমক দিলেন,
__একটু থাম তোরা। তোদের নিয়ে আর পারি না। আর কেউ একটা কথা বললে খবর আছে বলে রাখলাম। আর অহনা তুই পার্লারে যাস নি কেনো স্নিগ্ধা সারা গেছে।
__আমার পার্লারের সাজ ভালো লাগে না। আমি বাড়িতেই সাজবো।
__তো কখন আরও। তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নে। আর আদ্রো তুই আর মেয়েটাকে জালাতন করিস না তুইও রুমে যা রেডি হ। আমার অনেক কাজ আছে তোদের চক্করে পরে আমি ওসব ভুলেই গেছি।
বলেই আয়না সরকার চলে গিয়েছেন। আদ্রো এবার বলল,
__তোকে যেনো বেশি সাজতে না দেখি আর বর পক্ষের ছেলেদের সাথে কথা বলবি না। যদি দেখেছি তুই ওদের সাথে কথা বলেছিস তাহলে তোর খবর আছে বলে দিলাম।
আদ্রো ঠান্ডা একটা হুমকি দিয়ে চলে গিয়েছে রুমে। অহনা ওখানেই জমে গিয়েছে। এই মানুষটা অহনাকে একটুও শান্তিতে থাকতে দেয় না।
__ধুরু ভালো লাগে না কই ভাবসিলাম একটু মজা করবো। তা আর হলো কই। বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে একটা বান্দর এর জালায় কোনো কিছু করেও শান্তি নাই।
বিড় বিড় করতে করতে চলে গিয়েছে অহনা। অহনা কালো রংয়ের একটা লেহেঙ্গা পড়েছে আজ হালকা একটু মেকাপ করেছে। চুল খোলা রেখেছে তাতেই মনে হচ্ছে অপসোরার মতো লাগছে দেখতে।___________________________________________________
মেহমান আসার সময় হয়ে এসেছে বিয়েটা হবে একটা কমিউনিটি সেন্টারে। সবাই ওখানে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে রানভির, আহির পার্লার থেকে মাহি, স্নিগ্ধা ও সারাকে কমিউনিটি সেন্টারে রেখে এসেছে। ওরা রেডি হচ্ছে বড়রা সবাই রওনা দিয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উদ্দেশ্যে। রানভির আহির আদ্রো এবং অহনা একসাথে যাবে। বড়দের গাড়িতে অহনার জায়গা হয়নি দেখে আদ্রোদের সাথে আসতে বলেছে মুফতী সরকার। আদ্রো এখনো নিচে নামে নি নামাজ পড়ে এসে রেডি হচ্ছে। এদিকে অহনা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে সবাই চলে গিয়েছে কমিউনিটি সেন্টারে আর এদিকে আদ্রো ভাইয়ার রেডিই হওয়া হয় নি। মনে মনে ভাবছে,
__পার্লারে গেলেই ভালো হতো সারা আর স্নিগ্ধার সাথে ওখানে চলে যেতো অন্তত পক্ষে এই বান্দরটার সাথে যেতে হতো না।
ভাবনা শেষ না হতেই আদ্রো নিচে চলে এসেছে। অহনার সেদিকে চোখ পরতেই থমকে গিয়েছে মেয়েটা। আদ্রো কালো কোট এবং কালো পেন্ট পরেছে। হালকা বাতাসে অহনার চুলগুলো উরে চোখে নাকে পড়ছে। অহনার সেদিকে কোনো হুশ নেই। সে এক নাগারে আদ্রোকে দেখছে। অবশ্য প্রথম দিনেই অহনার আদ্রোকে ভালো লাগছে তবে ওই বান্দরের সাথে করবে সম্পর্ক জীবনেও সম্ভব না। আদ্রো এগিয়ে গেলো অহনার দিকে। আদ্রোকে এগিয়ে আসতে দেখে ভরকে গেলো অহনা। আজ কেনো জানি লজ্জা লাগছে অহনার। নিজেকে লজ্জাবতী মনে হচ্ছে। গালে গোলাপি ব্রাশ করেছে সেই গাল এখন লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আদ্রো বলল,
__তুই লজ্জা পাচ্ছিস কেনো?
__কই লজ্জা পাচ্ছি?
__গাল গুলো লাল হয়ে আছে যে?
__ব্রাশ দিয়েছি তাই।
__অহনা
__হুম!
__আজ তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।
চলবে...........................