ফন্ট সাইজ:
থিম:
চোখে চোখে মিলন

৭ম পর্ব

লেখক: জুই শাহ্

উপন্যাস

#চোখে_চোখে_মিলন
#লেখক_জুঁই_শাহ্
#পর্ব : ০৭
___আদ্রো ভাইয়া আপনি আমাকে সুন্দর বলছেন আমি স্বপ্ন দেখছি না তো। একটা চিমটি কাটেন তো দেখি কোন জগতে আছি আমি। 
__তুই বাস্তব জগতেই আছিস। আসলেই আজকে তোকে ভিষণ সুন্দর লাগছে। 
অহনা আজকে অবাকের চরম পর্যায়ে পৌছেছে। আদ্রো ভাইয়া ওকে সুন্দর বলেছে। আসলেই এটা আদ্রো ভাইয়াতো নাকি অন্য কেউ আদ্রো ভাইয়ার রুপ ধরে এসেছে। ভাবতেই চিৎকার করে উঠে অহনা বলল,
__আআআআআআআআ ভূত ঢুকেছে বাসায় ভাইয়া তোমরা কই বাসায় ভূত ঢুকেছে। বাঁচাও আমায়।
আদ্রো ভেবাচেকা খেয়ে গেছে ভূত কই থেকে আসলো। আদ্রো অহনাকে বার বার জিজ্ঞাসা করছে কথায় ভূত কিসের ভূত অহনা কোনো পাত্তা না দিয়ে এক নাগারে চিল্লাচ্ছে। আহির রুম থেকে দৌরে এসে অহনাকে জরিয়ে ধরে বলছে,
__এই অহনা কি হয়ছে তোর ভয় পাচ্ছিস কেনো। কই ভূত কই আমাকে দেখা কই। অহনা বোন আমার একবার আমার দিকে তাকা কই ভূত। এখানে কোথাও ভূত নেই। 
অহনা আহিরের বুকে মুখ গুজে আহিরের সর্ট খামচে ধরেছে। অহনা মুখ তুলে আদ্রোর দিকে তাকিয়ে নখ দিয়ে ইশারা করে বলল,
__ওই যে ভাইয়া ভূত আদ্রো ভাইয়ার রূপ ধরে এসেছে। 
অহনার কথা শুনে আহির হাসতে হাসতে গোড়াগুড়ি খাচ্ছে। অহনা বিরক্ত হয়ে বলছে,
__তুমি হাসছো ভাইয়া তুমি না আসলে এতোক্ষণে আমার ঘার মটকে ফেলতো ভূত।তুমি মজা করো না। 
আহির আদ্রোর দিকে তাকিয়ে বলল,
__আদ্রো ভাইয়া শেষ মেষ আর কোনো রাস্তা পেলে না আমার বোনকে ভয় দেখানোর জন্য এই রাস্তায় পেলে। ও সরি ভূত ভাইয়া। 
বলেই আহির হাসতে শুরু করেছে। এরমধ্যে রানভিরও রেডি হয়ে নিচে নেমে এসেছে। এসে দেখে আহির পাগলের মতো হাসছে। রানভির ভ্রু কুচকে বলল, 
__কিরে আহির কি হয়েছে তোর পাগলের মতো হাসছিস কেনো! 
আহির হাসি থামাতেই পারছে না কি আর বলবে। রানভির বিরক্ত হয়ে আদ্রোকে জিজ্ঞাসা করতে যাবে কিন্তু আদ্রো প্রচন্ড রেগে আছে দেখে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেলো না। অবশেষে আহির হাসি থামিয়ে বলল,
___রানভির রে কোন জগতে বসবাস করি আমরা। ভাইয়া বনুকে ভয় দেখানোর আর রাস্তা খুঁজে পায়নি ভূত সেজেছে ভয় দেখানোর জন্য। আর আমার নিষ্পাপ বোনটা ভয়ে আরেকটু হলে কান্নাই করে দিতো। 
রানভির আগা মাথা কিছু বুঝলো না। রানভির বলল,
__আমি তোর কথার আগা মাথা কিছুই বুঝি নি আর বুঝতেও চাচ্ছি না। আমাদের দেরি হয়ে গিয়েছে এখন যেতে হবে চল।
সবাই গাড়ির দিকে পা বাড়ালো। গাড়ি আসকে রানভির ড্রাইভ করবে। পাসে আহির বসে আছে।  পিছনের সিটে আদ্রো আর অহনা বসে আছে।  আদ্রো এখনো রাগে ফুসছে আহির মাঝে মাঝে আদ্রোকে আরও রাগাচ্ছে। অহনা আদ্রোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজ ওর আদ্রো ভাইয়াকে অনেক সুন্দর লাগছে। রাগলেও আদ্রো ভাইয়কে কতো সুন্দর লাগে। বলেই অহনা নিজের হুসে ফিরলো কিসব ভাবসিস তুই অহনা ওই বান্দরটারে নিয়ে তুই কেনো ভাবসিছ। যাগ্গে বান্দর হোক আর যাি হোক ভাবতে তো আর মানা নেি। বলেই আবার অহনা ভাবনায় মনোযোগ দিলো, 
___আদ্রো ভাইয়া আমাকে সুন্দর বলেছে তার মানে কি আদ্রো ভাইয়া আমাকে পছন্দ করে। না না এটা কি করে সম্ভব আদ্রো ভাইয়ার সাথে আমার সম্পর্ক তো সাপ আর বেজির মতো তাহলে আদ্রো ভাইয়া আমাকে কেনো পছন্দ করবে। আর আদ্রো ভাইয়া আমার থেকে কতো বরো। 
বির বির করতে করতে নিজের মাথায় নিজেই গাট্টা মারলো। আদ্রো একবারও আর অহনার দিকে তাকায় নি। আজ ছেলেটার খুব অভিমান জমেছে। আজকে একটু ভেবেছিলো নিজের মনের কথা অহনাকে জানাবে সব প্লানে জল ঢেলে দিলো মেয়েটা। আদ্রো মনে মনে ভাবলো,
__অহনা তুই আমার সব প্লানে জল ঢেলে দিলি তো তোকে এবার দেখাবো আদ্রো কি জিনিস। ভেবেছিলাম ভালো কথাতেই রাজি হয়ে যাবি কিন্তু তুই তা করলি না। এবার আদ্রোর আসল রুপ দেখবি তুই। তোরে আমার লাগবে মানে লাগবেই। আমি হিরো না আমি ভিলেন আমি যা পেতে চাই তা পেয়েই ছাড়ি।  ভালোবাসা দিয়ে না পেলে জোর করে সিনিয়ে নিবো। তবুও নিবোই।
ভাবনা শেষ করে আদ্রো অহনার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাঁসি দিলো। অহনা বুঝতে পারলো না বিষয়টা অহনা শুধু আদ্রোর মুখপানে ফেল ফেল করে চেয়ে থাকলো। দেখতে দেখতে গাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে এসে থামলো আদ্রো প্রথমে নেমে গেলো। রানভির আহিরও নেমেছে। আদ্রো হাটা দিয়েছে ভিতরের দিকে পিছন পিছন রানভিরও। আহির অহনাকে ডাকছে, 
__কী রে নাম। জাবি না ভিতরে। 
অহনার মনে হয় এসবে কোনো হুশ নেই। অহনা শুধু আদ্রোর বাঁকা হাঁসির কথা মনে করছে। আহির এবার ধমনে উঠলো,
__কিরে অহনা। নামবি নাকি রেখে চলে যাবো। 
আহিরের ধমকে অহনার হুঁশ ফিরলো। তাড়াহুরা করে গাড়ি থেকে নামলো। আহিরের পিছন পিছন অহনা ভিতরে গেলো। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে বর পক্ষরা চলে এসেছে সারা স্নিগ্ধা আরও কাজিনরা মিলে গেট ধরেছে।  অহনা যায় নি গেট ধরতে। পুরো অনুষ্ঠান জুরে আদ্রো শুধু অহনার দিকেই তাকিয়ে আছে।  সারা স্নিগ্ধা সবাই অনেক মজা করছে কিন্তু অহনার আর এসবে ইন্টারেস্ট নেয় অহনার চোখের সামনে শুধু আদ্রোর বাঁকা হাঁসিই ভাসছে। আদ্রো কেনো ওভাবে হাঁসলো অহনা হিসাব মিলাতে পারছে না। 
অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে বর পক্ষরা প্রাই চলে গেছে কনে বিদায়ের পালা। কমিউনিটি সেন্টারে সোকের ছায়া ভর করেছে। সরকার বাড়ির বড় মেয়ে আজ বিদায় নিচ্ছে। মেয়েদের জীবন বলে কথা সারাজীবন বাবার বাসায় থাকতে পারে না। কনে বিদায় করে সবাই বাসার দিকে রওনা দিবে। যে যে গাড়িতে এসেছে সে সেই গাড়িতেই যাবে অহনার আবার আদ্রোর সাথে যেতে হবে।  কিন্তু আদ্রোকে কথাও দেখা যাচ্ছে না।  অহনা গেলো আদ্রোকে খুঁজতে হঠাৎ একটা হাত টেনে নিলো অহনাকে। অহনা চিৎকার করবে এমন সময় আদ্রো অহনার মুখ চেপে ধরে বলল,
__চুপ একদম চুপ। একটা আওয়াজ যদি তোর মুখ থেকে বের হয় তাহলে আমার হাতের পাঁচলা আঙ্গুল তোর গালে বসে যাবে। 
__আপনি এমনটা কেনো করছেন আদ্রো ভাইয়া আমার হাত ছাড়েন প্লিজ আমার ব্যাথা লাগছে। 
__তোরে চুপ করতে বলছি। ব্যাথা লাগলেও এই হাত আর কখনো ছাড়বো না আমি। 
__আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না প্লিজ আদ্রো ভাইয়া আমার হাত ছাড়েন। 
__চুপ শালি! তুই একটা কথাও বলবি না আজকে আমি বলবো তুই শুনবি। 
__আদ্রো ভাইয়া আপনি ড্রিংক করেন! 
আদ্রো অহনার কথা এরিয়ে বলল,
__তখন তোরে ভালোই ভালোই বলতে ধরেছিলাম তুই শুনলি না। এখন একটা কথা বললে থাপ্পড় একটাও মাটিতে পড়বে না। 
বলেই আদ্রো বলতে শুরু করলো,
__আই লাভ ইউ অহনা। তোকে আমি অনেক ভালোবাসি ট্রাস্ট মি অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। তুই না বাসলেও আমি বাসি।  আমি কোনো ফিল্মের হিরো না যে তোর ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করবো, আমি একজন ভিলেন যে তোকে পাওয়ার জন্য সবকিছু তোসনোস করে দিবো।  আমার তোকে লাগবে মানে শুধুই তোকে লাগবে। তুই যদি আমার না হতে চাস তো সিনিয়ে নিতে সিখেছে আদ্রো। 
অহনা অবাক হয়ে আদ্রোর দিকে তাকিয়ে আছে। যেনো এখনি অহনা আকাশ থেকে পড়লো। অহনা বলল,
__আমি আপনাকে ভালোবাসি না আদ্রো ভাইয়া। 
__আই ডো'ন কেয়ার। আমি তো বলেছি আমি হিরো না আমি ভিলেন। 
বলেই আদ্রো অহনার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। অহনা আতকে উঠলো। আতংকে চোখ বুঝলো।  অহনার পুরো পৃথিবী তোলপাড় হয়ে গেলো। দীর্ঘ ১০ মিনিট আদ্রো অহনার ঠোঁট নিজের দখলে রাখলো। অবশেষে অহনার ঠোঁট থেকে নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে বলল,
__দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নিজেকে সামলে রেখেছি। আমি আর পারছি না তুই আমাকে বার বার তোর দিকে আকর্ষিত করছিস। আমার আর নিজের উপর কন্ট্রোল নেই। খুব তাড়াতাড়ি এখন আমার তোকে প্রয়োজন। না হলে সবকিছু জালিয়ে দিবো আমি। 
বলেই আদ্রো চলে গেলো। অহনা ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। অহনার ঠোঁট ফেকাসে হয়ে আছে। যেটুকু লিপস্টিক ঠোঁটে ছিলো সেটুকু আদ্রো শুসে নিয়েছে। অহনার পুরো পৃথিবী উলট পালট হয়ে গেছে।  আদ্রো ওকে এখনি কি সব বলে গেলো ওগুলো কথা অহনা মিলাতে পারছে না। এতো বাচ্চা একটা মেয়ে অহনা ওতো কিছু ওর মাথায় ঢুকছে না বয়স কতোই বা হবে ১৭ বছর।  কেবল মেট্রিক পরিক্ষা দিবে মেয়েটা। আদ্রো ওর সাথে কি করলো এই হিসাব মিলাতে পারছে না অহনা। 
চলবে.............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন