ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত ভালোবাসা

৫ম পর্ব

লেখক: Afroza Sultana

#বিষাক্ত_ভালোবাসা
#লেখিকা_আফরোজা_সুলতানা
#পর্ব_৫

🙏লেখায় কোনো ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী🙏

জিহান : ঠিকঠাক মিটলেই ভালো
জিহাদ খান : তো Princess এই নাও এটা তোমার জন্য আর my little princess এটা তোমার জন্য
মায়া : ধন্যবাদ বাবাই
জান্নাত : ধন্যবাদ আব্বু
জিহাদ খান  : তোমাদের দুজনের পছন্দ হয়েছে তো
মায়া : হ্যাঁ বাবাই এই পুতুল টা  অনেক সুন্দর
জিহান : আর আমার বাবা
জিহাদ : এই নাও বাইকের চাবি বাহিরে তোমার নতুন বাইক দাঁড় করানো আছে
জিহান : ও thank you  বাবা,
জিহাদ : welcome Prince
জিহান : আচ্ছা  তোমরা থাকো আমি নতুন বাইক নিয়ে  একবার ওদের সাথে দেখা করে আসি
হাজেরা বেগম : কলেজ থেকে এলে এখন আগে ফ্রেস হয়ে খেয়ে নাও তারপর না হয়
জিহান : প্রথমটা মানতে পারি কিন্তু দ্বিতীয়টা sorry মা
[উপরে যেতে যেতে ]
হাজেরা বেগম : এই ছেলেকে নিয়ে আর পারি না
জান্নাত : তোমরা থাকো আমি গেলাম
মায়া : আমিও গেলাম মামনি
হাজেরা বেগম  : হুম  যা,
তারপর তারা যে যার রুমে চলে যায়
মায়া তার রুমে এসে  ফ্রেশ হতে চলে যায়
মায়া সাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে বলে
মায়া :  ভাইয়া আমাকে বাদে সবাইকে  তার মেয়ে বললো কিন্তু কেন তাহলে কি ভাইয়া আমার প্রেমে পড়ে গেলো নাকি আমি একটু বেশিই ভাবছি যে মানুষটার আমার কষ্টে আনন্দ, সে কিনা না, না  আমিই বেশি ভাবছি"   হইতো তুই তোর জিহান ভাইয়ার এই টুকু যত্নে তার প্রতি আরও একটু  দুর্বল হয়ে পরেছিস  ,  I Love you জিহান ভাই আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি  কিন্তু  এটা কি সত্যি ভালোবাসা নাকি দুদিনের মায়া আমাকে দেখতে হবে কিন্তু  যদি সত্যি ভাইয়াকে ভালোবেসে ফেলি আর ভাইয়া যদি জানতে পারে  তাহলে তো আমাকে কবর দিবে ' যায় হোক সবাই তো হিরোর প্রেমে পরে আমি না হয় জিহান ভাইয়ের মতো  ভিলেনের পড়লাম "
এই বলে  মায়া তার গোসল শেষ করে বেরিয়ে আসে ঠিক তখনই  জিহান রুমে প্রবেশ করে
মায়া : আ......... [জোরে চিৎকার করে ]
জিহান : চুপ কর না হলে কান ফেটে রক্ত বের হবে
মায়া : তু,তুতুমি
জিহান : হ্যাঁ আমি
মায়া : এ সময়,
জিহান : হ্যাঁ কেন,
মায়া : না এমনিই বললাম "
জিহান : আমি তোর চাদর দিতে এসেছিলাম,
মায়া : কোন চাদর।
জিহান : ওইতো কালকের চাদর দুটো,
মায়া : তা ওগুলো দিয়ে তুমি কি করছিলে
জিহান :ও, ওই চাদর গুলো আমি কেচে শুকাতে দিয়েছিলাম আর আমার ঘরে নিয়ে রেখেছিলাম রাতে তাই সেগুলো দিতে এসেছি
মায়া : তু,তুমি কেঁচেছো
জিহান : হুম  কেনো,
মায়া : না মানে তুমি তো তোমার কাপড়, কাপড়
জিহান : কাপড় কি বল
মায়া : বাদ দাও এসব আর তুমি এখন আমার রুম থেকে বের হও
জিহান : কিরে তোর সাহস দেখি বেড়ে গেছে এখন কিছু করছিনা দেখে ভেবে নিস না আমি তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি আর তুই এতো লজ্জা কেন পাচ্ছিস বল তো
মায়া :এ,এমনি কিছু না যাস্ট এমনি
জিহান : কিন্তু আমার তো অন্য কিছু মনে হচ্ছে
মায়া : অন্য কিছু কই না তো ভাইয়া
জিহান : সত্যি বলছিস নাকি আমার থেকে কিছু লোকাচ্ছিস
মায়া : কই নাতো
জিহান : আচ্ছা  থাক তুই আমি যায় এখন সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে
মায়া : কোথায় যাবে ভাইয়া
জিহান : বাইক নিয়ে বের হবো
মায়া : কোনটা নতুন টা নাকি
জিহান : হুম
মায়া : ও
জিহান : তুই থাক আমি যায় তুই নিজের খেয়াল রাখিস আর এখনও কি পেট ব্যথা করছে
মায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে বলে
মায়া : না এখন পেট ব্যথা করছে না
জিহান ভ্রু কুঁচকে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে
জিহান : কি ব্যাপার আজকে এতো লজ্জা  পাচ্ছিস কেনো,
মায়া : না এমনি ওই আরকি
জিহান মায়ার দিকে এক অন্য রকম  দৃষ্টি নিক্ষেপ করে  বলে
জিহান : লজ্জা পেলে তো দেখি তোকে অনেক হট লাগে আর এই অবস্থাতে তো,
জিহানের দৃষ্টি বরাবর মায়া তাকিয়ে দেখে ওর শরীরে শুধু একটা টাওয়াল পড়া
মায়া : আআআ......
জিহান : এই এই কি করছিস দরজা খুলা আর তুই এমন করে চিৎকার কেন করছিস
মায়া : তো কি করব
জিহান :  তোকে একটু আদর করি জান "
জিহানের কথা শুনে মায়া জিহানের চোখের দিকে  তাকালো জিহানের চোখে এখন আদিম নেশা যা মায়াকে একমুহূর্তেই ধ্বংস   করে দিবে " মায়া শুকনো ঢুক গিলে এরপর জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে
মায়া: ভা,ভাইয়া তুমি কি করতে চাইছো
জিহান : বেশি কিছু না জান কাছে আই
মায়া : না ভা
মায়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই জিহান মায়াকে এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে
মায়া : কি করছো ভাইয়া
জিহান : ইসসস "
জিহান মায়ার ঠোঁটে নিজের আঙুল দিয়ে  বলে
জিহান : তোকে এভাবে আমার সামনে আসতে কে বলেছে তাও আবার পি*রি*য়*ড অবস্থায় যদি তোর পি*রি*য়*ড না হতো তাহলে আজকে আমি তোকে বিছানা থেকে ওঠার সু্যোগ দিতাম না পাখি
মায়া : ছাড়ও আমায়
জিহান মায়াকে কোলে  নিয়ে বিছানায় বসায় আর মায়ার ঠৌঁটে হাত বুলাতে থাকে তখন হঠাৎ করে  জিহানের ফোন বেজে উঠে
জিহান : শালার ফোন বাজার আর সময় পেলো না [ফোনটা উঠিয়ে ]হ্যালো.
রাব্বি  :  কই তুই আমরা সবাই অপেক্ষা করছি তো
জিহান : হ্যাঁ হ্যাঁ আসছি আমি ২০ মিনিটে আসছি
এই বলে জিহান ফোন কেটে মায়ার দিকে একবার তাকিয়ে তারপর সেখান থেকে চলে যায় '
মায়া বিছানায় শুয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলে
মায়া : হাই আল্লাহ  আমি এখন কই লুকাই,আচ্ছা আমার এতো লজ্জা কেনো করছে ভাইয়া তো এরকম আগেও করেছে কই আগে তো এমন হয় নি আমার আআ আমি কিছু ভাবতে পারছিনা
এরপর মায়া বিছানা থেকে উঠে ড্রেস পরে নিচে চলে আসে
মায়া : মামনি জান্নাত কই
হাজেরা বেগম : ও তো মনে হয় ওর রুমে
মায়া : আচ্ছা আমি তাহলে ওর কাছে গেলাম
হাজেরা বেগম : যা আমি রাতের রান্নাটা করে ফেলি
মায়া : আমি কি তোমাকে সাহায্য করবো মামনি
হাজেরা বেগম : না লাগবে না তুই জান্নাতের কাছে যা জোসনা আছে তো
মায়া : আচ্ছা মামনি
এই বলে মায়া জান্নাতের রুমে চলে যায়
মায়া : জান্নাত
জান্নাত : কে,কেহ [ ভয় পেয়ে ]
মায়া : আমি মায়া
জান্নাত : আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম মায়ার বাচ্চা
মায়া : আমার বাচ্চা এখনো হয় নি
জান্নাত :ফাজলামো না  সত্যি  আমি ভয় পেয়েছি
মায়া : কি এমন কাজ করতেছিলি যে আমি আসতে না আসতেই ভয় পেয়ে গেলি
জান্নাত : কিছু না বসে বসে ভাবছি ওকে ফোন দিবো নাকি দিবো না
মায়া : দে এটা আবার ভাবার কথা নাকি
জান্নাত : দিতেছিলাম তো আর তুই চলে এলি
মায়া : তাহলে কি আমি চলে যাবো
জান্নাত : আরে না যাস না  তুই এখানে বস তোকে দেখে তাও একটু সাহস পাচ্ছি ফোনটা দেওয়ার
মায়া : কেন সামনা সামনি না এমন ভাব নিলি যে
জান্নাত : হয়ছে হয়ছে থাক আর বলিস না
মায়া : আচ্ছা বলবো না আমি আগে দরজাটা আটকে দিয়ে আসি
জান্নাত : হুম হুম  যা
মায়া গিয়ে  দরজাটা আটকে দিয়ে আসে
মায়া : এবার ফোন দে তোর আশিক কে
জান্নাত : মায়া তুই ও না
মায়া : কথা বাদ দিয়ে ফোন কর
জান্নাত মায়ার কথা শুনে ফোন দেয় আসিফকে
জান্নাত : হ,হ্যালো
আসিফ : হ্যালো
জান্নাত : জান
মায়া জান্নাতের দিকে  অবাক হয়ে  তাকিয়ে থাকে
আসিফ : কে বলছেন
আসিফের কথা শুনে জান্নাত মায়াকে ফিসফিসিয়ে  বলে
জান্নাত : শালায় তো আমাকে চিনতে পারে নাই
মায়া : তো বল তুই জান্নাত
জান্নাত : দাঁড়া শালায় যখন আমাকে চিনতে পারে নাই একটু মজা করি ওর সাথে
মায়া : আবার কি সয়তানি বুদ্ধি  আসছে আপনার মাথায়
জান্নাত : আরে আসতে বল শুনে ফেলবে তো
আসিফ : ওই হ্যালো কে বলছেন
জান্নাত গলা খাঁকারি দিয়ে বলে
জান্নাত : আমি আপনার কলিজা বলছি
আসিফ : দেখুন আপনি  আমার  সাথে একদম  ফাজলামো করতে আসবেন না
জান্নাত : ফাজলামো নয় জান আমি আপনাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করি শুধু  বলতে পারিনি আর আজকে আপনাকে নীল কালার শার্টে দেখে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি নি ভালোবাসি আপনাকে
আসিফ : দেখুন এটা সম্ভব না  আমি এক নারীতেই আসক্ত
জান্নাত : আমি হতে চাই সেই নারী
আসিফ : sorry but সে আমার জীবনে আগে থেকেই আছে
জান্নাত : তো সেই ভাগ্যবতী নারী কে যে আমার শখের বেডার শখের নারী নামটা কি বলা যাবে
আসিফ : নাম দিয়ে কি করবেন
জান্নাত : না মানে সে মনে হয় অনেক সুন্দর  তার নামটাও তার মতো সুন্দর হবে
আসিফ : হুম  তার মতই তার নামটাও সুন্দর
জান্নাত : একবার অন্য বেডির নাম নেক না দেখিস মায়া আমি একেবারে ওদের বাড়িতে গিয়ে খুন করে আসবো [ ফিসফিস করে ]
মায়া : আগে কথা বল গাঁধি
জান্নাত : হুম" নাম বলেন না প্লিজ
আসিফ : ওর নাম হচ্ছে  জান্নাত
আসিফের কথা শুনে জান্নাত  বুকে হাত দেয়
জান্নাত : হাই মে মারযাওঙ্গা
আসিফ : তো  আপনার নাম কি
জান্নাত :ও হ্যাঁ আমার নাম না " ওই মায়া একটা নাম বলে দে না শালি
মায়া : তুই যেকোনো একটা বলে দে
আসিফ : কি হলো বলেন
জান্নাত : মনি,  হ্যাঁ আমার নাম মনি
আসিফ : মনি নাকি জান্নাত কোনটা
জান্নাত  অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকায়
আসিফ : আমি আপনারে প্রথমেই চিনে ফেলছিলাম মেম
জান্নাত : কি করে চিনলে
আসিফ : শখের নারীর ভয়েস চিনবো না এটা কি করে হয় যাকে একনজর দেখার জন্য  প্রতিদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকি তার ভয়েস আমি চিনবো না
জান্নাত : এতো ভালোবাসো আমায়
আসিফ : এর চেয়েও বেশি
জান্নাত : তাহলে এতো দিন বলো নি কেন
আসিফ : তোমার ভাইয়ের জন্য
জান্নাত : ও আচ্ছা
আসিফ : আমি ভাবতে পারিনি যে
জান্নাত : যে
আসিফ : যে তুমি আমার প্রপোজাল মেনে নিবা
জান্নাত : আমি মেনে নিয়েছি কারন আমিও তোমাকে ভালোবাসি
আসিফ : তাই
জান্নাত : হুম  অনেক বেশি
আসিফ : আচ্ছা  এসব থাক আর বলো কি করছো
জান্নাত : এই তো মায়ার সাথে বসে আছি আর তোমার সাথে কথা বলছি আর তুমি
আসিফ : আমি তো ফোন নিয়ে বসে আছি কখন  তোমার একটা ফোন আসে
জান্নাত  : ও মা তাই........
জান্নাত আর আসিফ প্রায় ১ ঘন্টার মতো কথা বলে
আর মায়া তা বসে বসে সব শুনেছে "মায়ার মাথায় এখন  আসিফের বলা কথা গুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে
জান্নাত : কিরে মায়া কি ভাবছিস
মায়া : হ্যাঁ কি বললি জান্নাত শুনতে পায়নি
জান্নাত : আমি বলছি কি ভাবছিস,
মায়া : আচ্ছা  জান্নাত প্রেমে পরলে কি রকম অনুভূতি হয় রে
জান্নাত : হঠাৎ করে তুই এসব কিছু কেন প্রশ্ন করছিস,
মায়া : বলনা
জান্নাত : তুই প্রেমে যে কোনো সময় পরতে পারিস প্রেমে পরলে তুই  খাওয়ার সময় বসার সময় পড়ার সময় এমনকি  সব সময় তার কথায় তোর মাথায় আসবে, তুই কিন্তু তার কথা ভেবে মুচকি মুচকি হাসবি আরও অনেক কিছু আচ্ছা  এসব বাদ দে আই লুডু খেলি
মায়া : হুম
তারপর জান্নাত আর মায়া দুজনে অনেকক্ষণ   লুডু খেলে
মাগরিবের আজানের সময় মায়া তার রুমে  চলে আসে
আর একটু পর পড়তে বসে
মায়া বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা খুলে তখন তার সামনে জিহানের ছবি ভাসে মায়া ১০ মিনিটের মতো সেদিকে তাকিয়ে থাকে হঠাৎ
জিহান : আমাকে দেখা বাদ দিয়ে পড়তে বস না হলে থাপ্পড়িয়ে সব দাঁত  ভেঙে দিবো
জিহানের ধমকে মায়ার ধ্যান ভাঙে
মায়া : এটা একটা সপ্ন ছিলো কিন্তু  একদম আসল মনে হচ্ছিলো " মায়া এবার পড়ায় মন দে না হলে দেখবি সত্যি সত্যি  ভাইয়া এসে তোকে না  থাপ্পড় মারে  আর ভাইয়া তো মেরেই ফেলবে যদি জানতে পারে এসব ভাবছিস তাকে নিয়ে তুই
এই বলে মায়া পড়তে থাকে
অন্য দিকে
🗣️জিহান জিহান জিহান জিহান
🗣️: ,  নাফিজ নাফিজ নাফিজ
রাব্বি : জিহান তুই পারবি আমরা সবাই জানি
নাফিজ : সেটা তো রেসের পর জানা যাবে তাই না
আতিক : আমাদের জিহানই জিতবে
"সেটা দেখা যাবে "
জিহান : এতো কথা বাদ দিয়ে  শুরু কর
" আচ্ছা  তোরা দুজনে রেডি "
জিহান : হুম
নাফিজ : আমিও রেডি জিহানকে হারানোর জন্য  নাফিজের কথায় জিহান  একটা সয়তানি হাসি দেয়
_ 1,2,3, goooooo,🧨🧨
রেস শুরু  হয় প্রথম দিকে তো নাফিজ ফাস্ট ছিলো কিন্তু  শেষে জিহানই জিতে যায়
রাব্বি : কিরে তোরা তো এতো নাফিজ নাফিজ করছিলি নাফিজ কই জিতলো না তো
আতিক : জিহান is the Best
জিহান : হয়েছে হয়েছে "
" না এটা হতে পারে না জিহান চিটিং করে জিতেছে "
নাফিজ : একদম ঠিক প্রথম দিকে তো আমিই এগিয়ে ছিলাম  তাহলে ও কি করে জিতলো
এই বলে নাফিজ জিহানের কলার ধরে
জিহান : কলার ছাড়
নাফিজ : ছাড়বো না তুই কি করবি চিটিং বাজ
জিহান : তাহলে মার খা আর আমি চিটিং করিনি,
এই বলে জিহান নাফিজকে জোরে একটা ঘুষি মারে নাফিজ ছিটকে দূরে গিয়ে পরে এবার একে একে সবাই জিহান কে মারতে আসে কিন্তু  ওরাই মার খেয়ে পরে থাকে
নাফিজ : জিহান তোকে আমি পরে দেখে নিবো
জিহান : কেন এখন দেখ দেখাবো নাকি সাইডে চল দেখায় যে আমারটা কত বড়
জিহানের কথা শুনে সবাই হাসতে থাকে
রাব্বি : জিহান থাক তোকে দেখাতে হবে না,না হলে দেখবি তোরটা দেখে সেখানেই ভয় পেয়ে"
নাফিজ : রাব্বি চুপ কর আর সায়ন আমাকে ধরে তোরা হাসপাতালে নিয়ে চল
এর পর সায়ন আর বাকি সবাই নাফিজকে সেখান থেকে নিয়ে চলে যায়  হাসপাতালে
জিহান : এবার চল ক্লাবে  আজকে ট্রিট আমি দিবো নতুন বাইক কিনার জন্য
এই বলে জিহান বাইকে ওঠে বাইক স্টার্ট দেয় পিছন পিছন  রাব্বিরাও বাইক স্টার্ট দেয় কিছুক্ষণের মধ্যে তারা ক্লাবে চলে যায় আর ড্রিংক করতে থাকে
[ সময় পরিবর্তন ]
হাজেরা বেগম :  মায়া, জান্নাত  তোরা কই ৯ টা বাজে খাবি না
জান্নাত : হ্যাঁ মা আসছি
মায়া আর জান্নাত  এসে টেবিলে বসে পরে
মায়া : মামনি বাবাই কই
হাজেরা বেগম : ওনি তো বিকেলে বেরিয়েছেন এখনও আসেন নি
মায়া :  ও তাহলে বাবাই আসার পর সবাই একসাথে খাবো নি
হাজেরা বেগম : না মা তোরা খেয়ে নে ওনার আসতে অনেক রাত হবে
মায়া : আচ্ছা  তাহলে তুমিও বসে পরো
হাজেরা বেগম : আমি উনার সাথেই খাবো
এই বলে ওদের খাবার বেড়ে দেয় হাজেরা বেগম
মায়া তো খাবার খেতে  এসেও জিহানকেই দেখছে
জান্নাত : কিরে মায়া খাওয়া বাধ দিয়ে তাকিয়ে আছিস কেন
মায়া : হহ্যাঁ, না এমনিই খাচ্ছি খাচ্ছি,,  আচ্ছা  জিহান ভাই কখন আসবে
হাজেরা বেগম : জানি না
মায়া : ও আচ্ছা
মায়া আর জান্নাত  খেয়ে উপরে চলে যায়
মায়া তার রুমে  এসে শুয়ে পরে,
রাত ১০ টার দিকে  জিহাদ খান  বাড়িতে প্রবেশ করে
হাজেরা বেগম : ও আপনি চলে এসেছেন "আপনি ফ্রেস হয়ে আসেন আমি খাবার বাড়ছি,
জিহাদ খান : হুম  আর জিহান বাড়ি ফিরেছে
হাজেরা বেগম : না এখনো আসে নি চলে আসবে ,
জিহাদ খান  কিছু না বলে উপরে চলে গেলো কিছুক্ষণের  মধ্যে ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে বসে"
হাজেরা বেগম খাবার বেড়ে দেয়
জিহাদ খান : তুমি খেয়েছো
হাজেরা বেগম : জিহান আসুক ও আর আমি খেয়ে নিবো
জিহাদ খান : ওর জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে খেয়ে নাও ও বাইরে থেকে খেয়ে আসে
হাজেরা বেগম : কিন্তু
জিহাদ খান : কোনো কিন্তু নয় আসো বসো আমার পাশে আমি খাইয়ে দেয়
হাজেরা বেগম : কি যে বলেন না[ লজ্জা পেয়ে ]
জিহাদ খান : এতো লজ্জা পেতে হবে না এসে বসো তো
হাজেরা বেগম  জিহাদ খানের পাশের চেয়ারে বসে পরে
আর জিহাদ খান  নিজের হাতে হাজেরা বেগমকে খাইয়ে দিতে থাকে, খাওয়া শেষে
হাজেরা বেগম : আপনি যান আমি পরে যাবো
জিহাদ খান : জিহানের জন্য বসে থাকবে তাই না,
হাজেরা বেগম : ওই আরকি,
জিহাদ খান : ওর জন্য বসে না থেকে রুমে  চলো ও ওর সময় মতো চলে আসবে
হাজেরা বেগম  আর কথা বাড়ালো না সেও চলে গেলো জিহাদ খানের পিছু পিছু ,,
রাত ১২ টার দিকে  জিহান বাড়ি ফিরে নিজের রুমে  এসে ফ্রেশ  হয়ে নিয়ে মায়ার রুমে  চলে যায়
মায়ার রুমে  ঢুকে দেখে  মায়া ঘুমাচ্ছে
জিহান গিয়ে মায়ার পাশে এসে পিছন দিক থেকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরে আর মায়ার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দেয়,
মায়া জিহানের স্পর্শ পেয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছে
আস্তে আস্তে  জিহানের স্পর্শ  গারু হচ্ছে  মায়ার এবার ঘুম ভেঙে যায় আর উঠে বসে
মায়া : জিহান ভাই তুমি
জিহান : হ্যাঁ আমি তুই এমন ভাবে চমকালি যেনো ভূত দেখে ফেলেছিস
মায়া : এমনি ভয় পেয়ে গেছিলাম আর কি
মায়া কিছু একটা খেয়াল করে বলে
মায়া : একি ভাইয়া তোমার হাত কাটলো কিভাবে তোমার ঠোঁট ও দেখি কেটে গেছে ইসস দাঁড়াও আমি ঔষধ লাগিয়ে দিচ্ছি
এই বলে মায়া ঔষধের বক্সটা নিয়ে আসে আর
জিহানের সামনে বসে মায়া যখন জিহানের ক্ষত স্থানে ঔষধ  লাগাতে যাবে তখন জিহান মায়ার হাত ধরে বলে
জিহান : আমি কি তোকে ঔষুধ লাগাতে বলেছি
মায়া : কিন্তু  তোমার তো অনেক টুকু কেটে গেছে
জিহান : তা তোর কি
মায়া : আমার অনেক কিছু তুমি চুপ করে বসো তো
মায়ার এমন কথায় জিহান অবাক হয়ে যায় জীবনে প্রথম  মায়া তার সাথে গলা উঁচু করে কথা বলছে " জিহানের ভাবনার মাঝে মায়া জিহানের হাতে ঔষধ লাগিয়ে দিতে থাকে
জিহান : আহ
মায়া : বেশি জ্বালা করছে না,[ চিন্তিত হয়ে ]ঠিক হয়ে যাবে ভাইয়া
এই বলে মায়া সেই যায়গায় ফু দিতে থাকে"
মায়া হাতে ঔষুধ লাগিয়ে বেন্ডেজ করে দেয়
এর পর ঠোঁটে ঔষধ লাগাতে থাকে ঠোঁটে ঔষধ লাগানোর সময় মায়া জিহানের কিছুটা  কাছে চলে যায় যার কারনে মায়ার নিশ্বাস  জিহানের গালে গিয়ে পরে
জিহান নিজের চোখ বন্ধ করে নেই
জিহান : আহ আস্তে
মায়া : হয়ে গেছে ভাইয়া আর একটু
জিহান : এই মেয়ে তুই এমন কেন
মায়া : কেমন
জিহান : এই যে আমি তোকে এতো কষ্ট দেয় আর তুই সব সহ্য করিস আবার আমাকে এতো যত্ন  সহকারে ঔষধ  লাগিয়ে দিতেছিস ব্যাপার কি
মায়া : কি,কিছু না তো এমনি
জিহান : এমনি না কিছু তো একটা আছেই বল বলছি
মায়া : কারন "ভাইয়া আমি, আমি
জিহান : আমি আমি না করে সোজাসুজি  বল
মায়া : আমি তো,তোমাকে
জিহান : আমাকে
মায়া : তো,তো তোমাকে বড় ভাইয়ের চোখে দেখি তাই
জিহান : ও আচ্ছা আমি ভেবে ছিলাম অন্য কিছু,
মায়া : কি ভেবেছিলে
জিহান : যে তুই আবার আমার প্রেমে টেমে পরলি নাকি
মায়া :  কিহ"
জিহান : হুম  কিন্তু  আমি ভুল ছিলাম
মায়া : আমি যদি তোমাকে ভালোবাসি বলতাম তাহলে তুমি কি করতে
জিহান : মেনে নিতাম
মায়া : সত্যি
জিহান : হুম
মায়া উত্তেজিত হয়ে বলে
মায়া : যদি এখন বলি আমি তোমাকে ভালোবাসি তাহলেও কি তুমি মেনে নিবে
জিহান : হুম
মায়া : তাহলে ভালোবাসি
জিহান : কি
মায়া : হুম  আমি তোমাকে ভালোবাসি
জিহান : আমিও ভালোবাসি জান
মায়া : সত্যি
জিহান : হুম
মায়া জিহানকে জরিয়ে ধরে
জিহান মায়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মনে মনে বলে
জিহান : আমি তাহলে ঠিক সন্দেহ করেছিলাম "
এই বলে জিহান সয়তানি হাসি দেয়,
জিহান : সব আমার প্ল্যান অনুযায়ী হবে এখন থেকে মায়া তুই ভুল করে ফেললি,
এরপর জিহান মায়াকে বলে আমার খুব ঘুম পাচ্ছে  অনেক
মায়া : আচ্ছা তাহলে ঘুমাও
জিহান : তো তুই কাছে আই
মায়া : ওককে
এই বলে মায়া ঔষুধের বক্সটা রেখে জিহানের কাছে যায় " জিহান মায়াকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরে
জিহান মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে
জিহান : মায়া তুই এতোই বোকা  যানা ছিলো না আমার এক কথায় নিজের অনুভূতি  প্রকাশ করে দিলি তো ভালোই হলো আমার জন্য  এবার তোর অনুভূতি নিয়ে আমি খেলবো  [ডেভিল হাসি দিয়ে ]
এই বলে জিহানও  চোখ বন্ধ করে আর কিছু সময় পর ঘুমিয়ে পরে.........

চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন