ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবেসে ঠকে গেছি

১ম পর্ব

লেখক: Nur Nahar
"ভালোবেসে ঠকে গেছি"
— নূর নাহার
পার্ট — ১
“ভালোবাসার শেষটা এমন হয় কেন?”
সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা।
আজ নোয়াখালীর আকাশে সূর্যের দেখা নেই। হালকা বাতাসের সঙ্গে মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। চারপাশে একটা অদ্ভুত বিষণ্নতা ও নীরবতা।
কিন্তু সেই বিষণ্নতা ও নীরবতার কারণ আকাশ নয়।
কারণটা বসে আছে জানালার পাশে।
একটি মেয়ে।
চুপচাপ।
একদৃষ্টি তে বাইরে তাকিয়ে আছে নাম আয়েশা খান,,
দেখতে ফর্সা।
ফর্সা মুখটা আজ কেমন যেন মলিন হয়ে আছে। টানা টানা হরিণের মতো চোখ দুটো লাল হয়ে আছে কান্নার ফলে। কোমর পর্যন্ত লম্বা ও সিল্কি চুলগুলো খোলা অবস্থায় পিঠের ওপর এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে আছে।
সাধারণত এই মেয়েটার মুখে হাসি লেগেই থাকে।
আর আজ?
আজ সেই হাসিটাই যেন হারিয়ে গেছে।
আয়েশা খান ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।
দুই বছর।
পুরো দুই বছর ভালোবেসেছিল সে একজনকে।
রাহাত পাটোয়ারী কে।
দুই বছর ধরে যার সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ, ও বর্তমান দেখেছিল "আয়েশা" সেই মানুষটাই আজ অন্য কারও হাত ধরে হাঁটছে।
রাহাতের পাটোয়ারীর বর্তমান গালফ্রেন্ড—
আরিফা।
কী অদ্ভুত না!
"যে মানুষটা একদিন বলেছিল, "তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।"
তুমি আমার পৃথিবীর জুড়ে আছো।
আর আজ সেই মানুষটাই অন্য কারও সঙ্গে সুখে আছে,, ভালো আছে।
আয়েশা খানের ঠোঁট কেঁপে উঠল।
নিজের অজান্তেই চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল।
রাত - ৩ টার সময়
বৃষ্টি থামছে না।
"আয়েশা ডায়েরি খুলল; শেষ পাতায় রাহাতের লেখা-"তোমার চোখে পানি দেখলে আমার কলিজা ছিঁড়ে যায়।"
হাসি আসলো,তেতো হাসি।
"আয়েশা বলল,
আর আজ আমার চোখে বন্যা, "আর ও অন্য মেয়ের সাথে বৃষ্টি দেখতেছে হয়তো.."
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
—“আয়েশা?”
কোনো উত্তর নেই।
আবার ডাক এল—
—“আয়েশা,আয়েশা.., দরজা খোল তো।”
এবার আয়েশা চোখ মুছে উঠে দরজা খুলল।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার মা নাদিয়া খান।
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই মায়ের বুকটা কেঁপে উঠল।
—“আবার কাঁদছিস?”
আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে মুখে হাসি আনার চেষ্টা করল।
—“না মা। আমি তো একদম ঠিক আছি।”
নাদিয়া মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
—“মায়ের কাছে মিথ্যা বলতে হয় না, মা।”
এই কথাটুকুতেই আয়েশার চোখ আবার ভিজে উঠল।
সে মাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
—“মা, আমি কি এতটাই খারাপ ছিলাম?”
নাদিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
—“কখনো না মা। মানুষ হারানো মানে নিজের মূল্য হারানো নয়।”
—“তাহলে সে আমাকে ছেড়ে গেল কেন?”
—“কারণ সে তোকে পাওয়ার যোগ্য ছিল না তাই।”
আয়েশা কোনো উত্তর দিল না।
মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে রইল।
"আয়েশা"।
কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে একটা চেনা গলা শোনা গেল—
—“মা! আমার বোন আবার কান্না শুরু করেছে নাকি?”
আয়েশা চোখ মুছে বলল,
—“ভাইয়া, তুমি যাও তো এখন থেকে!”
ঘরে ঢুকল আশিক খান।
"অনেক রাগী কিন্তু প্রকাশ পায় না আয়েশার সামনে"।
তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তার বউ মাইশা খান।
"আয়েশা খানের সব কথা বোঝার চেষ্টা করে মাইশা খান"।
_“আয়েশা কে নিজের ছোট বোনের মতো দেখে”।
আশিক খান বোনের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
—“আয়েশা, একটা কথা বলব?”
—“কী?”
—“যে ছেলে তোকে কাঁদিয়ে অন্য মেয়ের কাছে গেছে, তার জন্য এত কান্না করার কোনো মানে হয়?”
— আর কত কাঁদবি?
ভাইয়ার কন্ঠ কাঁপছে রাহাত পাটোয়ারীর জন্য।
'আয়েশার কলিজা শুকিয়ে গেল।
আয়েশা মুখ ঘুরিয়ে বলল।
—“ভাইয়া, তুমি বুঝবে না।”
আশিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—“হয়তো আমি বুঝব না। কিন্তু এতটুকু বুঝি, তুই আমার বোন। তোকে কেউ কষ্ট দিলে সেটা আমি সহ্য করতে পারি না।”
মাইশা মৃদু হেসে আয়েশার পাশে এসে বসে বলল,
_আয়েশা যে তোকে কাঁদায় সে তোর যোগ্য না, আমরা আছি তো তুই একা না।
আয়েশা। আর,
—“শোন, তুই এখনো আগের মতোই সুন্দর আছিস ঠিক আছে। শুধু একটু বেশি কাঁদছিস।”
"আয়েশা আর সহ্য করতে না পেরে ভাই কে জড়িয়ে ধরে কাঁদলো;
অনেকক্ষণ।
"আশিক খান আয়েশার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল
" কাঁদিস না পাগলি।
ওর জন্য কাঁদার কোনো দাম নেই।
আয়েশা চোখ মুছে বলল,
—“তোমরা সবাই মিলে আমাকে নিয়ে মজা করছো।”
—“মজা করছি না,” মাইশা বলল, “তোর মন ভালো করার চেষ্টা করছি।”
ভোর ৫ টা
আজানের শব্দ চারদিকে।
"আয়েশা"
আমি জানালা খুলে দিলাম। বৃষ্টি কমে গেছে। আকাশ ফর্সা হচ্ছে।
আমি ফিসফিস করে বললাম _"রাহাত, তুমি আমাকে ভালোবেসে ঠকাইছো।
ঠিক তখনই আয়েশার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
রাকিব কলিং...
আয়েশা কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে রাকিবের গলা—
—“দোস্ত কোথায় তুই এখন?”
—“বাড়িতে।”
—“আজ কলেজে আসবি না?”
—“মন চাইছে না রে।”
ওপাশ থেকে নুসরাতের গলা শোনা গেল—
—“ওকে জোর করিস না। কিন্তু আমরা সবাই ওর বাসায় যাচ্ছি।”
আয়েশা অবাক হয়ে বলল,
—“কী? তোরা আসছিস?”
নাইমা এবার ফোন কেড়ে নিয়ে বলল,
—“হ্যাঁ। আর কোনো অজুহাত শুনব না।”
আসিবের গলা ভেসে এল—
—“আর শুন, আজকে তোর মুখে হাসি না দেখলে, আমরা তোর সাথে কথা বন্ধ করে দিবো..।”
আয়েশা হেসে ফেলল।
অনেকদিন পর।
তার গালে ছোট একটা টোল পড়ল।
আশিক তাকিয়ে মুচকি হাসল।
—“এই তো আমার বোন।”
আয়েশা মাথা নিচু করে ফেলল।
মনের ভেতরের কষ্টটা এখনো আছে।
রাহাতের স্মৃতিগুলোও আছে।
কিন্তু আজ প্রথম বার তার মনে হলো—
হয়তো জীবন থেমে থাকে না।
হয়তো একটা মানুষ চলে গেলে পৃথিবী শেষ হয়ে যায় না।
কিছুক্ষণ পর আয়েশা আলমারির সামনে দাঁড়াল।
গোলাপি রঙের একটা কামিজ বের করল।
তার প্রিয় রং গোলাপি ও নীল।
চুলগুলো খোলা রাখল। আয়নায় নিজেকে দেখে মৃদু হাসল।
নিজেকেই বলল,
—“আর কাঁদব না।”
ঠিক তখনই নিচ থেকে আশিকের গলা ভেসে এল_
_"আয়েশা! তোর বন্ধুরা এসেছে।"
আয়েশা আয়নার সামনে শেষবারের মতো নিজেকে দেখল।
চোখ দুটো এখনো একটু লাল।
তবুও মুখে হাসি।
_"আসছি ভাইয়া।"
সিঁড়ি দিয়ে নামতেই রাকিব, নুসরাত, আসিব, নাইমা,এক সঙ্গে চিৎকার করে উঠল_
_"এই তো! আমাদের আয়েশা এসেছে!"
আয়েশা হেসে বলল,
_ "তোরা এত চিৎকার করিস কেন ?"
রাকিব সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"চুপ! আজকে তোর কান্না নিষিদ্ধ"।
নাইমা বলল,
_ "আর রাহাতের নাম কেউ নেবে না।"
আয়েশা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর ধীরে মাথা নাড়ল।
_ "ঠিক আছে"।
মাইশা দূর থেকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
আশিক ও বোনের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
ঘরের পরিবেশটা ধীরে ধীরে হাসি আড্ডায় ভরে উঠল।
কিন্তু কেউ জানে না—
এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে আয়েশার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
তার এই সিদ্ধান্তের পরই তার জীবনে এমন একজন মানুষের আগমন ঘটতে চলেছে, যার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তার সব হিসাব বদলে যাবে।
তার আসায় আয়েশার জীবন নতুন ভাবে শুরু হবে।
দূর শহরের আরেক প্রান্তের একজন মানুষ ঠিক এই সময়েই নিজের দেশে ফেরার প্রস্তুতি শেষ করছে।
একজন মানুষ...
যে ভালোবাসাকে ঘৃণা করে।
প্রচুর ঘৃণা করে,
যে পাঁচ বছর আগে কাউকে হারিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
আর পাঁচ বছর পর ফিরে আসছে...
নিজের অতীতের মুখোমুখি হতে।
("কিন্তু সেই ফিরে আসা, যে আয়েশা খানের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে—)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন