ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয় প্রনয়শক্তি

১৪তম পর্ব

লেখক: আরিফা বিনতে মায়া

#পর্ব_১২

#হৃদয়_প্রনয়সক্তি

#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া

ভোরের আলো মানেই এক নতুন দিনের প্রথম হাসি।

ভোরবেলা যখন আকাশের কোণে হালকা কমলা,লাল আর সোনালি রঙের রেখা ফুটে উঠে,আর তেমনই চারপাশের গাছপালা যেন শিশিরভেজা সবুজ পাতা নিয়ে জেগে উঠে। পাখির মিষ্টি সুরে ডাকতে শুরু করে, বাতাস এক ধরনের সতেজতা ছড়িয়ে পড়ে। নদীর জলে ভোরের সূর্যের ঝিলিক রুপালী আভা তৈরি করে, যেন প্রকৃতি নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে নিজেকে।

ভোরের আলো শুধু আলো নয়, এটা আশার প্রতীক–

"অন্ধকারের পরে আলো আসে

" দুঃখের পরে সুখ আসে

আর "প্রতিটি দিনই একটা নতুন শুরু।

তন্মধ্যে আদিবার ঘুম ভেঙে গেল, উঠে দেখল ভোর হয়ে গেছে তাকে এখন জলদি ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে, না হলে যে সময় শেষ হয়ে যাবে।

তাই আর দেরি করলো না জটপট উঠে নিজের ব্যাগ থেকে কালো রঙের 3প্রীস নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল।

১৫মিনিটে মধ্যে নিজের শাড়ি চেঞ্জ করে, ফ্রেশ হয়ে নিজের ব্যাগ থেকে জায়নামাজ বের করে ৪রাকাত ফজরের নামাজ আদায় করে নিল, এরপরে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে সেজদা পড়ে রইল আর আল্লাহর কাছে চাইলে

" হে আল্লাহ আমাকে তুমি শক্তি দাও!যেন আমি লড়াই করতে পারি, আর শত্রুর মোকাবেলা করতে পারি

আল্লাহ আমি যেন আমার মনে সন্দেহ দূর করতে পারি ।

আরো নানা রকম নিজের মনে কথা বলে আল্লাহর দরবারে দোয়া চাইতে লাগলো, এরপরে জায়নামাজ উঠিয়ে সোজা জানালার কাছে দাড়িয়ে' 'সকালের মৃদ বাতাস উপভোগ করল আর নিজের সাথে হয়ে যাওয়া ঘটনা মনে করল, হঠাৎ তার কাল রাতের রোহানের বলা কথাগুলো মনে পড়ল, আর কিছু একটা ভেবে '' বাকা হাসল"

তারপরে বাথরুমে গিয়ে এক মগ পানি এনে সোজা বারান্দায় চলে গেল, আর রোহানের সামনে দাড়িয়ে বলল-

"বিলেতি বিলাই আপনি না বললেন, আমার জীবনকে নরকে পরিনত করবেন-কই কিছুই তো করলেন না।

থাক শুধু শুধু আর আপনাকে কষ্ট করতে হবে না, আমি আপনাকে ছোট একটা 'কেলমা 'দেখাই 'কি বলেন!

পরে না হলে বুঝবেন আদিবা কি জিনিস, আর আদিবাকে কিছুর বলার সাহস পাবেন না।

আর কিছু না বলে সোজা আদিবা রোহানের মুখের উপর এক মগ পানি ঢেলে দিল।

আর রোহান ঠান্ডার মত মুখে কিছু পড়ার কারনে লাব দিয়ে উঠে গেল, আর হাঁপাতে হাঁপাতে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বলল -

" How dare you! কোন সাহসে তুমি আমার উপরে পানি ফেলে ঘুম ভাঙলে,

আদিবার কোন জবাব দিল না, শুধু রোহানে অবস্থা দেখে তার খুব হাসি পাচ্ছে, তবে আপাতত হাসিটা পেটের মধ্যে চেপে রাখল

"কি হলো উওর দাও-

কোন উওর আসলো না ওপাশ থেকে।

আবার রোহান গম্ভীর স্বরে বলল

-তুমি কি রাতের কথাগুলো ভুলে গেছো? আমি যে তোমাকে সাবধানে করছি সেগুলো কি ছিল!

আদিবার ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে জবাব দিল -

—আপনি ভুলে থাকলেও আমি কিছুই ভুলিনি, তবে আশা করি আমার সকালের ডোজের সারপ্রাইজ টা আপনার ভালো লেগেছে, তাইতো রাগ না করে ঠান্ডা মাথায় বলছেন,

কালকে বললেন না আমার জীবন কে নরকে পরিনত করবেন, কই কিছুই তো করলেন না উল্টো আমার হাতে প্রথম জবাব টা পেয়ে গেলেন, এজন্য বলি বেশি কথা বলতে নেই- আগে কাজের কাজ করে দেখান, তার পরে না হলে আদিবা কে চ্যালেন্জ করবেন কেমন!

রোহান দাঁত চেপে বলল -

you " তুমি আমাকে চ্যালেন্জ করছো, আর আমার সাথে এভাবে কথা বলছ কেন, সম্মান দিয়ে কথা বলবে।

আর রোহান আবরার চৌধুরী কে এখন চিন নাই সে কখনো সহজে তার খেলা দেখায় না, হঠাৎ করে দেখায়।

যখন দেখাবো তখন নিজে বেচে কুল পাবে না, minn did.

আদিবা এক পা এগিয়ে গিয়ে বলল-

"আপনাকে আমি মোটেও চ্যালেন্জ করছি না, উল্টো আপনি করছেন। আর সম্মান, যে আমাকে সম্মান দিতে জানে না, তাকে আমি সম্মান দেই না। আর খেলা'খেলা যদি খেলতে চান তাহলে সরাসরি খেলেন, কেউ মানা করে নাই। কখন দেখছেন ক্রিকেট মাঠে সরাসরি বল পিছন থেকে মারতে, যদি মারতে নাই দেখেন 'তাহলে সামনে এসে মারুন। আমি উল্টো তার প্রতিহত করবো, কি বলেন আপনি?

রোহান তিরস্কার সুরে ফেটে বলল -

" তুমি যতই কঠিন সাজো না কেন, ভেতরে তুমি ভাঙা কাঁচ ছাড়া কিছুই নও।"

আদিবা হেসে উঠল বিদ্রুপে,

—"আগে আপনি আয়নার নিজের মুখ দেখুন, বুঝবেন কে আসল ভাঙা। "

ঘরের ভেতর উওাপ ছড়িয়ে পড়ল। দুজনেই আরেকজনকে ছাড় দিতে নারাজ। কথা থেকে কথা, অভিযোগ থেকে পাল্টা আঘাত –শব্দ যেন ছুরির মতো একে অপরকে বিঁধছে।

অবশেষে রোহান চুপ হয়ে গেল। মুখে আর কোনো কথা খুঁজে পেল না। ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে ফুঁসতে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা জোরে বন্ধ করে দিল।

ঘরে একা দাড়িয়ে রইল আদিবা। ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল, আর একা একা গুনগুন করে নিজের মনের মত ছন্দ বানাল , যেন নিজেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে –

"যে শেকল আমায় বাঁধতে চায় —আমি তার ছায়া ভাঙব

যে আগুন আমায় পুড়িয়ে মারে —আমি ঝড় হয়ে থাকব।

হার মানবে যে নীরবতায় —আমি তারই জবাব হবো,

অন্ধকার যত গভীর হোক — আমি আলো হয়ে রব।

বলে বাকা হাসি দিল, আর মনে বলল -আপনি কিছুই করতে পারবেন না বিলেতি বিলাই, শুধু আদিবার পাল্টা বার দেখবেন, আর রুচির মত ফুলবেন। আহ' কি শান্তি

যাই নিচে গিয়ে আবার সবার মন জয় করতে হবে, না হলে তো এ বাড়িতে টিকে থাকা সম্ভব না, দেখি কে কেমন আমায় পছন্দ করে,

এগুলো বলে সোজা নিচে চলে গেল,

আর এদিকে রোহান ঝর্ণা ছেড়ে পানির নিচে দাড়িয়ে আদিবার কথোপকথন শুনল, আর ক্ষোপ নিয়ে ভাবতে থাকলো কি করবে । হঠাৎ করে মাথা কিছু একটা এল আর বাকা হাসি দিয়ে বলল-

game start এ্যাংরি বার্ড! দেখ শুধু কি হয় তোমার সাথে, তোমার পাকনার ডানা দুটো কেটে যদি না ফেলতি পারি, তাহলে আমার নাম 'রোহান আবরার চৌধুরী না,

" Just wait and see...... l will kill you এ্যাংরি বার্ড,

I will kill.

আরো অনেক কিছু উল্টো পাল্টা পরিকল্পনা করতে থাকলো।

আদৌ কি এরা অপরকে বুঝবে নাকি ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি নিয়ে খেলবে, নাকি একে অপরকে ভালোবেসে আলিঙ্গন করবে, নাকি আবার প্রতিশোধের তারনায় নিজেদের জীবন ঝুকিতে রাখবে, আদৌ কি এরা একে অপরের ডাল হয়ে দাড়িয়ে বিপদের সম্মুখীন হবে।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন