#পর্ব_১৪
#হৃদয়_প্রনয়সক্তি
#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া
বিকাল মানেই দিনের এক শান্ত, মায়াময় রূপ। সূর্যের আলো তখন আর ততটা তীব্র থাকে না, আকাশে নরম সোনালী রং মিশে যায় লালচে আভায়। পাখিরা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে বাসার পথে ফিরতে শুরু করে। হালকা গাছের পাতা দুলে ওঠে, যেন দিনের গল্প শেষের দিকে এগোচ্ছে।
তেমনই চৌধুরী বাড়ি খুশিতে উপছে পড়ছে, কারন রেহানা বেগমের বোন "লায়লা সেন " আজ অনেক বছর পর বাংলাদেশ পা রেখেছে তার পরিবার সহ।
সেই দুপুরে বাড়িতে এসে গেছে "লায়লা সেন, সবার সাথে কুশল বিনিময়ে করে গেষ্ট রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে।
আর তার ২ছেলে এক মেয়ে ড্রয়িং রুমে বসে বসে কারো জন্য অপেক্ষা করছে।
তন্মধ্যে লায়লা সেনের একমাএ মেয়ে "এলিনা সেন।
মেয়েটা যতটা সবাই কে ভালো দেখায়, ততটা ভালো না
তার যার উপর নজর পড়ে সেটা সে হাসিল করে নিয়ে ছাড়ে, সেটা হোক car বা বাড়ি বা এমন কি নিজের ভালোবাসা।
রোহান কে প্রায় ছোট বেলা থেকে ভালোবাসে এলিনা, তাই তার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হওয়ার কি! তার আগে রোহান নাকি বিয়ে করছে শুনে পাগলামী শুরু করে, আর একমিনিট অপেক্ষা না করে সোজা ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশে এসে হাজির।
সেই তখন থেকে অপেক্ষা করছে রোহানের জন্য, অথচ এখন আসার কোন নাম নেই!কোথায় গেল তার বেব, এখন আসছে না কেন? তাই ভেবে যাচ্ছে।
এলিনা মনে মনে বলল:
"অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে এলাম। বিদেশে যা কিছুই থাকুক, আমার আসল টার্গেট শুধু একটাই –"রোহান"
my baby. ছোট বেলা থেকেই ও আমার। কেউ নিতে পারে না।
আমি জানি, রোহান হয়তো আমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু তাতে কী আসে যায়?
এবার আমি ওর চারপাশে এমন জাল বুনবো, যাতে ও আর বেরোতে না পারে, "এই বলে শয়তানি হাসি দিল
এগুলো ভাবছে, ঠিক তখনই রোহান বাড়ির দরজার ঢুকল, ক্লান্ত শরীর, ঘামে ভেজা শার্ট কিন্তু চোখে ঠান্ডা দৃষ্টি। তখন এলিনা একমুহূর্তে দেরি না করে রোহানের ঢলে পড়ল।
এলিনা
" রোহান! অবশেষে তোমাকে দেখলাম, এতদিন পরে! "
রোহান ভদ্রভাবে সরে গিয়ে সামলে দিল, তার স্বরে একবার ঠান্ডা গলায় বলল-
"ভালো আছিস? আর বাকিরা কেমন আছে?
এলিনা চোখে মায়া নিয়ে বলল :
" সবাই ভালো...... কিন্তু তুমি না থাকলে আমার দুনিয়া ফাকা লাগে।
রোহান আর কোনো উওর দিল না, মুখ ঘুরিয়ে নিল।
ঠিক তখনই এলিনার বড় ভাই "তামিম সেন" আর ছোট ভাই "লাকি সেন" এসে রোহানের সাথে কুশল বিনিময় করল
তামিম
" ভাই! কত দিন পরে দেখলাম তোকে, কেমন আছিস
রোহান
"আছি কোন রকম?
এরকম হাজার টা কুশলাদি করার মাঝে আদিবা ঢুকল
আর আদিবা দেখল ড্রয়িং রুমে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে রোহানের পাশে, গায়ে তার সট ড্রেস, মনে হবে এখানে কোন বিদেশ ফিরত ভাইরাস ঢুকে পড়ছে, তবে মেয়েটা কে তার জানার অনেক আগ্রহী।
আর তখন রোহান আদিবাকে খেয়াল করল, আর চোখ বড় বড় করে তাকাল, আর দেখল আদিবার গায়ে নতুন জামা, চুল শুকনো, মুখে শান্ত এক হাসি। সে একবারও কারও দিকে তাকালও না, সোজা ডাইনিং রুমে চলে গেল।
রোহান মনে মনে চমকে বলল-
" আমি তো বিলের পানিতে ডুবিয়েছিলাম.... তবে শুকনো কাপড় এল কোথা থেকে? মেয়েটা কি আমার কল্পনার থেকেও বেশি শক্তিশালী?
এক সেকেন্ড জন্য তার ঠোটে হালকা হাসি ফুটল, কিন্তু কেন ফুটল তার নিজের ওজানা।
এলিনা সব কিছু এতক্ষণে পরখ করে ছিল,তবে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল -
"এই মেয়েটা কে, রোহান?
রোহান একটু ভেবে না, একবারে নির্দ্বিধায় বলে দিল
" ও.....এ বাড়ির কাজের মেয়ে।
মুহূর্তে পরিবেশ জমে গেল।
আদিবার চোখে বজ্রপাতের ঝলকানি, কিন্তু মুখে একটুও রাগ নেই, বরং ঠোঁট তাচ্ছিল্যের হাসি এনে মনে বলল-
"আমাকে কাজের লোক বলে সকলের সামনে পরিচয় দেওয়া? খুব ভালো করছেন বিলিতি বিলাই,আমার প্রতিশোধ আরো গারো হলো।একে তো বিলের মধ্যে চুবিয়েছেন, আর আবার সবার সামনে অপমান কররেল! ঠিকাছে একটু অপেক্ষা করুন কি করি আপনার অবস্থা, সারা জীবন আদিবাকে অপমান করতে ২সেকেন্ট ভাববেন।
এই ভেবে সোজা রান্না ঘরে চলে গেল, সবার জন্য কফি বানানোর জন্য চুলায় পানি বাসাল, আর সবার জন্য ঝটপট কফি বানিয়ে নিয়ে গেল।
এরমধ্যে সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিতে শুরু করলো। তার মধ্যে কপি নিয়ে হাজির আদিবা, আর সবার হাতে হাতে কপি দিল , এতে রোহান অবাক হলেও ওতটা পাওা দিল না।
এদিকে লাকি আদিবার দিকে বাজে দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে বলল-
" তুমি দেখতে ভিষণ হট, অথচ রোহান তোমাকে সবার সামনে বউয়ের পরিচয় দিতে ওর কষ্ট হচ্ছে, আফসোস তুমি যদি আমার বউ হতে "তবে চিন্তা নেই বেবি গার্ল তোমাকে এক রাতের জন্য হলেও বেড পার্টনার বানাবো।
এই ভেবে লালসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো, অথচ আদিবা বুঝতে পারলো না যে, কেউ ওকে বাজে ভাবে টার্গেটে রেখেছে, নিজের চাহিদা মিটানোর জন্য।
রোহান পুরো কফি শেষ করে কাপটা টেবিলের উপরে রাখলো, আর আদিবা আস্তে করে রোহান সামনে এসে কফির কাপটা নিয়ে" বাকা হাসি দিল "
আরএ হাসি দেখে রোহানের সন্দেহ লাগলো, কিছু বলতে যাবে হঠাৎ ও বুঝতে পারলো ওর গলা দিয়ে কোন আওয়াজ আসছে না, ও কাশতে থাকলো
আর বাকি রা হঠাৎ অবাক হয়ে রোহান কে পানি দিতে লাগলো, যখন দেখল পানি খাওয়ার পর রোহানে কাশি বন্ধ হলনা তখন এলিনা আদিবাকে জিজ্ঞেস করলো -
এলিনা
"এই তুমি কি করেছ হ্যা, যে রোহানের কফি খাওয়ার পরে এ অবস্থা
তবে আদিবা প্রতিক্রিয়া দেখালো না,মাথা ঠান্ডা রেখে রোহানের অবস্থা দেখল , আর মনে মনে তো বিজয়ের হাসি।
আবার এলিনা জিজ্ঞেস করলো কফিতে কি মিশিয়েছে
তবে এবার আর না পেরে উওর দিল -
"আরে কি আর মিশাবো, হয়তো ওনার যক্ষা রোগ হইছে এজন্য কাশতেছে, দেখি সুরুন। আমি দেখব ওনার কি হইছে।
এবলে রোহানের পাশে বসে পড়ল, এরপর রোহানের চোখের দিকে চেয়ে দেখল, রোহান ওকে চোখের ইশারা করে বুঝাতে চাইলো কফিতে কি মিশিয়েছে ?
আদিবা বিনা দ্বিধায় রোহানের কানে কানে বলল -
" আপনি কি ভেবেছেন আমাকে বিলের পানিতে ডুবিয়ে বিশ্বজয় করে ফেলেছেন, আর আপনাকে ভয় পেয়ে আমি কিছুই করবো না' no why বিলিতি বিলাই আপনি এখন আদিবাকে চিনতে পারেন নি।
প্রথমে ভেবেছিলাম অন্য রকম শায়েস্তা করবো কিন্তু আপনি কই হতে দিলেন, সকলে সামনে নিজের বউকে কাজের মেয়ে বলে পরিচয় দিলেন, এটা কিন্তু ঠিক হলো না। তাই আমি আপনার জবান সারাজীবন জন্য বন্ধ হয়ে যায় তারি বন্দোবস্ত করছি।
কপির মধ্যে সামান্য একটু সুপার গ্লু মিশিয়ে ছি।
এটা যেই সেই গ্লু না বিলিতি বিলাই,এটা মেয়াদীর্ণ । এটা একবার যার গালায় যায়, সে ৭দিনের বেশি বা এর থেকে সারাজীবন কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। কে জানে আপনি হয়তো আর কখন এ গলায় দিয়ে কাউকে treat দিতে পারবে না,আর না কথা বলতে '"আহ কি মজা! আগে জানলে এই কাজটাই করতাম।
রোহান চিৎকার করতে চাইলো, কিন্তু গলা দিয়ে এক ফোটাও আওয়াজ বের হলো না। বের হবে কি করে, গলা যে একবারে বন্ধ হয়ে আছে।
রোহান রাগী চোখে আদিবার দিকে তাকিয়ে আছে, পারছে না যে এখানে খুন করে পুতে ফেলতে
আদিবা আবার সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল-
"মনে হয় উনি আর কথা বলতে পারবে না, তাই সবাই উনার থেকে দূরে থাকুন এটাই অনেক ভালো হবে। আসি আমার আবার কাজ আছে, বাড়ির কাজের মেয়ে বলে কথা।
এই বলে চলে যেতে যেতে নিজের মত করে গান বানিয়ে গাইতে লাগলো -
*চুমুক চুমুক কফি, ধ্বংসের পালা শুরু
দেখো, আজ আমি কতটা ধূলো
ঠোঁটে আটকে গেল,কথা যেন হারালো,
সাতদিনের নীরবতা, শিক্ষার গল্প হলো
চোখে চোখে খেলা, হাসির ঝিলিক,
মনটা বুঝবে, আজ কে জিতল ঠিক।
মিষ্টি মজা, শয়তানি ভরা গান,
বিলিতি বিলাই মনে রেখ,আজ আমার প্রমাণ!
এইটুকে গেয়ে সকলের পাশ কেটে চলে গেল।
আর এদিকে সবাই ভাবছে মেয়েটা কি আসলে পাগল? না হলে কেউ আবার এরুকুম অদ্ভুত গান গায়।
আর কিছু না ভেবে সকলে মিলে রোহানকে নিয়ে হসপিটালের গেল।
আর আদিবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছে-
" বিলিত বিলাই এটাতো সামান্য ব্যাপার, আপনি যে একটু আগে আমাকে ময়লা পানি খাওয়ালেন তখন কি একটু কষ্ট লাগি নি? লাগবেই বা কেন, আমি আপনার কে হই যে কষ্ট হবে। আমি তো কেউ না আপনার।
আসলেই আমি পাগল, কাকে নিয়ে ভাবছি। যার নিজের ভেতরে এত অহংকার সে নাকি আমায় নিয়ে ভাববে।
তবে চিন্তা নেই, আপনি আমার সাথে যা করছেন,তার ডাবল আমি শোধ তুলবো। তৈরি থাকুন।
ঠিক সাতদিন পর আবার সকলের সামনে sory বলে নিজের ভুলের স্বীকার করবেন।আর আমাকে নিজেই কলেজে এডমিট করাবেন। আর যদি আপনাকে দিয়ে এই কাজ করাতে না পারি তাহলে আমার নাম "নুসরাত জাহান আদিবা না!
আর আমি সব সময় প্রস্তুত আছি আপনার প্রত্যেকটা Plan নষ্ট করার জন্য, আর সাথে আছে আমার...... আর কিছু বললনা, কারন এটা টপ সিকরেট। যদি জানতে পারে তাহলে যে সব শেষ ।
এই ভেবে হাসতে থাকলো,যদি এই হাসি রোহান দেখতো তাহলে কি হতো? আদৌ কি রোহান সেটা জানে আদিবা তাকে নিয়ে হাসছে!
চলবে......