আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ১ম পর্ব
লেখিকা- ইরা ইসলাম
তোমার চোখের তারায় হারিয়ে যায় মন, তুমি পাশে থাকলে রঙিন হয় প্রতিটি ক্ষণ। হাজার লোকের মাঝেও তোমাকেই শুধু চাই, তুমি ছাড়া এই মনে আর কোনো জায়গা নাই। কথাটা শনতেই চিবুক নামিয়ে ফেলে ইরা। লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে সে। এখনো সে কিশোরী মেয়েদের মতো লজ্জা পায়। অথচ তার বয়স আজ ৪৫ শেষ করে ৪৬ এ পা রাখবে। ইরা খান এর জন্মদিন উপলক্ষে আজ খান পরিবারে
বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইত্তেজা খান।তার একমাএ প্রিয়শী, শৈশব জীবনের একমাএ ভালোবাসা, তার বউ। তবে ইরা জন্মদিন celebrate করা হবে এটা তাকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তাকে জন্মদিনের দুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে গেছে তার এক মাএ রাজকুমারী সানায়া। সানায়া তার মা কে নিয়ে গিয়ে তার পছন্দ আনুযায়ী একটা শাড়ি ও কিনে দিয়েছে। ইরা খুব সুন্দর তাই তাকে যা পড়ে তাই মানায়৷ কেউ তাকে দেখে বুঝতেই পারবে না তার বয়স ৪৫। এখনো সেই আগে মতো সুন্দর সে। সানায়া তাকে তার মায়ের পছন্দ অনুযায়ী পারপেল কালার শাড়ি কিনে দিয়েছে। মেচিং করে তার বাবা ইত্তেজা খান এর জন্য একটা পাঞ্জাবি ও নিয়েছে। আর বাড়ির বাকি সদস্যদের জন্য সানায়ার পছন্দের কালার আকাশী কালার শাড়ি নারীদের জন্য পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবী আর সাদা পায়জামা নিয়েছে। আর বাচ্চাদের জন্য তাদের সাইজ আনুযায়ী ড্রেস নিয়েছে। যদিও সবই কিনেছে তার মায়ের চোখের আড়ালে তার মাকে শাড়ী কিনে তার মামার সাথে মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। সানায়া কেনা কাটা শেষ করে তার বাবার পাঠানো গাড়িতে সব ড্রেস তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সারাদিন দিন অনেক কেনাকাটা করার পরে সানায় ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার সময় দেখে তার ইংরেজি শিক্ষক রাস্তার পাশে কিছু অসহায় শিশু আর বয়স্কদের কিছু খাবার দিছে। দেখে সানায়ার মন অনেক খুশিতে ভরে গেছে। এক মূহুর্তে যেন তার সকল ক্লান্তি চলে গেছে। সে তার ড্রাইভার কে বলে গাড়ি থামাতে গাড়ি থামতে সানায়া গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে স্যার সামনে গিয়ে থামে। তাকে দেখে Mr. Aijan অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। দুজনে বেশ কিছু সময় নিরব থাকে। মূলত সানায়া আইজান চৌধুরীকে পছন্দ করে কিন্তু ভয়ে বলতে পারে না। সানায়া ভাবে যদি তাকে সে পছন্দ না করে তাকে না বলে দেয় তাহলে কষ্ট পাবে তাই সে কখনো প্রকাশ করেনি। তাদের নিরাবতার মাঝে একটি শিশু বলে ওঠে, স্যার খাবার দিবেন না অনেক ক্ষুধা লাগছে দেন না স্যার। নিরাবতা ভেঙে আইজান চৌধুরী বলেন, দিবো মামনি, কেন দিবোনা? এই নাও তোমার খাবার। শিশুটু একটি চমৎকার হাসি দিয়ে ধন্যবাদ বলে চলে যায়। আইজান চৌধুরী তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মনে মনে বলে এই মানুষ গুলো খাবারের জন্য কত কষ্ট করে। এদের কষ্ট দেখার মতো কেউ নাই। এই সমাজ যদি তাদের একটু খেয়াল রাখতো হয়তো তাহলে হয়তো এই মানুষ গুলোর এতো কষ্ট থাকতো না। বলেই সে সানায়ার দিকে তাকায়। দেখে শিশুটির খাওয়ার দিকে তাকিয়ে সানায়া কাঁদছে। আইজান চৌধুরী বলেন,কি হলো এই মেয়ে কাঁদছো কেন, হঠাৎ পুরুষালী কম্ভির কন্ঠ শুনে সানায়া ভয়ে পেয়ে ওঠে। সানায়া কে চুপ থাকতে দেখে তিনি আবার বলেন, কিন্তু জিজ্ঞেস করেছি চুপ করে আছো কেন? সানায়া তখন বলে, শিশুটিকে দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। - কেন? এরা একটু খাবার এর জন্য কত কষ্ট করে একটু খাবার পেয়ে কত খুশি। ও তা ভালো কথা। তো এতো রাতে এখান কি করছো? -কিছু না বাড়ি ফিরছিলাম। এতো রাতে বাড়ি যাচ্ছো। আমার জানাা মতেে তুমি তো ভালো মেয়ে তো ভালো মেয়েরা কি এতো রাতে বাড়ি ফিরে.? আসলে স্যার কালকে আম্মুর জন্মের তাই একটু বসুন্ধরা মার্কেটে গেয়িছিলাম মার্কেট করার জন্য। তাই একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। ও আচ্ছা। আমি জানিতো তোমার বাবা ফোন দিয়েছিল আমাকে ও যেতে বলছে। জি স্যার, জানি আমি। ও ভুলেই গিয়েছিলাম স্যার এক মিনিট দাঁড়ান আমি আসছি। বলেই এই দৌড়ে গাড়ি কাছে যায়। আইজান চৌধুরী তাকিয়ে থাকে তার মূলত এই মেয়েটাকে ভালো লাগে ভালো লাগার এই কথা অবশ্য। মেয়েটা যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি লেখাপড়া খেলাধুলা সবকিছু পারদর্শি। আবার মেয়েটার ব্যাবহার ও ভালো সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে পারে। তবে আইজান চৌধুরীর ভালো লাগার অন্যতম কারন সানায়া ও গরীবদেরকে খুব ভালোবাসে সে তার সাধ্যমতো গরীবদের সাহায্য করে। ভাবতে ভাবতে দেখে সানায়া একটি ব্যাগ হাতে দৌড়ে আসছে। আইজান চৌধুরী বলে আস্তে আসো না হলে পড়ে যাবে। বলা শেষ করা আগেই সানায়া পড়ে যায়। আইজান চৌধুরী দৌড়ে তাকে উঠায় বলে এমন দৌড়ে আসতে গেলে। সানায়া আইজান চৌধুরীকে এতো ব্যস্ত হতে দেখে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। এই মূহুর্তে যেন তার কোনো ব্যাথ্যা নাই, ভালোলাগায় ছেয়ে যায় তার মন। আইজান চৌধুরী বলে, এই মেয়ে কথা বলছো না কেন? সানায়া বলে উঠে স্যার মায়ের জন্মদিন জন্য আকাশী কালার থিম করা হয়েছে। তাই আপনার জন্য একটা পাঞ্জাবি আনছি এই দেখেন এটা দেওয়ার জন্য দৌড়ে আসছিলাম, এক নিশ্বাসে চোখ বন্ধ করে কথা গুলো বলে সানায়া। আইজান চৌধুরী তার কথা শুনে মুচকি হাসে তবে সানায়া চোখ খোলার আগে চোয়াল শক্ত করে রাখে। সানায়া চোখ খুলে আইজান চৌধুরীর অভিব্যক্তি বুঝতে পারে না। আইজান চৌধুরী হাত বাড়িয়ে ব্যাগটা নেয় আর তার পিছন পিছন সানায়াকে আসতে বলে। সানায়া তার পিছনে যেতে থাকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। যেন এই মানুষটা সানায়ার একটা ভরসার জায়গা। আইজান চৌধুরী একটা আইসক্রিম এর দোকানের সামনে গিয়ে থামে। একটা আইসক্রিম কিনে সানায়ার হাতে দিয়ে বলে খাও। সানায়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আইজান চৌধুরীর দিকে। কারন আইজান চৌধুরী তাকে তার পছন্দের মিল্ক আইসক্রিম দেয়। এই মেয়ে আবার কি ভাবছো, বললো আইজান চৌধুরী। সানায়া কল্পনার জগৎ থেকে বের হয়ে এসে বললো,না কিছু না। আপনি খাবেন না আমি একা খাবো। গম্ভীর কণ্ঠে আইজান চৌধুরী বললো, আমি আইসক্রিম খাই না। তুমি ৫ মিনিট এর ভিতর খেয়ে শেষ করো। আর বাড়ি যাও। ওইদিকে ইরা খান তার মেয়েকে কল দিয়ে যাচ্ছে এত রাত হয়েছে বাড়ি ফিরছে না সানায়া সেই কারনে সানায়া সাধারণত এত রাত করে বাড়ি ফিরে না। তবে ইরা খান এর ভাই আায়ান জানে সানায়া সবার জন্য মার্কেট করে তাই তিনি তার বোন কে শান্ত করতে বলছে তার সানায়ার সাথে কথা হয়েছে এখনি চলে আসবে। তবে সানায়া ফোন না ধরায় আায়ান তালুকদার ও একটু টেনশনে পড়ে গেছে। সানায়া তোমার আইসক্রিম শেষ হয়েছে? কথাটা আইজান চৌধুরী ফোনে কথা শেষ করে জিজ্ঞেস করলো। সানায়া বললো, হ্যাঁ শেষ। তাহলে চললো গাড়ি পযন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি। হুম। সানায়াকে গাড়ি পযন্ত এগিয়ে দিয়ে আইজান চৌধুরী বাইক নিয়ে চলে গেলো। সানায়া গাড়ি তে উঠার সাথে সাথে গাড়ি চলতে শুরু করলো। সানায়া ফোন হাতে নিতে দেখে তার মা ১৮০ টা কল দিয়েছে সাথে তার মামা ও ৫০ টা কল দিয়েছে। সানায়া ভয়ে ভয়ে কল দিলো তার মাকে।
-তার মা কল ধরে বলতে শুরু করলো কিরে কই তুই, কল দেই ধরলি না কেন, এখনো বাসায় আসোছ না কে, কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি, আসবি কখন।
- সানায়া বললো মা তুমি শান্ত হও আমি আসতেছি আমি গাড়িতে।
-তাহলে ফোন ধরলি না কেন কত গুলো কল দিছি।
-আসলে গাড়িতে ফোন ছিলো মা আমার আইজান স্যার এর সাথে দেখা হয়েছিলো তাই গাড়ি থেকে নেমে কথা বলছিলাম। তাই কল দেখিনি ধরতে ও পারিনি। sorry মা
-আরে সমস্যা নাই। আয় তুই আমার তো চিন্তা হচ্ছিল তাই বললাম।
-আচ্ছা মা আসতেছি।