ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মুঠো ভালোবাসা

২য় পর্ব

লেখক: Era Islam
আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান। শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ২য় পর্ব। লেখিকা- ইরা ইসলাম 
গল্প চলমান
ঘড়ির কাটা যখন রাত ১২ টার ঘরে সানায়া তখন বাড়ি দরজায় কলিং বেল টিপ দেয়। সাথে সাথে দরজা খুলে দেয় ইরা খান।  মেয়েকে দেখে হেসে দেয়। 
 সানায়া তার মাকে দেখে বলে - তুমি এখনো ঘুমাওনি মা। 
- না।
- কেন?  
-যার মেয়ে এতো রাত হয়ে গেছে এখন বাড়ি ফিরছে সে মা কিভাবে ঘুমাবে।
-মা।
-মা হয়েছিস বুঝবি কি করে মায়েদের চিন্তা। 
- আচ্ছা  বাবা sorry। 
এখন তো এসেছি ঘুমাও৷ আমি ও যাই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়বো।
তুই ঘুমাবি মানে খাবি না। না মা খেয়ে এসেছি এখন খাবো না।  তুমি খেয়েছো? হুম তোর মামা জোর করে খেতে দিলো পড়ে খেলাম। আচ্ছা যা ঘুমিয়ে পড়।  আচ্ছা মা।  gd night। 
বলেই সানায়া তার রুমে চলে গেল। ইরা ইসলাম তার রুমে চলে গেল।  যেতে যেতে ভাবলো সে সত্যি ভগ্যবতী সানায়ার মতো মেয়ে ইত্তেজা খান এর মতো স্বামী, আর সায়মন এর মতে ছেলে পেয়ে।  তবে তার মাঝে মাঝে তার বড় ছেলে রিফাত এর কথা মনে পড়ে কষ্ট পায়।  ছেলেটা যে তার অবাধ্য হয়ে রিয়া হাওলাদার কে বিয়ে করে বাড়ি ছেড়েছে আর আসিনি।  তার স্বামী ও রাগ করে খোঁজ খবর নেননি। মূলত ইরা খান এর ২ ছেলে আর একটি মেয়ে।  কিন্তু বতমানে তার বড় ছেলে কে সবাই ভুলেই গেছে প্রায়। কিন্তু মায়ের মন কখনো তার সন্তানকে ভুলতে পারেনি। ইত্তেজা খান এর আদেশ আনুযায়ী রিফাত এর নাম নেওয়া নিষেধ এই বাড়িতে। ইরা খান এখনো তার ছেলের কথা মনে করে কান্না করে।  এই যেমন আজকে ও তিনি কান্না 
করছেন।  তার স্বামীর চোখের আড়ালে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন রিফাত খান আর রিয়া তালুকদার বতমানে লন্ডনে আছে।  স্টুডেন্ট ভিসায় দুজন বিদেশে চলে গিয়েছেন। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে তিনি।   gd morning  মা। gd morning।  আমার আজকে বাড়ি চলে যাবো মা।  তুমি জামা কাপড়গুলো গুছিয়ে দিও।  বাবা গাড়ি পাঠিয়ে দিবে। তাতে ব্যাগ গুলো পাঠিয়ে দিবে ।  আর শুনো, কালকে যে  শাড়িটা কিনলাম ওটা রাখবে।  এতদিন পরে বাড়ি যাচ্ছো তাই শাড়ি পরে পার্লার থেকে সেজেগুযে বাড়ি যাবে তুমি।  আমি বিকালে ৩ টায় পার্লার এ দিয়ে আমি একটু কোচিং এ যাবো তুমি রেডি হয়ে চলে যাবে। না, কি বলছিছ তুই।  এই বয়সে কেউ এতো সাজে নাকি? পাগল মেয়ে। এতো কিছু জানি না আমি তুমি যাবে মানে যাবে। আর এই বয়সে মানে বয়স কত তোমার ১৩-১৪ সমস্যা কি তাহলে সাজলে।  তুমি না সাজতে গেলে কথাই বলবো না।  এটা বলে সানায়া অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে।  ইরা বুঝতে পারে তার মেয়ে অভিমান করছে আর সে পার্লাারে না গেলে এই অভিমান ভাঙবেনা। তাই সে বলে আচ্ছা ঠিক আছে যাবো। বলতেই সানায়ার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।  সে Thank you বলে তার মা কে জড়িয়ে ধরে।  ইরা বলে আমার পাগল মেয়ে। বেলা যখন ঘড়ির কাটায় ঠিক ২:৩০ মিনিট তখন সানায়া আর ওর মা ইরা বাসা থেকে বের হয়।  সানায়াদের গাড়িটি থামলো কাকলি বিউটি পার্লার এর সামনে।  ইরা আর সানায়া বের হয়ে পার্লার এর ভিতর গেল। সানায়া পার্লার এর বিউটিসিয়ান কে বুছিয়ে দিয়ে চলে গেল।  সে তার মায়ের জন্য গাড়ি রেখে রিক্সা নিয়ে যাবে তাই রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছে।  কিন্তু দুপুর বেলা হওয়াতে রিকশা পাচ্ছিল না।  সানায়া প্রায় ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর ও রিকশা না পাওয়ায় হতাশার নিশ্বাস ফেলে। সে সামনে দিকে হাঁটতে থাকে আর মনে মনে ভাবে আজ তার কত কাজ আর আজকেই সে রিকশা  পাচ্ছে না সে। আজ তার মায়ের জন্মদিন বলে কথা সে যদি দেরি করে তাহলে কিভাবে হবে।  ভাবতে ভাবতে তার সামনে বাইক দাঁড়া করায় আইজান চৌধুরী। বলে - এই মেয়ে এখানে কি করছো তুমি? হঠাৎ পুরুষালী গম্ভীর পরিচিত কন্ঠ শুনে সানায়া সামনের দিকে তাকায়।  দেখে আইজান চৌধুরী তার সামনে দাড়িয়ে আছে।  সে স্বপ্ন দেখছে না সত্যি সেটা জানার জন্য প্রথমমে চোখ ঢলে সামনের দিকে তাকায় তখন ও আইজান চৌধুরীকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবার নিজের গায়ে নিজে চিমটি কাটে।  ব্যাথ্যা ওহ, উহু বলে ওঠে।  আইজান চৌধুরী এতো সময় সানায়ার কর্মকান্ড দেখছিল।  সে বলে উঠলো, এই মেয়ে তুমি কখনো এক কথায় উওর দিতে পারো না।  সানায়া কল্পনার জগৎ থেকে বের হয়ে এসে বলে,  না,  স্যার মায়ের জন্মদিন দিন জন্ম বলে তোতলাতে থাকে।  আইজান চৌধুরী তার দিকে তাকিয়ে আছে।  কিন্তু সে সানায়ার তোতলানোর কারন বুঝতে পারছে না।  সানায়া হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে থাকে। কিন্তু তাকিয়ে থাকার কারনটা বুঝতে পারে না আইজান চৌধুরী। সে সানায়াকে ডাকতে থাকে এই মেয়ে, কি দেখছো কিন্তু সানায়া কিছুই শুনছে না। তার যেন এই মূহুর্তে পুরো পৃথিবী থমকে আছে। আকাশী রঙের পাঞ্জাবিটা আইজান চৌধুরীর শ্যামলা বর্নের শরীলে বেশ সুন্দর লাগছে। গোলাপি ঠোঁট চাপ দাঁড়ি মাঝারি  সাইজের কালো চুল গুলো বেশ সুন্দর।  এককথায় তাকে অপূর্ব সৌন্দর্য তার মাঝে ধরা দিয়েছে।  হয়তো এই মূহুর্তে কোনো কবি তাকে দেখলে বলতো- 
রূপে হয়তো চোখ ধাঁধায়, দৃষ্টি থমকে যায়,
মনের আলোয় ফুটে ওঠা সুন্দর স্থায়ী হয়।
বাহ্যিক রঙ ম্লান হয়ে যায় সময়ের টানে,
বড় সুন্দর সেই রূপ—যা থাকে শুভ্র প্রাণ-মায়ায়।
হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে সানায়ার ধ্যান ভাঙে।  আইজান চৌধুরী বলে এই মেয়ে কথা বললে বুঝতে পারো নাকি।  কি জিজ্ঞেস করছি?  শুনতে পাইনি স্যার আবার বলেন। এইখানে কি করছো তোমার মায়ের না জন্মদিন তো বাসায় না থেকে এখানে কি করছো।  আসলে স্যার পার্লারে যাবো তাই রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।  একটা ও পাচ্ছিনা রিকশা।  ওন এই ব্যাপার চলো তাহলে আমি দিয়ে আসি।  সত্যি!  সত্যি স্যার!হ্যাঁ চলো উঠো।  হুম।  বলেই সানায়া উঠে।  বাইক চলে নিজের আপন গতিতে তার গন্তব্য।  দুজন এই নিরব।  নিরাবতা ভেঙে আইজান চৌধুরী বলে তা কোন পার্লারে যাবে।  পা..  পার্লারে সামনে শিখা বিউটি পার্লারে যাবো ।  ok.  দেখতে দেখতে বাইক এসে তার নিদিষ্ট স্থানে থামে। সানায়া বাইক থেকে নামে।  আইজান চৌধুরী কে Thank you স্যার বলে চলে যায় ভিতরে। ঘড়ির কাটা যখন রাত ৬ টার ঘরে সানায়া তার মা কে কল দেয় ইরা খান কল রিসিপ করে বলে কই তুই আমার হয়ে গেছে প্রায়।  তোর বাবা কোন জায়গায় আছে দেখ ফোন দিয়ে।  আমার লজ্জা লাগছে দিতে। সানায়া বলে আচ্ছা মা।  তোমার আর কত সময় লাগবে।  বেশি না ১ ঘন্টা লাগবে আরো আসলে চুল গুমো কার্ল করতেছি তাই।  ওহ আচ্ছা মা ঠিক আছে।  বলেই সানায়া কল কেটে পার্লারের টাকা পরিশোধ করে বাইরে বের হয়।  দেখে আইজান চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে আছে।  সানায়া জিজ্ঞেস করলো,  স্যার আপনি এখাননে।  আইজান চৌধুরী উল্টো দিকে ঘোরা ছিলো তাই সোজা হতে হতে বললো ভাবলাম তুমি যদি আবার গাড়ি না পাও তাহলে তো আর মায়ের জন্মদিন এ যাওয়া হবে না। তাই আসলাম আর......কি।  এবার আইজান চৌধুরী সানাায়াার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।  তাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সানায়া লজ্জা পায় সে সাথে সাথে চিবুক নামিয়ে ফেলে।  আইজান চৌধুরী সানায়াকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে এক জনমে ও বুঝি তাকিয়ে থাকলে ও তার দেখা শেষ হবে না।  আকাশী কালার শাড়ি সাথে সানায়ার সাদা গায়ের সাথে যেন মিলে এমন লাগছে যেন নীল আকাশ সানায়ার শরীলে ধরা দিয়েছে। আইজান চৌধুরী মনে মনে বলে উঠে।,হায় মাশাল্লাহ, কারো নজর না লাগুক। বলই সানায়াকে সে বলে পার্লারের ভিতর যাও আমি ১০ মিনিট এ আসছি বের হবেনা বলেই চলে গেল। সানায়া আবাক হয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। সে মূলত কিছু এই বুঝতে পারলো না। সে আইজান চৌধুরী তাকিয়ে থাকার কথা মনে করে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে বারবার। 
চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন