আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান
শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ৬ষ্ট পর্ব।
গল্প চলমান,,,।
বিকেল যখন ৫:৩০মিনিট তখন সানায়াদের গাড়ি এসে থামে মোকসেদপুর সানায়ার নানাবাড়ির সামনে। সাথে সাথে সানায়ার মামি এসে তোদের ঘরে নিয়ে যায় । সিয়াম আর সাফআন এসে ওদের ব্যাগ আর লাকিজ নিয়ে যায়। ওরা বাসার ভিতরে যায়।সানায়া রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। সানায়ার মামি নাজমা বেগম সবাইকে খেতে দেয়। সবাই খেয়ে বিশ্রাম নিতে যার যার রুমে চলে বলে। সানায়া আর চিএা কে একটা রুমে থাকতে দেওয়া হয়। রুমে গিয়ে সানায়া আর চিএা কিছুক্ষন গল্প করে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ৎেকে উঠে রাতে ৮ টার দিকে। তখন সানায়া মেহেদী অনুষ্ঠানের জন্য সবাইকে বলে। প্রথমে বাড়ির বড়রা নিষেধ করলে ও পরে সানায়ার জোড়া-জাড়ি তে সবাই রাজি হয়। সানায়া সাফআনকে মেহেদী আনার জন্য মার্কেট এ যায়। সানায়া সিয়াম এর মামাতো বোন লাবন্য আর মামাতো ভাই আরিফ কে নিয়ে মেহেদী অনুষ্ঠানের জন্য। সব ডেকারেশন শেষ করে সানায়া৷ রুমে গিয়ে একটু পাতলা সেজেগুজে রেডি হয়ে আসে। আর চিএা কে ও রেডি করে দেয়। সবুজ রঙের একটা ম্যাচিং ড্রেস পড়েছে ওরা। সানায়া আর চিএা দুজনে সত্যি সত্যি অসম্ভব সুন্দর। দুজনকে হালকা পাতলা সাজে এই সুন্দর লাগছে। তবে সানায়াকে সুন্দর লাগছে খুব। সানায়ার মামি এসে সানায়াকে চোখের কাজল দিয়ে বলে কারো নজর না লাগুক৷ সানায়া আয়লোনার আর একটু লিপজেল লাগিয়েছে সামন্য বেশি সাজে নাই তাতেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে। সানায়া নিচে নেমে সবার সাথে বলতেছিল তখন এই সাফআন মেহেদী নিয়ে আসে। সানায়া তাকে দেখে মেহেদী নিয়ে সাজিয়ে নিয়ে আসে একটা ডালায়। সবাই মেহেদী দিতে থাকে। সানায়ার মামি দুজন মেহেদী আটিস্ট আনিয়েছে। একজন সিয়াম কে দিয়ে দিচ্ছে আরেক জন বাকি মেয়েদোর দেওয়া শুরু করছে। লাবন্য ও অনেক সুন্দর মেহেদী দিতে পারে তাই চিত্রা আর সানায়া মেহেদী দিচ্ছে লাবণ্যকে দিয়ে। চিএা প্রথমে মেহেদী দিয়েছে তারপর সানায়া মেহেদী দিতে বসেছে। সানায়ার যখন হাতের তারায় মেহেদী দিচ্ছে তখন লাবন্য জিজ্ঞেস করলো কি রে সানায়া তোর হিরোর নাম লিখে দিবো নাকও হাতে। লাবন্য সানায়ার সমবয়সী তাই তার সাথে সানায়া সব কথা এই কম বেশি শেয়ার করে। আর সানায়া যে আইজান চৌধুরী কে ভালোবাসে পছন্দ করে এটা শুধু লাবন্য জানে আর কেউ জানে না। আইজান চৌধুরীর কথা মনে পড়তে এই সানায়া লজ্জা পায়। কথা এড়িয়ে যেতে সে বলে আমাকে না বলে নিজের হাতে মেহেদী দেওয়ার সময় সাফআন ভাইয়ার নাম টা লিখো।লাবন্য বলে বলবো বলবো। পাখি তো নিজেই নিজের জালে জড়িয়ে ভালোবাসার টানে আসবে এই তার কলেজাট কাছে। ওরা কথা বলতে বলতে মেহেদী দেওয়া শেষ করে তখন ইরা খান কে লাবন্য ডাক দিয়ে বলে আসেন আন্টি আপনাকে মেহেদী দিয়ে দেই। ইরা খান প্রথমে দিতে চাননি তবে সানায়া আর লাবন্যের জোরাজোরি তে দিতে বসে। তখনি সানায়ার ফোনে কলল আসে। তখন ইরা জিজ্ঞেস করে কে কল দিছে সানায়া। সানায়া বলে তিথি কল দিছে। ইরা বলে ও আচ্ছা। সানায়া তিথির কল রিসিপ করে কথা বলতে বলতে বেলকোনিতে যায়৷ তিথিরা ও মেহেদী অনুষ্ঠান করছে। তিথি অনেক সুন্দর একটা মেহেদী কালার শাড়ি পড়েছে৷ অনেক সুন্দর লাগছে তিথিকে৷ সানায়া তিথির পিছনে সাদা শার্ট পড়া আইজান চৌধুরী কে দেখে থমকে যায়। শ্যাম বর্নের এই ছেলেটিকে দেখলে সানায়ার পুরো পৃথিবী থমকে যায়। সানায়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তিথি বলে কিরে কথা বলছিস না কেন কি হয়েছে। তিথির ডাকে সানায়ার ধ্যান ভাঙে। সে বলে nice খুব সুন্দর লাগছে। কারে সুন্দর লাগছে। সানায়া একটু লজ্জা পায় সাথে ভয় ও পায় যদি তিথি বুঝে যায় তাই তোতলাতে, তেত,লা,তে বলে তোকে তোকে খুব সুন্দর লাগছে। তাই। হুম। ওহ। কিছু সময় কথা বলে কল কেটে দেয়। তারপরে সানায়ারা একটু নাচ গান গায়। সানায়া খুব ভালো গান গাইতে পারে। সবাই সানায়াকে গান গাইতে বললে সানায়া গান গায়৷ ওরা গানের লড়াই খেলে সবাই। মেয়েদের আর ছেলেদের টিম হয় দুইটি টিম৷ মেয়েরা জিতে যায়। রাত ১ টায় ওদের অনুষ্ঠান শেষ হয়৷ সানায়া রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালবেলা ওরা ঘুম থেকে ওঠে। আজকে ছেলের বাড়ি গায়ে হলুদ তাই এহ বাড়িতে অনুষ্ঠানের বাস্ততা। সবাই নিজের মতো করে দায়িত্ব পালন করছে। বড়রা বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকে। ছোটরা গল্প করে। সানায়া চিত্রা লাবন্য সাফআন সিয়াম সবাই বিকেলে কে কি পড়বে সব কিছু রেডি করছে।লাবন্য আর সানায়া প্রথমে ভেবেছিল পার্লারে যাবে না বাড়িতে সাজবে কিন্তু নাজমা বেগম সবাইকে বললো পার্লার থেকে লোক আসবে সাজতে কেউ যেন নিজে নিজে না সাজে। তাই লাবন্য আর সানায়া চিত্রা অপেক্ষা করছে। সানায়া আজ ড্রেস পড়বে। কালকে শাড়ি পড়বে। মূলত সানায়ার মামি নাজমা বেগম মেয়েদের জন্য ড্রেস আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবী আনেছে ধূসর রঙের। পার্লার থেকে লোক এসে মেয়েদের সবািকে সাজিয়ে দেয়। অসম্ভব সুন্দর লাগছে সবাইকে। সাফআন তো লাবন্য প্রেমে এই পড়ে গেছে। লাবন্য সানায়ার কানের কাছে এসে আস্তে আস্তে বলে মিস হয়ে গেলো রে সানু আইজান ভাইয়া থাকলে প্রেমে পড়ে যেত কেন যে ফুফু আইজান ভাইকে দাওয়াত দিলো না। কথা টা শুনতে লজ্জায় লাল হয়ে যায়।