আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান।
শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ৫ম পর্ব।
গল্প চলমান।
দেখতে দেখতে পনেরো দিন কেটে গেছে। আজ পরীক্ষার শেষ দিন সানায়ার। আজ প্রাকটিকাল পরীক্ষা ওদের। তাই পড়াশোনার কোনো চাপ নেই। সকালে হালকা পাতলা নাস্তা খেয়ে চলে গেল সানায়া। সাথে সায়মন ও গেল। কলেজের সামনে সায়মন সানায়াকে নামিয়ে দেয়। সানায়া নেমে তিথিকে খুঁজে। কিন্তু কোথাও সানায়া তিথি দেখতে পায় না। হতাশ হয়ে সানায়া ক্লাসের সামনে একটি চেয়ারে বসে থাকে। ঠিক তখন পিছন থেকে কারো হাতের স্পর্শে সানায়া সেদিকে ঘুরে। দেখে তিথি দাড়িয়ে আছে মুখে তার উজ্জ্বল এক হাসি। সানায়া এতো সময় একা একা বসে থাকার কারনে রাগ করেছিল। সানায়া বললো ডাইনি এখন আসছে যা তোর সাথে কথা বলবো না৷ সর ডাইনি৷ সানায়া রাগের কারনে দেখতে পেলো না তিথির হাতে একটি ব্যাগ আছে৷ তিথি বললো ওরে আমার বেবিটা খুব রাগ করেছে। ইস আমার বেবিটা রাগ করলে কত্ত সুন্দর দেখায়৷ কারো নজর না লাগুক। আচ্ছা কি করলে বেবিটার রাগ ভাঙবে। সানায়া বললো জানি না সর। তখন তিথি বললো আচ্ছা তাহলে চোখ বন্ধ করো তো বেবি। সানায়া প্রথমে চোখ বন্ধ না করতে চাইলে ও পরে বন্ধ করে। তিথি বলে এবার বেবি হাত বের করো তো। সানায়া তিথির সামনে হাত বের করে তিথি তখন সানায়াকে একটি প্যাকেট দিয়ে হাত বের করতে বলে। সানায়া হাতে প্যাকেট দেখে প্রথমে বুঝতে না পরলে জিজ্ঞেস করে এটায় কি। তিথি বলে খুলে দেখো বেবি। সানায়য়া খুলে দেখে একটা লাল সাদা শাড়ি অসম্ভব রকম সুন্দর। একজোড়া কানের দুল, লাল টিপ, দুই মুটো কাশ্মীরী চুড়ি। একটা আর্টটি ফেশিয়াল চুলের ফুলের গাজরা। সানায়া বলে ওয়াও বেবি কি সুন্দর। তিথি বলে সুন্দর তো হবে কার পছন্দ দেখতে হবে না। হুম আমি জানটার পছন্দ বলে কথা। তাইতে সুন্দর। তিথি বলে কে তোর জান। কেন তুই। তিথি বলে এটা তোকে কে দিছে জানোছ তুই। হুম তুই কেন? না আমি না আমার ভাই দিছে৷ কি! সানায়া অবাক হয়ে যায় আর সাথে হাত থেকে প্যাকেট টা পড়ে যায়। পড়ার আগে আইজান চৌধুরী ধরে ফেলে। বলে কি ম্যাডাম আমি দিছে বলে ফেলে দিচ্ছো নাকি। সানায়া বলে না স্যার আর কি। কি আর। সবসময় কথা পেচাও কেনো সোজা কথা বলতে পারো না। হুম পারি। তাহলে বলো না কেন। সরি স্যার। তো ম্যাডাম কবে যাবে শাপলা বিলে। কালকে সকালে যাবো ভাবছিলাম। তেমার ভাইকে ও নিও ম্যাডাম। কেন। আমি বলছি তাই। সমস্যা আছে। না স্যার আসলে কারন জানতে চাইছিলাম। শাপলা অনেক সকালে ফোটে আর তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায় তাই বাইকে গেলে সময় কম লাগবে। তাইবলছিলাম। ঠিক আছে নিবো। আচ্ছা এবার খাতা জমা দিয়ে দুজনে বাড়ি যাও। আচ্ছা। সানায়া আর তিথি খাতা জমা দিয়ে বের হতে হতে বলে তোর খাটাশ ভাই হঠাৎ শাড়ি দিলো কেন৷ ওইদিন আমরা বলছিলাম শাড়ি নাই সেটা ভাইয়া শুনছে তাই তোর আর আমার জন্য শাড়ি নিয়ে আসে। ওহ। আচ্ছা বায়। হুম। পরের দিন সকালে ওরা চারজন শাপলা বিলে যায় সেখানে আইজান চৌধুরী সানায়াকে অনেক গুলো ছবি আর ভিডিও করে দেয়। লাল সাদা শাড়ি তে অসম্ভব রকম সুন্দর লাগছিল সানায়া আর তিথি কে। সায়মন তো তিথিকে দেখে প্রায় পাগল হয়ে গেছিলো৷ আর আইজান চৌধুরী তো চোখ এই সরাতে পারছিলো না। নিজেকে সামনে নিয়ে তারা অনেকটা সময় ঘোরাঘুরি করে বাড়ি চলে যায়। সানায়া আর সায়মন বাড়ি ডুকতে ডুকতে শুনতে পায় সানায়ার মামা আয়ান তালুকদার এর বড় ছেলে সিয়াম তালুকদার এর বিয়ে। বিয়ে টা তাড়া হুরা করে ঠিক করা হয়েছে কারন সিয়াম হঠাৎ করে ছুটি পেয়েছিল তাই। সানায়য়া অবশ্য জানে সিয়াম এর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে কিন্তু সিয়াম ছুটি না পাওয়ার কারনে বিয়ের তারিখ দিতে পারছিল না৷ দুদিন পরে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে তাই সনয় খুব কম। ইরা খান সানায়া আর চিএা কে বলে তোমাদের কেনা কাটা থাকলে বইলো বিকালে সবাই শপিং এ যাবো। সানায়া আচ্ছা বলে চলে যায়। সানায়া খুব খুশি হয়েছে। তার আরেক টা খুশি হওয়ার কারন তিথি চাচাতো বোনের বিয়ে তাই তিথি কলেজে আসতে পারবে না সানায়াকে তাই একা একা কলেজে যাওয়া লাগতো। এজন্য সানায়ার মন খারাপ ছিলো। তিথি ওর চাচাতো বোনের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিল কিন্তু ইত্তেজা খান বলছেন যেতে পারবেন না। তবে এখন সে তার মামাতে ভাঔয়ের বিয়েতে যাবে এটা ভেবেই খুশি সে। বিকালে সানায়া আর চিএা কে নিয়ে গিয়ে ইরা খান আর ছোট চিএা মা রেহানা বেগম গায়ে হলুদ এর জন্য মাচিং ড্রেস কিনে দিয়েছে সানায়ার অনেক গুলো আাকাশী জামা আছে বলে সে আর বিয়ের জন্য ড্রেস কেনেনি৷ তবে চিএা আর সানায়া বউ ভাতের জন্য মাচিং ড্রেস কিনেছে লাল রং এর। চিএা লাল রং পছন্দ করে তাই।
পরের দিন সকাল বেলা একটি নতুন দিন এর সূচনা। ঘড়ির কাটা টিকটিক শব্দ করছে বলছে দুপুর বারেটা বাজে৷ সানায়া ঘড়ির কাটার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে। সে দেখে তার উঠতে দেরি হয়ে গেছে। আজ তাদের সকলের নানা বাড়ি যাওয়ার কথা। কিন্তু সানায়ার আজ এই ঘুম ভাঙলে দেরি করে। সানায়া তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে একসাথে গোসল করে নিচে আসে দেখে বাড়ি সবাই দুপুরের খাবার এর আয়োজন করছে। সকলে দুপুর এর খাবার খেয়ে রওনা দিবে। সানায়া নাস্তা করতে বসে পড়ে। ইরা খান বলেন খাবার খেয়ে জামা কাপড় গুছিয়ে নিতে সানায়াকে। সানায়া বাাধ্য মেয়ের মতো বলে আচ্ছা আম্মু। বেলা ৪ টা বাজে সানায়াদের তিনটি গাড়ি রওনা হয় সানায়ার মামা বাড়ির উদ্দেশ্য। গাড়ি চলে তার নিজ গতিতে। সানায়ার নানা বাড়ি মোকসেদপুর।