ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাফিয়া বাঁধন দ্যা সিআইডি অফিসার

১৫তম পর্ব

লেখক: Ahmed Badhon
​কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
​[১৫তম খণ্ড]
~~~​~~~~~~~~~~~~ মাঝরাত ~~~~~~~~~~~~~
​গভীর রাত। চারপাশ নিঝুম নীরবতায় ডুবে আছে। পুরো ঢাকা শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখন কেরানীগঞ্জের বিশাল 'নূর প্যালেসে' একজনের চোখে বিন্দুমাত্র ঘুম নেই। সে হলো নূর।
​তার পাশে এক হাত দিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সুগভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে মাফিয়া বাঁধন মির্জা। কিন্তু নূরের মন পড়ে আছে অন্য চিন্তায়। বিকেলে কী এক ভয়ঙ্কর তাণ্ডব ঘটে গেল! পুরো সিআইডি হেডকোয়ার্টার্স আর এসিপি স্যারকে বোমার ব্লাস্টে উড়িয়ে দিয়েছে এই শয়তান মাফিয়া! এই জল্লাদকে আটকানোর ক্ষমতা বোধহয় এ দেশের কারও নেই। তাই নূর মনে মনে শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—আজ রাতেই যেকোনো মূল্যে এই পিশাচের খাঁচা থেকে সে পালাবে! এই শয়তান মাফিয়ার সাথে সে কোনোদিন সংসার করবে না!
​নূর পাশে তাকিয়ে দেখল, বাঁধন খুব শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে। বাইরে থেকে মানুষটাকে যতটাই শান্ত দেখাক না কেন, এই লোকটা চোখ খুললেই যে পুরো দুনিয়া শ্মশান বানিয়ে দিতে পারে, তা নূরের অজানা নয়।
​নূর খুব সাবধানে, ইঞ্চি ইঞ্চি করে বাঁধনের ভারী হাতটা নিজের ওপর থেকে সরিয়ে নিল। ভাগ্যিস, বাঁধন টের পায়নি! এরপর সে অতি সাবধানে বিছানা থেকে নেমে রুমের দরজার দিকে পা বাড়াল। বেডরুমের বাইরে সিকিউরিটি গার্ডরা পাহারা দিচ্ছিল, কিন্তু রাতের ঘুমে তারা খানিকটা অসাবধান।
​নূর নিজের সিআইডি মেজাজ আর টেকনিক কাজে লাগিয়ে গার্ডদের নজর এড়িয়ে সোজা ছাদের ব্যালকনিতে চলে গেল। ব্যালকনি থেকে নিচের ফাঁকা বাগানে নামার জন্য সে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাল। অত্যন্ত কৌশলে রেইলিং ধরে আস্তে আস্তে নিচে নেমে এল নূর। মাটিতে পা রাখতেই তার বুক থেকে এক দীর্ঘ শান্তির নিশ্বাস বেরিয়ে এল।
​মনে মনে একরাশ জয়ী ভাব নিয়ে নূর বিড়বিড় করতে লাগল—
"শয়তান মাফিয়া! তুই কী মনে করেছিস? তোর মতো খুনি মাফিয়ার সাথে আমি ঘর-সংসার করব? জীবনেও না! মরে যাব তাও তোর মতো পিশাচের বউ হয়ে থাকব না! তুই মনে করেছিস নূর এত বোকা? আমি একজন ট্রেইন্ড সিআইডি অফিসার! তোর মতো মাফিয়াকে গোণায় ধরার সময় আমার নেই। ভাগ শালা! আজ চলে যাচ্ছি, আর জীবনেও আমার ছায়াও খুঁজে পাবি না তুই!"
​মনে মনে বাঁধনকে এক গাদা গালি দিয়ে নূর আনন্দের সাগরে ভাসতে ভাসতে প্রথম পা বাড়াল। কিন্তু কপালে শনি থাকলে যা হয়! অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ কিছুর সাথে নূরের পা আটকে গেল এবং সে সরাসরি মাটির এক গোপন গর্তে গিয়ে ধপাস করে পড়ে গেল!
​হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় নূর ব্যথায় কোঁকড়ে উঠে চেঁচিয়ে উঠতে গিয়েও সামলে নিল—
— ওমাগো! মরে গেলাম রে...!"
​গর্তে বসে বসে নূর নিজের কপাল চাপড়াতে লাগল—
"পাগল মাফিয়া একটা! তুই এত বড় শয়তান? আমাকে এভাবে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছিস? ভাবলাম এত সহজে পালিয়ে যাব, কিন্তু তুই তো কম সেয়ানা না! আল্লাহ, এই পিশাচের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও!"
​নূর গর্তের ভেতরে বসে ফিসফিস করে নিজেকেই গালাগালি করছিল। হঠাৎ তার চোখ গেল সামনের অন্ধকারের দিকে। দেখল, ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটি দীর্ঘ ছায়ামূর্তি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে!
​নূর এমনিতে ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে না, কিন্তু এই নির্জন গভীর রাতে হুট করে এমন একটা ছায়ামূর্তি দেখে তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তাও নিজের সিআইডি ইমেজ বজায় রেখে ভয় ঢেকে কড়া গলায় বলে উঠল—
​"ওখানে কে দাঁড়িয়ে আছ? সামনে আসো বলছি! আমি কিন্তু সিআইডি অফিসার নূর! এক সেকেন্ডের মধ্যে সামনে না আসলে গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেব!"
​ছায়ামূর্তিটি এক চুলও নড়ল না। আগের মতোই নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
​নূর এবার সত্যি সত্যিই ঘাবড়ে গেল। খানিকটা তোতলামি কেটে মিনতির সুরে বলল—
"কিরে ভাই? 
— চুপ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন? কথা বলো! আমার কিন্তু সত্যি সত্যি ভয় করছে... প্লিজ সামনে আসো! যদি ভূত ভাই হয়ে থাকো, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও! জীবনে আমি কারও ক্ষতি করিনি। এমনিতেই এক শয়তান মাফিয়ার জ্বালায় বাঁচি না, তার ওপর আবার ভূত-প্রেত! প্লিজ আমার সামনে থেকে চলে যাও..."
​নূরের এমন অনুনয়-বিনয় শুনে সেই ছায়ামূর্তিটি ধীর পায়ে এগিয়ে এল এবং গর্তের ভেতরে একটা মজবুত দড়ি ফেলে দিল।
​নূর মনে মনে ভাবল, 
'যাক! 
— ভূত ভাই লোকটা মন্দ নয়, বেশ দয়ালু!' সে দড়ি ধরে কোনোমতে কসরত করে গর্ত থেকে ওপরে উঠে এল। অন্ধকারে মুখ দেখা যাচ্ছিল না, 
তাও নূর এক গাল হেসে বলল—
​"অনেক অনেক ধন্যবাদ ভূত ভাই! আপনি হয়তো আমার কষ্টটা বুঝতে পেরেছেন। ওই শয়তান মাফিয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে আমাকে সাহায্য করার জন্য থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ!"
​কিন্তু নূর ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি, যে ছায়ামূর্তিটিকে সে 'ভূত ভাই' বলে ডাকছে, সে আর কেউ নয়—স্বয়ং বাঁধন মির্জা! বাঁধন আগেই নূরের এই পালানোর ছক ধরে ফেলেছিল। কারণ নূর যতটা চালাক, বাঁধন মির্জা তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শয়তান!
​বাঁধন অন্ধকারের মধ্যেই এক চিলতে শীতল হাসি দিয়ে কড়া গলায় বলে উঠল—
" ভূত ভাই আপনাকে অবশ্যই সঙ্গে করে নিয়ে যাবে,
—  মিসেস নূর!"
​গলার আওয়াজটা কানে আসতেই নূরের পুরো শরীর রি-রি করে কেঁপে উঠল! সে তোতলাতে তোতলাতে বলল, 
"ভূ... ভূত ভাই? আপনি আমার নামও জানেন?"
​ছায়ামূর্তিটি পকেট থেকে আইফোনের কড়া ফ্ল্যাশলাইটটা অন করে সরাসরি নূরের মুখের ওপর ধরল!
​আলোর ঝলকানিতে নূর চোখের পাতা বন্ধ করে আবার খুলতেই তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! সামনে দাঁড়িয়ে আছে হাতঘড়ি পরা, ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্বয়ং বাঁধন মির্জা!
​নূর বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে মনে মনে চিল চিৎকার দিয়ে উঠল—
' হায় আল্লাহ! 
— আমি তো অনলাইনে নানা রকমের রোমান্টিক উপন্যাস পড়ে পালানোর এমন বুদ্ধি বের করেছিলাম! কিন্তু সেই বুদ্ধিতে তো কাজ হলো না! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, উপন্যাস হলো কাল্পনিক জগৎ, আর এই খাটাস বাঁধন মির্জা হলো রক্তমাংসের বাস্তব জঘন্য মাফিয়া!'
​বাঁধন এক পা এগিয়ে নূরের থুতনিটা নিজের শক্ত আঙুলে চেপে ধরে গভীর কণ্ঠে বলল—
"তুই হয়তো ভুলে গেছিস নূর! তোর জন্ম আর মৃত্যু আল্লাহর হাতে হতে পারে, কিন্তু তোর জীবনের সমস্ত খবর কিন্তু এই বাঁধন মির্জার হাতের মুঠোয়! তুই কখন কী খাস, কখন ঘুমাস, আর কখন পালিয়ে যাওয়ার ধান্দা করিস—সব আমার নখদর্পণে!"
​নূর তোতলাতে তোতলাতে বলল, 
"তার মানে... আপনি ঘুমাননি?"
​"জি না, মাই ডিয়ার ওয়াইফ! আপনি যে আবোল-তাবোল রোমান্টিক উপন্যাসগুলো পড়ে মাথা নষ্ট করেন, সেখান থেকে বুদ্ধি নিয়ে আমার সাথে পার পাওয়া সম্ভব নয়! ওটা কল্পনা, আর আমি হলাম নিষ্ঠুর বাস্তব!"
​"আপনি কি নিজেকে 'রিদ খান' ভাবছেন,
 আর আমাকে 'মায়া'?" 
​বাঁধন নূরের ঠোঁটের কাছে নিজের মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, 
"রিদ খানের সাথে আমাকে মেলাতে যাস না নূর! রিদ খান হয়তো মায়াকে থাপ্পড় মেরে ৩ বছর পর ফিরে পেয়েছিল, কিন্তু আমি বাঁধন মির্জা নিজের জিনিস পাওয়ার জন্য ৩ বছর ওয়েট করি না! কেউ কেড়ে নিতে চাইলে বা পালিয়ে যেতে চাইলে তাকে মেরে এক নিমেষে নিজের জিনিস কেড়ে নিই!"
​নূর ভয়ে এক পা পিছিয়ে বলল
, "আপনি এত কিছু কীভাবে জানেন?"
​"বললাম তো, তোকে সংক্রান্ত সব খবর আমার কাছে থাকে! তাই ফালতু পালানোর চেষ্টা না করে কীভাবে আমার সাথে সংসার করবি, কীভাবে বাসর করবি—সেসব চিন্তা কর! এটাই তোর জন্য ভালো হবে।"
​নূর মুখ ব্যাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে বলল, 
"বাসর আর সংসার? 
— তাও আবার আপনার মতো একটা খুনি মাফিয়ার সাথে? ওয়াক থু! জীবনেও না!"
— ​"আমার সাথেই তোকে বাসর করতে হবে ম্যাডাম! কারণ তোর কপালে মাফিয়া বাঁধন মির্জার নামই লেখা আছে।
​নূর ব্যাকুল হয়ে কেঁদে উঠে বলল, 
"প্লিজ আমাকে যেতে দিন! আমি আপনার সাথে থাকব না! আমার মা-বাবা চিন্তা করছেন, আর আপনার জন্যই আজ আমার চাকরিটা গেল!"
— ​"তোর চাকরি নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না! আমি থাকতে তোর কিসের অভাব? আর তোর মা-বাবা একদম ঠিক আছে। তুই শুধু আমার কাছে থাকবি, দ্যাটস মাই ফাইনাল অর্ডার!"
​"আপনার আমার চাকরির কথা ভাবতে হবে না, আমার চাকরি আমি নিজে খুঁজে নেব! কিন্তু আপনার সাথে আমি সংসার করব না!"
​বাঁধন এবার নূরের একবারে কাছে চলে এল। তাদের ঠোঁটের দূরত্ব এখন মাত্র কয়েক মিলিমিটার! বাঁধন নূরের চোখে চোখ রেখে অত্যন্ত শীতল আর ভয়ঙ্কর গলায় বলল—
"বেশি অবাধ্য হয়েচ্ছিস না নূর! আমি চাইলে তোকে এখনই এই খোলা আকাশের নিচে উলঙ্গ করে বাসর করে ফেলতে পারি! আর পুরো বাংলাদেশ কেন, পুরো ওয়ার্ল্ডের কোনো বাপের বেটার ক্ষমতা নেই আমাকে আটকায়!"
— ​ " ছিঃ! কি বাজে কথা বলেন আপনি! 
আপনার মতো শয়তানের সাথে..."
​"তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে নূর!"
​কথাটা শেষ করেই বাঁধন আর নূরকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না। এক নিমেষে তাকে পাঁজকোলা করে কোলে তুলে নিল! নূর রাগে-ক্ষোভে বাঁধনের চওড়া বুকে আর পেটে নিজের দু-হাত দিয়ে বকসিংয়ের মতো মারতে লাগল। কিন্তু জিম করা শক্ত কডিতে নূরের ওই ছোট হাতের মারে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ল না!
​বাঁধন সোজা নূরকে কোলে নিয়ে মাস্টার বেডরুমে ফিরে এল। ধপাস করে নূরকে বিছানায় ফেলে দিয়ে নিজে তাকে শক্ত কোলবালিশের মতো চেপে ধরে শুয়ে পড়ল।
​নূর ছটফট করতে লাগলে বাঁধন নূরের কানের কাছে গিয়ে বিষাক্ত গলায় হুমকি দিল—
"যদি আর একটা সেকেন্ড ছটফট করিস, তবে এখনই ফুল বাসর কমপ্লিট করে ফেলব! তখন বুঝবি বাঁধন মির্জা কী জিনিস! চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়!"
​নূর ভালো করেই বুঝে গেছে—এই পাগল মাফিয়া যা বলে, তাই করে! তাই এখন চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পরে সুযোগ বুঝে অন্য কোনো পথ বের করতে হবে। নূর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে মুখ ঘুরিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল।
​~~~~~~~পরের দিন - বিকাল ৪ : ০০ টা~~~~~~~~~~ 
​ধানমন্ডি লেকের একটা নির্জন পার্কের বেঞ্চে বসে আছে রিশাদ। সে অস্থির হয়ে বারবার নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। নূর বিকেল পাঁচটায় আসার কথা বললেও, সে এক ঘণ্টা আগেই চলে এসেছে। কিন্তু ৪টা বেজে গেলেও নূরের কোনো পাত্তা নেই! রিশাদ নূরের নম্বরে একাধিকবার ট্রাই করেছে, কিন্তু ফোন সুইচড অফ দেখাচ্ছে।
​দীর্ঘ ২-৩ বছর ধরে সে নূরকে ভালোবাসে। অনেক কষ্টে নূরকে পটিয়ে রাজী করানোর পর এখন নূরের এমন দূরে দূরে থাকাটা রিশাদ সহ্য করতে পারছে না।
​হঠাৎ রিশাদ দেখল, কিছুটা দূরে একটা স্কুটি এসে থামল। স্কুটি থেকে নেমে নূর প্রায় দৌড়ে তার দিকে হেঁটে আসছে। নূরের শ্বাস দ্রুত চলছে, সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
"রিয়েলি সরি রিশাদ! আমার আসতে একটু দেরি হয়ে গেল..."
​রিশাদ নরম গলায় বলল,
 "ইটস ওকে নূর। সমস্যা নেই।"
​"কী বলবে বলো?
 আমার একটু খুব তাড়া আছে..." 
​রিশাদ কিছুটা মন খারাপ করে বলল, 
"মাত্রই তো এলে নূর! আর এখনই চলে যাওয়ার জন্য এত ছটফট করছ কেন?"
​আসলে নূরের এই তাড়াহুড়ো নিজের জন্য নয়, রিশাদের জীবনের সুরক্ষার জন্য! নূর খুব ভালো করেই জানে, বাঁধন যদি এক সেকেন্ডের জন্য জানতে পারে যে সে রিশাদের সাথে দেখা করতে এসেছে, তবে বাঁধন মির্জা রিশাদকে জ্যান্ত কেটে মাটিতে পুঁতে ফেলবে!
​তাই রিশাদকে বাঁচাতে আর বাঁধনের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে নূর রিশাদকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। কিন্তু মনের অজান্তেই সে বাঁধনের আইনি স্ত্রী হয়ে গেছে, আর রিশাদকে সে সত্যটা বলতেও পারছে না।
​রিশাদ কষ্ট পেয়ে বলল, 
"কী হলো নূর? 
তুমি আমাকে আগের মতো সময় দাও না কেন? তুমি কি আমাকে আর ভালোবাসো না?"
​নূর চোখ সরিয়ে বানিয়ে বলল,
 "কই... না তো! আসলে আমি সিআইডি ডিউটি আর পার্সোনাল কাজ নিয়ে একটু বেশি বিজি থাকি তো, তাই আর কি... তা ছাড়া কিছু না!"
​"ও আচ্ছা..."
​"কিছু খাবে তুমি?"
​"না, এখন কিছু খাব না। পরে।" 
​নূর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল বিকেল সাড়ে চারটা বেজে গেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাঁধনের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যাবে! আর বাঁধন তাকে বাড়িতে না পেলে বিপদ নেমে আসবে।
​নূর ভয় আর আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে রিশাদকে বলল, 
"রিশাদ, আমার এখন একটা ইমার্জেন্সি মিটিং আছে। আমাকে এখনই যেতে হবে! কাল বা অন্য একদিন কথা হবে, ওকে?"
​"এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে নূর?"
 রিশাদ মিনতি করল।
​"প্লিজ রিশাদ, বোঝার চেষ্টা করো! বাই!"
​নূর আর এক মুহূর্তও সেখানে না দাঁড়িয়ে দ্রুত গিয়ে নিজের স্কুটিতে বসল। রিশাদকে বাই জানিয়ে স্কুটি স্টার্ট দিয়ে ঝড়ের গতিতে সে কেরানীগঞ্জের দিকে রওনা দিল। সে জানে, এই পিশাচ মাফিয়া বাঁধন টের পেলে আজ রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন