কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[২০তম খণ্ড]
-------------------------- অতীত সময়ের মুহূর্ত ----------------------------
হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন আতিয়া উসমানা বেগম। কারণ তিনি প্রেগন্যান্ট তার সন্তান হবে পাশে বসা। তার হাজবেন্ড রিফাতুল জিদান মির্জা আর সাথে তাসলিমা বেগম রাবেয়া বসে আছি। রাবেয়া বেগমের হাত ধরে আছে ছোট্ট একটি ছেলে পাঁচ বছরের। বাঁধন রায়াদুল মির্জা। আর তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন রাবেয়া যাতে কিছু না হয় কিন্তু আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে। আর সেখানে কান্না করে যাচ্ছে। বাঁধনের আপন সৎ মা যার জন্য রাবেয়ার সাথে আর জিদান মির্জার সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছিল দ্বিতীয়বার বিয়ে করায় কিন্তু এক না একসময় তো মেনে নিতেই হবে। দেখতে দেখতে সময় যত যাচ্ছিল তাদের ঝগড়ার পরিমাণটা কমে গিয়েছে তারা আগের মত সেই ঝগড়া করে না নিজেদেরকে বোনের মতো বানিয়ে রাখে। হাসপাতালের লোকেরা বলে গিয়েছে সবাইকে বাহিরে দাঁড় করিয়ে কারণ ভিতরে অপারেশন হবে আর এদিকে টেনসনে জিদান মির্জা পায়চারি করছিল। আর তাকে বসে সান্ত্বনা দিচ্ছিল রাবেয়া বেগম। কিছুক্ষণ অপারেশন হলো অপারেশনের পরে লাল বাতি জ্বলে উঠলো আর বেরিয়ে আসলো ডক্টর বাড়ানোর সাথে সাথে।
জিদান মির্জা একটু নর্ম আর একটু ঠান্ডা মেজাজ কিন্তু ভয় ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ডাক্তারের উদ্দেশ্য করে তিমি গলায় বলে উঠলো :-
— ডক্টর আমার ওয়াইফ কি ঠিক তার কিছু হয়েছে প্লিজ কিছু বলেন ডাক্তার আমার অনেক টেনশন হচ্ছে...??
ডাক্তার কিছু বলল না চুপ করে আছে ডাক্তারকে এভাবে চুপ থাকতে দেখে আবারও বলে উঠল :
— প্লিজ কিছু একটা বলুন ডাক্তার....??
— আসলে..!!
— আসলে কি ডাক্তার সাহেব...!!
— আমরা রোগীকে বাঁচাতে পারেনি কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে পেরেছি আপনার একটি মেয়ে হয়েছে...!,
ডাক্তারের মুখে এই কথা শুনে কান্না করে দিল জিদান মির্জা সে কখনো ভাবতে পারিনি আতিয়া মারা যাবে আর ডাক্তারও সেখানে আর দাঁড়ালো না সেখান থেকে চলে গেল ভিতরে গিয়ে দেখল আর দৌড়ে গেল জিদান মির্জা তাকে সান্ত্বনা করার চেষ্টা করছে রাবেয়া বেগম কিন্তু শান্ত হচ্ছে না কান্না করে গেছে তার বাবা কি কান্না করতে দেখে ছোট্ট বাঁধনের ও খারাপ লাগা কাজ করলো কিন্তু সে তো ছোট মানুষ কিছু বুঝে না তাই তার বাবাকে কি করছে কিছুই হচ্ছে না কিন্তু যেটা মির্জা কান্না করছে পাশে দেখে একটা ছোট্ট বাচ্চা পরীর মত দেখতে ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চাটাকে কোলে নিল রাবেয়া বেগম আর একটু কান্না ভরা দৃষ্টিতে বলে উঠলো :
— তুই আজ থেকে আমার মেয়ে মা তোকে কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দিব না আমি এটা কথা দিলাম...!!!
ছোট্ট ফুটফুটে মেয়েটাকে দেখে বাঁধনের ও কেমন যেন একটা লাগলো বাচ্চা মানুষ কিছু তো বুঝে না বাচ্চাটা কি কোলে নিতে চাইল কিন্তু বাঁধন তো কোলে নিতে পারছে না তাও তার মাকে বলল বলে দিতে তার মা ছেলের জেদে হার মেনে কোলে দিল আস্তে করে।
— মামি কি কিউট বাবু। এই বাবুটার নাম কি আর ইঁদুরের বাচ্চার মত কি সুন্দর বাবু... """
বাঁধনের কোলে যেতে ছোট্ট কলে থাকা নূর হেসে দিল
— মাম্মি দেখো বাবুটি আমাকে দেখে হাসছে ইদুরের বাচ্চাটা আমার উপর দেখে আসছি কি সুন্দর বাবু...!!
— আমি বাবুটা আমাদের সাথেই থাকবে তো এটাকে আমি কখনোই হাতছাড়া দিব না ইদুরের বাচ্চার মত রাখবো
বোনের প্রতি এত ভালোবাসা থেকে ভাইয়ের ব্রাবেয়া বেগম অনেক খুশি হয়ে কান্না করে দিল আর জিদান মির্জা ও কান্না করতে করতে সবাইকে সবাই জড়িয়ে ধরল একসাথে
বাবা কি সান্ত্বনা দিয়ে ছোট্ট বাঁধন বলে উঠলো।
— বাবা প্লিজ তুমি কেঁদো না তুমি কাঁদলে আমার খারাপ লাগে আমিও কান্না করে দিও প্লিজ কেদোনা...!!
জিদান মির্জা গালে একটা চুমু দিয়ে কান্না ভেজা কন্ঠে বলল
— আচ্ছা বাবা
হাসিমুখে বাবাকে বলে উঠলে আবার :
— বাবা ইঁদুরের বাচ্চাটা আমাদের সাথে থাকবে তো আমি কিন্তু তাকে বিয়ে করবো বড় হয়ে.. ""
এবার রাবেয়া বেগম একটু উত্তেজনা কন্ঠে কিন্তু নরম চলি ছেলের উদ্দেশ্যে বলে উঠ :
— না বাবা ওটা তোমার বোন তার সাথে বিয়ে করা যাবে না বুঝছো
কিন্তু কে জানত ছোট্ট বাঁধনের মনে এই ছোট্ট নূরটাই বেঁধে গেছে এখন সেটা ছাড়ার মাধ্যম নেই। যার জন্য সে নিজের জীবনটাও বিলিয়ে দিতে পারে তার বাবা-মা ধারণা ছিল না।
বিকেলের দিকে আতিয়া বেগমের জানাজার থেকে নিয়ে এসব করে নিজের ঘরে ফিরলেন সবাই
রানিং....!!
_________________________________________________
গল্পটা তো কি রকম লাগছে তা আমি বলতে পারব না কিন্তু আশা করি গল্পটা ভালো লাগছে কিন্তু আমার ভাই বোনেরা সবার গল্পে এত লাইক হয় কিন্তু আমার গল্পে কত চেষ্টা করি কিন্তু লাইক হয় না আর কত ফলোয়ার কিন্তু লাইক নেই এটার জন্য আমার খারাপ লাগে কত কষ্ট করে ভিডিও মানে কিন্তু লাইক আসে না গল্প এটা আর আপনার অবশ্যই একটা করে কমেন্ট করবেন প্লিজ তাহলে আমার আরো আগ্রহ বাড়বে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ 🥹✨