কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[১৯তম খণ্ড]
ঘরের একা কোণে বসে হালকা একটু কেমন জানি খারাপ লাগা কাজ করছিল নূরের কারন সে ধোঁকা দিতে চায় না.। একদিকে রিশাদ এক দিকে বাধন আবার একদিকে নতুন করে আসিফ কোথায় যাবে নূর একজন সিআইডি অফিসার হওয়ায় তা তো রাগার কথা যদি হওয়ার কথা কিন্তু সে এলো বাঁধনের সামনে রাখতে পারে না কেন। সে মনে মনে নিজেকেই বলল আমাকে পরিবর্তন হতে হবে। সেই তীব্র কষ্টের মাঝে সে কান্নাও করতে পারছি না কারণ সিআইডি অফিসার আর কখনো কান্না করে না কান্না করার। তার হঠাৎই তার ঘরে দরজা খোলা ছিল তার বান্ধবীর রিয়া এসে পৌঁছালো দেখে তার হাতে ফোনে কার সাথে কথা বলছে। সেখানে কোন বেশি একটা পাত্তা দিল না। ফোনের স্কিন টাচ নূরের হাতে দিল নুর আচমকা ফেলে দিল চেহারাটা দেখা মাত্রই আসিফ কল করেছে। নুরের নাম্বার অনেকবার কল হয়েছে কিন্তু সুইচড অফ দেখাচ্ছিল তাই তার মার নাম্বার দিয়েছে তার মার সাথে ভালো মন্দ কথা বলে দেখলে তার বান্ধবীকে আসতে রিয়াকে তাই তার সাথে একটু কথা বলে রিয়া নূরের সাথে নাকি কথা বলবে তাই ফোনটা দিয়েছে আচমকা নুর এরকম কিছু করে বসবে সেটা সে জানতো না ফোনটা ফেলে দিল মনে থাকা লোকটি বলে উঠলো :
— হাই মিসেস নূর। আপনি মনে হয় বেশি জেদ ধরছেন তাই না আমাকে বিয়ে করবেন না এই ভেবে তাই তো ।
কিন্তু নূর সেই ফোনটা হাতে নিল না রিয়ার হাতেই ফোনটা থাকলো আসিফ বলে দিল ফোনটা তার হাতেই থাকুক যা বলার সেখান দিয়ে বলে দিচ্ছে।
— আপনার এই জেদ রাগকে একদিন আমি, আমার ভালবাসায় পরিণত করব। সেদিন আমার কাছ থেকে আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না মাত্র তো কিছুদিন বাকি তারপর তো আপনি আমার হবেনই মিসেস নুর রহমান সময়ের জন্য অপেক্ষা করুন আপনি।
আসিফের মুখে এরকম এত আদরে মাখা কথা শুনে নূরের ভিতরে আরও রাগ জমে উঠলো কাকে ছুঁয়ে কাকে রাখবে এদিকে সে একা আর মাঝখানে তিনজন লোক। কাকে ধরে কাকে রাখবে সে কি মিউজিয়ামে রাখা কোন প্রোডাক্ট যে সবাই তাকে চায়। এসবই ভাবছে কান্না করারও কোন সুযোগ নেই কান্না করলে সবাই কি বলবে তাই ভেবে কান্না করার তো যাবেই না নিজের কষ্টগুলোকে চেপে রাখাটাই ভালো। সব নিয়মকানুন শেষ হয়ে সেই বিজনেসম্যান মানে আসিফের বাবা-মা সবাই তাদের কাছ থেকে বিদায় নিল খাওয়া দাওয়া করে কথাবার্তা সব শেষ করে। যাওয়ার সাথে সাথে নূর ঘরে বসে ছিল তার পরনে থাকা শাড়ি থেকে নিয়ে সব বুঝতে খুলতে লাগলো চুলগুলো ঠিক আগের মত করে নিল রাগের মতো সিআইডি অফিসারের পোশাক পড়ে নিল যাকে বলে প্যান্ট শার্ট।
— রাতের দিকে–
নূরকে প্রেশার দেওয়া যাবে না এরকম তার পরিস্থিতি অবস্থা ভেবে রিয়াকে তার সাথে রাখার কথা ভাবল তাই রিয়া ভাবল থাকবে তাদের বাসায় কিছুদিন অবশ্য তার বাবা মা থেকে অনুমতি নিয়েছে সে রিয়া। তাই বেশি একটা ঝামেলা হয় নাই ঘরে গিয়ে দেখল কি এক অবাক কান্ড। ঘরে এলোমেলো হয়ে আছে জিনিসপত্র ভাঙ্গা আবার শাড়ি থেকে নিয়ে সবকিছু পড়ে আছে মেঝেতে আর নূর সে খাটের উপর ধপ করে বসে আছে তার সিআইডি ড্রেসে পড়ে এটা দেখে রিয়া এসে বলল :-
— নূর এসব কি করেছিস ঘরটাকে ' আর এরকম ভাবে বসে আছিস কেন.. কি হয়েছে মুখ বেজার কেন..??
নূর কারো দিকে তাকাইনি সে নিচে চুপচাপ আনমনে কিছু একটা ভাব ছিল আচমকা একজনের কণ্ঠস্বর পেল। তাই উপরের দিকে তাকালো দেখলো রিয়া কে দেখে সে এবার একটু নিজের কান্নাকে আর থামাতে পারল না আচমকা রিয়াকে জড়িয়ে ধরল রিয়াও বুঝতে পারো না এটা কি হলো তার সাথে এরকম করল কেন। তাই নূরকে সেও শক্ত করে ঝাপটে ধরল আর সান্তনা দিতে লাগলো
— রিয়া আমি কি করলাম এটা,,, আমি একা ধারে তিনজনকে ঠকাচ্ছি করে সহ্য করতে পারব এটা আমি...
এটা বলছি আর হাউমাউ করে চিৎকার করে কান্না করছে চিৎকার ও পুরোপুরি করতে পারছে না আসতে ধীরে কান্না করছে রিয়া তার কথা বোঝার চেষ্টা করে বলল :
— কি হয়েছিল সেটা তো বল এভাবে কান্না করার মানে কি তুই তো কান্না করার মেয়ে না কোন কারণবশত তুই কান্না করছিস অবশ্য কি হয়েছে আমাকে বল...!!
রিয়ার কিছুটা শান্ত হওয়ার চেষ্টা করল নূর তাই তার কান্নার স্বরটা কমিয়ে দিল ঠিকই তো যদি বাড়ির কেউ জানতে পারে তাহলে একটা কিছু হয়ে যাবে।
— আমি এটা কি করলাম এবার কিভাবে আমি নিজেকে ক্ষমা করব...!!
নূরের কথার কোন আগামাথা বুঝতে পারল না রিয়া একটু রাগি করে বলে উঠলো!
— কি বলতে চাইছিস সেটা বল...!!
— বলার মত কিছু নেই আমার কাছে...??
— সত্যি করে বল কি হয়েছে। আর তুই এভাবে ঘাবড়ে আছিস কেন বল আমাকে আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড তুই আমাকে সকল কথা বলবি বলেছি সেটা কিন্তু বলবি না বল কি হয়েছে..!!
নুর কিছুটা শান্ত হলো এবার নিজেকে জোর দিয়ে একটু নিঃশ্বাস ফেলে বলার চেষ্টা করল,
— আমি বিবাহিত..??
নূরের মুখ এরকম কথা শুনে রিয়া আচমকা চমকে উঠল তার বিশ্বাস হচ্ছে না নূরের মুখে এসব কথা শুনতে পারবে কখনো তাই একটু আলকানো জন্য নূরকে বলে উঠলো।
— কি বলছিস এসব
— যা বলছি সব সত্য আমি বিবাহিত।
— কেমনে কি বলতো আমাকে..??
নুর এবার সব কথা বলতে লাগলো রিয়াকে কিভাবে কি হলো। কেমনে তার সাথে বাঁধন মির্জা সাক্ষাৎ হল কেমনে তাকে জিম্মি করে জোরজবস্তি ভাবে বিয়ে করল তার বাবা-মার হুমকি দেখিয়ে আবার তাকে নিয়ে গেল বিদেশে আমেরিকাতে তার অসুস্থ হওয়ায়। আবার সবাইকে হুমকি দিল আমার বাবা মাকে কিডন্যাপ করল। সব যা যা ঘটেছে অতীতে সব বলল এসব কথা শুনে রিয়া তো হতভম্ব হয়ে গেছে কি বলবে খুঁজে পাচ্ছে না নুর কিনা অবশেষে একজন মাফিয়া আর একজন ডেঞ্জারাস মানুষকে বিয়ে করে ফেলল এটা আসলে ভাবার কথা না তার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না কি থেকে কি হয়ে গেল এটা সব কথা বলার পর এবার নূর ঢুকলে কেঁদে দিল
— তার মানে বাঁধন মির্জা তোর স্বামী
এটাই তো বলতে চাচ্ছি..??
— হৃম
— এবার কি করবে কিছু ভাবলি...??? নড়তে ধাক্কা দিয়ে কথাটা বলল রিয়া
— এটাই তো বুঝতে পারছি না একদিকে বাধন মির্জা আবার রিশাদ আবার নতুন করে আপত্ত আসিফ কার কথা ভাববো বল তুই বল...!
— এটাই তো প্রবলেম নুর রিশাদ তো অনেক কষ্টে আছে আবার নতুন করে একজনের আগমন হয়ে গেল এখন কি করবি তুই...??
— সেটাইতো ভাবার কথা।
রিয়ার এখন বড্ড ঘুম পাচ্ছে তাই নূরকে বলে উঠলো :
— যা হবার সকালে ভাবিস এখন ঘুমায় চল অনেক ঘুম পাচ্ছে আমার...??
— আচ্ছা
রানিং.....!!
গল্পটাতে বেশি লাইক হচ্ছে না আমি অনেক কষ্ট করে গল্পটা বানাচ্ছি তাই বেশি বেশি লাইক আর অবশ্যই একটা কমেন্ট করবেন প্লিজ আমার প্রিয় পাঠক পাঠিকারা 🥹🥹