কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[৩৩তম খণ্ড —
পাহাড়ের সেই রক্তভেজা মাটিতে মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জার ভয়াল তাণ্ডব আর রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হওয়ার মতো শক্তি সেখানে উপস্থিত কারও ছিল না। আকাশের বুকে হেলিকপ্টারের দানবীয় গর্জন, চার পাশে সহস্র সশস্ত্র কমান্ডোর অবস্থান আর বাঁধনের হিংস্র গম্ভীর রূপ দেখে সেখানে উপস্থিত সিআইডি অফিসার এবং সেনাসদস্যদের বুকের ভেতর কাঁপছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বিশেষ সিকিউরিটি প্রটোকল নিয়ে সোজা পাহাড়ি স্পটে উপস্থিত হতে বাধ্য হন।
কিন্তু বাঁধনের রক্তবর্ণ চোখের সামনে কার অস্তিত্ব আছে আর কে ক্ষমতাধর—তা দেখার কোনো সময় তার ছিল না। তার মাথায় তখন ঘুরছে একটাই নাম—নূর!
হঠাৎ বাঁধনের হিংস্র দৃষ্টি গিয়ে পড়ল পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা সিআইডির সিনিয়র ইনভেস্টিগেশন অফিসার সাদিকের ওপর। সাদিককে সেখানে ব্যাকুল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই বাঁধনের মাথার ভেতরের হিংস্রতার মাত্রা শতগুণ বেড়ে গেল!
আসলে বাঁধন আর সাদিকের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত গভীর ও বৈচিত্র্যময়। বাঁধনের বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর, তখন স্কুলে পড়ার সময় প্রথম পরিচয় হয়েছিল সাদিকের সাথে। সেখান থেকেই দুজনের মাঝখানে গড়ে উঠেছিল এক গভীর ও নিখাদ বন্ধুত্ব। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বাঁধন কীভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার জগতে পা রেখেছিল, তার জীবনের অতীতের অনেক রহস্যই জানা আছে সাদিকের। কিন্তু একটা কথা সাদিক বা পুরো পৃথিবীর কেউই জানে না—বাঁধন তার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে তার সৎবোন নূরকে!
অতীতের কোনো এক ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাদিক আর বাঁধনের সেই গাঢ় বন্ধুত্বে বড় ধরনের চির ধরেছিল, বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। তবুও ভেতরে ভেতরে তারা একে অপরকে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ও বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করত। বাঁধন জানত, তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে নূরকে যদি কেউ নিঃস্বার্থভাবে আগলে রাখতে পারে, তবে সে সাদিক! সেই বিশ্বাসেই বাঁধন ছায়াসঙ্গী হয়ে সাদিককে নূরের আশপাশে থাকার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আজ... আজ সেই সাদিকের সিআইডি টিমের সাথে মিশনে এসেই নূরের এই রক্তভেজা মহাবিপদ!
বাঁধনের চোখ দুটো হিংস্র পশুর মতো লাল হয়ে উঠল। সে কোনো কিছু চিন্তা না করে দু-তিন পদক্ষেপে সাদিকের সামনে এসে শার্টের কলারটা এক টানে জাঁকড়ে ধরল!
— সজোরে ঘুসি আছড়ে পড়ল সাদিকের মুখে!
"কুত্তার বাচ্চা! তুই থাকতে আমার জানের, আমার নূরের এরকম অবস্থা কীভাবে হলো বল?! জবাব দে আমাকে!"—পাগলের মতো চিল চিৎকার করে উঠল বাঁধন।
সাদিকের মুখ চিরে রক্ত গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু সে বাঁধনকে আটকানোর বা প্রতিরোধ করার কোনো চেষ্টা করল না। বাঁধন তাকে শার্টের কলার ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে অমানুষিক ক্ষোভে গর্জাতে লাগল—
"আমি তোকে বারবার হুশিয়ার করে দিয়েছিলাম না যে নূরের দিকে যেন একটা বাঁকা নজরও না পড়ে?! তুই তাকে নিজের চোখের সামনে আগলে রাখবি বলিনি?! তাহলে তোর বোন কীভাবে পাহাড়ের এই মৃত্যুর ফাঁদে হারিয়ে গেল?! আর তোকে কে অধিকার দিয়েছিল সিক্রেট অপারেশনের দোহাই দিয়ে আমার অবাধ্য বানিয়ে ওকে এমন বিষাক্ত অঞ্চলে ডেকে আনার?!"
সাদিক মাথা নিচু করে সেই আঘাত সহ্য করল। সে বুঝতে পারছিল, আজ বাঁধনের ধৈর্য, বিবেক আর মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। সাদিক বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ব্যথার মুখে শান্ত গলায় বলল—
"তুই ভুল বুঝছিস বাঁধন... আমি নূরকে খুব ভালোভাবে নজরদারিতে রেখেছিলাম! কিন্তু টেররিস্টদের ধরে বাচ্চাদের উদ্ধার করার পর হঠাৎ করে যে পাহাড়ি জংলি গুন্ডারা ওদের ওপর এভাবে অ্যাটাক করবে, আমি কল্পনাও করতে পারিনি! বিশ্বাস কর, এতে আমার কোনো অবহেলা ছিল না..."
আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দেশের উচ্চপদস্থ কমান্ডো, ম্যাজিস্ট্রেট এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সাদিকের মুখ থেকে 'তুই তুই' সম্বোধন শুনে শিউরে উঠলেন! বিশ্বের একচ্ছত্র মাফিয়া ডন, যার এক ইশারায় দেশ থমকে যেতে পারে, তাকে সিআইডির একজন সাধারণ অফিসার কীভাবে এত ঘনিষ্ঠ ও গম্ভীর সুরে কথা বলছে—তা ভেবে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল! প্রধানমন্ত্রী যখন পরিবেশ সামলাতে সাদিক আর বাঁধনের দিকে পা বাড়ালেন, বাঁধন নিজের এক হাত উঁচিয়ে বরফের মতো ঠাণ্ডা কণ্ঠে সবাইকে থেমে যেতে ইশারা করল।
তারপর সাদিকের কানের কাছে মুখ এনে রক্তচক্ষু তুলে ফিসফিসিয়ে বলল—
"যদি আমার নূরের গায়ের একটা লোমেরও ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে তোর চাকরি তো আমি এক সেকেন্ডে শেষ করবই—তোকে আর তোর ডিপার্টমেন্টকে জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলব কুত্তার বাচ্চা! তোর চোখের সামনে আমার নূরের ওপর সেই পাহাড়ি জংলিগুলো ছুরি চালাল, তাকে খাদের মুখে ঠেলে দিল! যদি আমার নূরকে না পাই, তবে পুরো বাংলাদেশকে আমি রক্তে ভাসাব!"
সাদিক নিজের শ্বাস আটকে রেখে বলল—
"তুই এত ক্ষিপ্ত হচ্ছিস কেন বাঁধন?! আর পাহাড়ে নূরের সাথে কী ঘটেছে, নূরের পায়ে যে ছুরি লেগেছে—এসবের খবর তুই কীভাবে জানলি?!"
বাঁধন চোখের কোণ দিয়ে রক্তবর্ণ আগুন বের করে জবাব দিল—
"সে আমাকে কল দিয়েছিল! তার ফিসফিসিয়ে কান্নার আওয়াজ, তার আকুতি আজও আমার মস্তিষ্কে বাজছে!"
ধীরে ধীরে রাতের অন্ধকার কেটে গিয়ে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কিন্তু পাহাড়ি উপত্যকার অন্ধকার যেন কাটছিলই না। পুরো পাহাড়ি অঞ্চল জুড়ে হাজার হাজার সেনাসদস্য, ভারী অস্ত্রশস্ত্র, ড্রোন আর মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। চারিদিকে আলো আর হট্টগোল থাকা সত্ত্বেও জঙ্গলটা এক অলৌকিক ও ভয়াল নিস্তব্ধতায় জমে ছিল।
ঠিক এমন সময় গহীন পাহাড়ের এক পাশ থেকে বাঁধনের প্রাইভেট কমান্ডো স্কোয়াড ধরে নিয়ে এল সেই নরপশু জংলি গুন্ডাদের—নিরব, জনি, মন্টি সহ তাদের প্রধান সঙ্গীদের!
ওদের টেনে হিঁচড়ে বাঁধনের সামনে এনে ফেলতেই বাঁধনের ভেতরের রক্তখেকো দানবটা হিংস্র হুংকার দিয়ে জেগে উঠল। কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো আইনের মুখোমুখি করা নয়—যে পা দিয়ে তারা নূরের পথ আটকেছিল, যে নোংরা হাত দিয়ে নূরের সিআইডি ইউনিফর্ম স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখিয়েছিল—সেই অপরাধের কোনো ক্ষমা বাঁধনের অভিধানে নেই!
বাঁধন তার কোমর থেকে স্বর্ণালী রঙের বিশেষ 'ডেসার্ট ইগল' রিভলভারটি বের করে জংলিগুলোর কপালে ঠেকিয়ে দিল।
"না... আমাদের মাফ করে দেন ভাই! আমরা জানতাম না ও আপনার..."—নিরব আকুতি জানানোর আগেই—
— ঠাস! ঠাস! ঠাস! ঠাস!
একটার পর একটা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জের গুলিতে পাহাড়ি মাটি লাল রক্তে ভেসে গেল! জংলিগুলোর চোখ উল্টে লাশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু বাঁধনের ক্ষোভ তাতেও শান্ত হলো না। সে নিজের বুট জুতো দিয়ে জংলির লাশের মুখে সজোরে লাথি মেরে চিৎকার করে উঠল—
"ফাকিং ডেভিলস! তোদের এত বড় সাহস যে আমার রানিকে আঘাত করিস?! যে বাঁধন মির্জা আজ পর্যন্ত নিজের ভালোবাসার ওপর একটা আঁচড় লাগতে দেয়নি, তার গায়ে তোরা রক্ত ঝরালি?! নে, এখন নরকে গিয়ে মর!"
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জোসেফ ও অ্যালবার্টের দিকে তাকিয়ে বাঁধন বরফের মতো হিংস্র গলায় হুকুম দিল—
"এদের এক একটা নোংরা লাশ ওই ৩০০ ফুট খাদের নিচে ফেলে দে! কুমির আর বুনো পশুকে দিয়ে খাওয়া এদের শরীর! দিস ই্স মাই শট অর্ডার!"
কিন্তু এই নারকীয় প্রতিশোধ নেওয়ার পরও বাঁধনের বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা অগ্নেয়গিরি শান্ত হলো না। রাত কেটে ভোর হলো, সিকিউরিটি ফোর্স পুরো পাহাড় ছেঁকে ফেলল, কিন্তু তার নূর কোথায়?! তার ছোট ইঁদুরের বাচ্চাটা কোন খাদের অন্ধকারের মধ্যে ব্যথায় কঁকাচ্ছে?!
জংলিগুলোকে গুলি করার আগে তারা ভয় পেয়ে স্বীকার করেছিল—মেয়ে দুটো পাহাড়ের ৩০০ ফুট উঁচু গভীর খাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছে, যেখানে রয়েছে বিষাক্ত পাহাড়ি নদী আর কুমিরের বসবাস!
'খাদ... নিচে কুমির আর বিষাক্ত নদী!'—কথাটা মনে হওয়া মাত্রই মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জার বুকের ভেতরের অক্সিজেন যেন একমুহূর্তে উধাও হয়ে গেল!
মাথাটা মারাত্মকভাবে ঘুরতে লাগল, চারপাশের সেনাবাহিনী, হেলিকপ্টারের আওয়াজ আর মানুষের চিৎকার যেন এক বিকট শোরগোলে রূপ নিল। যে ডন বিশ্বকে নিজের হাতের মুঠোয় নাচায়, আজ নূরের অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় তার পুরো শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে এল। মানসিক চাপ, তীব্র হতাশা আর ব্যাকুলতায় বাঁধনের চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এল!
— ধপাস!
মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জা পাহাড়ি লাল বালুর ওপর সজ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ল!
"বস!"—অ্যালবার্ট ও জোসেফ বিকট চিৎকার দিয়ে বাঁধনকে ধরে ফেলল। চারদিকে চরম হুলুস্থুল পড়ে গেল। আর্মি মেডিকেল কোর দ্রুত এগিয়ে এসে পাহাড়েই তৈরি ইমার্জেন্সি ফিল্ড হাসপাতালে বাঁধনকে নিয়ে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পর যখন বাঁধনের জ্ঞান ফিরল, তখন তার মাথার রগগুলো যেন রাগে আর কষ্টে ফেটে বের হচ্ছিল! জ্ঞান ফিরতেই সে বেডের পাশ থেকে ইনজেকশন ও স্যালাইনের পাইপ এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলল। ডাক্তার ও নার্সরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে হিংস্র পশুর মতো তাদের ঠেলে সরিয়ে দিল। বাঁধনের চোখের সেই ভয়াল রূপ দেখে ডাক্তারদের হাত কাঁপতে লাগল।
বাঁধন বেড থেকে নেমে দেওয়াল আকড়ে দাঁড়াল। সে কাউকে বরদাশত করতে পারছিল না। হাত উঁচিয়ে সে রুমের সবাইকে বের হয়ে যেতে ইশারা করল। শুধু সাদিকের দিকে আঙুল তুলে তাকে ভেতরে থাকতে বলল।
দরজা বন্ধ হতেই রুমের মধ্যে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। বাঁধন দুলতে দুলতে সাদিকের দিকে এগিয়ে এল। এত বছরের অহংকার, রাগ আর দূরত্ব মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে গেল। মাফিয়া ডন বাঁধন মির্জা পাগলের মতো জড়িয়ে ধরল তার শৈশবের বন্ধু সাদিককে!
যে মানুষটাকে পুরো বিশ্ব এক রক্তখেকো মাফিয়া হিসেবে চেনে, সে আজ নিজের বন্ধুর বুকে মুখ লুকিয়ে এক বাচ্চার মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠল! বাঁধনের কান্নায় হাসপাতালের পুরো ঘর যেন থমকে গেল। সে ভাঙা গলায় অঝোরে বলতে লাগল—
"প্লিজ সাদিক... আই রিয়ালি ট্রাস্ট অনলি ইউ ভাই! প্লিজ আমার বউটাকে আমাকে এনে দে রে! আমার বুকের ভেতরে যেন নিঃশ্বাস আটকে আসছে সাদিক! সে যে আমার অক্সিজেন... নূর না থাকলে আমি কীভাবে বাঁচব বল?! প্লিজ আমার জানপাখি, আমার ইঁদুরের বাচ্চা, আমার সম্পত্তিকে আমাকে ফিরিয়ে দে! না হলে তোর বাঁধন আর বাঁচবে না রে ভাই... আমি সত্যি মরে যাব!"
সাদিক জীবনেও ভাবেনি যে অহংকারের শিখরে থাকা মাফিয়া বাঁধন মির্জা তার বুকে মুখ লুকিয়ে এভাবে আকুল হয়ে কাঁদবে! বন্ধুর এই ব্যাকুলতা দেখে সাদিকের চোখ থেকেও নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। সে বাঁধনের পিঠ জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে বলল—
"তুই একদম নিজেকে সামলা বাঁধন! তুই এভাবে ভেঙে পড়লে হবে?! আমি প্রমিস করছি, পুরো পাহাড় জ্বালিয়ে হলেও আমরা নূরকে খুঁজে বের করব! তুই শান্ত হ ভাই... তোর কিছু হলে নূরের কী হবে বল?!"
কিন্তু পাহাড়ের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দুদিন ধরে হাজার হাজার ডিফেন্স ফোর্স, সাবমেরিন, বোট আর ড্রোন দিয়ে খোঁজার পরও নূরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সবাই মনে মনে ধরে নিয়েছে যে, ৩০০ ফুট খাদ থেকে পড়ে নদীর কুমির আর বিষাক্ত সাপের মুখে পড়ে সিআইডি অফিসার নূর আর বেঁচে নেই!
কিন্তু মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জার সামনে দাঁড়িয়ে এই ভয়াল সত্যটা মুখে উচ্চারণ করার সাহস দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কোনো সামরিক অফিসারের নেই! কারণ সবাই জানে—নূরের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়া মানেই, বাঁধন মির্জা পুরো বাংলাদেশকে এক রক্তক্ষয়ী শ্মশানে পরিণত করে ছাড়বে!