ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাফিয়া বাঁধন দ্যা সিআইডি অফিসার

৩৮তম পর্ব

লেখক: Ahmed Badhon
​কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
​[৩৮তম খণ্ড —
​দুপুরের তপ্ত রোদে নূর প্যালেসের ভেতরটা যেন এক গুমোট নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। বাইরের প্রখর রোদ ভেতরে আসতে পারছে না রাজকীয় পর্দার আড়ালে। নূর বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে, কিন্তু তার দৃষ্টি কোনো নির্দিষ্ট দিকে নেই। তার মনের ভেতরে এক অদ্ভুত যুদ্ধের দামামা বাজছে। গতকাল রাতে বাঁধনের সঙ্গে যে উত্তাল সময় সে কাটিয়েছে, তার রেশ এখনো তার শরীরের প্রতিটি কোষে বিদ্যমান। একদিকে বাঁধনের প্রতি তীব্র ঘৃণা, যা তার সিআইডি ব্যক্তিত্ব বারবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাঁধনের সেই অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ—যা তাকে মুহূর্তের মধ্যে নিজের সমস্ত নীতি বিসর্জন দিতে বাধ্য করছে। নূর বুঝতে পারছে না, সে কি সত্যিই বাঁধনের ওপর রাগ করে আছে, নাকি ভেতরে ভেতরে এই অদ্ভুত ভালোবাসার নেশায় সে নিজেও ডুবে যাচ্ছে?
​ঠিক তখনই নূরের মোবাইলটা যান্ত্রিকভাবে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে দেখল রিয়ার নাম। নূর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা রিসিভ করতেই রিয়ার চঞ্চল, হাসিখুশি কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
​"কি খবর তোর নূর? কেমন আছিস এখন? আমার তো মনে হয় তুই এখন রাজরানির মতো আছিস!"
​নূর একটু বিরক্তি নিয়ে বলল,
 "আছি একরকম... কিন্তু তুই কি খবর নিচ্ছিস নাকি মজা করছিস, তা আমি বুঝতে পারছি না।"
​রিয়া খিলখিল করে হেসে উঠল। তারপর গলার স্বর কিছুটা গম্ভীর করে বলল,
 "আরে রাগ করিস না! কিন্তু তোর ভাইয়া কই? মানে, আমার দুলাভাই, তোর মাফিয়া হাজবেন্ড? আরে বাবা, খবর তো পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে! তিনি যে তোর ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন, তারপর থেকে তো এখন সবাই তার ভয়ে থরথর অবস্থা। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মানুষ মাথা নিচু করে চলে, বাসের ড্রাইভার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—
সবাই যেন তোকে দেখার ভয়ে কাঁপছে!"
​নূর বিরক্ত হয়ে জানালার পর্দার দিকে তাকিয়ে বলল,
 "মাফিয়াটাকে তুই কেন দুলাভাই বলছিস? আর শয়তান মাফিয়াটা আমাকে পুতুল বানিয়ে রেখেছে। আমার সিআইডি পরিচয়, আমার স্বাধীনতা—
সব যেন ওর পায়ের নিচে। কিছু বলার ভাষা নেই আমার।"
​রিয়া তখনো হাসছে,
 "তুই যাই বলিস নূর, সে কিন্তু তোর জন্য পাগল! দেখলি না, তুই হারিয়ে যাওয়ার পর পুরো আকাশ-পাতাল এক করে তোকে খুঁজে বের করল? এমন জামাই কয়জনে পায় রে? তুই তো রাগী, কিন্তু সে যে তোকে কতটা আগলে রাখে, তা একবার শান্ত মনে ভেবে দেখ।"
​নূরের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 
"তুই এসব জানলি কিভাবে? কে বলল তোকে এসব?"
​রিয়া একটু লজ্জা পেয়ে আমতা আমতা করে বলল,
 "কই... মানে, সিনিয়র অফিসার সাদিক সাহেব বলেছেন আর কি।"
​নূর এবার বুঝে গেল রিয়ার মনের অবস্থা। সে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, 
"ওহ! তো তুই তলে তলে টেম্পু চালাচ্ছিস! সাদিক ভাইকে পছন্দ করিস না বলিস, অথচ সারাদিন তার সাথেই কথা বলছিস, তাই না? শয়তান ছেরি, তুই তো কম না!"
​রিয়া রেগে গিয়ে বলল, 
"উফ নূর! তাকে আমি কোনোদিন পছন্দ করি না, সে নিজেই জোর করে কথা বলার জন্য। তুই এসব বাদ দে। এবার বল,
 ভাইয়ার সাথে কবে পরিচয় করিয়ে দিবি? আমি খুব এক্সাইটেড, একটা মাফিয়া ডন কেমন হয় সেটা সামনাসামনি না দেখলে বিশ্বাসই হচ্ছে না!"
​নূর বিরক্তির সুরে বলল, 
"তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? এসব ছাগল টাইপের মাফিয়ার জন্য দেখা করতে চাস? তোর মাথায় কি গোবর ভরা নাকি রে? তার ভয়ে তো মানুষ কাছেও ঘেঁষতে চায় না, আর তুই কি না তাকে দেখতে চাচ্ছিস!"
​রিয়া হেসে বলল,
 "তুই যাই বলিস, ভাইয়া কিন্তু অসম্ভব হ্যান্ডসাম! শুনেছি জার্মানির আশি শতাংশ মেয়ে ওর জন্য পাগল ছিল। অমন ড্রেসিং সেন্স আর পার্সোনালিটি কি হাতছাড়া করা যায়? তুই তো অপদার্থ, তুই বুঝিস না!"
​নূর বিরক্ত হয়ে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলল, 
"হয়েছে হয়েছে! আর প্যানপ্যান করিস না। আমি দেখি তাকে বলা যায় কি না। এখন রাখ!"
​সন্ধ্যায় বাঁধন ফিরে এল। আজ তাকে বেশ গম্ভীর দেখাচ্ছে। তার ড্রয়িংরুমে চলছে এক হাই-প্রোফাইল মিটিং। আমেরিকার এক নামকরা বিজনেসম্যানের সাথে কয়েক হাজার কোটি টাকার ডিল। বাঁধন মাফিয়া জগতের সম্রাট হলেও ব্যবসার দুনিয়ায় সে একজন বাঘ। তার প্রতিটি শব্দে এক ধরণের চাপা ভয়ের আবহ থাকে। পাশে অ্যালবার্ট আর জোসেফ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে, যেন কোনো সামান্য ভুলও অমার্জনীয় অপরাধ। মিটিং শেষে লোকগুলো যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল, তারা দ্রুত প্যালেস থেকে বিদায় নিল।
​অ্যালবার্ট ও জোসেফ অতিথিদের এগিয়ে দিতে চলে গেল। বাঁধন আর দেরি করল না। সে সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিজের বেডরুমের দিকে পা বাড়াল। রুমে ঢুকতেই দেখল নূর বিছানায় শুয়ে আছে, যেন গভীর চিন্তায় মগ্ন। বাঁধনের মনে দুষ্টুমি আর কামনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ খেলা করতে লাগল। সে পা টিপে টিপে নূরের কাছে গেল। নূরের চুলের ঘ্রাণে বাঁধনের মস্তিষ্ক যেন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সে আলতো করে চুলে হাত বোলাল, তারপর নূরের ঠোঁটে একটা গাঢ় কিস করে সেখানেই আটকে রাখল।
​নূর ঘোরের মধ্যে একটু নড়াচড়া করতে গিয়েই চোখ খুলল। সামনে বাঁধনকে দেখেই তার মাথায় যেন রাগ চড়ে গেল। সে নিজেকে সামলাতে না পেরে মুহূর্তের মধ্যে বাঁধনকে একটা জোরালো ঘুষি মারল! বেচারা বাঁধন টাল সামলাতে না পেরে বিছানার একপাশে ধপাস করে পড়ে গেল। তবে রাগের বদলে সে হাসল। এই হাসিটা যেন বিজয়ের হাসি।
​বাঁধন নিচ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল, 
"বাহ! সিআইডি হয়েছিস বলে কি নিজের জামাইকে মেরে ফেলবি নাকি? তোর হাতের জোর তো এখনো আগের মতোই আছে, ডার্লিং!"
​নূর রাগে চিৎকার করে উঠল, 
"আপনার সমস্যা কি? আপনি সবসময় এসব করেন কেন? ঘুমালেও শান্তি নেই, দিনের বেলায়ও শান্তি নেই! আপনার জ্বালায় আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেছি!"
​বাঁধন একটু এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর এখন অনেকটাই গম্ভীর ও কামুক। সে নূরের কাছাকাছি এসে বলল, 
"তোকে দেখলে আমার উত্তেজনা ৮০ ডিগ্রীতে পৌঁছে যায়। নিজের অস্তিত্ব ভুলে যাই আমি। মন চায় সারাক্ষণ তোর সাথেই থাকি, তোকে বন্দি করে রাখি।"
​নূর গাল ফুলিয়ে বলল, "আপনি একটা লুচু! ফাজিল মাফিয়া!"
​বাঁধন নূরের আরেকটু কাছে এসে নিচু স্বরে বলল, 
"এই ব্যাটার কাছে কিন্তু এমন জিনিস আছে যা তুই দেখলে নিজেকে সামলাতে পারবি না, নূর। আর 'লুচু' ভাষাটা কি তোর ডিকশনারিতেই আছে, নাকি অন্য কিছু শিখবি?"
​নূর বাঁধনের কথাকে পাত্তা না দিয়ে বলল,
 "বাদ দিন তো! আমার বান্ধবী রিয়া আপনার সাথে দেখা করতে চায়। কি করবেন?"
​বাঁধন শান্তভাবে বলল,
 "ঠিক আছে, সমস্যা নেই। কাল বিকেলে দেখা করব ওর সাথে।"
​এইটুকু বলেই বাঁধন আর কথা বাড়াল না। সে নূরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ল। বাঁধনের সেই রোমান্টিকতা আর তীব্রতা যেন কোনো তুফান। সে নূরকে এমনভাবে নিজের আয়ত্তে নিতে চাইল যে নূর পুরো সেন্সলেস হয়ে গেল।
​কিছুক্ষণ পর বাঁধন হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে রাগী গলায় বলে উঠল, 
"এক জিন্দেগী ভাই! কি বিয়া করলাম আমি? একটু রোমান্টিক হই, অমনি তার আকাশ থেকে গজব নেমে আসে! রোমান্টিকতা কিচ্ছু বোঝে না!"
​সে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে চিৎকার করে বলল,
 "ফাকিং লেডি! তুই এখানে অজ্ঞান হয়েই থাক। কবে যে তোকে আমি রোমান্টিক হতে শেখাব, আল্লাহই জানে!"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন