কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[৩৭তম খণ্ড —
🌚[১৮+/ রোমান্টিক ডার্ক পর্ব]🌚
গভীর রাতের নিস্তব্ধ আঁধার নেমে এসেছে ঢাকার বুক জুড়ে। পুরো বাংলাদেশ তখন এক গভীর ও নিঝুম ঘুমের সাগরে তলিয়ে আছে। কিন্তু কেরানীগঞ্জের আভিজাত্যে ঘেরা বিশালাকার 'নূর প্যালেসে' যেন সময়ের চাকা থমকে গেছে।
প্যালেসের ভেতরে কোনো কোলাহল নেই, কোনো বাতি জ্বলছে না। শুধু মেইন বেডরুমে জ্বলছে এক মায়াবী আবছা নীল আলো। বিশাল কিং-সাইজ আলিশান বেডের ওপর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে সিআইডি অফিসার নূর। তার খোলা চুলগুলো সাদা চাদরের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। কিন্তু পাশে শুয়ে থাকা মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জার চোখে বিন্দুমাত্র ঘুমের রেশ নেই!
যার হুকুমের ওপর আস্ত এক দেশের অর্থনীতি আর ক্ষমতা ওঠানামা করে, সেই ভয়াল ডন বাঁধন মির্জা এখন নিজের সমস্ত হিংস্রতা ভুলে এক অন্য জগতের বাসিন্দা! নূরের ওপর জমে থাকা রাগ, অভিমান আর ব্যাকুলতা এক অদ্ভুত রোমান্টিক নেশায় রূপ নিয়েছে। কারণ, বাঁধনের জন্য এই অবাধ্য চঞ্চল ইঁদুরের বাচ্চাটাই তো তার বেঁচে থাকার একমাত্র অক্সিজেন!
আজ সকালেই শত শত হেলিক্যাপ্টার আর গানশিপের ছায়ায় গোটা বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নূরকে নিজের 'একান্ত সম্পত্তি' ঘোষণা করে সোজা এই নূর প্যালেসে নিয়ে এসেছে সে। এত ঝামেলা আর উথাল-পাথাল ঘটনার পর বাঁধনের শরীর ক্লান্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু নূরের কাছে এলেই তার রক্তে আগুন জ্বলে ওঠে!
বাঁধন পাশে শুয়ে আলতো হাতে নূরের গালে জমে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে নিজের গভীর ও মিষ্টি সুরে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল—
"কত সুন্দর আর নিষ্পাপ আমার ইঁদুরের বাচ্চাটা... কি শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে! কিন্তু যখনই তোর সাথে ভালোবাসার গভীরে হারিয়ে যেতে চাই, তখনই আকাশ থেকে কোনো না কোনো অলৌকিক গজব এসে হাজির হয়! তবে আর না, মাই ফাকিং লেডি... আজ রাতের এই নিস্তব্ধ আঁধারে আর কোনো বাধা থাকবে না। আজ তোর সাথে আমার ভালোবাসার চূড়ান্ত বাসর সম্পন্ন হবে, নূর..."
বাঁধন আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। নূরের ধীর নিঃশ্বাসের মাঝেই সে এক হেঁচকা টানে নূরকে নিজের বলিষ্ঠ ও চওড়া কোলটিতে তুলে নিল!
হঠাৎ ঘুমন্ত অবস্থাতেই শূণ্যে ভেসে ওঠার অনুভূতি হতেই নূরের ঘুমের রেশ এক ঝটকায় কেটে গেল। সে চমকে উঠে কপাল কুঁচকে, কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়ার তপ্ত রাগে বাঁধনের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে বলে উঠল—
"সমস্যা কি বলুন তো আপনার?! মাঝরাতে আবার কি নতুন গুন্ডামি করতে নেমে এসেছেন নাকি?! এমনিতেই আপনার এই ঝোড়ো তাণ্ডবের জ্বালায় শান্তিতে দুই মিনিট ঘুমাতে পারি না! এখন কি আমার রাতের ঘুমটাও পুরোপুরি হারাম করে দেবেন মিস্টার মাফিয়া?!"
নূরের এই জেদি ও চঞ্চল কথায় বাঁধন কোনো পাত্তা দিল না। সে এখন এমন এক গভীর ভালোবাসার মোহে আচ্ছন্ন, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ নেই। বাঁধন কোনো কথা না বলে নূরকে একহাতে জাপটে ধরে নিজের বিশাল প্যালেসের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের দিকে হেঁটে চলল।
পার্কিংয়ে আলো জ্বলতেই নূরের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল! সেখানে দাঁড়িয়ে আছে বাঁধনের পার্সোনাল বিশেষ কাস্টমাইজড ৮০০ সিসির সুপার স্পোর্টস বাইক! যার আনুমানিক মূল্য ৮০ কোটি টাকারও বেশি! টাকার প্রাচুর্য যেখানে বাঁধনের কাছে কেবলি এক তুচ্ছ ধূলিকণা, সেখানে এই বাইক পৃথিবীর একমাত্র বাঁধন মির্জার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
নূর বাঁধনের হাত থেকে নামার জন্য ছটফট করে বলে উঠল—
"আরে! আপনি বাইকের কাছে নিয়ে আসছেন কেন?! প্লিজ, ছাড়ুন আমাকে! আমি ওই রাক্ষুসে বাইকে উঠব না!
কিন্তু বাঁধনের রাক্ষসী শক্তির সামনে নূরের সব প্রতিবাদ মুহূর্তে ধুলোয় মিশে গেল। বাঁধন কোনো কথা না শুনে সোজা নূরকে বাইকের সামনের ফুয়েল ট্যাঙ্কের ওপর নিজের মুখোমুখি করে বসিয়ে দিল! নূর বাইকে বসতেই বাঁধন বাইকের সুইচ অন করল।
— ররররররররররর!
বাইকের ইঞ্জিনের সেই গম্ভীর ও বিকট হুংকারে পুরো পার্কিং থরথর করে কেঁপে উঠল! বাঁধন পার্কিংয়ের বিশালাকার স্বয়ংক্রিয় গেট খুলে বাইক সোজা ১০০ কিলোমিটার স্পিডে মেগা হাইওয়ের ওপর নামিয়ে আনল!
রাত তখন প্রায় আড়াইটা থেকে তিনটা। পুরো ঢাকার ৩০০ ফিট মেগা হাইওয়ে একদম জনশূন্য ও নিস্তব্ধ। আকাশে মেঘের আড়ালে আলো-আঁধারির খেলা। বাঁধন তার স্পেশাল রাইডিং স্কিলে বাইকের এক্সেলেটর মোচড় দিতেই বাইকের স্পিড মুহূর্তের মধ্যে ৩০০... ৫০০... এবং সর্বোচ্চ ৮০০ কিলোমিটার লিমিটে গিয়ে ঠেকাল! বাতাসের তীব্র সাই সাই শব্দ আর গতিবেগে নূরের নিঃশ্বাস আটকে আসার উপক্রম হলো!
নূর বাঁধনের চওড়া বুকটা দুই হাতে শক্ত করে জাপটে ধরে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠতে লাগল—
"আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন মিস্টার মাফিয়া?! এত রাতে রাত তিনটার সময় আপনি কোন পাগলামি শুরু করেছেন?! আমাকে কি শান্তিতে বাঁচতেও দেবেন না নাকি?! সমস্যা কি আপনার?!"
বাইকের গ্লাসের আড়ালে বাঁধনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে কালান্তক ও মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। সে হাইওয়ের একবারে নির্জন, অরণ্যে ঘেরা নদীর পাড়ের নিরিবিলি স্পটে বাইকের স্পিড একটু কমিয়ে ধীরে ধীরে স্পটটিতে এনে থামাল।
বাইকটা স্টার্টেই রাখা ছিল। বাঁধন কোনো দেরি না করে আলতো হাতে নূরের মাথার হেলমেটটা খুলে এক পাশে ঝুলিয়ে রাখল। হেলমেট খুলতেই নূরের এলোমেলো কোঁকড়ানো চুলগুলো রাতের হিমেল বাতাসে উড়তে লাগল।
নূর বাঁধনের চোখের সেই নেশাক্ত ও হিংস্র চাউনি দেখেই আন্দাজ করতে পারল আজ রাতের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে! নূর বাঁধনের হাত দুটো চেপে ধরে ছলছল চোখে আকুতি জানিয়ে বলল—
"প্লিজ... প্লিজ এমনটা করবেন না মিস্টার মাফিয়া! দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন...
বাঁধন তার গলার মিষ্টি ও গভীর সুরে নূরের চোখের পানি কাচের মতো আঙুল দিয়ে মুছে দিয়ে বলে উঠল_
"কাম অন মাই সুইটহার্ট... তোমার ভালোবাসার বরকে একটু সুযোগ দাও তো! আমি যে তোমার এই মায়াবী রূপের নেশায় অনবরত পাগল হয়ে যাচ্ছি জান! এখন যদি তুমি এমন দূরে সরে যাও, তবে এই মাফিয়া কীভাবে বাঁচবে বলো তো?!"
নূর এবার ফুঁপিয়ে উঠে অভিমানী গলায় কান্না কান্না কন্ঠে জবাব দিল—
"ছাড়ুন বলছি! আমি... আমি আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মানি না! আপনি জোর করে আমাকে আটকে রেখেছেন..."
বাঁধন এক তৃপ্তির হাসি হেসে নূরের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে উঠল—
"আমার জান... আমার ছোট ইঁদুরের বাচ্চা! তুমি মুখে মানো আর না মানো, তোমার এই ছোট্ট সুকোমল দেহটা তো আজ থেকে চিরতরে আমার ভালোবাসার খাঁজে নিবন্ধিত হয়ে গেছে! এই বাঁধন মির্জার নাম তোমার অস্তিত্বে লেখা হয়ে গেছে বউ..."
কথাটি শেষ করেই বাঁধন নিজের মাথার হেলমেটটি খুলে ছুড়ে ফেলে দিল। নূরের পরনে তখনো সেই সিআইডি ইউনিফর্মের কলার পরা ব্ল্যাক শার্টটি আটকে ছিল। বাঁধন ধীর ও নিখুঁত হাতে নূরের শার্টের উপরের বোতামগুলো একটা একটা করে খুলতে শুরু করল।
নূর বাঁধনের হাত আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা
করল—
"না... প্লিজ!"
বাঁধন ধৈর্য কন্ঠে বলে উঠলো,,,
_বউ বাইকের পেছনে ওঠ...!!
কিন্তু বাঁধনের সুগঠিত দানবীয় শক্তির কাছে নূরের সমস্ত বাধা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। শার্টের বোতামগুলো খুলে যেতেই বাঁধন নূরের উন্মুক্ত কাঁধে ও গলায় নিজের তপ্ত ঠোঁটের ছোঁয়া দিতে শুরু করল। নূরের সুকোমল ত্বকে বাঁধনের তপ্ত শ্বাসের স্পর্শ লাগতেই নূরের সমস্ত শরীর শিউরে উঠল!
বাঁধন কোনো সুযোগ না দিয়ে নূরের ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের ভেতর টেনে নিয়ে এক চরম ও গভীর ভালোবাসার চুমুতে আবদ্ধ করল! বাঁধন যেন আজ নিজের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। তার ঠোঁটের উগ্র অথচ ভালোবাসাময় স্পর্শে নূরের রোমকূপ শিউরে উঠল। বাঁধন নূরের শার্টের ভেতরের বাকি অংশগুলো আলতোভাবে সরিয়ে নিজের হাত ও ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করতে করতে মাতাল গলায় বলতে লাগল—
"বউ রে আমার... তুই এত মিষ্টি কেন রে বউ?! আগে যদি জানতাম তুই এত সুস্বাদু, তবে তোকে অনেক ছোটবেলাতেই আমি নিজের করে খেয়ে ফেলতাম! তুই আমার জান, আমার সোনা পাখি... মাই ফাকিং রানি বউ!"
তারপর বাঁধন আর নিজেকে সংরক্ষণ করতে না পেরে। নূরের ইনার খুলে সেখানে কিস করল নুর তো উত্তেজনা শেষ সেখানে কিস করতে করতে বাধন রোমান্টিক মুডে আরো বেশি ফিল করতাছে সে আনমনে কানে ফিসফিস করতে করতে বলে উঠলো,,,
,,,তুই এই সুন্দর জিনিসটা আমার থেকে দূরে রাখলি কেন নূর,, আগে জানলে তো আমি এইসব তোকে পড়তে দিতাম না,,, তোকে এসব ছাড়াই সুন্দর মানায় আমার রূপবতী,,,
বাঁধনের এই সুগভীর প্রেমের সংলাপ আর অদম্য অনুরাগের ছোঁয়ায় নূরের ভেতরের নারী মনটাও কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল। মেয়ে মানুষ তো! বাঁধনের এই পাগলামি আর একচ্ছত্র ভালোবাসার চাদরে নূরও নিজের সমস্ত জেদ ও ঘৃণা হারিয়ে ফেলতে লাগল। সে আর বাঁধনকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারল না, বরং নিজের অজান্তেই হাত দুটো দিয়ে বাঁধনের ঘাড় পেঁচিয়ে ধরে তার সাথে তাল মেলাতে শুরু করল!
বাঁধন নূরের এই সাড়া পেয়ে যেন দ্বিগুণ উৎসাহে জেগে উঠল! সে ওই চলন্ত বাইকের হালকা গতিতেই নূরকে বাইকের ট্যাঙ্কের ওপর বসিয়ে রেখেই অত্যন্ত সুনিপুণ ও দক্ষ কায়দায় নূরের সাথে ভালোবাসার চরম বাসর সম্পন্ন করতে লাগল!
রাতের সেই নীরব রাজপথে, খোলা আকাশের নিচে ৮০০ সিসির সুপারবাইকের ওপর এক অবিশ্বাস্য ও অদ্ভুত আবেগময় বাসর রচলা হলো। বাঁধন একহাতে বাইকের হ্যান্ডেল ধরে রাখছিল আর অন্যহাতে নূরকে নিজের বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে অনুভূতির সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। নূরের প্রতিটি অনুভূতিতে বাঁধনের ভালোবাসা এক অনাবিল শিহরণ সৃষ্টি করছিল! নূর নিজের সমস্ত শরীর দিয়ে অনুভব করছিল বাঁধনের এই অদম্য টান।
নূর আর নিজের মানসিক ভার সামলাতে না পেরে বাঁধনের গলার কাছে মুখ লুকিয়ে মাতাল ও আচ্ছন্ন গলায় ফিসফিসিয়ে বলে উঠল—
"শয়তান মাফিয়া... আপনার এই হাজারো রোমান্টিক চাহিদার সামনে আমি বড্ড অসহায়! হাজারো ঘৃণার নাটকের পর শেষ পর্যন্ত শুধু আপনাকেই চাই আমি! কারণ আমার শরীরের প্রতিটি অণুতে আজ শুধু আপনার নামই লেখা মিস্টার মাফিয়া... এই জীবনে আপনি ছাড়া অন্য কারও অধিকার আমার ওপর হতে পারে না!
নূরের এই আত্মসমর্পণ ও ভালোবাসার স্বীকারোক্তি শুনে বাঁধন এক তৃপ্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে রহস্যময় সুরে বলে উঠল—
"বউ রে... এভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরিস না, তোকে এত কাছে পেলে যে তোকে আস্ত গিলে খেতে কষ্ট হয় আমার..."
নূর চোখ বন্ধ করে বাঁধনের চওড়া বুকে মুখ ঘষে দুষ্টুমি করে বলে উঠলে–
"আর সরব না জান... আপনি কন্টিনিউ করুন..."
ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত সেই নিস্তব্ধ রাজপথে ভালোবাসার এক নতুন ইতিহাস লেখা হতে লাগল। তারা দুজনই জানত না এই ভালোবাসার গভীর খেলার পরিণতি ভবিষ্যতে কোন ভয়াল বা মিষ্টি মোড়ে নিয়ে যাবে! কিন্তু আজ রাতে—তারা কেবলই একে অপরের প্রেমে বিলীন হয়ে থাকা এক চিরন্তন দম্পতি...